কতটুকু লজ্জা পেলে জাতি হবে লজ্জিত?

১৩ই মে জাতির এক লজ্জার দিন। শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত কান ধরে জিবন বাঁচালেন। আর এই জিবন বাঁচানোর উপায়টি বাৎলে দিলেন আমাদের মাননীয় সাংসদ শেলিম উসমান। জনরোশের শিকার শ্যামল কান্তিকে শারারিক ভাবে অপদস্ত করে যখন একটি কক্ষে আটকে রাখা হলো মাননীয় সাংসদ স্বদর্পে সে কক্ষে প্রবেশ করে কিছু জিজ্ঞাস না করেই তার দু গালে চারটি চপেটাঘাত করে বীরের মত বলে দিলেন-

“চল্ শালা, বাইরে চল্”

হায়রে ক্ষমতা!
তার পর যা ঘটল তা শুধু একজন শিক্ষকের মাথাটাই নত করে দিলনা সে কুলাঙ্গার সাংসদ,পুরো জাতির মাথাটাকেই নত করে দিল। জাতির ইতিহাসকেই কলঙ্কিত করে দিল।
একজন শিক্ষক নাকি জাতি গঠনের কারিগর। সে কারিগরকে যদি তার ছাত্রদের সামনে এভাবে অপমানিত হতে হয় তাহলে তার আর বাকি থাকে কি? আমাদের সমাজ ব্যাবস্থায় শিক্ষকদের শ্রেষ্ট সম্পদ তার সম্মান,তার প্রতি সাধারন মানুষের শ্রদ্ধা।আর এটাই যদি ভুলুন্ঠিত হয় তাহলে তার আর অবশিষ্ট কি থাকে?
আর সেটা যদি হয় কোন মিথ্যা অভিযোগের কারনে তাহলে এর মত লজ্জাজনক বিষয় আর হতে পারে কি?

আজকাল একটা জিনিশ সবচেয়ে স্যানসেটিভ হয়ে গেছে ,তা হল ধর্মানুভুতি । না না ভুল বললাম। ধর্মানুভুতি নয়। সেটা হবে ইসলামানুভুতি!
ধর্মানুভুতি যদি এত প্রকট হতো তাহলে প্রতিনিয়ত হিন্দু ,বৌদ্ধ,সহ সংখ্যা লঘুদের ধর্মীয় উপাসনালগুলো যে ভাঙা হচ্ছে সেগুলোর প্রতিবাদ এতটা প্রকটতো নয়ই বরং রাজনৈতিক নেতাদের পরোক্ষ/প্রত্যক্ষ মদদেই হচ্ছে,সেগুলোর কোন সুরাহা করতে রাজি নয় আমাদের বর্তমান সরকার। আবার নির্যাতিতরাই নির্যাতন পরবর্তি বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছে মুখ বুজে।যেন এদের টু শব্দটিও বলার অধিকার নেই। এমন যে ,এদের ধর্মই নেই তো অনুভুতি আসবে কোথেকে অর্থাৎ কোরানে বানীরই প্রতিফন হয় সেখানে-

“ইসলামই আল্লাহর মনোনিত একমাত্র ধর্ম”

তাই এটাকে ধর্মানুভি না বলে ইসলামানুভুতি বলাটাই বেশি যৌক্তিক। এই অনুভুতিকে টিকিয়ে রাখতে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা,এই অনুভুতিকেই টিকিয়ে রাখতে প্রধান মন্ত্রীর মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করার অঙ্গীকার,এই অনুভুতিকেই টিকিয়ে রাখতে ওলামালীগ গঠন,এই অনুভুতিকেই টিকিয়ে রাখতে লেখক,প্রকাশক,কবি,ব্লগার ,মুক্তমনা অনলাইন এক্টিভিষ্টদের খুনের কোন বিচার হয়না আমাদের এই সোনার বাংলাদেশে। বড় মুল্যবান সে অনুভুতি।
শ্যামলকান্তি ভক্তকে যারা লাঞ্চিত করছে আমার মনে হয়না এরা সারাদিনে একবার নামাজ পড়ে,তবু্ও তাদের অনুভুতি আছে ।ইসলামানুভুতি!!
এই অনুভুতির প্রভাবে তারা এতটাই অন্ধ হয়ে যায়, তখন তাদের মস্তিস্কে সত্য মিথ্যার প্রভেদটুকুও ধরা পরেনা। একবার কেউ যদি বলতে পারে যে, ওমোক তো ইসলামের বিরোদ্ধে কথা বলেছে ।আর যায় কোথায় সাথে সাথে তাদের অনুভুতি ইনফেক্টেড হয়ে যায়। হাতে চলে আসে চাপাতি। কাফের নিদনের সোয়াবের নেশায় তারা এক রকম অন্ধ উন্মাদ হয়ে যায়।
একবার ভাবুন তো কি দোষ ছিল শ্যামল কান্তির? সে কি বলেছিল ইসলাম বিরোদ্ধ কোন কথা? না বলে নি। তবুও শাস্তি পেতে হলো তাকে। কান ধরিয়েই নিস্কৃতি মেলেনি তার ,বিদ্যালয় থেকে বহিস্কারও করা হলো। মিডিয়ার কল্যানে আমরা এখন জানি এর পেছনে কি নুংরা রাজনৈতিক অভিষন্ধি ছিল তাদের ।আর অনুভুতির গিনিপিগে পরিনত হল সাধারন অনুভুতি সম্পন্ন জনগন।
কোন একজন লেখক বলেছিলেন –

“ধর্ম শুরুর দিকে এতটা সহিংস আচরন করতনা,কিন্তু যখন থেকে ধর্মকে রাজনীতিকরন করা হলো তখন থেকেই এর সহিংস বৈশিষ্ট পেল”
আমরা মুহাম্মদের মক্কা জিবনের আধ্যাতিক বৈশিষ্টের ইসলাম প্রচার ,আর মদিনায় রাজনৈতিক ইসলাম প্রচারের পার্থক্য করলেই এর সত্যতা যাচাই করতে পারি।
যাই হোক ।সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপি যখন এই শিক্ষক অবমাননার জন্য বিচার প্রার্থী,কান ধরে এই শিক্ষক অবমাননার জন্য মানব বন্ধন করছে,অনলাই মিডিয়া গুলোতে প্রতিবাদ করছে তখন আমাদের সরকারের মন্ত্রী সভায়ও এর বাতাস কিছুটা লেগেছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিবৃতি দিলেন লাঞ্চনাকারী শেলিম উসমানের শাস্তি হওয়া দরকার,শিক্ষা মন্ত্রী বহিস্কৃত এই শিক্ষককে স্বপদে বহাল করে ম্যানেজিং কমিটিকে বাতিল করলেন। নিসন্দেহে ধন্যবাদ পাওয়ার কাজ করলেন তিনি। সুপ্রীম কোর্ট স্বতপ্রনোদিত হয় রোল জারি করলেন।
তবে আশ্চর্য হয়ে একটা বিষয় লক্ষ করলাম একজন শিক্ষককে লাঞ্চিত করা হলো সেটাকে বড় করে না দেখে ,ওনি ধর্মানুভুতিতে আঘাত করে কথা বললেন কিনা সেটা যাচাই করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। তার মানেকি?ওই শিক্ষক যদি ইসলামের বিরোদ্ধে যায় এমন কোন কথা বলেই থাকত তাহলে জনগন কর্তৃক তাকে মারধর ,সাংসদ কর্তৃক কান ধরে ওঠবস করানোটা যায়েজ হয়ে যেত?
একরার ভাবুন আমারা কোথায় এসে দাড়িয়েছি!!! শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত যদি ইসলামের বিরোদ্ধে কিছু বলেও থাকতো তবে আমাদের প্রচলিত আইনে তাকে কি বিচার করা যেত না? সেটা না করে জনরোষ থেকে বাঁচানোর নাম করে তাকে কান ধরে উঠবস করালেন আমাদের মাননীয় সাংসদ। আবার ওনি একজন বিবৃতিতে বললেন শ্যামল কান্তি নাকি নিজ থেকেই কান ধরে নিজের অপরাধের ক্ষমা চাইলেন।তাহলে জন সম্মুখে আনার আগে কেন তিনি তাকে চর মেরেছিলেন? জানি এর কোন উত্তর হবেনা। যাক সে কথা।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমানীত হলো ওনি ইসলাম অবমাননা করে কোন কিছু বলেননি। যে ছাত্রকে মারার জন্য এ পরিস্তিতি সৃষ্টি হলো সে ও একজন সাক্ষাতকারে বলল “স্যার ধর্ম নিয়ে কোন কথা বলেননি ”
কি তেলেস্মতি কারবার !অপরাধ প্রমানের আগেই অপরাধের জন্য শাস্তি!!
এই বাংলাদেশেই এটি একমাত্র সম্ভব।
গতকাল আবার নতুন মাত্রা যোগ হলো এই নাটকের।
একদল মোল্লা মাঠে নেমে পড়ল ইসলাম বাঁচাতে।এদের আচরন দেখে মনে হলো এই বুঝি ইসলাম নামক স্বর্নের টুকরাটাকে কেউ চুরি করে নিয়ে গেল তাকে যে করেই হোক রক্ষা করতে হবে। বিশাল ব্যানারে লিখা হলো ইসলাম অবমাননা করারি শ্যামল কান্তির “ফাঁসি চাই”!!!
কতটুকু অন্ধ হলে এটা সম্ভব। বাংলাদেশের আইন সম্মন্ধেও তাদের কোন ধারনা নেই।
ওরা জানেনা কেউ যদি কোন ধর্ম অবমাননা করে কোন বক্তব্য দেয় তবুও এর শাস্তি ফাঁসি হতে পারেনা। তার মানে কি?এরা অন্ধ!অনুভুতি প্রবন অন্ধ!
আজ আবার দেখলাম একটি অনলাইন পত্রিকায় ৭২ ঘন্টার মধ্যে যদি শ্যামল কান্তি ভক্তের ইসলাম অবমাননার দায়ে বিচার না করা হয় তাহলে দেশ অচল করে দেয়া হবে। কারা অচল করবে? হেফাজতে ইসলাম।
পাশাপাশি তাদের আরো দাবি “হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ” ভেঙে দেয়ার জন্য।মনে হচ্ছে এদেশ শুধুই মুসলিমদের।
এই লেখা যখন লিখছিলাম একট ফাঁকে ফেইসবুকে ঢুকলাম কোন আপডেট খবর আছে কিনা দেখার জন্য।পেয়েও গেলাম।
যে ছেলে কদিন আগে বিবৃতি দিল স্যার ধর্ম নিয়ে কোন কথা বলেনি সে এখন হেফাজতের তালিম নিয়ে বলছে-

““‘হেড স্যার ক্লাসে ছেলেমেয়েদের খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে আমাকে বলেন- তুইও নাপাক তোর আল্লাহও নাপাক। পরে হেড স্যার আমাকে মারধর করেন। আমি ব্যথা পাওয়ায় আল্লাহ আল্লাহ বলতে থাকলে হেড স্যার বলেন- আল্লাহ বলতে কিছু নাই।
আমাকে মারধর করেছে সেটার বিচার চাই না, আল্লাহকে গালি দিয়েছে- আমি তার বিচার চাই। প্রধান শিক্ষক আমাকে মারধর করছে কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী এর বিচার করে নাই।’”” লিংক-http://www.banglatribune.com/country/news/106591/%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%95-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0

রাজনৈতিক নুংরা খেলায় হয়তো বলি হতে পারে শ্যামল কান্তি ভক্তের প্রান। হয়তো উচ্ছেদ হতে পারে শ্যামল কান্তির পরিবার এই দেশ থেকে। স্যাকুলার স্যাকুলার করে
মুখে ফেনা তুলা সরকার কি পদক্ষেপ নিবে জানিনা।তবে এটা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি এদেশে এমন জগন্য, ঘৃন্য কর্মকান্ডের অতীতে যেমন বিচার হয়নি আজও হবেনা। কারন আমরা তো এটা জানিনা –
কতটুকু লজ্জা পেলে ,বলতে হয় এটা দেশের লজ্জা,জাতির লজ্জা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “কতটুকু লজ্জা পেলে জাতি হবে লজ্জিত?

  1. বস্তুত ইসলাম কোন ধর্ম না। এটা
    বস্তুত ইসলাম কোন ধর্ম না। এটা হলো একটা ধর্মীয় লেবাসে রাজনীতি। মুহাম্মদ নিজেই সেটা মদিনায় প্রতিষ্ঠা করে গেছে। মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছে যে তার সমালোচনা করবে , তার ঘাড় থেকে চাপাতি দিয়ে ধড় ফেলে দিতে। এই শিক্ষকের ভাগ্য ভাল যে কান ধরে জীবনটা বাচিয়েছে। তবে , কতদিন সেটা রক্ষা করতে পারে সেটাই প্রশ্ন। যে কোন মুহুর্তেই তার চাপাতিওয়ালা মুমিনের হাতে পড়ার সম্ভাবনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 2 =