আলাহ এই মহাবিশ্ব কত দিনে সৃস্টি করেছেন তা নিয়ে আজ একটু আলোচনা করি –

১) “নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ? (কোরান-10-3)

২) তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু! (কোরান-11-7)

৩) নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।(কোরান-7-54)

উপরের ১,২ও ৩ নং আয়াত থেকে আল্লাহ আংশিক অস্বচ্ছতার সাথে প্রমান করেছেন সত্যিই তিনি এই নভোমন্ডল ও ভু মন্ডল সব সমগ্র মহা বিশ্ব ৬দিনে সৃস্টি করেছেন ।
আসুন এবার নিচের আয়াত দেখি –

৪) আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।(কোরান ৫০ঃ৩৮)


আগের আয়াত গুলিতে ভূ মন্ডোল ও মভোমন্ডল তৈরি করেছেন ৬ দিনে । এই ৪নং আয়াতে বলছেন ভুমন্ডোল ও মভোমন্ডোলের মাঝে যা আছে তা তৈরি করেছেন ৬দিনে । তাহলে উপরের আয়াত গুলি থেকে এই এই প্রমান হয় না যে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল তৈরিতে ৬দিন এবং নভোমন্ডল ও ভুনডলের মাঝের অংশ তৈরিতে ৬দিন মোট ১২ দিনে তৈরি করেছেন ?

এবার লক্ষ্য করুন নিচের আয়াত গুলিতে কয় দিন বলেছেন —

৫) বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা (৪১ঃ৯)

– এই আয়াতে শুধু পৃথিবী তৈরিতে আল্লাহ সময় নিয়েছেন ২ দিন ।

৬) তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। (৪১ঃ১০)।

এই আয়াতে পৃথিবীতে পর্বত মালা স্থাপন ও খাদ্যের ব্যবস্থা করতে সময় নিয়েছেন ৪দিন ।

৭) অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।(৪১ঃ১১)

8) অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা। (৪১ঃ১২)

– এই দুই আয়াতে আকাশ ৭ভাগে ভাগ করতে সময় নিয়েছেন ২দিন ।

এখন উপরের (৪১ঃ ৯) আয়াতে ২দিন +(৪১:১০) আয়তে ৪দিন +(৪১:১১) আয়তে ২দিন = ৮দিন ।

খাইছে !! আগে কইল ১২ দিনে , এখন আবার ৮দিন হইল ক্যান ? আল্লাহ কি হিসাবে কোথাও ফাঁকি দিছে নাকি হিসাবই জানে না ?

অনেকেই আবার আল্লাহর বা নবীর অলৌকিকতাকে প্রমানের জন্য বলতে পারেন আল্লাহর দিন ও আমাদের দিনের হিসাব এক না । তাদেরর জন্য নিচের আয়াতই মনে হয় যথেষ্ট । দেখুন –

“নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।(9-36)

“এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।(9-37)

এই দুই আয়াত দ্বারা এটাই প্রমান হয় যে আমাদের দিন ও আল্লাহর দিনের পরিমান একই । যা সৃস্টির শুরু থেকেই চলে আসছে বলে আলাহ স্বীকার করেছেন । তাইলে কত দিনে সৃস্টি করেছেন তার কি কোন সঠিক হিসাব পেলেন ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “আলাহ এই মহাবিশ্ব কত দিনে সৃস্টি করেছেন তা নিয়ে আজ একটু আলোচনা করি –

  1. এই সমস্যার সমাধান করা যায় মনে
    এই সমস্যার সমাধান করা যায় মনে হয় এভাবে – চার দিনের মধ্যে দুইদিনকে ঢুকিয়ে দিতে হবে , তা জোর করে হলেও , তাহলে দেখা যাবে , সেই ছয় দিনই। ছয় দিন বানানোর জন্যে এটাই সহিহ ইসলামী কৌশল। কিন্তু আপনি মনে হয় নিচের গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট এড়িয়ে গেছেন –

    তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, “নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু! (কোরান-11-7) –

    দ্বীন দুনিয়া সৃষ্টির আগে পানি আসল কোথা থেকে যার ওপর আল্লাহ তার আরশে বসে ঠ্যাং দোলাচ্ছিল।

    1. পানিটা আল্লাহর ঈশ্বরের সৃস্টি
      পানিটা আল্লাহর ঈশ্বরের সৃস্টি , আলালহ নিজে নাস্তিক তো তাই ঈশ্বরের কাজের কথা স্বীকার করে নাই ।

    2. আল্লাহ তো নিরাকার তাই আরশে
      আল্লাহ তো নিরাকার তাই আরশে বসে ঠ্যাং দোলানর ঘটনা নাসারারাদের অপপ্রচার ।আরশে বসে ঠ্যাং দোলানর জন্য আকার থাকতে হয় ।

  2. দুর আল্লাহ ত একদিন ক্যান এক
    দুর আল্লাহ ত একদিন ক্যান এক সেকেন্ডেই বিশ্ব সৃষ্টি করবার পারে। এই ২-৪-৬-৮ দিনের হিসাব ক্যান দিসে *unknw*

  3. আপনার যুক্তিগুলো খুবই সস্তা
    আপনার যুক্তিগুলো খুবই সস্তা টাইপ। বাচ্চা ছেলেরা এরকম যুক্তি দেয়। আপনি বরং বারবার আয়াতগুলো পড়ুন। তারপর ভাবুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 + = 13