তিন গোয়েন্দা অথবা তিন মোটরসাইকেল আরোহী

একটি খুনের সিদ্ধান্ত নিলাম। সত্যি কথা বলতে কি, পুরো বিষয়টা আমার কাছে কেমন জানি ছেলেমানুষির মত মনে হলো। চারজন মানুষ পার্কে বসে ঠিক করে ফেলল একটা খুন করা হবে! আর এরকম একটি খুনে নিজে অংশগ্রহণ করবো ভেবে একটু হাসিই পেলো। বিকেল বেলার গুলিস্তানের এই মুখরিত ফুটপাথ-রাস্তা, পার্কে ছেলেদের ক্রিকেট খেলার মধ্যে এসব একদম অবাস্তব মনে হলো। অবশ্য মাসখানেক ধরে একটা এডভেঞ্চারের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। রশিদ ঠাকুর নামের এক বাউলকে গোয়েন্দাদের মত অনুসরণ করছি। বার বার ‘তিন গোয়েন্দা’ সিরিজের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। এখনো বাসায় দুই-আড়াইশো ভলিউম পড়ে আছে। আজকাল মনে হয় আমার বয়েস যেন এই এক বছরে অনেক বেড়ে গেছে। যেন এই পৃথিবীতে অনেকদিন কাটিয়ে ফেলেছি। গত বছরও তিন গোয়েন্দা পড়েছিলাম। কিন্তু এখন এসব আমাকে টানে না। অথচ গত বছরই ঠিক হয়েছিল রকিব হাসানের সঙ্গে দেখা করে তার অটোগ্রাফ নিয়ে আসবো। এক বন্ধু রকিব হাসানের বাসাটা চিনে। বাসাটা দেখিয়ে বলেছিল, চল একদিন গিয়ে বসের সঙ্গে দেখা করে আসি।তারপর কি কি কারণে যেন পিছিয়ে গিয়েছিল, যাওয়া হয়নি।

বাসায় যে কত বই আছে… ফেলুদা সমগ্র, কাকাবাবু, ঋজুদা, টেনিদা, হ্যারিপটার… আর কমিকস বইগুলো! ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি হবার পরও রোজ রাতে একটা করে এডভেঞ্চার নয়ত খুনের রহস্য উন্মচন না করে ঘুম আসত না। কিন্তু ফাস্ট ইয়ার শেষ হবার আগেই বুয়েটের নাজমুল ভাই একদম বদলে দিলেন!

নাজমুল ভাই একদিন তার বাসায় দাওয়াত করলেন। এক বিকেলে গিয়ে দেখি তার ঘরে আরো কয়েকজন আমার বয়েসি ছেলে আগে থেকে বসে আছে। নাজমুল ভাই কিছু বলছিল তাদের উদ্দেশ্যে। আমাকে দেখে কথা থামিয়ে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়ে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। সেদিন নাজমুল ভাই আমার চারপাশে থাকা এতদিনকার পৃথিবীটাকে ভেঙ্গে খান খান করে দিয়েছিল। আমার খালি বার বার মনে হয়েছিল, আমরা একটা যুদ্ধের মধ্যে আছি কিন্তু এটাকে ভুলিয়ে রাখা হয়েছে নানা রকম পার্থিব জিনিস দিয়ে…।

আমি বরাবরই আল্লাহকে খুব ভয় পেতাম। শীতের রাতে লেপ মুড়ি দিলে যে অন্ধকার ঘিরে ধরত, আমি তখন ভাবতাম, কবরে এরকম অন্ধকারে আমি থাকব কিভাবে? সেই অন্ধকারে দুজন ফেরেস্তা এসে সাওয়াল-জবাব চাইবে, কবরের মাটি দুই পাশ থেকে চেপে ধরবে। পাঁজর ভেঙ্গে গুড়ো গুড়ো হয়ে যাবে। … তাই কোন কোন রাত মৃত্যু পরবর্তী শাস্তির কথা ভেবে আমি ভীত হয়ে পড়তাম। আমার জ্ঞান হবার পর থেকে আল্লাহকে ভয় করে এসেছি। জানতাম, এই পৃথিবী কোন প্রান্তে গিয়েও আমার নিস্তার নেই। আল্লাহ’র হাত থেকে কোন মানুষের রেহাই পাবার কোন উপায় নেই। মানুষের প্রতি পদে পদে পাপ। আর সেই পাপের জন্য মানুষকে কঠিন সাজা পেতে হবে। আমার ১৯ বছরের জীবনে পাপ বলতে এক নারী দেহের প্রতি তীব্র আকর্ষণ…। পর্ণগ্রাফি ছবি দেখে আমার মনের মধ্যে একটা পাপবোধ তৈরি করত। রমজান মাসে শবে কদরের রাতে মসজিদে আথেরি মুনাজাতে যখন নিজেদের পাপ খন্ডন করার জন্য হুজুর হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করতেন তখন আমার নিজের পর্ণছবি দেখার কথা মনে পড়ে যেতো। আমিও তাই হুজুরের সঙ্গে কান্নায় যোগ দিতাম। নিজের পাপের জন্য মাফ চাইতাম…।

আল্লাতালা আমাদের যেভাবে চলতে বলেছেন সেভাবে চলার চেষ্টা করাই হলো পরকালের সাজা থেকে মুক্তির উপায়। আমি তখনো জানতাম আল্লাহতালা কেবল নামাজ, রোজা করতে বলেছেন। খারাপ কিছু দেখতে নিষেধ করেছেন। ঘুষ খেতে নিষেধ করেছন। মানুষ ঠকাতে, ওজনে কম দিতে, মিথ্যা না বলতে, গালাগালি না করতে, চুরি-ডাকাতি না করতে বলেছেন। এসব না করে নিয়মিত নামাজ-রোজা করাই হলো আল্লার নির্দেশিত পথ। আমার বাবা ওয়াসার বড় কর্মকর্তা। হজ করে এসেছেন ৫ বছর আগে। গত বছর মাকে নিয়ে ফের হজ করে এসেছেন। মা পর্দাশিন মহিলা। বাবা প্যান্ট-শার্ট পরলেও পাক্কা হুজুর মানুষ। আমার কাছে তাই আল্লাহ’র নির্দেশিত পথে চলার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল আমার বাবা-মা। কিন্তু নাজমুল ভাইয়ের সেই বৈঠক, তার সেই ই-বুক ‘দারুল ইসলাম’ আমাকে অন্য এক জগতের সন্ধান দিল। আমি জানতে পারলাম, হায়, এতদিন আমাদের যেনো কেউ অন্ধকারে রেখেছিল! শুধু নামাজ-রোজা করে আল্লাহর রোষাণল থেকে কেউ রেহাই পাবে না। আল্লাহ যে তার হুকুমত দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের জীবনকে কিনে নিয়েছেন! ইসলাম খালি নামাজ পরা রোজা করার ধর্ম না। ইসলাম একটি দর্শন। যে দর্শন আল্লাতালার পক্ষ থেকে আসা এক রুহানী নির্দেশনা। আল্লাহ’র রসূল সেই দ্বিনী দর্শন বাস্তবায়নে ওয়াদা করিয়ে নিয়েছেন। পৃথিবী ইসলামের শাসনের তলে না আসা পর্যন্ত কিয়ামত সম্পূর্ণ হবে না। প্রত্যেক মুসলমান সেই লক্ষ্যে একজন করে আল্লাহ’র সৈনিক। মুসলমানরা দুনিয়াতে এসে দুনিয়াবী মোহজালে সেসব ভুলে বসে আছে…।

কিন্তু সিপার সেলের মিটিংটা গুলিস্তানের পার্কে বসে মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়াটা অবিশ্বাস্য লাগছিল! সত্যি বলতে কি, এত অনাড়ম্বর যে, মনে হচ্ছিল আমরা যেন ছেলেমানুষি একটা কথা বলে ফেলেছি…। যদিও এক মাস রশিদ ঠাকুরকে ফলো করে আমাদের মধ্যে এটা গেঁথে বসেছে একটা কিছু করতে যাচ্ছি। আবু শাহরিয়ার নামে একজন সাথী শুধু আমাদের এসাইমেন্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন। নাজমুল ভাইয়ের সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ নেই। এমনকি রশিদ ঠাকুরকে হত্যা করার বিষয়ে উনার কোন যোগসাযোগও জানি না। উনি যেন হাওয়ার মত মিলিয়ে গেছেন।

রশিদ ঠাকুর লোকটা হিন্দু না মুসলমান নাম শুনে বিভ্রান্ত হতে হয়। এমনিতে সে মুসলমানের ছেলে। দেহত্ত্ব গানে সে কুরআন-সুন্নাহ বর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্ব, পরকাল, রোজ হাশরের দিনে বিচার ও আল্লাহ’র সরূপ সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা তার বাইরে গিয়ে নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেয়। সম্প্রতি এক গানের আসরে শ্রোতাদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, সংগীত-বাদ্যযন্ত্র ইসলামের হারাম এরকম কিছু কুরআন-হাদিসের কোথাও নেই। রশীদ ঠাকুরকে একমাস অনুসরণ করে তার গানের জলসায়ও আমাদের যেতে হয়েছে।

রশীদ ঠাকুর গান ধরে, ‘ কোথায় কাবা কোথায় কাশি/ ঘুরি ফিরি মিছিমিছি/ আমার মুরশিদ সদায় কয়/ আপন দর্পনে চেয়ে দেখ সদাই হাসি/ আমিই আল্লাহ আমিই মুরশিদ/ কে কয় কাবা কাশি আমার বসত…। গান শুনে লোকটার প্রতি ঘৃণা আরো বেড়ে যায়। এই লোকটা আল্লাহকে বিকৃত করছে! এর গান শুনে চাষাভুষা, রিকশাওয়ালাম ঠেলাওয়ালা মাথা দুলায়। আমরা তিনজন মাটিতে হোগলায় বসে এদের সঙ্গে রশীদ ঠাকুরের গান শুনি। রাত বারোটায় আসর ভাঙ্গে। রশিদ ঠাকুর বাসে উঠে। আমরাও উঠি। রশীদ ঠাকুর বাস থেকে নামে। আমরাও নামি। পাড়ার দোকান থেকে পাউরুমি আর দুধ কিনে রশীদ ঠাকুর। বিয়েশাদি করেনি লোকটা। একা একটা ঘরে থাকে। সমস্যা একটাই, যে পাড়াটায় থাকে সেটা খুব ঘিঞ্জি। আমাদের কয়েকটা দিন গেছে পুরো পাড়াটার ম্যাপ বুঝে নিয়ে অপারেশ সাজাতে।

অপারেশনের দিন মটর সাইকেল নিয়ে নতুন একজন সাথী ভাই আসলেন। আমাদের সঙ্গে পরিচিত হলেন। তারপর মটর সাইকেলটা বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। অপারেশন শেষে কে কোথায় যাবে কি করবে বুঝিয়ে দিলেন। তারপর বিদায় নিয়ে ভীড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেলেন। মটর সাইকেল চালাবে আমাদের মধ্যে হাসিব, তার পিছনে আমরা দুজন বসব। অপারেশনে অংশগ্রহণ করবো আমি আর রুবাইত। বাইরে মটর সাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করবে হাসিব। মটর সাইকেলের মাঝখানে কাপড়ের থলেতে অস্ত্র নিয়ে আমি বসলাম। আমাদের মটর সাইকেল চলছে রশীদ ঠাকুরের বাসার উদ্দেশ্যে। এই সময় রশীদ ঠাকুর ঘরে থাকে। অনেক রাত করে মাহফিল শেষ করে ফেরে বলে সে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘরে থাকে। এক মাসে লোকটার সব মুখস্ত হয়ে গেছে।

কাজ সারতে হবে এক মিনিটের মধ্যে। অর্থ্যাৎ ঘরে ঢুকার পর এক মিনিট ধরা হবে। আমাদের ঘরে ঢুকতে দেখেই হাসিব মটর সাইকেলে স্টার্ড দিয়ে বসে থাকবে।

কড়া নাড়তে থাকি রশীদ ঠাকুরের দরজায়। ভেতর থেকে জবাব আসে, কে?

-বায়নার জন্য কথা বলতে আসছি।

-একটু অপেক্ষা করেন।

আমরাও প্রস্তুত হই…। রশীদ ঠাকুর দরজা খুলে এক চিলতে ফাঁক করে আগন্তুকদের চেয়ে দেখেন। আমাদের বয়স কিংবা চেহারা দেখে ভুরু কুঁচকে ফেললেও দরজা প্রসস্ত করে ফেলেন। লোকটা মাত্র গোসল করে এসেছে। এখনো পরনে ভেজা গামছা। খালি গা। আমরা তাকে ঠেলে ভেতরে ঢুকে দরজায় ছিটকানি এঁটে দেই।… তারপর কি করেছিলাম সেটা পরদিনের খবরের কাগজ পড়ে আসলে আমাকে জানতে হয়েছে! আমি যেন একটা ঘোর আর স্বপ্নের মধ্যে আছি! একটা কাগজ লিখেছে, প্রতিবেশীরা “আল্লাহো আকবর” শুনেছিল। তারপর দুটো ছেলেকে দৌড়ে পালাতে দেখেছে। পাড়ার দোকানদাররা বলেছে মটর সাইকেলে করে তিনজন ছেলেকে চলে যেতে দেখেছে তারা…।

আমাকে বাইতুল মোকাররমের সামনে সেদিন নামিয়ে দেয়া হয়েছিল। মসজিদে তখন জোহরের আজান হচ্ছে। মটর সাইকেলটা যখন পল্টন ঘুরে চলে গেলো আমি মসজিদে ভেতর গিয়ে ঢুকি। এত রক্ত রশীদ ঠাকুরের শরীর থেকে বেরিয়েছিল! রক্তমাখা জামা খুলে একটা ব্যাগে ভরে টি-শার্ট পরে ফেলি। আমাদের জামা দুটো এখন রুবাইতের কাছে। কালো টি-শাট আর জিন্স পরে মসজিদে ঢুকে বার বার মনে হচ্ছিল সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকবে। কোথাও রশীদ ঠাকুরের রক্ত আমার শরীরে লেগে আছে নাতো? দুপুরের সময় মসিজদের মত জায়গায় ঢোকা ঠিক হয়নি। কিন্তু আমার মনটা খুব অশান্ত হয়ে আছে। আমি নামাজ পড়তে চাই। অজু করলাম। ভাল করে মুখ হাত পা ধুলাম। নাহ্, কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকায় না। মনটা খুব হালকা লাগছে। যেন কিছুই হয়নি। নামাজ পড়ে বাসায় যাবো। দুপুরের ভাত খাবো। পরদিন সকালে ক্লাশ করব…।

শেজদায় গিয়ে চোখ বন্ধ করলাম। দেখি রশীদ ঠাকুর রক্তের উপর শুয়ে আছে। তার মুখটা একটু ফাঁক করা। যেন লোকটা হাসছে! লোকের বোকামী দেখে মানুষ যেভাবে বিদ্রুপের হাসি হাসে সেরকম। নাহ্, নামাজ বার বার ছুটে যাচ্ছে। শয়তান নামাজের মাঝখানে এসে গেছে। সুরার বদলে রশীদ ঠাকুরের গানের কলি মনে আসছে।…‘ কোথায় কাবা কোথায় কাশি/ ঘুরি ফিরি মিছিমিছি/ আমার মুরশিদ সদায় কয়/ আপন দর্পনে চেয়ে দেখ সদাই হাসি/ আমিই আল্লাহ আমিই মুরশিদ/ … আসতাগফিরুল্লাহ! শয়তান! হে আল্লাহ, আমি তোমার পথেই আছি। আমি তোমার ও তোমার রসূলের দুশমনদের নিজ হাত খুন করেছি। হে আল্লাহ…।

পূর্ব প্লাণ অনুযায়ী ঢাকা ছেড়ে যাবো। প্রয়োজনে দেশ ত্যাগও করতে হতে পারে। ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছি। রাস্তায় বেরিয়ে রকিব হাসানের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লাম। কি ভেবে গেইটের দাড়ওয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, রকিব হাসান সাহেব বাড়ি আছেন?

অদ্ভূত কান্ড যে আমার প্রিয় লেখককের বাসার দরজার বাইরে দাঁড়িয়েও আমার একটুও টেনশান হচ্ছে না। যেন রোজ এই বাড়িতে আমি আসি- এরকমই আবেগহীন সহজতা। দরজা খুলে সৌম দর্শন একজন বয়স্ক মানুষ সামনে এসে দাঁড়ালেন। ভদ্রলোক হাসি হাসি মুখে বলল, বলুন…

-রকিব হাসান সাহেব…

-হ্যা, আমিই বলুন…

-আমি আপনার লেখা নিয়মিত পড়ি, আপনার লেখা সব বই… তিন গোয়েন্দা…

ভদ্রলোক হেসে ফেললেন। তারপর বললেন, ভেতরে এসো… কিছু মনে করো না, তুমি করে বললাম, তোমার বয়েস অনেক কম…

-আপনার তিন গোয়েন্দা এখন আর আমি পড়ি না…

ভদ্রলোক হাসতে লাগলেন। কেন পড়ো না?

-কি হয় এসব পড়ে?

-সুন্দর একটা কৈশোর তৈরি হয়!

-আমি কয়েক বছর আগে মাসুদ রানা হতে চেয়েছিলাম…

-এখন চাও না?

-না…

-কেন?

-সেকথা তো আপনারা আমাদের জন্য লিখে রাখেননি। কেন আমরা আর মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা, ফেলু মিত্তির হতে চাই না…

ভদ্রলোকের ভুরু কুঁচকে গেলো। ভেরি ইন্টারেস্টিং! তুমি তো ছেলে হেজিপেজি কেউ নও। তোমার বয়েসের কেউ এভাবে ভাবে না সাধারণত।

-আপনি কি নতুন একটা কাহিনী লিখবেন? আমার কাছে একটা প্লট আছে। একটা লোক পাখির মত ভাষায় কি সব দুর্বোধ্য গান করে কিছু মানে বুঝা যায় না। সেই জন্য তাকে একদল লোক খুন করে ফেলল। আপনাকে রহস্য খুঁজে বের করতে হবে, কেন ওরা খুনটা করল। লোকটা গান গেয়ে কাদের ক্ষতি করেছিল। কিংবা অন্য কোন কারণ… খুব কঠিন একটা রহস্য ভেদ করতে হবে… পারবেন না?

ভদ্রলোক হেসে সোফায় গা এলিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, দেখো, আমি লেখক রকিব হাসান না। অনেকেই এই ভুলটা করে আমার কাছে চলে আসে। এটা কোন দুষ্টু ছেলের কাজ হবে হয়ত। তোমার বয়েসী অনেক ছেলেই আমার সঙ্গে এসে দেখা করে যায় লেখক রাকিব হাসান ভুল করে…। কিন্তু তোমার প্লটটা দারুণ। আমি তো লিখতে পারি না। তুমি না হয় লেখক রকিব হাসানকে গিয়ে গল্পের প্লটটা কথা জানাও। কিংবা তুমি নিজেই লিখে ফেলো একটা গল্প…।

আমি হা করে চেয়ে দেখছিল সোফায় রশীদ ঠাকুর তার কাটা গলা নিয়ে বসে আছে। গলার কাছ টায় বড় একটা হা হয়ে আছে। আর রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। কিন্তু অদ্ভূত শান্ত আর দৃঢ়তা নিয়ে, স্নেহ আর মমতায় আমার দিকে চেয়ে থেকে বলছেন, পাখির ভাষায় গান গাওয়া লোকটাকে কেন খুন করল, কেন, কি কারণে সে রহস্য তোমাকেই বের করতে হবে…।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “তিন গোয়েন্দা অথবা তিন মোটরসাইকেল আরোহী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 24 = 33