আজ শবে বরাতের রাত : এর পরিনতি

আজ শবে বরাতের রাত। আল্লাহ তার আরশ থেকে সর্ব নিম্ন আসমানে নেমে এসে রাতের বেলা বান্দাদের গুনাহ মাফ করে দেবে। সেই কারনে বান্দারা সারা রাত ধরে আল্লাহর কাছে ইবাদত বন্দেগী করবে। শাবান মাসের ১৫ তারিখ রাতকে শবে বরাতের রাত বলে ধরা হয়। কিন্তু সমস্যা হলো শবে বরাতের রাতে ইবাদত বন্দেগী করলে পাপী বান্দাদের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে , এমন ধরনের কোন বাক্য কোরান বা হাদিসে ( সহিহ) নাই। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসেনা, দুনিয়ার বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইমামরা মহা সমারোহে, এই রাতে কান্না কাটি করে । এই কান্না কাটি কি সবই অর্থহীন ?

কিছু ইসলামী পন্ডিত মনে করে , নিচের আয়াত হলো শবে বরাত উপলক্ষ্যে –

সুরা -আদ দোকান- ৪৪: ৩: আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।

“Surely, We have sent it (the Holy Qur’an) down in a blessed night. Surely, We are the Warner. In this (night) judgment is given on all matters of wisdom (separately) by Our Command.” (Sura ad-Dukhan, 44:3-5)

Imam Qurtubi and Imam Jalal-ud-Din Suyuti hold that the verses refer to Laylatun Nisf min Shaban or Shab-e-Barat.(http://www.minhaj.org/english/tid/12123/Shab-e-Barat.html)

কিন্তু এ নিয়ে বিস্তর মতভেদ আছে। কারন বিরাট সংখ্যক আলেমের মত- কোরান নাজিল শুরু হয় রমজান মাসে, শাবান মাসে নয়। সুতরাং উক্ত বিষয়ে নিশ্চিত কোন সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। তবে তাতে সমস্যা নাই , আলেমরা তাদের মনগড়া হাদিস বানিয়ে প্রচার করে যে শবে বরাতের রাত অনেক বরকতময় রাত। আর সেখানেই গুরুতর সমস্যা বিদ্যমান। যেমন সহিহ হাদিস বলছে –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫৬ :: হাদিস ৭১২
আলী ইব্ন আইয়াশ (র) ……. ওয়াসিলা ইব্ন আসকা (রা) বলেন যে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, নিঃসন্দেহে ইহা বড় মিথ্যা যে, কোন ব্যক্তি এমন লোককে পিতা বলে দাবী করা যে তার পিতা নয় এবং বাস্তবে যা দেখে নাই তা দেখার দাবি করা এবং রাসূলুল্লাহ্(সাঃ) যা বলেননি তা তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা ।

সুতরাং মুহাম্মদ যা বলেন নি , সেই কথাকে মুহাম্মদের কথা বলে প্রচার করা হলো সব চাইতে বড় মিথ্যা আর যারা সেটা করে , তারা হলো মিথ্যাবাদী তথা মুনাফিক। আর তাদের শাস্তি ইহজগতেই কল্লা কেটে ফেলা। আর পরজগতে এর শাস্তি কি ? সেটা দেখা যাক –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫৫ :: হাদিস ৬৬৭
আবূ আসিম যাহ্হাক ইব্ন মাখলাদ (র) ……. আবদুল্লাহ ইব্ন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, আমার কথা (অন্যদের নিকট) পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয় । আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর । এতে কোন দোষ নেই । কিন্তু যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন দোযখকেই তার ঠিকানা নির্ধারিত করে নিল ।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৭৩ :: হাদিস ২১৭
মূসা ইব্ন ইসমঈল (র)…………….আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা) বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুনিয়াতে কারো কুনিয়াত রেখো না। আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে, সে অবশ্যই আমাকে দেখেছে। শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে যা আমি বলি নি তা আমার নামে প্রচার করে , সে যেন জাহান্নামেই তার বাসস্থান করে নেয়।

অর্থাৎ যারা নিজেদের কথাকে মুহাম্মদের কথা বলে চালায় , তাদের স্থান জাহান্নাম, আর সে সব চাইতে বড় মুনাফিক ও পাপী।

সুতরাং যারাই ইমামদের ফাঁদে পড়ে আজকে সারারাত খামোখা আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবে , তাদের প্রত্যেককেই আল্লাহ মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত করবে , আর তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পাঠাবে চিরতরে। তবে আরও সমস্যা আছে। যেমন – বাংলাদেশে যখন রাত , তখন আমেরিকায় দিন। তার মানে , আল্লাহ যখন বাংলাদেশের আকাশে বসে এদেশের বান্দাদের কান্নাকাটি শুনবে , তখন কিন্তু আমেরিকার মুসলমানরা কান্নাকাটি করবে না। সুতরাং তখন প্রশ্ন ওঠে – আল্লাহ কি ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দেশের আকাশে বিভিন্ন সময় ভ্রমন করে তাদের কান্নাকাটি শুনবে ? এ বিষয়ে কোথাও কোন কিছু বলা নাই। বরং এই ধরনের বক্তব্য থেকে এটাই বোঝা যায় যে , আল্লাহ আসলে পৃথিবীকে একটা সমতল ভূমি রূপে তৈরী করেছে আর তাই, রাত হওয়া বলতে আল্লাহ দুনিয়ার সকল যায়গাতেই এক সাথে রাত হয় বলে বুঝিয়েছে।

যাইহোক , যারাই আজকে খামোখা সারারাত কান্নাকাটি করবে , তাদের প্রতি বার্তা হলো – আল্লাহ মানুষের এই ধরনের প্যান প্যানানি একেবারেই সহ্য করে না। খামোখা কান্নাকাটি বা প্যান প্যানানি কেই বা সহ্য করতে পারে ? তাই সাবধান!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “আজ শবে বরাতের রাত : এর পরিনতি

  1. তখন প্রশ্ন ওঠে – আল্লাহ কি

    তখন প্রশ্ন ওঠে – আল্লাহ কি ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দেশের আকাশে বিভিন্ন সময় ভ্রমন করে তাদের কান্নাকাটি শুনবে ?

    আল্লাহ এখানে শুধু সৌদিআরবের রাতের কথা বলেছেন। আর ধর্মটা তখন সৃষ্টি হয়েছিল আরব অঞ্চলের জন্য। মুহাম্মদ তখন জানতেন না যে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় দিনরাতের ক্ষেত্রে সময়ের পার্থক্য আছে। জানলে এই ভুল করতেন না।

    1. এটা ঠীক ধর্মটা তখন সৃষ্টি
      এটা ঠীক ধর্মটা তখন সৃষ্টি হয়েছিল আরব অঞ্চলের জন্য, কিন্তু মুহাম্মদের ভুল আল্লাহ ধরিয়ে দিলেন না কেন ?

  2. #কিন্তু মুহাম্মদের ভুল আল্লাহ
    #কিন্তু মুহাম্মদের ভুল আল্লাহ ধরিয়ে দিলেন না কেন ?#

    আল্লাহ = মুহাম্মদ । কে কাকে ধরিয়ে দিবে?

  3. অাল্লাহ পাক একটা অাশ্চর্য্য
    অাল্লাহ পাক একটা অাশ্চর্য্য চরিত্রের কথা অামাদেরকে বলেছেন সেটা হল ‘শয়তান’ কি অাশ্চর্য্য !!! এই শয়তানের ইমান হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সে সব কিছু জেনেশুনে দেখেবুঝেই শুধুমাত্র তার অহংকার ও জেদের কারনে শয়তান হয়েছে, এইসব নাস্তিক বর্জ্য টাইপ মানুষরুপি শয়তানগুলিকে না দেখলে বিষয়টা বুঝা খুব কঠিন হতো !

    1. ইসলামের সব কিছু যদি জানতেন ,
      ইসলামের সব কিছু যদি জানতেন , তাহলে আপনিও আর ইমান বজায় রাখতে পারতেন না।তখন মুহাম্মদকেই আপনার কাছে সবচাইতে বড় শয়তান মনে হতো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − 12 =