সরকারের দ্বিমুখী নীতিঃ বিপন্ন রাষ্ট্রীয় ও জননিরাপত্তা

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই অস্থিতিশীল এবং হতাশাজনক। নির্বাচনকে সামনে রেখে দিন যতই এগিয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। বিএনপি জামাত একের পর এক হরতাল দিয়ে অর্থনীতি, উন্নয়ন, জনজীবনে মারাত্বক স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক মাস ধরে আমরা যে ধরনের হরতাল দেখছি সেটা আগে কখনো দেখিনি। বিরোধী দলের দাবি আদায়ের চেয়ে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা। হরতাল ডাকা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার তেমনি সেটা পালন না করাও জনগণের অধিকার। মানুষকে ভয় দেখিয়ে হরতাল পালনে বাধ্য করা, আন্দোলনের নামে জনজীবন বিপর্যস্ত করা, জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা, গাড়িতে আগুন দেয়া, আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এগুলো হচ্ছে ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্য। এটাই বিএনপি জামাতের রাজনীতির মূল ভিত্তি।

জামাতের রাজনীতির বৈশিষ্ট হলো তারা মানুষকে বাধ্য করে তাদের মতে চলার জন্য। জামাতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর অনেক লেখালিখি রয়েছে এই সব বিষয়ে। এখন বিএনপির রাজনীতি হলো জামাতকে অনুসরণ করা। জামাত আর বিএনপির রাজনীতির মধ্যে এখন আর কোন সীমারেখা নেই। হরতালের নামে তারা রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস করছে, সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকাকে বিপন্ন করছে। হরতালের নামে তারা এমন সব ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ড করছে যেটা আগে কখনো দেখা যায়নি। বিদ্যুত কেন্দ্রে হামলা করা, রেল লাইন উপড়ে ফেলা, ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয়া, বাসে আগুন দেয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করা এসবতো কোন আন্দোলনের ধরন হতে পারে না। এসব আমরা দেখি কোন দেশে গৃহযুদ্ধের সময়। গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। বিএনপি জামাত দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধাতে চায়। সাইদীর রায়ের আগে জামাত ঘোষণা দিয়েছিল রায় যদি তাদের পছন্দ মতো না হয় তাহলে দেশে গৃহযুদ্ধ হবে আর এ জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে।

জামাত বিএনপি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রে ওপর একের পর এক আঘাত করে চলেছে। তাদের কারণে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা সব কিছুই এখন বিপন্ন। হরতালের কারণে প্রতিদিন দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। গত কছর বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার শতকরা পাঁচ ভাগের ওপরে আছে। প্রবৃদ্ধির এই হারের দিক থেকে আমাদের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার এক নম্বরে আর বিশ্বে পাঁচ নম্বরে। তাদের আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে এই প্রবৃদ্ধির হার ক্ষতিগ্রস্থ হবে। দেশ পিছিয়ে যাবে। এই ধরনের দেশদ্রোহিতামূলক কাজ তারাই করতে পারে যারা বাংলাদেশকে গ্রহন করতে পারেনি, একাত্তরে যারা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। জামাতে ইসলামী একদিকে যুদ্ধাপরাধীদরে বিচার বানচালের জন্য এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিচ্ছে। এর পাশাপাশি তারা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে হয়তো এটা তাদের পছন্দ নয়। তারা একাত্তরে গণহত্যা ধর্ষণের মতো যুদ্ধাপরাধ করেছিল পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য। তারা বাংলাদেশের বহুত্ববাদ সমাজ, সভ্যতা, হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি সব কিছু ধ্বংস করার খেলায় মেতে উঠেছে। সাইদীর মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যেভাবে তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এটা এক কথায় নজিরবিহীন।

তাদের এই ধরনের সন্ত্রাস আমরা দেখেছি ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে। সেই সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় জামাত বিএনপির হাতে হামলার শিকার হয়েছে। কারণ তারা মনে করে এদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাক্তিরা আ’লীগকে ভোট দেয়। যদিও তাদের এই ধারণা সঠিক নয়। এবারতো নির্বাচনের এক বছর আগে থেকেই তারা এ ধরনের সন্ত্রাস শুরু করেছে। তারা এই দেশে মুসলিম ছাড়া অন্য কোন ধর্মীয় অনুসারীদের থাকতে দেবে না। শুধু তাই নয় তাদের মতের বাইরে কোন মুসলিম থাকতে পারবে না। ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী কোন মুসলিম থাকতে পারবেনা। তারা তাদের দর্শন অনুযায়ী বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটি মনোলিথিক মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। মাদ্রাসা কেন্দ্রিক যে সব সংগঠন আছে, যারা এক সময় জামাত বিরোধী ছিল, এখন জামাত কৌশলে তাদের নিজেদের কর্মসূচির সাথে যুক্ত করেছে। এখন হেফাজতে ইসলামকে জামাত ব্যাবহার করছে। এভাবেই যারা এক সময় জামাত বিরোধী ছিল তারাও এখন জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে।

হেফাজতের ইসলাম তাদের তের দফায় যা কিছু বলেছে সেটা জামাতের রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নয়। এটা জামাতের রাজনৈতিক দর্শন মওদুদীবাদের ধারাবাহিকতা। এতকাল জামাত যেটা বলেছে এখন হেফাজতে ইসলাম সেটাই বলছে। হেফাজতে ইসলামের তের দফায় এমন নতুন কিছু নেই যেটা জামাত আগে বলেনি। তারা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন করার কথা বলেছে। যাকে বলা হয় ব্লাসফেমী আইন। এই দাবী জামাত হেফাজতের অনেক আগেই করেছিল। জামাতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯৩ সালে পার্লামেন্টে ব্লাসফেমী আইন প্রণয়নের জন্য বিল জমা দিয়েছিলেন। তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তারা জামাতের এই আবদার মেনে নেয়নি। এমন কি তারা এটা আলোচনার মধ্যেও আনেনি। কিন্তু লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, ২০০১ সালে সেই মতিউর রহমান নিজামী যখন জোট সরকারের অংশীদার হয়ে ক্ষমতায় গিয়ে মন্ত্রী হয়েছেন তখন একবারও বলেননি যে ব্লাসফেমী আইন পাশ করতে হবে। এই হেফাজতে ইসলামও ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটে বসেছিল। একবারের জন্যও বলেনি যে বাংলাদেশে ব্লাসফেমী আইন পাশ করতে হবে।

হেফাজত বা জামাত যেটাকে তাদের ভাষায় আল্লাহ রসুলের সমালোচনা বলে, এর বিরুদ্ধে আইন অনেক আগে থেকেই এই অঞ্চলে ছিল। সেটা বৃটিশ আমলেও দেখা গেছে। দেড়শ বছর আগে বৃটিশ সরকার সেই সময় ধর্মীয় অবমাননার জন্য শাস্তির বিধান রেখে আইন করেছে। এই আইন এখনো ফৌজদারী দন্ডবিধিতে আছে। এটা আমাদের সংবিধানেও আছে। এখন যে তথ্য প্রযুক্তি আইন করা হয়েছে সেখানেও আছে। তাই এটার জন্য নতুন করে কোন আইন করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। এটা আসলে জামাতের রাজনৈতিক এজেন্ডাÑযেটা পাকিস্তানে তারা করেছে। সেই পাকিস্তানের আজ কি অবস্থা? পাকিস্তান এখন পৃথিবীতে এক নম্বর ব্যার্থ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আজ সারা বিশ্বের লোকজন এমন কি সেই দেশের বুদ্ধিজীবীরাও বলছেন পাকিস্তান দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বিপদজনক রাষ্ট্র। এমন কোন দিন নেই যেখানে কোন না কোন জঙ্গি হামলা ঘটে না। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটে পাকিস্তানে।

বাংলাদেশকে জামাত পাকিস্তান বা আফগানিস্তান বানাতে চাইছে, এটাই তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা। তের দফার আরো একটি দফা হলো কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। এই একই ইস্যুতে জামাত পাকিস্তানে ১৯৫৩ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা করেছিল। শত শত আহমদিয়া মুসলিমকে তারা হত্যা করেছিল। তাদের হাত থেকে নারী শিশু বৃদ্ধ কেউ রক্ষা পায়নি। জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী সেই সময় কাদিয়ানি সমস্যা নামে একটা বই লিখে এই দাঙ্গার উস্কানী দিয়েছিলেন। সেজন্য সামরিক আদালতে এই মওদুদীর মৃত্যুদন্ড হয়েছিল। হেফাজতে ইসলাম এই ইস্যু আসলে জামাতের কাছ থেকে ধার করেছে। এটা জামাতের দাবি। হেফাজত সচেতন বা অবচেতনভাবে জামাতের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে।

৫৩ সালে পাকিস্তানে দাঙ্গার পর সরকার বিচারপতি মুনিরের নেতৃত্বে একটি কমিশন করেছিল। সেই কমিশন ১৫ জন ইসলামী চিন্তাবিদকে ডেকে জানতে চেয়েছিলেন ইসলাম এবং মুসলিমের সংজ্ঞা কি? ১৫জন চিন্তা ১৫টা সঙ্গা দিলেন। তারপর কমিশন রিপোর্ট করেছে, যদি একজনের সংজ্ঞা গ্রহন করা হয় তাহলে অপরজন মুরতাদ বলবে। রাষ্ট্র তাহলে কার সংজ্ঞা নেবে? সুতরাং কে মুসলিম আর কোনটা ইসলাম সেটা নির্ধারণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিতে পারেনা। ভালো হবে রাষ্ট্র যেন এ ব্যাপারে নাক না গলায়। কে মুসলিম আর কে মুসলিম না এটা রাষ্ট্র বলার কেউ না। এই স্বীকৃতি দেয়ার অধিকার কারও নেই। একমাত্র আল্লাহ জানেন কে মুসলিম আর কে মুসলিম নয়। কারণ একমাত্র তিনিই অন্তর্যামী। জামাত যেমন এটা বলতে পারে না, হেফাজতে ইসলামও এটা বলতে পারেনা। মওদুদী বলেছে তাদের দল না করলে কেউ মুসলিম নয়, তারা মুরতাদ। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিমরা মওদুদীর বা জামাতের এই আকিদা বিশ্বাস করেনা।

আমরা এর আগে অনেকবার দেখেছি, যখন জামাত রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়ে তখন কাদিয়ানী ইস্যু, ব্লাসফেমী আইন, আস্তিক নাস্তিক ইস্যু, কাফের মুরতাদ ফতোয়া দেয়া এই সব ইস্যু সামনে নিয়ে আসে। এভাবে তারা মানুষের চোখ অন্য দিকে সরিয়ে নিতে চায়। ১৯৯২ সালে আমরা দেখেছি তারা কাদিয়ানীদের অসংখ্য মসজিদে হামলা চালিয়েছে। তাদের গ্রন্থাগারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। রাজশাহীতে ৫৬টি ভাষায় লেখা কোরান শরিফ ছিল। অনেক প্রাচীন হাতে লেখা কোরান শরিফ ছিল। চেঙ্গিস খান, হালাকু খানের মতো জামাতিরা আহমদীয়াদের গ্রন্থাগার ধ্বংস করেছিল। এটাই হচ্ছে জামাতের আসল পরিচয়। তখন তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়েছিল। আহমেদ শরীফ, আহমেদ ছফার মতো বুদ্ধিজীবীদের তারা নাস্তিক মুরতাদ কাফের বলে ফতোয়া দিয়েছিল। এসব করার মাধ্যমে তারা মানুষের চোখ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করেছিল। তখন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে নির্মূল কমিটির জামাতবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে ছিল। তার সেই আন্দোলনের কারনে জামাত রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ন কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল।

এই সময় ভারতে উগ্র হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে। জামাত সেই ঘটনার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হিন্দুদের মন্দিরে হামলা করে। তখন তারা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের তিন হাজার ছয়শত মন্দির ভেঙে ফেলেছিল। এটা সংসদের ধারা বিবরণীতে লেখা আছে। হিন্দু সম্প্রদায় বা আহমাদিয়া মুসলিমদের আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেয়া, ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদিদের প্রতি নাস্তিক মুরতাদ বলে ফতোয়া দেয়া, এই সব কাজ তারা আগেও করেছে। জাহানারা ইমামের আন্দোলনের কারণে কোনঠাসা অবস্থা থেকে মুক্তি পাবার জন্য তারা এসব করেছিল।

এখন তারা ঠিক একই কাজ করছে যখন শাহবাগে জামাত নিষিদ্ধ আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তরুণদের মহা-জাগরণ ঘটেছে। এই জাগরণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, সারা দেশের তরুণ সম্প্রদায় জামাত নিষিদ্ধ আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। ফলে জামাত আবারো রাজনীতিতে কোনঠাসা অবস্থায় পড়েছে। এই বিপদ থেকে রক্ষা পাবার জন্য, মানুষের চোখ অন্যদিকে সরিয়ে দেবার জন্য এখন তারা বিভিন্ন ইস্যু সামনে আনছে। জামাত শুরুতেই ফতোয়া দিয়েছে শাহবাগের গণজাগরণ যারা করেছে তারা সবাই নাস্তিক মুরতাদ কাফের। তাদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে এক সময় যারা জামাত বিরোধী ছিল সেই হেফাজতের ইসলামও এখন বলছে ব্লগাররা নাস্তিক মুরতাদ কাফের।

জামাতের পৃষ্টপোষকতায় বা আর্থিক সহযোগিতায় হেফাজতের যে সমাবেশ হলো তারও কিন্তু লক্ষ্য একই। হেফাজতের যে তেরো দফা সেটা আসলে জামাতেরই তেরো দফা। এটা খুবই দূঃখজনক যে এক সময় আমরা দেখেছি হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শফি, যিনি এক সময় জামাত বিরোধী ছিলেন, এক সময় তিনি জামাতের বিরুদ্ধে অনেক লিখেছেন, সেই সব লেখা আমরাও পড়েছি। আজকে আল্লামা শফির তেরো দফা তার নিজের সেই সব লেখার বিরোধী। তাদের লেখার মধ্যেই আছে জামাতের ফেতনা কাদীয়ানীদের থেকেও ভয়ঙ্কর। অথচ আজ তিনি কাদিয়ানিদের অমুসলিম করার কথা বলছেন কিন্তু জামাতকে নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন না। মওদুদীপন্থি আকিদা নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি। এগুলো থেকে এটা পরিস্কার হয়ে গেছে যে জামাতের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নারী নীতি, শিক্ষা নীতি নিয়ে সরকার অনেকবার বলেছে এর মধ্যে ইসলাম বিরোধী কি আছে আপনারা দেখান। তারা একবারও নিদিষ্টভাবে বলছে না যে এটা ইসলাম বিরোধী । তারা বলছে শাহবাগের নারী পুরুষের মেলামেশার কথা।

হেফাজতের তের দফার প্রতিটি দফা ধরে ধরে বিচার করলে দেখা যাবে যে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটা যেমন গ্রহণযোগ্য নয় তেমনি আমাদের সংবিধানের দৃষ্টিতেও এটা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে এক সাক্ষাতকারে পরিস্কারভাবে বলেছেন আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হলো ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্র। একই সঙ্গে হেফাজতের তের দফা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদেরও পরিপন্থি। তাই তের দফার একটিও যদি মানা যায় তাহলে সেটা হবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের পরিপন্থি, সংবিধানের পরিপন্থি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি এবং ইসলামেরও পরিপন্থি। সেকারণে তের দফা দাবির একটিও আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা আগেই বলেছি হেফাজতকে সমাবেশ করতে দিয়ে সরকার তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এটা সরকারের উচিত হয়নি। এই হেফাজতের নেতারা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের নেতাদের চট্রগ্রামে সমাবেশ করতে দেয়নি। তারা হুমকি দিয়েছিল চট্রগ্রামে সমাবেশ করলে লাশের পর লাশ পড়ে যাবে। যেহেতু প্রশাসন শাহবাগের আন্দোলনের নেতাদের সমাবেশ করতে দেয়নি তাই আমরা মনে করেছিলাম হেফাজতকেও সরকার মতিঝিলে সমাবেশ করতে দেবে না। কিন্তু সরকার তাদের সমাবেশ করতে দিয়েছে। আমরা হরতাল দেয়ার কারনে তারা তাদের ঘোষণা অনুযায়ী লোক সমাগম করতে পারেনি। তারা ঘোষণা দিয়েছিল ৫০ লক্ষ লোকের সমাবেশ ঘটাবে তারা শাহবাগ দখল করে নেবে। তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি আমাদের প্রতিরোধের কারণে। সরকার তাদের সঙ্গে আপোষ করছে।

সেদিন হেফাজতের কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেছিল। আমি মনে করি না সেটা হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা। এটা তারা পরিকিল্পতভাবেই করেছে। কারন তাদের সমাবেশের আগেই আল্লামা শফি জামাতের পত্রিকাগুলোতে বিশাল খোলা চিঠি লিখে আমাকে ও মুনতাসীর মামুনসহ শাহবাগের গণজাগরণের নেতাদের নাস্তিক মুরতাদ কাফের বলে ফতোয়া দিয়েছেন। এই জাতীয় ফতোয়া দেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো তাদের কর্মীদের বলা এরা হত্যার যোগ্য এবং যেখানে পারো তাদের হত্যা করো। এমন কি চট্রগামসহ বিভিন্ন সমাবেশে তারা অনেকবার বলেছেন নির্মূল কমিটির নেতাদের যেখানে পাবে সেখানে হত্যা করবে। এভাবে তারা কর্মীদের হত্যার জন্য প্রলুব্ধ করেছেন, তাদের উৎসাহিত করেছেন। জামাত অনেকবার আমাদের হত্যার জন্য ফতোয়া দিয়েছে। পার্লামেন্টে হুমায়ন আজাদ সম্পর্কে সাঈদী বলেছেন তিনি নাস্তিক মুরতাদ কাফের। তাদের হত্যার জন্য ব্লাসফেমী আইন করতে হবে। তারপরেই হুমায়ন আজাদের ওপর হামলা হয়েছে। কাজেই মাওলানা শফি যখনই খোলা চিঠি লিখেছেন তখনই আমরা ধরে নিয়েছি আমাদের ওপর হামলা হবে। হেফাজতের লঙ মার্চের দিন মহাখালিতে আমাদের সমাবেশ ছিল। আমাদের সমাবেশের পাশ দিয়ে তাদের অনেক গাড়ি চলে গেছে আমরা কোন বাধা দেইনি। আমাদের ওপর হামলাটা পরিকল্পিত বলে মনে হয়েছে কারণ টঙ্গি থেকে যারা হেঁটে আসছিল তাদের জন্য মতিঝিল যাওয়ার সহজ রাস্তা হলো বিশ্বরোড। কেন তারা মহাখালি হয়ে অতিরিক্ত পাচ কিমি পথ ঘুরে যাবে? কিন্তু সেটাই হয়েছে। তারা আমাদের সমাবেশ অতিক্রম কার সময় হঠাৎ করে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে জানা গেছে জামাতের লোকেরা আগে থেকে মহাখালি বাজারে অবস্থান নিয়েছিল। এবং মিছিলকারিদের তারা হামলা করতে প্রলুব্ধ করে। হেফাজতের ছত্র ছায়ায় জামাতিরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে সরকার ব্লগারদের গ্রেফতার করেছে। আমি মনে করি এটা অত্যান্ত নিন্দনীয়। এটা আমাদের সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার যেমন বাক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিবেকের স্বাধীনতার পরিপন্থি। আমরা বার বার বলে আসছি ব্লাশফেমির ধারনাটি এসেছে ইহুদি, খৃস্টান ধর্ম থেকে। ইসলাম ধর্মানুযায়ী কেউ যদি আল্লাহ, রসুল বা ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করেন তার কোন জাগতিক শাস্তি পবিত্র কোরআনের কোথাও রাখা হয়নি। স্বয়ং আল্লাহ তাকে সেই শাস্তি দেবেন। এখন আল্লাহ যে শাস্তি দেবেন সেটা যদি বান্দা নিজের হাতে তুলে নেয় তাহলে সেটাইতো ধর্মের অবমাননা। কতগুলি শাস্তি আছে যেগুলো জাগতিক শাস্তি, সেটা কোরআনে উল্লেখ আছে। কিন্তু ধর্ম অবমাননার অভিযোগের শাস্তি আল্লাহ নিজের হাতে রেখে দিয়েছেন। আমি অন্তত দুইশত আয়াত দেখাতে পারবো যেখানে পবিত্র কোরানে অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতা এবং ধর্ম অবমাননার শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। ব্লাসফেমির ধারনাটি ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

আমাদের ফৌজদারী দন্ডবিধিতে আছে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে যদি আঘাত দেয়া হয় তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেই অভিযোগে সরকার কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে কিন্তু কাউকে রাতের অন্ধকারে গ্রেফতার করা, এবং তাদের টেলিভিশনের সামনে হাজির করাটা একেবারে নজির বিহীন। পাকিস্তানে আমরা দেখেছি ব্লাসফেমির আইনে যাদের গ্রেফতার করা হয় তাদের ক্যামেরার সামনে হাজির করা হয় না। কারন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমান করা না গেলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় কিন্তু পরে উগ্রপন্থিরা তাদের হত্যা করে। তাই সেখানে নিয়ম হয়েছে গ্রেফতারের পর তাদের চেহারা দেখানো যাবে না। কিন্তু আমাদের এখানে সেটা করা হয়েছে। এটা অত্যান্ত নিন্দনীয়। আমরা এই গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছি। এই গ্রেফতারের জন্য বাইরে বেশ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এমনেস্টিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের যে উদাননৈতিক ভাবমূর্তি রয়েছে তার ভীষণ ক্ষতি হয়েছে।

ব্লগারদের গ্রেফতারের মধে দিয়ে সরকার হেফাজতের দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছে। কারন তাদের গ্রেফতারের জন্য হেফাজত সরকারকে চাপ দিয়েছিল। তাদের এই সব দাবি উঠেছে সাঈদীর গ্রেফতারের পর থেকে। সরকার তাদের সন্তষ্ট করার জন্য এটা করেছে। মৌলবাদের সাথে আপোষ করলে তার ফল কখনো শুভ হয়না। আস্কারা দেয়া হলে তাদের ধৃষ্টতা বেড়ে যাবে। এখনতো তারা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রিকে নাস্তিক বলছেন। গ্রেফতার করা উচিত ছিল সেই হেফাজতের নেতাদের যারা বাংলাদশে বসে আমাদের সংবিধানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোন অবস্থান নিয়েছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আ’লীগের একজন শীর্ষ নেতা তোফায়েল আহমেদও বলেছেন সরকার দুই নৌকায় পা রেখে চলতে পারে না।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতগুলি বিধি নিষেধ সাপেক্ষে। কেই কেউ বলছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে না। তেমনি আমিওতো বলতে পারি আমার রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে আঘাত করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি হয় আমার আদর্শ ও রাজনৈতিক অনুভূতি এটাকে আপনি কিভাবে আঘাত করবেন? কিন্তু যুদ্ধাপরাধীরা সেটাই করছে। কাজেই যদি ব্যবস্থা নিতে হয় তাহলে সবার বিরুদ্ধে নিতে হবে। আল্লাহ রসুলের সমালোচনা যেমন নিন্দনীয়, অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা সেটাও নিন্দনীয়, কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণার দাবিও নিন্দনীয়। এই সব নিন্দনীয় কাজের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের বিধান অনুযাযী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাকিস্তানে আমরা এমনও দেখেছি জামাতের বিরুদ্ধে কথা বলাটাই তারা ব্লাসফেমি বলে ধরে নিয়েছে। জামাত বলে তারা আল্লাহ দল, কাজেই আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই আল্লাহর বিরুদ্ধে কথা বলা। আমরা পরিস্কারভাবেই বলি এগুলো ইসলাম বিরোধী আকিদা। আমাদের কথা হচ্ছে রাষ্ট্রকে ধর্মীর ব্যাপারে একেবারেই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। পাকিস্তানে যেমন মুনির কমিশন হয়েছিল তেমনি সরকার এখন একটা কমিশন করে দিতে পারে। তারা বিবেচনা করে দেখতে পারে হেফাজত যা বলছে বা আমরা যেটা বলছি তার মধ্যে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে। আজ বিএনপি হেফাজত ও জামাতকে প্রশ্রয় দিয়ে নির্বাচনের রাজনীতিতে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। এর মাসুল বিএনপিকে দিতে হবে।

১৬ এপ্রিল ২০১৩,
ঢাকা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “সরকারের দ্বিমুখী নীতিঃ বিপন্ন রাষ্ট্রীয় ও জননিরাপত্তা

  1. ৫৩ সালে পাকিস্তানে দাঙ্গার
    ৫৩ সালে পাকিস্তানে দাঙ্গার পর
    সরকার বিচারপতি মুনিরের
    নেতৃত্বে একটি কমিশন করেছিল। সেই কমিশন ১৫ জন
    ইসলামী চিন্তাবিদকে ডেকে জানতে চেয়ে ছিলেন ইসলাম এবং মুসলিমের সংজ্ঞা কি? ১৫জন
    চিন্তা ১৫টা সঙ্গা দিলেন। তারপর
    কমিশন রিপোর্ট করেছে, যদি একজনের সংজ্ঞা গ্রহন করা হয় তাহলে অপরজন মুরতাদ বলবে। রাষ্ট্র তাহলে কার সংজ্ঞা নেবে?

    আবার ডেফিনিশন জানতে চাওয়া হোক ১৩ এর ইসলামী চিন্তাবিধদের । দেখা যাক কি হয় ।

  2. সংকট সামনে আরো ঘনীভূত হতে
    সংকট সামনে আরো ঘনীভূত হতে পারে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত নামে সুন্নী মতাদর্শের অনুসারীদের যে সমাবেশ হল লালদিঘীতে সেখানে তারা স্পষ্টতই জামাত আর হেফাজতের বিরোধিতা করেছে। সমস্যাটা হচ্ছে তাদের কিছু বক্তব্যের কারনে হেফাজত স্বাভাবিকভাবেই ক্রুদ্ধ হবে এবং তারা নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নী সমস্যা যেরকম প্রকট আকার ধারণ করেছে অদূর ভবিষ্যতে সুন্নী-হেফাজত একই রকম সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে আমাদের দেশেও। হেফাজত ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে ক্ষেত্রবিশেষে তারা সহিংস হতে পারে। খুব দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান খোঁজা এবং সেটার প্রয়োগ করা উচিত। এভাবে একটি দেশ পিছিয়ে নিয়ে যাবার ঘৃণ্য অপচেষ্টা রুখে দিতেই হবে।

  3. বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং
    বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং রাজনৈতিক কুট কৌশলগত কারণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অনেক সময় অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও বেশ কিছু পন্থা অবলম্বন করতে হয়। যেভাবে হেফাজত তথা জামায়াতীরা ধর্ম নিয়ে নৈরাজ্য তৈরী করছে সেটিকে মোকাবেলা করতে সরকার যদি আহলে সুন্নাত ওয়ালা জমা’আতকে সাথে নিয়েও থাকে তাতে তেমন একটা ক্ষতি নেই।
    এটি দ্বি-মুখী নীতি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দরকার এবং প্রয়োজনীয়, তাছাড়া জামায়াত তথা হেফাজতীরা বিভিন্ন ভ্রান্ত-ধারনায় ইসলাম প্রচারের নামে ইসলাম অবমাননা করছে সেটিও তুলতে ধরতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ব্যাপক অংশগ্রহন দরকার।

  4. এত চমৎকারভাবে সমসাময়িক
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    এত চমৎকারভাবে সমসাময়িক প্রসঙ্গগুলো বিশ্লেষন করেছেন। অসাধারন!

  5. দেশে এতদিন সাম্প্রাদায়িক
    দেশে এতদিন সাম্প্রাদায়িক দাঙ্গা যা হইছে সেটা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে হইছে। এবার তো সুন্নি, শিয়া, হেফাজতি ইত্যাদির মধ্যে লাগবে মনে হচ্ছে। ভালো… দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আর সেই এগিয়ে নেওয়ার কাজে গোঁড়ায় জল ঢেলে ফুলে-ফলে পুস্পিত করে তুলছেন বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার।

    চমৎকার লেখার মাধ্যমে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। সবাইকে লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

  6. রাজনীতি নিয়ে যেমন মতের অভাব
    রাজনীতি নিয়ে যেমন মতের অভাব নেই, সেরকম ধর্ম নিয়েও মতের অভাব নেই। পার্থক্য হল, রাজনীতিবিদেরা বলেন- রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। কিন্তু ধর্মের ক্ষেত্রে, সেটা একই ধর্মে হোক অথবা ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে হোক, যত মত, যত পথই থাকুক না কেন, যে যে মতে বিশ্বাসী সে মনে করে অথবা বলতে চায় – তার কথাটাই শেষ কথা। আমাদের দেশে, রাজনীতিটা ধর্মের মত হয়ে যাচ্ছে, আবার ধর্মটাও রাজনীতির মত হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, প্রত্যেকেই তার কথাটাই শেষ কথা বলে মনে করছে।

  7. চমৎকার একটা লেখা পড়লাম।
    চমৎকার একটা লেখা পড়লাম। ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ মুলধারার লেখকদের লেখা ব্লগ পাঠকদের পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দেওয়ার জন্য। মুলধারার মুক্তচিন্তার আরো লেখকদের লেখা চাই। এই জন্য ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষন করলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 − = 45