জনগণও বিভিন্ন অপরাধের তথ্য পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদান করতে বাধ্য

যেকোন অপরাধের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা করা দেশ ও সমাজের জন্য মঙ্গলজনক। আর এ প্রতিরোধের ব্যবস্থা জনগণের সাহায্য ব্যথিত সম্ভব নয়। যখন কোন স্থানে অপরাধের উদ্ভব হয়, তখন কাছে মানুষের পক্ষেই সেই অপরাধের উদ্ভবের কথা জানাটা খুবই স্বাভাবিক। সব জায়গায়, সর্বক্ষণ পুলিশ বসিয়ে রাখা সম্ভব নয়। পুলিশেরও থানা থেকে গিয়ে এসব উদ্ভবের খবর জানা সব সময় সম্ভব হয় না। আইন তাই সাধারণ জনগণের উপরও কিছু দায়িত্ব অর্পণ করেছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এর ধারা ৪২ অনুযায়ী কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ যুক্তিসঙ্গতভাবে সাহায্য চাইলে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এর ধারা ৪৪ অনুযায়ী জনসাধারণ কতিপয় অপরাধের সংবাদ পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদান করতে আইনগতভাবে বাধ্য।

অপরাধীরা অনেক সময় রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ, দাঙ্গা-হাঙ্গামার কাজ, খুন-জখমের কাজ, ডাকাতির কাজ, যেকোন স্থাপনা বা সম্পত্তিতে আগুন দেওয়ার কাজ এবং অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে বা হতে চায়। এসব অপকর্মের কথা বা ইচ্ছার কথা কেউ যদি জানতে পারে তবে তিনি নিকটবর্তী পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট খবর পৌঁছে দিতে বাধ্য। কোন ব্যক্তি যদি এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন তবে তিনি সাজার যোগ্য অপরাধে অপরাধী হবেন। এক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা বা কারাদণ্ড যেকোন দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।

দেশে বর্তমান সময়ে যারা দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাংচুর, নাশকতা এবং বোমাবাজি বিশেষ করে পেট্রোল বোমা দিয়ে যারা যাত্রীবাহী বাস-ট্রাক-ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন পুড়িয়ে বর্বরোচিতভাবে সাধারণ মানুষ হত্যা করছে তাদের সম্পর্কে কোন তথ্য থাকলে, আমাদেরকে অবশ্যই নিকটস্থ পুলিশে খবর দিতে হবে। এটা আমাদের সামাজিক এবং আইনি দায়িত্ব। সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে এসব ঘৃণ্য- নিকৃষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সমাজের তৃণমূল পর্যায় থেকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আজ যারা এসব ঘৃণ্য কাজ করছে সংখ্যায় তারা অনেক কম। আমরা সকল সাধারণ জনগণ তাদের এসব ঘৃণ্য, দেশদ্রোহী অপরাধের বিরুদ্ধে যদি সোচ্চার হয়ে উঠি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করি, তাহলে তাদের নির্মূল করা তেমন বিশাল কঠিন কোন কাজ নয়।

আমাদের নিজ নিজ সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে। এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সকলের। সকলের সার্বিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করে, এসব সন্ত্রাসবাদ দমনে আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে দল-মত নির্বিশেষে আমাদের সমাজ থেকে এসব ঘৃণ্য সন্ত্রাস, মৌলবাদ এবং জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে হবে। সাধারণ জনগণের সম্মিলিত শক্তির উপরে বড় কোন শক্তি নেই।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “জনগণও বিভিন্ন অপরাধের তথ্য পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদান করতে বাধ্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1