পাকিস্তানের মতো একটা শয়তানরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু বললেই যাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়!

পাকিস্তানের মতো একটা শয়তানরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু বললেই যাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়!
সাইয়িদ রফিকুল হক

পাকিস্তান আমাদের শত্রুরাষ্ট্র। আর সেই ১৯৪৭ সাল থেকে শত্রুরাষ্ট্র। আর সেই ১৯৭১ সাল থেকে শত্রুরাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে, এই পাকিস্তানকে চিরতরে কবর দিয়ে আমরা পৃথিবীর বুকে বিস্ময়করভাবে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশরাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা এখন এই রাষ্ট্রের একমাত্র উত্তরসূরী। এই রাষ্ট্রকে দেখভাল আমাদেরই করতে হবে। এই রাষ্ট্রের সেবা আমাদেরই করতে হবে। এই রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আমরা যেকোনো শয়তানরাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য সদাপ্রস্তুত।

পাকিস্তানের মতো একটি শয়তানরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেকোনো যুক্তিসঙ্গত কথা বললেই এই দেশের একশ্রেণীর ‘পাকিদালাল’ অমনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তান যেন এখনও এদের ‘বাপ’ হয়। আর তাই, তারা তাদের পাকিস্তান-বাপের পক্ষ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার বিরোধিতা করতে কোনো লজ্জা করে না। এরা এমনই নির্লজ্জ-নরপশু।

তোমরা পাকিস্তানপ্রেমিক—আর তোমরা পাকিস্তানের একনিষ্ঠদালাল:

তোমরা আসলে কারা? তোমরা ভদ্রতার মুখোশে আমাদের সমাজে-রাষ্ট্রে নিজেদের সাধারণ একজন মানুষ হিসাবে পরিচিত করার একটি দুঃস্বপ্ন দেখছো মাত্র। কিন্তু আমরা তো তোমাদের আদি-আসল পরিচয় জেনে গেছি। তাই, প্রমাণসহকারে স্পষ্টভাষায় তোমাদের উদ্দেশ্যে বলছি:

১. তোমরা বুঝি একাত্তরের বাংলাদেশবিরোধী আর পাকিস্তানপন্থী রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটির যোগ্য উত্তরসূরী?
২. তোমরা বুঝি এখনও জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের ধারক-বাহক কিংবা নিদেনপক্ষে তার সমর্থক, কর্মী, সাথী ও সদস্য?
৩. তোমরা বুঝি পাকিস্তানের চিরকালীন-দালাল গোলাম-আযম নামক গোলামের যথার্থ বংশধর?
৪. তোমরা বুঝি পাকিস্তানের আরেক চিরকালীন-দালাল ও গোলাম মুসলিম-লীগের প্রকৃত-উত্তরসূরী?
৫. তোমাদের পূর্বপুরুষদের মতো তোমাদের বুঝি এখনও আমাদের এই স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র বাংলাদেশরাষ্ট্র ভালো লাগে না?
৬. তোমাদের রক্তে, শোণিতে, ধমনীতে, শিরায়-শিরায়, উপশিরায়, প্রতি-লোমকূপে, অস্থিমজ্জায়, চিন্তাভাবনায় বুঝি শুধুই পাকিস্তান?
৭. তোমরা বুঝি বাংলাদশে জন্ম নিয়েছো শয়তানরাষ্ট্র পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষা করার জন্য?
কিন্তু কেন তোমাদের এই শয়তানী? তোমরা আজও বাংলাদেশকে ভালোবাসতে পারেনি। তোমরা নানারকম শয়তানীকথাবার্তা বলে লোকদেখানোভাবে নিজেদের দেশপ্রেমিক হিসাবে পরিচয় দেওয়ার অপচেষ্টা করছো মাত্র। মনে রেখো: তোমরা দালাল আর তোমরা দালালবংশজাত দালাল। তোমরা নবপ্রজন্মের দালাল। তোমাদের আজও কোনো পরিচয় নাই, জন্ম নাই, পিতৃত্ব নাই, সঠিক কোনো বংশও নাই। এই বাংলাদেশে বাস করে এখনও যারা পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষার জন্য মরীয়া হয়ে আছে, মরীয়া হয়ে উঠেছে—তারা কখনও মানুষ নয়—তারা এই পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট-পশু। আর তাই, দূর হও পশু আমাদের রাষ্ট্র থেকে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের কেউ একটাকিছু বললেই অমনি তোমাদের গা-চুলকায়! আর কে যেন তোমাদের গায়ে বিষাক্ত-বিছুটিপাতা লাগিয়ে দেয়! আর তোমাদের পাকিস্তানীশরীরে যেন সঙ্গে-সঙ্গে হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ, আর কোটি-কোটি ফোস্কা পড়ে! কিন্তু কেন? পাকিস্তান বুঝি এখনও তোমাদের বাপ হয়?
তোমাদের ধর্ম, স্বপ্ন, প্রেম, চিন্তাভাবনা, ভবিষ্যৎপরিকল্পনা, ভালোবাসা, ধ্যান-জ্ঞান আর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো পাকিস্তান। তবে তোমরা কেন আমাদের এই রাষ্ট্রে এই লোকালয়ে বসবাস করছো? তোমরা এখনই চলে যাও তোমাদের আদি-আসল আস্তানা-জংলীখানা-জঙ্গল পাকিস্তানে। আর এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যাও। নইলে তোমাদের পিঠের চামড়া থাকবে না। এই বাংলায় আবার জেগে উঠেছে নতুন প্রজন্ম।

আরও একটা কথা শুনে রাখো: তোমাদের আমেরিকা-বাপ, তোমাদের পাকিস্তান-বাপ, তোমাদের তুরস্ক-বাপ, তোমাদের ইয়াহুদীইসরাইল-বাপ, তোমাদের চায়না-বাপ কিছুতেই আর এদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করতে পারবে না। বাঙালি জেগেছে। আরও জাগবে। প্রয়োজনে পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো শয়তানরাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বাঙালি আবার যুদ্ধ করবে।

জয়-বাংলা।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৮/০৫/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “পাকিস্তানের মতো একটা শয়তানরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু বললেই যাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়!

  1. পাকিস্তানিরা যুদ্ধের সময় যে ২
    পাকিস্তানিরা যুদ্ধের সময় যে ২ লক্ষ হিন্দু নারিকে উপভোগ করেছিল তার ফলে জন্ম নেয়া জারজ সন্তানেরাই অাজকের এই ভারতের দালাল গুষ্টি, এদেরকে নির্মুল করতে হবে দেশ থেকে

  2. পাকিস্তানের জারজসন্তানরা
    পাকিস্তানের জারজসন্তানরা সবসময় মুক্তিযোদ্ধাদের ‘ভারতের দালাল’ বলে থাকে। এই জারজরাই এদেশ থেকে নির্মূল হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ। একাত্তরে পাকিস্তানের জারজসন্তানরা যে-ভাবে পরাজিত হয়েছে এখনও সেই একইভাবে পরাজিত হবে। জারজরাষ্ট্র পাকিস্তান ও তাদের জারজসন্তানরা নিপাত যাক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

37 − = 31