প্রেমপত্র-৬১

বরফ কন্যা
উড়ো পাতার মেঘের ভাজে পুরে, আমি একদিন কবুতরের পাখায় করে আমার গল্পগুলোকে পাঠাব তোমার কাছে।গল্পগুলো ঠিক গল্প নয়, জানো তো নিতান্তই দৈনন্দিন টুকিটাকি। এই তো সেদিন, আলগোছে পাতা উল্টিয়ে দেখি, এক কোণে লিখে রেখেছি সেদিনকার বাজারের ফর্দ।হলুদ,পেয়াজ,মরিচ,মাছ ও মাংশ তার পর এক কোনায় লেখা দেখি তোমারই নাম।বুঝলাম না কখন লিখে ফেলেছি আমার আর আট দশটা কাজের মাঝে তুমি কবে মিশে আছ কিছুতেই মাথায় আসে নি! কি জানি কি সব আবোল তাবোল লিখি!
তবে চিঠিগুলো কিন্তু তোমাকেই লেখা। এই যেমন ধরো ভোর বেলায় অলস বিছানায় গা এলিয়ে বসে থাকতে থাকতে লিখে ফেলেছি দু’কলম! মাঝে মাঝে গভীর রাতে ঘুম ভেঙে চোখ কচলাতে কচলাতে লিখেছি,
“আজকের চাঁদটা মারকুটে ধরণের সুন্দর!” তারপর ঐ যে গতকাল বন্যা বাদল বৃষ্টি হলো।এর মাঝেও তোমার সাথে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে মন চাইছিল ঐদিন।মাঝে মাঝে নিজেই বুঝেউঠতে পারি না, হতচ্ছাড়া কথাগুলো কেন লিখি,কি ভেবে এতো মান-অভিমান, উচ্ছ্বাস মাঝে মাঝে মনের মাঝে তোমার সাথে ঝগড়া! সবটাই একপক্ষীয়, ছেলে মানুষী! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নাটকের পার্ট মুখস্থ করার মতো। কেউ দেখছে
না, জানছে না পুরোটাই ন্যাকামো। অথচ লেখার সময় এসব কিন্তু একদম মাথায় আসে না! বরং মনে হয়, এই কথাগুলো তোমাকে না বললে চলবে? আমি কি বাঁচবো, লুকিয়ে রেখে??
সেই চিঠিগুলো এক একদিন আমি মনের খামে করে তোমার ভিতর বাক্সে পাঠিয়ে দি একটার পর একটা।পাঠানোর আগে মন সবসময় খচখচ করে। এইসব লেখালেখি,সে যদি না বোঝ?যদি বোকা বোকা ভাব? এলোমেলোই তো সব।বাজারে ফর্দে আর পাঁটা দরকারী এইটেম এর সাথে লিখে ফেলি তোমারই নাম,তোমায় শাড়ী পড়লে চমৎকার লাগে বলে যে কোন শাড়ী পড়া মেয়েকেই হঠাৎ চলতি পথে তুমি ভেবে ভুল করি, এইসব কি বলার মতো?তবে এসব কথা এলোমেলো নয়? সাহস করে প্রতিদিন আমি পাঠিয়ে দি। কি আর হবে? বড়োজোর ধুত্তোরি ফালতু… বলে আনসিন করে রেখে দেবে! তাতেই বা আমার কি? আমি তো সেটা দেখছি না!
তবে হ্যা। দেখলে খানিকটা কষ্ট পেতাম বৈকী! কত কত মনের কালি
যাই হোক। এই চিঠি চিঠি করে প্যাচাচ্ছি তখন থেকে।চিঠি না কিন্তু ঠিক, দৈনন্দিন টুকিটাকি.
গল্পগুলো পাঠিয়ে দিয়ে স্বস্তিতে থাকিনা একদম। ভয় হয় যে খুব!হতচ্ছাড়া শব্দগুলো যদি বেঈমানী করে? তুমি যদি ভুল বোঝ? যদি সামান্য খানিকটা বুঝে বাকিটা উলটো করে ভেবে নাও? যদি অবজ্ঞার হাসি হাস? বন্ধুদের আড্ডায় চেঁচিয়ে পড়ে বলে, “দেখ দেখ কি লিখেছে বুদ্ধুটা!তোমায় দেখলে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের অভাব বোধ হয়!হাহাহা, কাব্যিক, আতেল। চোখ খুলেই ভুলভাল স্বপ্ন দেখে! সুখ আবার কি রে? কই পাওয়া যায়?দাম কতো? এতো স্বপ্ন দেখাদেখি? ছ্যাহ, পাগল!!”কি করে সইবো, আমি? তারচেয়ে আমার কাছেই থাকতো ওরা… যত্নে, গোপনে!
আবার লোভও তো হয়! হয়তো তুমি খুব করে হাসবে, বোকা বোকা হাসি। তারপর ফিরতি পথেই রওনা দেবে আমার কাছে হাতভর্তি গোলাপ নিয়ে! আমার হৃদয়ের ছোট্ট ঘরটা সেই অদ্ভুত সুবাসে মৌ মৌ করবে। খুব, খুব, খু-ব করে বকুনী খেয়ে চোরের মত তাকিয়ে রবো। তারপর ভোর ছুঁইছুঁই রাতে দূর থেকে হাসির শব্দও শুনবে কেউ কেউ! কত কিছুই তো ঘটে।অনন্ত জলিল টাইপের নভেলে, মুভিতে! আমার গল্পগুলোর স্ক্রিপ্ট এর শেষ পাতায় লেখা আছে..উফফ্ আর কত জ্বালাবে,সারাজীবন তোমাকেই জ্বালাব আবার জ্বলবও।উফ কি লোভী, নচ্ছার, পাজী আমি!! না??
চিঠিগুলো,উফ আবার সেই একই ভুলভাল বকছি। চিঠি নাতো দৈনন্দিন টু্কিটাকি।
অনেকগুলো দিন ফুরিয়ে গেছে। কিছু জবাব আসে নি।ভীষণ বোকা লাগে নিজেকে।মনকে বলি আরো খানিকটা ধৈর্য্য ধরো! এতো অস্থির হলে চলে?পাগল তো ঠিকই হয়েছো তাকেও পাগলী হবার জন্যে একটু সুযোগ দাও।
কেবল তো চন্দ্র গ্রহণ চলছে।আমার সন্ধ্যা বেঁকে রাতের আদুরো অন্ধকার। সকালের আলো এখনো আমার বেলকনিতে উঁকি দেয়নি। আর তোমার জন্যে অপেক্ষা! সে তো শুভ্র ভোরের জন্য।সেই অপেক্ষার লিস্টে শুধু তুমি। সেই তো তুমি যে জীবনানন্দের,চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;যাকে দেখে মোর পথ ভুল হয়।তোমার অতল গহীনে ডুব দিয়ে এই আমি হারায়েছি দিশা।
তোমার
আগুন পাখি

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 8 = 2