ইসলাম কি সত্য ধর্ম ?-পর্ব-২

মুমিনের যুক্তি কিন্তু সর্বদাই হাটুর নিচে। যখন বাইবেল কিতাব দিয়ে কোরান বা মুহাম্মদকে বিচার করা হয়, তারা সাথে সাথেই বলবে বাইবেল কিতাব বিকৃত। কিন্তু একই সাথে তারা সেই বিকৃত কিতাবের মধ্যে মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী খুজে পায়। যদি বাইবেল কিতাব বিকৃত বা ভুয়া হয়, তাহলে তার মধ্যেকার ভবিষ্যদ্বানীও বিকৃত বা ভুয়া হবে। কিন্ত কিসের কি , মুমিনেরা এসব যুক্তির ধার ধারে না। যাইহোক , এবার দেখা যাক, বাইবেলের মধ্যে মুহাম্মদকে খুজে পাওয়া যায় কি না।

মুমিনেরা তৌরাত কিতাবের দ্বিতীয় বিবরনীর ১৮:১৮ বাক্যে মুহাম্মদকে খুজে পায় কিন্তু সেই বানীর আগ পরের বানী ও প্রেক্ষাপট দেখলে দেখা যাবে , উক্ত দাবী সম্পূর্ন ভুয়া ও বানোয়াট। এবার উক্ত ১৮:১৮ বাক্যের পরের কিছু বানী পরীক্ষা করি–

দ্বিতীয় বিবরনী- ১৮: ১৮: আমি ওদের জন্য ওদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মত এক নবীর উদ্ভব ঘটাব ও তার মুখে আমার বানী রেখে দেব।আমি তাকে যা কিছু আজ্ঞা করব, তা সে তাদের বলবে।
১৮: ১৯: আর আমার নামে সে আমার যে সকল বানী বলবে, সেই বানীতে কেউ যদি কান না দেয় , তবে তার কাছ থেকে আমি জবাবদিহি চাইব।

অর্থাৎ সেই কথিত নবী ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত বানী প্রচার করবে, কেউ যদি তার বানী বিশ্বাস না করে , তাহলে সেই নবী তার বিচার করবে না , তার জন্যে স্বয়ং ঈশ্বরই তার বিচার করবে। তার অর্থ উক্ত ১৮:১৮ বানী অনুযায়ী মুহাম্মদই যদি সেই ভবিষ্যদ্বানীকৃত নবী হয়, তাহলে সেই নবী বাস্তবে কারও বিচারই করবে না। তার একমাত্র কাজ হবে , ঈশ্বরের বানী প্রচার করে যাওয়া। কিন্তু মুহাম্মদ কি সেই নীতি অনুসরন করেছিলেন ? কোরান থেকেই দেখা যাক —

সুরা আল আরাফ- ৭: ১৮৮: ——–আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য। ( মাক্কি সুরা)

সুরা হুদ- ১১: ১২: তুমিতো শুধু সতর্ককারী মাত্র; আর সব কিছুরই দায়িত্বভার তো আল্লাহই নিয়েছেন।( মাক্কি সুরা)

সুরা রাদ- ১৩: ৭: কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন? আপনার কাজ তো ভয় প্রদর্শন করাই এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে পথপ্রদর্শক হয়েছে।(মাক্কি সুরা)

সুরা আনকাবুত- ২৯: ৫০: ———-আমি তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। (মাক্কি সুরা)

এরকম আরো বহু আয়াত পাওয়া যাবে , যা কিন্তু বাইবেলের উক্ত দ্বিতীয় বিবরনীর ১৮:১৯ বাক্যের বিধান অনুসরন করেছেন মুহাম্মদ। কিন্তু সেটা কখন ? খেয়াল করতে হবে উক্ত আয়াতগুলো সবই কিন্তু মক্কায় নাজিল করেছেন মুহাম্মদ। আর মক্কায় মুহাম্মদের অবস্থা কেমন ছিল ? তিনি মক্কায় খুবই দুর্বল ছিলেন , সামান্য কয়জন দাস শ্রেনী ও দরিদ্র শ্রেনীর অনুসারী তাঁর ছিল। এরকম দুর্বল অবস্থায়, তিনি নিজেকে বার বার একজন সতর্ককারী বলেই প্রচার করছেন। তার কথা না শুনলে তিনি কারও ওপর জোর করছেন না , বা আক্রমন করছেন না। কিন্তু প্রশ্ন হলো মুহাম্মদ কি এই বিধান শেষ জীবন পর্যন্ত রক্ষা করেছেন ? সেটা দেখা যেতে পারে নিচের আয়াতে —-

সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(মাদানী সুরা)

অথবা , নিচের আয়াত —

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু মাস পার হওয়ার পর যেখানেই মুশরিকদেরকে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে। অথবা যেসব ইহুদি খৃষ্টানরা ইসলাম গ্রহন করবে না , তাদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী যুদ্ধ ঘোষনা করা হচ্ছে। কিন্তু যদি তারা ইসলাম গ্রহন করে , তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে যে হত্যা করতে হবে, সেটার কারন হলো তারা ইসলাম গ্রহন করছে না এটাই। অন্য কোন অপরাধ তাদের নেই। অর্থাৎ মুহাম্মদের কথা বিশ্বাস না করাটাই হলো ভয়াবহ অপরাধ আর তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। সোজা কথায় , এবার মুহাম্মদ নিজেই সতর্ককারীর অবস্থান থেকে নিজেকে বিচারকের অবস্থানে নিয়ে গেছেন, যা কিন্তু তৌরাতের উক্ত দ্বিতীয় বিবরনীর ১৮: ১৯ বাক্যের বিধানের বিপরীত। মুহাম্মদ এবার তার প্রতি অবিশ্বাসীদের বিচারের ভার ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে না দিয়ে , নিজেই তাদের বিচার করতে লেগে গেছেন । অর্থাৎ নিজেই এবার ঈশ্বরের ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন।

আর কখন মুহাম্মদ এই বিচারকের ভূমিকায় নামলেন ? উক্ত সুরা তাওবা মুহাম্মদ নাজিল করেন মদিনায়। তাও মক্কা বিজয়ের এক বছর পর। আর তখন মুহাম্মদ মক্কা মদিনা তো বটেই তার আশ পাশের সব গোত্রকে পরাজিত করে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন। তার বিরুদ্ধাচরন করার কেউ নেই। তখন তার এক বিরাট সেনাবাহিনী। অর্থাৎ মক্কায় দুর্বল অবস্থায় মুহাম্মদ ছিলেন শধুই একজন সতর্ককারী, কিন্তু যেই হাতে বিপুল ক্ষমতা পেলেন অমনি হয়ে গেলেন সতর্ককারী থেকে বিচারক। আর এটা অবশ্যই তৌরাতের বিধানের বরখেলাপ তথা তৌরাতের ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরন। ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরনকারী আসলে কে? কোরান থেকেই আমরা জানি ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরনকারী হলো শয়তান।

এইমত অবস্থায় দ্বিতীয় বিবরনীর ১৮:১৮ বিধান মতে মুহাম্মদ যদি সেই কথিত নবী হন , তাহলে তার পরের বানী ১৮:১৯ অনুযায়ী মুহাম্মদ হচ্ছেন আসলে ভুয়া নবী , যিনি নাকি ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরনকারী শয়তান, তাই নয় কি ?

ইসলাম কি সত্য ধর্ম ? পর্ব -১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

21 − = 20