পাকিস্তান একটি শয়তানরাষ্ট্র। ইসলাম মানুষ ও মানবতার স্বার্থে এটি ধ্বংস করা প্রয়োজন (তৃতীয় পর্ব)

পাকিস্তান একটি শয়তানরাষ্ট্র। ইসলাম মানুষ ও মানবতার স্বার্থে এটি ধ্বংস করা প্রয়োজন (তৃতীয় পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

পৃথিবীর সবচেয়ে নৃশংস-জাতি হচ্ছে পাকিস্তানীরা। আর তাদের মতো এতো নিষ্ঠুর আর এতো নির্মম পাষণ্ড এই পৃথিবীর বুকে আর-কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এদের মধ্যে সামান্যতম মানবতাবোধ নাই। মনুষ্যত্ব এদের মধ্যে কখনও ছিল কিনা তা কেউ কখনও বলতে পারবে না।
পাকিস্তানীদের ধর্মবিশ্বাসের একটি বড় স্তম্ভ হচ্ছে: তাদের সেনাবাহিনী নামক হানাদারবাহিনী। আর এমন হানাদার ও নৃশংস সেনাবাহিনী পৃথিবীর কোনো দেশে নাই। এই পাকিস্তানী-সেনাবাহিনীর জওয়ানদের কাছে সবসময় প্রিয়-পাঁচটি বিষয় হলো:

১. হত্যা-খুন, আর গণহত্যা;
২. ধর্ষণ আর গণধর্ষণ;
৩. লুটতরাজ;
৪. অগ্নিসংযোগ;
৫. ব্যাপক-ভাংচুর ও ধ্বংসাত্মক-তাণ্ডবলীলা।

পৃথিবীতে পাকিস্তানীসেনাবাহিনীর জন্মই হয়েছে যেন ধর্ষণ করার জন্য। এদের কোনো সৃষ্টিশীল-কাজ নেই। এরা বর্তমানে সারা-পৃথিবীতে জঙ্গীবাদী-অপকর্মের মূল হোতা। আর এই পাকিস্তানী শয়তানীসেনাবাহিনীর একাংশ-গুপ্তঘাতকদল হচ্ছে: আইএসআই। নামে এরা পাকিস্তানের গোয়েন্দাসংস্থা। আসলে, এরা কিন্তু পাকিস্তানের ও বিশ্বের সর্বাপেক্ষা নৃশংস বাহিনী পাকিস্তানীআর্মির চিরদোসর। এরা দেশে-দেশে সবসময় নানারকমের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যসৃষ্টির মদদ দিয়ে চলেছে। বিশেষতঃ বাংলাদেশের সমস্ত হত্যাকাণ্ডের পিছনে এই শয়তানী-আইএসআই-এর শয়তানীভূমিকা রয়েছে।

খুন-ধর্ষণে সবসময় পটু পাকিস্তানীআর্মি। পাকিস্তানের সাবেক সামরিকজান্তা স্বঘোষিত-জেনারেল জিয়াউল হকের দুঃশাসনামলে একবার ‘পিপলস পার্টি’র নেত্রী বেনজীর ভুট্টোকে প্রথমে বন্দী এবং পরে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিলো। আর তিনি এই সময় দীর্ঘদিন গৃহবন্দী হিসাবে ছিলেন। শুধু তাই নয়, এই সময় পিপলস পার্টির উচ্চপদস্থ মহিলা সুন্দরী-সদস্যদের ধর্ষণ আর গণধর্ষণ করেছিলো পাকিস্তানীসেনাবাহিনী। আর তারা গণতন্ত্রের দাবিতে লড়াইসংগ্রামরত বেনজীর ভুট্টোর ‘পিপলস পার্টি’কে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য পিপলস পার্টির পুরুষ সদস্য ও মহিলা সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী-আগ্রাসী অভিযান পরিচালনা করেছিলো। এমনকি বেনজীর ভুট্টোর শুভাকাঙ্ক্ষী ও তাঁর বান্ধবীদের এই সময় ধর্ষণ আর গণধর্ষণ করেছিলো পাকিস্তানের জারজ-সেনাবাহিনী। বেনজীর ভুট্টো পরবর্তীকালে তাঁর রচিত ‘Daughter of East’ গ্রন্থে সেই সময়কার সেই লোমহর্ষক-নির্যাতনের কিছু চিত্র অঙ্কন করেছেন। বেনজীর ভুট্টো ওই কলংকময় ঘটনার পরে একসময় বলেছিলেন, এর আগে আমি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানীসেনাবাহিনীর হত্যা-খুন-ধর্ষণের কথা বিশ্বাস করতাম না। এখন আমার সবকিছু বিশ্বাস হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানআর্মি বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যে ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়েছিলো তা এখন আমার বিশ্বাস হয়। আর জিয়াউল হকের শাসনামলে যা দেখেছি, তা একাত্তরের মতোই ভয়াবহ।

কুখ্যাত সামরিকজান্তা ও শয়তানের জারজপুত্র জিয়াউল হকের শাসনামলে বেনজীর ভুট্টোর বান্ধবী, ঘনিষ্ঠজন নারীসহ সর্বস্তরের গণতন্ত্রকামী-নারীরা পাকিস্তানআর্মির বেজন্মা-সদস্যদের দ্বারা সীমাহীন নিষ্ঠুরতায় ও অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে ধর্ষিত হয়েছিলো। অভিজাত-সুন্দরী-নারীদের আহাজারিতে সেদিন পাকিস্তানের আকাশ-বাতাস ভারী হলেও এই শয়তান জিয়াউল হক কিংবা পাকিস্তানীনারীখাদক সেনাবাহিনীর মনে সেদিন কোনো অনুকম্পা জন্মেনি। আসলে, পশুরা কখনও মানুষের অধিকার বুঝতে চায় না। আর তাদের কখনও অধিকার দিতে চায় না।

বেনজীর ভুট্টো এরপর থেকে মনে মনে, প্রকাশ্যে বারবার লজ্জিত হয়েছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যাবতীয় অপকর্মে। জীবনে তিনি আর-কোনোদিন পাকিস্তানসেনাবাহিনীর প্রশংসা করেননি। আর তিনি নিজের চোখে তার বান্ধবীদের পাকিস্তানীসেনাবহিনীর হাতে ধর্ষিত হতে দেখেছিলেন। আর তাঁর দৃষ্টিতেও পৃথিবীর সর্বকালের সর্বকুখ্যাত সেনাবাহিনী হলো পাকিস্তানের ধর্ষকামী-লম্পট-সেনাবাহিনী। এরা চিরদিন মানুষ ও মানবতার শত্রু। এই পাকিস্তানআর্মি নামক নরখাদক শয়তানরা পাকিস্তানের গণতন্ত্রকামী-নেত্রী বেনজীর ভুট্টোকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আর সেই সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল আরেক নমরুদ: স্বঘোষিত-জেনারেল পারভেজ মোশারফ। আর সব শিয়ালের একই রা!

পাকিস্তানীসেনাবাহিনীকে যারা মানুষ ভাবে তারাও নরপশু। এদের লোকালয়ে বসবাস করা উচিত নয়। এদের এখনই কোনো জঙ্গলে চলে যাওয়া উচিত। এই পশুরাই এখন আমাদের বাংলাদেশের একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশে এখন বড়সড় যে-সব নাশকতার সৃষ্টি হয়েছে, হচ্ছে, এবং হবে তার পিছনেও এই হানাদারসেনাবাহিনীর একাংশ আইএসআই-এর শয়তানী-কালোহাত রয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় গোয়েন্দাসংস্থা আইএসআই প্রতিদিন বাংলাদেশে নাশকতাসৃষ্টির জন্য একের-পর-এক শয়তানী-ছক কষে চলেছে। এরা সবসময় শয়তানী করতে ভালোবাসে। আর সবসময় শয়তানী করতে-করতে এদের এখন শয়তানীই ভালো লাগে। এরা নিজেরা ডুবে আছে পাপে-তাপে আর জঙ্গীহায়েনার দ্বারা। এরা কারও ভালো চায় না। তাই, এদের যাবতীয় শয়তানী এরা দেশে-দেশে বিশেষতঃ বাংলাদেশে রপ্তানি করতে চায়। এইব্যাপারে এদের মনোভাব হলো: আমরা যখন মরছি তখন সবাইকে নিয়েই মরবো।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৭/০৪/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 85 = 95