ইসলাম কি সত্য ধর্ম ?- পর্ব – ১

মুহাম্মদের প্রচারিত ইসলাম আব্রাহামিক ধর্মের সর্বশেষ সংস্করন বলেই সব মুসলমান বিশ্বাস করে। অর্থাৎ আদম , লুত , ইব্রাহিম , মুসা , দাউদ , সোলেমান, ইসা এসব নবীর পর সর্বশেষ নবী হলো মুহাম্মদ। বিষয়টাকে সত্য প্রমান করতে , ইসলামী পন্ডিতরা দাবী করে পূর্বোক্ত কিতাব অর্থাৎ তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাবে মুহাম্মদের আগমনের কথা লেখা আছে। আব্রাহামিক ধর্মীয় কিতাবের একটা বিশেষত্ব হলো, তাতে কিছু ভবিষ্যদ্বানী থাকবে , যা পরে বাস্তবায়িত হবে। ঠিক তেমনই একটা ভবিষ্যদ্বানী হলো মুহাম্মদের আগমন। তো এখন দেখা যাক , সেই ভবিষ্যদ্বানী অনুযায়ী মুহাম্মদ নবি কি না।

জাকির নায়েক সহ দুনিয়ার সকল ইসলামী পন্ডিত ও আলেম তৌরাতের নিচের বানীর মধ্যে মুহাম্মদকে খুজে পায়—

দ্বিতীয় বিবরনী- ১৮: ১৮: আমি ওদের জন্য ওদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মত এক নবীর উদ্ভব ঘটাব ও তার মুখে আমার বানী রেখে দেব।আমি তাকে যা কিছু আজ্ঞা করব, তা সে তাদের বলবে।

সুতরাং মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যেহেতু জিব্রাইল এসে মুহাম্মদের কাছে বানী দিয়ে যেত , তাই উক্ত কথিত নবী হলো মুহাম্মদ, এতে কোনই সন্দেহ নাই – এটাই ইসলামী পন্ডিতদের ভাষ্য।

খেয়াল করতে হবে , কেউ যখন কোরানের কোন বানীর অর্থ করতে যায়, তখন যদি মুসলমানদের মন মত অর্থ না হয়, সাথে সাথেই তারা বলবে যে উক্ত আয়াতের আগ পিছের আয়াত দেখতে হবে , প্রেক্ষাপট জানতে হবে। আর তাহলেই জানা যাবে সেই আয়াতের অর্থ। কিন্তু সেই একই মুসলমানরা যখন তৌরাতের বানীর অর্থ করতে যাবে , তখন তারা কিন্তু তাদেরই তৈরী করা বিধি বিধান বা পদ্ধতি অনুসরন করবে না। অর্থাৎ এই দ্বিতীয় বিবরনী ১৮:১৮ বানীর আগের পিছের বক্তব্য না জেনেই, বা প্রেক্ষাপট না জেনেই সোজা উক্ত বানী থেকে মুহাম্মদকে আবিস্কার করে বসবে।

যাইহোক , এবার তৌরাত কিতাব থেকে উক্ত দ্বিতীয় বিবরনী ১৮:১৮ এর আগ পিছের বানীগুলো একটু দেখা যাক। এই বানীগুলো ঈশ্বর মুসা নবীকে বলছে, যখন মুসা তার ইসরাইলি বংশধরদেরকে মিশর থেকে নীল নদ পাড়ি দিয়ে সিনাই উপত্যকায় নিয়ে আসে। আর তখন মুসা নবীকে ঈশ্বর বলছে —-ওদের জন্য ওদের ভাইদের মধ্য থেকে— তো এই ওদের বা ওদের ভাইদের বলতে কাদেরকে বুঝাচ্ছে ? এরা হলো তারাই যারা সেই সময়ে সিনাই উপত্যকায় মূসা নবীর সাথে ছিল। মূসা নবীর সাথে কারা ছিল ? সেটা বুঝতে গেলে একটু পিছনে যেতে হবে।

ইব্রাহীমের দুই পূত্র – ইসমাইল ও ইসহাক। ইসমাইলকে ইব্রাহিম শিশু অবস্থায় তার মায়ের সাথে মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী মক্কায় নির্বাসন দেয়। ইসহাকের ছিল এক পূত্র যার নাম ইয়াকুব , এই ইয়াকুবও একজন নবী ছিল , ঈশ্বর তার নাম দেয় ইসরাইল। এই ইসরাইলের ছিল বারটা পুত্র -Reuben, Simeon, Levi, Judah, Dan, Naphtali, Gad, Asher, Issachar, Zebulun, Joseph, and Benjamin. এই পুত্রদের থেকে বারটা গোত্র তৈরী হয় , আর এদের সবাইকে বলা হয় ইসরাইলী। এদের মধ্যে Joseph যাকে মুসলমানরা ইউসুফ বলে , তাকে অন্যান্য ভাইরা মিলে একটা কুপে ফেলে দেয়। মিশরিয় বনিকরা তাকে তুলে নেয় ও মিশরে নিয়ে ফেরাউনদের কাছে বিক্রি করে দেয়। কিন্তু নিজ বুদ্ধি ও বিদ্যা বলে ইউসুফ মিশরের রাজপরিবারের একটা অংশ হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে ফেরাউনের একজন মন্ত্রীর পদে ভুষিত হয়। বর্তমান ইসরাইল অঞ্চলে ব্যপক দুর্ভিক্ষ হলে ইউসুফ তাদের সব ভাইকে মিশরে নিয়ে আসে। তারপর তারা সেখানে শত শত বছর ধরে বাস করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাদের সংখ্যা বহু লক্ষে পরিনত হয় আর তারা মিশরের ফেরাউনের অধীনে দাস দাসীর মত বসবাস করতে থাকে। আর তখনই তাদের বংশে মুসা নবীর জন্ম হয়, মূসা নবীকে ঈশ্বর সেই ইসরাইলি বংশের সবাইকে নিয়ে আবার বর্তমানের ইসরাইলে নিয়ে আসতে বলে। মুসা যখন তাদেরকে নিয়ে সিনাই উপত্যকায় আসে , তখনই মুসাকে উক্ত দ্বিতীয় বিবরনীর ১৮:১৮ বাক্য তার কাছে ঈশ্বর বলে। অর্থাৎ সেই তাদের বা তাদের ভাই বলতে এখানে সেই ইসরাইলি বংশধরদেরকে বুঝাচ্ছে। আর কাউকে নয়। আর এই বংশের উৎপত্তি হয়েছে ইয়াকুব বা ইসরাইল থেকে। অন্য কারও থেকে নয়।

আর উক্ত ১৮:১৮ বাক্য অনুযায়ী ভবিষ্যতের যে নবীর কথা বলা হচ্ছে সে জন্ম নেবে ইসরাইলি বংশে। অন্য কোন বংশে নয়। অন্য কোন বংশের কোন লোক যদি নিজেকে নবী দাবী করে , তাহলে সে হবে সম্পূর্ন ভূয়া নবী , আব্রাহামিক বংশ ধারা মোতাবেক।

অর্থাৎ ইয়াকুবের বার পূত্রের বাইরের কাউকে ইসরাইলি বংশ বলে ধরা যাবে না। বিষয়টা এরকম ভাবে বুঝান যেতে পারে। ইংরেজ আমলে অনেকেই অর্থ দিয়ে পদবী কিনত। ধরা যাক – রহিম শেখ ও করিম শেখ দুই ভাই। রহিম অর্থ দিয়ে “চৌধুরী” পদবী কিনল , কিন্তু করিম কিনল না। সুতরাং অত:পর রহিমের নাম হয়ে গেল “রহিম চৌধুরী” কিন্তু করিম শেখই বয়ে গেল। অত:পর রহিমের পরবর্তী বংশধররা সবাই এই চৌধুরী পদবি ব্যবহার করবে আর করিমের বংশধররা আগের শেখ পদবীই ব্যবহার করবে। তারা কোন মতেই “চৌধুরী” পদবি ব্যবহার করতে পারবে না। করিমের বংশের কেউ যদি চৌধুরী পদবী ব্যবহার করতে চায় , তা বৈধ হবে না, তা মানাও যাবে না।

এখানে ইয়াকুবকে ঈশ্বর ইসরাইল পদবী প্রদান করেছে। তাই তার বংশধররাই ইসরাইলী হিসাবে গন্য হবে। এমন কি তার পিতা ইসহাকও ইসরাইলী বলে গণ্য হবে না। আর ইসহাকের অন্য ভাই ইসমাইলের বংশধররা তো ইসরাইলি বংশধর বলে পরিচয় দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ইসমাইলের বংশধর হবে সম্পূর্ন ভিন্ন বংশধারা। অর্থাৎ ইসমাইলের বংশধররা কোনমতেই ইসরাইলি না।

এখন প্রশ্ন হলো , মুহাম্মদ দাবী করে সে হলো ইসমাইলি বংশ ধারার লোক। তাই সে কোনভাবেই ইসরাইলি না। এখন মুহাম্মদ যদি নিজেকে উক্ত দ্বিতীয় বিবরনীর ১৮:১৮ বাক্য মোতাবেক নিজেকে নবী দাবী করে , তাহলে সে দাবী অবশ্যই মিথ্যা হবে। কারন সে ইসরাইলি বংশের কেউ না , আর গোটা তৌরাত কিতাবে কোথাও বলা হয় নি যে ইসরাইলি বংশের বাইরের কেউ নবী হবে।

সুতরাং মুহাম্মদ যদি নিজেকে আব্রাহামিক ধর্মীয় ভিত্তিতে নিজেকে নবী দাবী করে , তাহলে সে দাবী সম্পূর্ন মিথ্যা , বানোয়াট ও প্রতারনা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 77 = 81