প্রেমপত্র-৫৬

প্রিয়তমা নন্দিনী
গভীর রাতে মানুষের বুকের ভেতরের কল্পনার জগতে একটা “তুমি”জেগে থাকে ঐ জেগে থাকা “তুমি”টা আমাকে সারা রাত একদম ঘুমাতে দেয় না।
সেই “তুমি” টা আসলে বাস্তব জগতে ঘুমিয়ে থাকে আমার বুকের ভেতরের গল্পটা না জেনে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে।
আমি কতটা আমার অস্তিত্ব জুড়ে তুমি প্রবাহিত।তাই তোমাকেই লেখা।জানো প্রথম যেদিন ছবি দেখেছিলাম তোমায় সেদিনও বুঝতে পারিনি,আমার ভাবধারার বিপরীতে তুমি খুব ভিন্ন। তখন বুঝিনি এটাই আস্তে আস্তে ভালবাসায় রুপ নিবে। সেটা বুঝলে আজ আমাকে হয়তো এই চিঠিটা লিখতে হতোনা।
এত কিছু প্রতিদিন তোমাকে বলি তবু কিছু কথা না বলাই রয়ে যায়।জানোতো তোমাকে বুঝতে আমার কিছু সময় কেটে গেছে তোমার জন্য আমি একটা রাতো ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা। তবে সে জন্য তোমার কোন দোষ নেই।তোমাকে দেখে এ কথাটাই মনে হয়েছিল কি স্নিগ্ধ কোমল মেয়েটি,মন চায় সারা জীবন পাশে বসে গল্প করি।
মেয়ে যদি হঠাৎ করেই দেখ আমায় কোন এক সকাল বেলাতে দাঁড়িয়ে আছি তোমার পাশে মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে।তখন কি ঘুম ঘুম ঐ চোখে ঊঠে বসবে অবাক বিস্ময়ে রাখবে কি তোমার ঐ হাত আমার হাতে?ভাববে কি নতুন করে আবার তুমি পুরোনো সব ইচ্ছাগুলোকে
আমি এসেছি তোমার হৃদয়ের ঘরে আলো জ্বালাতে হারাবে সব অন্ধকারের পথগুলো রাখবে যখন হাত এই হাতে।জানি ছিলো অতীতটা তোমার
চারিদিকে ছড়ানো ছিল কিছু অন্ধকার।এই আমি যদি তোমার ধরে বলে দি
আনন্ত অপেক্ষা আমার শেষ হয়েছে তোমারই চোখে। যখন ভাঙ্গবে ঘুমটা তোমার দেখবে তুমি আজ আমায়,হাসছি আমি দাড়িয়ে ভাববে কি নতুন করে।তুমি বলবে এটা স্বপ্ন হুমম স্বপ্নই তো তুমিও তো আমার কাছে স্বপ্নেরই মত,একটা কথা বলি “এ কথাটা মনে রেখো আজীবন,
যতই তুমি আমাকে আবহলা কর না কেন,তোমার পরে যে মেয়েটিকে আমি ভালোবাসবো..সে তোমাকে মা বলে ডাকবে”এটা তুমি ভাল করেই জানো।
আমার চোখ আটা ময়দা সুজি খুঁজে না ,প্রেমিকের চোখ কখনই আটা ময়দা সুজি খোঁজে না,খোঁজে শুধু মিষ্টি শাড়িতে জড়ানো মায়ায় ভরা চোখ,কিছু তেল জলের গন্ধ ,আর মায়াময়ি কিছু লেপটে যাওয়া কাজল,যে চোখের কাজল কখনও যদি লেপটে যায় তা হবে আমার পরাজয়,খুব অধুনিকতার মাঝেও আটপৌড়ে তোমাকে চিনতে আমার ভুল হয়নি।
আমি শুধু তোমায় এতটুকু বলে দি,যেখানে তোমার ছায়া ধুলায় লুটায়য়
সেখানেই আমি সিজদায় পড়ে যাব।তারপরও অনুরাগ নিক্তিতে মাপতে চাও?পৃথিবীর সব জল কেরোসিন করে দাও অতঃপর তাতে আগুন জ্বালাও।আমি তোমার নাম জপতে জপতে দ্বিধাহীন ঝাপ দেব তাতে।আমি সত্যি ঝাপ দিব তাতে।
তবু দিন শেষে অনেক কথা না বলাই রয়ে যায়,মাঝে নাটক দেখতে যেতাম বেইলিরোডে তো একটা সংলাপ আমার খুব প্রিয় ছিল।আমার ইচ্ছে করে তোমার সামনে দুবাহু প্রশস্ত করে বলে দি”ওরে মাঠাইয়ের মা রে তোর সাথে ঝিঙ্গা গাছের আঠার মতো লাইগা থাকতে মন চায়”সত্যি আমার ইচ্ছে করে।
আর কি বলি,পরিশেষে কবির এ কথাটাই আমার মনের কথা হয়ে শেষ হোক আজকের চিঠি
“যতই তুমি অবহেলায় ঠেলো আমায় পথের ধুলায়, ততই আমি ফিরে ফিরে মরতে আসি তোমার চুলায় । তোমার প্রেমেই ভস্ম হবো, পুড়বো তবু সরবো না হে । যতই তুমি আমায় ছাড়ো- আমি তোমায় ছাড়বো না হে।”
তোমারই
অলোক নন্দন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “প্রেমপত্র-৫৬

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 − 7 =