প্রেমপত্র-৫৮

উদাস নয়না হরিনী,
আমি জানিনা কোন খোলা চিঠির সম্বোধন এরকম হয় কিনা।কিন্তু আমার তোমাকে একেক সময় একেক নামে ডাকতে ইচ্ছে করে,মনে হয় কেউ জেনে না যাক আমি কাকে লিখছি এসব। কারণ যখন এই চিঠি শেষ হবে তুমি পড়লে বুঝবে এটা শুধু তোমার জন্য ছিল।
আমি তোমাকে চিনতাম না,জানতাম না একদম হঠ্যাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর বারান্দায় বসে কালো আকাশ দেখতে দেখতে মশার কামড় খেয়ে আমার মনে হয়নি আমি এত কথা লিখব তোমায় নিয়ে। আমার তখন হেলাল হাফিজের কবিতার মতন অবস্থা,ভাংচুর আর তোলপাড় নিয়ে আমি টলমল। আমি এখনো ভাল নেই তেমন,আমার হৃদয়টা জ্বলে গেছে,আমার সবচে প্রিয় অংশটুকু আমি হারিয়ে ফেলেছি, সাথে নিজেকেও তোমাতেই।তুমি যেই ছেলেটিকে কনফিডেন্টলি সকাল দুপুর রাত মাথা ভেঝে তোমার জন্য বোরিং পত্র লেখতে দেখেছো অথবা বই পড়ার গল্প,একটা নিজের পৃথিবীর গল্প,গভীর রাতে রাস্তায় একদিন অন্তত একদিন এককাপ চা আর কোন এক এডভেঞ্চারের যাওয়ার গল্প আর সেসব বস্তাপচা স্বপ্নের কথা ইনবক্সে লিখে লিখে জমাই–ওইটা আমিই। তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে দু চার লাইন লিখতে গিয়ে ভুলভাল লিখে ফেলে যেই ছেলেটা ওটাই আমিই।ভাল ভাল জায়গায় ভ্রমন শেষে একলা একা তুমিহীনতার কষ্ট নিয়ে হৃদয়হতে যে টপটপ রক্ত ঝড়ে যেই ছেলেটার ওটাই আমি,অনেক রূপ দেখে ফেলেছো আমার, এই কারণে হয়ত তুমি এত কাছের কেউ হয়েছ।আর কাউকে আমি পরোয়াই করি না।
যদি আমি কখনও ভেবে থাকি একটা মানুষের সাথে সময় কাটানোতে আমার সব ঠিক হয়ে যাবে,তুমি সেই একমাত্র।এটা প্রেমেরচেও বেশি কিছু হয়ত, নির্দ্বিধায় আমি আর কাকেই বা এমনভাবে ভালবাসি বলতে পারি?
আমি ভালবাসি তুমি আমাকে আমার মত বেসো। অনেক তাজা গোলাপের ঘ্রাণের মত সম্পর্কটা। আমি তোমাকে স্বপ্নের কথা বলি আমাকে,সেই স্বপ্ন যেটা আমি জেগে জেগে দেখি,সেটা তুমি এছাড়া তো এই বালক মরেই যেত! মাঝে মাঝে প্রচন্ড কষ্ট হয় জানো! যখন দেখি,তুমি চুপ করে থাক।
আর তুমিহীনতার কষ্ট।অক্সিজেন সল্পতার কষ্ট,ভিটামিনের অভাবের কষ্ট।
পাগলের কাণ্ডকারখানা বুঝলে।যদিও কিসব অগোছালো ভুলভাল লিখি।তবু তোমার সংস্পর্শে এসে আমার অগোছালো শব্দেরা যে ছন্দ পেয়েছে,তা আর তুমিহীনতা মানতে চাচ্ছে না। আচ্ছা তুমি কি বিরক্ত হচ্ছো?হচ্ছো না।এত কথা বলছি তার জন্য তুমি কখনোই বিরক্ত হবে না,তবে হলে হতে পারো অগোছালো কথার জন্য! সেই তখন থেকে কিসব বলে যাচ্ছি! অবশ্য তাও বিরক্ত হওয়ার চান্স নেই,কারন তুমি জানোই আমি তোমার জন্যে বদ্ধপাগল হয়ে গেছি।আর এর জন্যই তোমাকে মনের কথা বলে অনেকবেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি,কারন আমাদের মধ্যে কোন ফর্মালিটির ব্যাপার নেই।আমার কি মনে হয় জানো তোমার কাছে আমার লেখা কিছু চিঠি পোষ্ট করে দি,পরে মনে হয় হায় হায় আমিতো ঠিকানা জানি না কিন্তু জানো মাঝে মাঝে পোষ্টম্যান কাকা কলিংবেল বাজলে,আমার মনে হয় আমি চিঠিগুলো তার হাতে দিয়ে দি যার প্রাপক হবে তুমি আমার প্রিয়তমা আর ঠিকানা এক হৃদয়!
কষ্ট হলে মাঝে মাঝে আকাশ দেখি, খুব বিশ্রী একটা অভ্যাস।ঘন্টার পর ঘন্টা আছে আকাশ দেখে কাটাই।বৃষ্টি দেখলে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে আনন্দে,এবং আমি চাই সেসময় তুমি আমার পাশে থাক আমরা দুজন হাত ধরে ভিজি।তখন সব থেমে যাবে,যেভাবে একদিন হুট করে তোমার জন্য দুলাইন লিখে তোমার ভেতর বাহির সব থামিয়ে দিতে চাই ঠিক সেভাবে।মনে আছে লাইনগুলো তোমার! আমি এতবার পড়েছি এতবার বলেছি যে এটা তোমার হয়তো কণ্ঠস্থ হয়ে গেছে
“আঁচলের ঘ্রাণে বিমোহিত হতে মনে প্রেম থাকা লাগে। চুলের গন্ধ নিতে দুহাত বাড়িয়ে দেয়া লাগে। হাহাকার থাকা লাগে। দুনিয়া ছারখার হওয়া লাগে। সবাই আত্মা স্পর্শ করতে পারে না।আত্মা স্পর্শ করার পরে জগত ভয়ংকর মেঘলা লাগে। তখন আর আলো দেখতে ইচ্ছে হয় না। অন্ধকারেই ডুবে থাকতে ইচ্ছে হয়।আমার সমস্ত হাহাকার ছারখারে তুমি মিশে আছো”
বলবো না তোমায় দেখে ক্রাশ খেয়েছি।বলবো না তোমার জন্য মরতে পারি।তোমায় অন্য কেউ দেখলে বা ভাল বললে আমার খারাপ লাগে না ওটাও বলব না,কারন আমি সাধু পুরুষ নই।
শুধু বলতে চাই, তোমার কথা ভাবলে আমার বুকের বাম পাশে থাকা হার্টের পালস টা অসম্ভব রকম বেড়ে যায়। কেমন জানি একটা চিনচিনে ব্যাথার অনুভূতি হয়।আচ্ছা বলতে পারবে এ ব্যাথা সুখের নাকি দুঃখের?
অনেক কিছু বলার ছিল তোমাকে,অনেক কিছু বলার আছে তোমাকে।তোমার অনেক কিছু শোনার আছে আমার,তোমায় অনেক কিছু বলার আছে আমার!আমি অপেক্ষা করছি একদিন মাঝ রাস্তায় যেদিন বৃষ্টি ঝড়বে সেদিন সব কিছু থেমে যাবে সেদিন চিৎকার করে বলে দিব মায়াময়ী তোমায় খুব ভালবাসি গো।প্লিজ আমায় একলা করে যেওনাগো।
ইতি
সেই তোমায় নিত্য নতুন শাড়ী পড়ার জন্য বায়না ধরা ফালতু ছেলেটা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 + = 16