প্রেমপত্র-৬২

প্রিয়ন্তীকা,
বুঝলে পাগলী ভালোবাসি,তুমি হয়তো বলবে আমি জানি।জানো তো কি হইছে? আরো জানবে আমি বারে বারে প্রতিদিন একবার করে বলব ভালবাসি।মাঝে মাঝে অবশ্য একটু বেশি জ্বালাই,এর জন্য সরি তো,এটাই তো তুমি যার কাছে আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি আমার সকল আবলতাবল মনের কথা।তোমার পাশে আজীবন ঘুমাতে হবে আমার,
এরজন্যই তো এত পাগলামী।

বুঝলে টুকরো টুকরো স্বপ্ন দেখি,কোন একটা কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি যখন তোমার ফোন কল রিসিভ করতে পারব না।তুমি কিন্তু অনেক বার ফোন দিবে। তাও যদি কথা না হয় সারা দিন। এজন্য তুমি খুব অভিমান করে থাকবে। সত্যি বলতে কি তোমার অভিমান করলে অন্য রকম পাগলামী আমি শুরু করে দিব।১০১টা অব্যার্থ পাগলামী আমি শিখে নিব।
তুমি যখন ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়বে।আমি তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকব।বাইরে চাঁদ উঠবে।জানালা দিয়ে চাঁদের আলো তোমার মুখের উপর এসে পড়বে যখন।চাঁদের আলোয় তোমাকে আক অসহ্য মায়াবী লাগবে।আমি দেখব আমার প্রিয়ন্তীকা কে।

একটা কথা শুনেছিলাম “তুমি সত্যিকার ভাবে যাকে ভালবাসো, তার থেকে তুমি কখনো দুরে যেতে পারবা না” আমারও এমন হয়ছে আমি তোমার থেকে দুরে যেতে পারিনা,দেখনা এরজন্য কত পাগলামী করি।তোমার কাছে না থাকায় আমার বড্ড কষ্ট হয়।আচ্ছা তোমারও কি কখনও এমন হয়?আমি চাই কোন একদিন দুজনের কষ্ট মিলেমিশে একাকার হয়ে যাক।তোমার কোমল হাত দিয়ে আমার গাল ছুঁয়ে নেমে আসা অশ্রু মুছে দিবে এই কোমলতা সবার কাছে থাকে না।এরজন্য হোক না কিছুটা অপেক্ষা।বুঝলে মাঝে মাঝে মাঝে তোমার উপর বড্ড রাগ হয়।এত ভালোবাসি আর তুমি চুপ করে থাক।কিন্তু তুমি এত অসহ্য সুন্দর যে রাগ করে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারি না।আক্সিজেনের অভাব বোধ হয়।আমি জীবনে রফের মত শীতল হৃদয় নিয়ে অনেক মানুষের সাথে যুগ যুগ ধরে রাগ করে বসে থেকেছি কিন্তু তোমার সাথে পারা সম্ভব না।তোমার ঐ আগুন জ্বলা চাহুনীর উষ্ণতা দিয়ে আমার বরফ শীতল হৃদয় কে মূহুর্তেই গলিয়ে দাও। এই উষ্ণতা সবার কাছে থাকে না ।আমি জ্বলে যেতে চাই ঐ চোখের আগুনে।
আমি আসলে এত কিছু ভাবি না।চোখ বুজলেই আমি তোমাকে দেখতে পাই।এই তোমার কাছে একটু ভালোবাসার উষ্ণতা আর কোমলতা পেতে আমার কি অনন্ত অপেক্ষা।শুধু এতটুকু বুঝতে পারি বুকের গভীরে ধক ধক করতে থাকা হৃদয়টার তোমাকে দেখলেই কিছু এক্সট্রা ক্যালোরী খরচ হয়।আর আমি মুগ্ধতা নিয়ে চেয়ে থাকি অনন্ত কাল।আমি তো এটা বুঝতে পারি,তোমার খবর কি হে বলো?

মাঝে মাঝে দু চার লাইন এমনি লেখা হয়ে যায়,যেটা কবিতা না বলে কবিতার অপচেষ্টা বলা যেতে পারে,এমন অপচেষ্টা আমি প্রতিদিনই করি প্রিয়ন্তীকা,দেখনা কেমন লাগে?
দুই বেলা তোর চিবুক ছূঁয়ে বলতে ইচ্ছে করে
‘এই পিচ্চি শোন তোর লাগি মোর পরান কেমন করে’
উল্টো হাতে কপাল কোনের আধলা একটা ঘাম
ইচ্ছা করে মুছায়ে দি হয় যদি আরাম।
তিন বেলা তুই পাশে বসায় নলায় নলায় তুলে
ইচ্ছা করে খাওয়ায়ে দিবি, লোক সমাজকে ভুলে।
চাঁদ কপালে হাত বুলায়ে ঘুম পাড়াবো রাতে
বুকের মধ্যে পিষে রাখবি আমাকে তোর সাথে।
ইচ্ছারা রোজ মিছিল করে তোর এলাকায় ঘুরে
স্লোগান দিয়ে গলা ফাটায় উচ্চকিত সুরে।
তুই কি জানিস তোর লাগি এই পরাণে হাপিত্যেস
হাহাকারের অগ্নিতে হয় ইচ্ছেরা নিঃশেষ?
বৃষ্টি দুপুর টাপুর টুপুর সোনার নুপুর পায়ে
ইচ্ছেরা সব নেচে বেড়ায় তোর হৃদয়ের গাঁয়ে”

পরিশেষে এতটুকু বলি,সোজা একটা কথাই,আমার চোখে ঠোঁটে গালে তুমি লেগে আছ হে প্রিয়ন্তীকা।

তোমারই
অর্নিবান

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 88 = 92