তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না

ধর্মের অপব্যবহার, ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি এবং জঙ্গিবাদকে “না” বলুন। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। যেহেতু এ বিষয়ে বিদায় হজ্বের ভাষণে আমাদের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) বলে গেছেন ‘হে মানবমন্ডলী! সাবধান, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তোমাদের পূর্বের জাতিগুলো ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে।’

সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই পৃথিবীতে ধর্ম নিয়ে অতি বাড়াবাড়ি এক শ্রেণীর মানুষ করে আসছেন। তারা মনে করেন তারা যে পথে চলছেন সেটাই উত্তম পথ। অন্যরা ভুল পথে চলছেন, এটাই ছিল তাদের ধারনা। এই পৃথিবীতে ধর্মের ইতিহাস যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে ইতিহাস খুঁজে দেখা যাবে, যুগে যুগে ধর্মের নামে বা ধর্মকে পুঁজি করে বাড়াবাড়ি হয়েছে। নবী হজরত মুসা (আ.) এর সময়কালে তাঁর অনুসারীদের মধ্য থেকে একটি অংশ চরম ধর্মীয় বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিলেন। পবিত্র কোরআনে তাদের কার্যক্রম ও পরিণতির কথা সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে। একইভাবে মহীয়সী মরিয়ম পুত্র নবী হজরত ঈসা (আ.) এর সময়কালেও ধর্মীয় বাড়াবাড়ি অব্যাহত ছিল।

নবুয়ত ও রেসালতের ধারাবাহিকতায় পৃথিবীতে সর্বশেষ প্রেরিত মহাপুরুষ শেষনবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর সময়েও ধর্মীয় বিষয়াবলী নিয়ে একশ্রেণীর মতলববাজ ভন্ড মানুষ অতি বাড়াবাড়ি করেছিলেন। এমনকি মহানবী (স.) যেন কিছু দিন তাদের ধর্ম পালন করেন আর তারা কিছুদিন মহানবী (স.) এর ধর্ম পালন করবে সেই রকম সুবিধাবাদী প্রস্তাবও তারা নিয়ে এসেছিলেন। মহানবী (সা.) আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন; ‘লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন’ অর্থাৎ তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য আর আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য।

রাসূল (স.) অবিশ্বাসীদের সঙ্গে কোনো প্রকার বাদানুবাদে লিপ্ত হননি। তিনি বরং আল্লাহর নির্দেশের ফরমাবরদার হিসেবে প্রজ্ঞার সঙ্গে কৌশলী আচরণের মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানি ও সংঘাতকে এড়িয়ে গেছেন। ইসলাম সহজ, সরল ও সাম্যের ধর্ম। সকল বিভেদ ভুলে এক হয়ে চলা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। কিন্তু অতি দুঃখের সাথে বলতে হয় সেই সাম্যে, সহজ, সরল ও সত্য ধর্মে আজ নানা মতের ছড়াছড়ি। যে যেই মতের তার কাছে সেই মতই সঠিক। বাকি সব মতই ভুল। আর এই কারণেই এতো অসহিষ্ণুতা। সবাই বুঝে না বুঝে ইসলাম রক্ষায় ব্যস্ত। আর এই ইসলাম রক্ষা করতে গিয়ে কে হকের ওপর অবস্থিত তা প্রতিষ্ঠা করতেই সবাই ব্যস্ত। কিন্তু তাদের আসল আমলের খবর নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দ্বীন অত্যন্ত সহজ সরল। কিন্তু যে ব্যক্তি দ্বীনের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করবে সে পরাজিত হবে।

পবিত্র ধর্ম ইসলামের নির্দেশ হলো; উদ্উ ইলা সাবিলি রাবি্বকা বিল হিকমাতি ওয়াল মাউইযাতিল হাসানা অর্থাৎ ‘তোমরা মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান কর হেকমত ও প্রজ্ঞার সঙ্গে এবং উত্তম উপদেশ সহকারে।’ এ নির্দেশে দুটি বিষয় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমটি হলো মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন হেকমতের। হেকমত শব্দের অর্থ হলো জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং কৌশল। সুতরাং ইসলামের কথা বলতে হলে সঠিক জ্ঞান-প্রজ্ঞার প্রয়োজন। আর দ্বিতীয়টি হলো উত্তম উপদেশ। ইসলামকে যারা ধারণ করবেন তাদের মধ্যে মানুষকে উত্তম উপদেশ বা সৎ পরামর্শ দানের যোগ্যতা অবশ্যই থাকতে হবে। যাদের মধ্যে প্রজ্ঞার অভাব থাকবে আর যারা উত্তম উপদেশ দানের অযোগ্য তারা যখন ইসলাম হেফাজতের দায়িত্ব নিবেন তখন সেটি ইসলামের হেফাজত না হয়ে তা ধর্মের নামে বাড়াবাড়িতেই রূপ পরিগ্রহ করবে। তাতে ধর্মের কোনো কল্যাণ হবে না, বরং মানুষ বিভ্রান্ত হবে এবং সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে।

আরেকটি কথা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে; ইসলামকে হেফাজত করেন স্বয়ং আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন। তিনি আদি তিনিই অনন্ত। তিনি ওয়াকিবহাল তার সমস্ত সৃষ্টি সম্পর্কে। সুতরাং কোন মানুষ অথবা কোন রাজনৈতিক দল যদি দাবী করেন, তারা ইসলাম ধর্মের হেফাজত করছেন বা করে যাবেন তাহলে তারা মূর্খের মতই কাজ করছেন। তাদের জানা উচিৎ, ধর্ম এবং সব কিছুর হেফাজতের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ্‌।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না

  1. পবিত্র কোরানে আল্লাহ নিজেই
    পবিত্র কোরানে আল্লাহ নিজেই মুহাম্মদকে ইসলাম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে বলে গেছে আর আপনি এসে বলছেন উল্টো কথা ? দেখুন কোরানে কি বলেছে

    সুরা তাওবা -৯:৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

    সুরা তাওবা -৯:২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

    এই আয়াতদ্বয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন আমাদের নবিজি দেখুন –

    সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০
    আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

    সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১
    আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

    কোরান ও হাদিসের বিরুদ্ধে কথা বলছেন আপনি , আপনি তো মহা মুনাফিক। আপনার তো কল্লা কাটা ফরজ হয়ে গেছে।

      1. জাল হাদিস ? মিথ্যা আয়াত ? হা
        জাল হাদিস ? মিথ্যা আয়াত ? হা হা হা , তার মানে আপনি নিজেই হাদিস বানান আর আয়াত লেখেন ? আজব কান্ড !

        1. মদিনা সনদ পড় বাছা। যা ছিল নবী
          মদিনা সনদ পড় বাছা। যা ছিল নবী করীম (স.) সারা জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার বাস্তবায়ন। এবার জাল হাদিস আর আয়াত নিয়ে বিদায় হও। @ কাঠমোল্লা

          1. মদিন সনদ আপনিই পড়েন নি।, আর
            মদিন সনদ আপনিই পড়েন নি।, আর মদিনা সনদ কি কোরান ও হাদিসের বিধান বাতিল করে দেয় নাকি ? মদিনা সনদ আগে নাকি জিহাদের বিধান আগে ? কোনটা ? জানা আছে আপনার?
            মুহাম্মদ যখন মদিনায় হিজরত করেন ,তখনও সেখানকার একচ্ছত্র অধিপতি হন নি ,তখন সেখানকার ইহুদি খৃস্টানদের সাথে সহাবস্থানের জন্য আপাত: একটা চুক্তি করেন যা হলো মদিনা সনদ। তো এরপরের ঘটনা কি ? মুহাম্মদ যখন অত:পর মদিনার একচ্ছত্র অধিপতি হন , মক্কা বিজয় করেন , তখন নাজিল হয় সুরা তাওবা। সুরা তাওবা পড়েছেন? সুরা তাওবার জিহাদের বিধান নাজিল হওয়ার পর , মদিনা সনদ কি আর ছিল ? ইসলাম বা এর ইতিহাস কিছুই না জেনে ব্লগ লিখতে চলে আসছেন ?

  2. মদিনা সনদের ভিত্তিতেই প্রথম
    মদিনা সনদের ভিত্তিতেই প্রথম ইসলামী শাসনের প্রচলন হয়। তা কোরআন ও হাদিসের আলোকেই করা হয়েছিল। @ মোল্লা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 86 = 92