আল্লাহ্‌র ৯৯ নামের স্বরূপ উন্মোচন

আমার এক চাচার নাম আজিজ, দাদার নাম ময়েয, আরেক প্রতিবেশি চাচার নাম রহিম, গ্রাম সম্পর্কে দাদার নাম রহমান। প্রতিবেশি দাদার নাম সাত্তার, মামার নাম গাফফার।। এভাবে হাজারও নাম আছে। বহুদিন এগুলো মানুষের নামই জেনে আসছিলাম।

বড় হয়ে আরবি কায়দা শিখতে গিয়ে আল্লাহর ৯৯ নামের ঘর পড়তে গিয়ে দেখিলাম, না ঐগুলো শুধু আমার দাদা চাচার নাম না। আল্লাহরও পবিত্র নাম। তখন হুজুরকে বললাম, হুজুর এইযে আল্লাহর নামে আমরা মানুষ কে ডাকি এতে পাপ হয় না? আল্লাহর সাথে কারও শিরিক চলবে না তবে ছেলেদের নাম কেন আল্লাহর নামে রাখে। সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে হুজুরের দেরি হল না। বললেন, সন্তানের নাম যদি আল্লাহর নামের সাথে মিলে রাখে তবে সেটার আগে আব্দুল যুক্ত করতে হয়! আমি বললাম, লিখার সময় আব্দুল লিখলেও ডাকার সময় কেউ তার সন্তান বা পরশীকে আব্দুল অমক বলে ডাকে না। হুজুর বললেন সেটাতে কঠিন পাপ হবে!

আমি যেমন জানতাম না রহিম করিম খালেক মালেক আল্লাহর নাম। তেমনি প্রাক ইসলামের যুগে আরবের লোকেরাও জানত না যে এগুলো একজন প্রভূরই নাম। তাই তারা বিভিন্ন দেব দেবতাদেরকে এইসব এক এক নাম দিয়ে ডেকে পূজা করত। কিন্তু কোরআন শিখিয়েছে যে, এগুলির সকল কিছুর বা গুনের একমাত্র মালিক আল্লাহ। সুতুরাং নাম ভেদে রুপ দিয়ে পুজা কর না। তিনি এক ও ওয়াহিদ। এগুলো তারই গুনবাচক নাম।

আর সেটিই বলেছেন গাফফার চৌধুরী, যে আল্লাহর সকল নাম প্রাক ইসলামের কাফের তাদের দেব- দেবীদের নাম ছিল পরে ইসলাম সকলকে এই বিষয়ে মোডিফাই করেছে এক আল্লাহর নামে। এখন বলুন, উনার ভুল বা দোষ কোথায়?

আরবি ভাষা আগে এসেছে নাকি ইসলাম? যদি ধরি আরবি ভাষা আগে তবে কত আগে? উত্তর হবে বহু হাজার বছর আগে। আমি বলব কোরআন? ১৪০০ বছর আগে। তাহলে আরবি ভাষাতে যদি খালেক মালেক শব্দ না থাকত তবে কোরআন নাজিলের সময় কেমনে বুঝল আল্লাহ খালেক মানে সৃষ্টকারী, মালেক মানে সত্তাধীকারী। এসব শব্দ যেহেতু কোরআনে স্থান পেয়েছে তা বোঝার জন্যই শব্দ আগে এসেছে। শব্দ হল ভাষার জন্মদাতা, আর সেই ভাষার অলংকার হল সাহিত্য বা কিতাব। বলুন, ভাষার শব্দ আগে নাকি গ্রন্থ?

যদি ধরেও নিই এটি বেহেস্তি ভাষা বাবা আদমের জুবান আর ইব্রাহিমের বুলি। তবে বলুন আরবের পিতা কে? নিশ্চয় ইসমাইল? কারণ হযরত ইসমাইল হলেন জাজিয়াতুল আরবের পুর্বপূরুষ। আর তার ভাই হযরত ইশাক হলেন ইসরাইল মুসলমান সম্প্রদায়ের পিতা। তাহলে বুঝুন, ইসমাইল বংশে ইসলাইলের পর প্রথম ও শেষ নবী হলেন মুহাম্মাদ (সাঃ)। অর্থাৎ ৫ হাজার বছর আরবী ভাষী কোন নবী পায়নি, অথচ তাদের মুখের ভাষা ছিল বেহেস্তি ভাষা। আর ফেরেস্তা, অন্য মাখলুক আল্লাহকে ৯৯ গুনবাচক নাম ধরে ডাকতেন যা আরবের লোক জানতেন না, তারা ছিলেন কাফের!

আবারও বলতে হবে আমি কায়দা সিফারা পড়ার আগে যেমন জানতাম না এগুলি আল্লাহর নাম, ঠিক তেমনি আল্লাহর ৯৯ নাম আরবি ভাষার লোকের কাছে পরিচিত ছিল না যে এগুলো আল্লাহ্‌র নাম। বরং এই শব্দ গুনবাচক হওয়ায় তারা পূজারী হিসেবে বিভিন্ন দেবদেবি প্রতিষ্ঠা করে পূজা করা কেন অস্বাভাবিক হবে? তারা কি কোরআন নাজিলের আগে জানত যে, এই নামগুলি পবিত্র লাওহে মাহফুজে আল্লাহ দুনিয়া সৃষ্টির আগে থেকেই নিজের হিসেবে পাক কালামে সংরক্ষণ করেছেন?

একটি কথা মনে রাখতে হবে, আরবি যদি রসুল (সাঃ) থেকে আজ পর্যন্ত ১৪০০ বছর মুসলিমদের দখলে হয়, তবে রসুল (সাঃ) আবির্ভাবের ৫ হাজার বছর হতে তার জন্ম পর্যন্ত আরবি ভাষা ছিল কাফেরদের জবান।

ইসলাম কি বলে তা দেখুন-
ইসলাম বলে, সকল নবীর মুজেজা ছিল, আর মুহাম্মাদ (সাঃ) মুজেজা কোরআন, কারণ আরব নাকি সে সময়ে কবি সাহিত্যিকে পরিপূর্ণ ছিল। ছন্দময় কবিতা রচনা করে কবিতা আবৃতি করে সাহিত্য রচনা করে ভাষার ভান্ডার গড়ে ছিল, আর তাদের সে সব কাফেরী কবিতার জবাব দিতেই সেই ভাষায় সাহিত্য সম্বলিত কিতাব নাজিল হল নবীর উপর যা দেখে তারা ঘাবড়ে গেল যে মুহাম্মাদের মত উম্মি মানুষ কি করে সাহিত্য নিয়ে এল? আর কুরান ছিল তাদের সাহিত্যকে তাদের কবিতা ছন্দকে ধ্বংসকারী কিতাব।

তাহলে আর আব্দুল গাফফারের কি দোষ যিনি বলেছেন যে আল্লাহর নিরানব্বই নামের প্রত্যেকটিই কাফেরদের দেবদেবী দের নামেই ছিল? তারা সাহিত্যে এত ধনী ছিল আর গুনবাচক বা বিশেষণ শব্দ তাদের অজানা ছিল তা কি করে হয়?

এখন বাকি থাকল যে, তিনি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “রাসুল হিসেবে তাকে এককভাবে ডাকা যাবে না কারণ তিনি একাই রসুল নন”। আবদুল গাফফার চৌধুরীরর এই বাক্যই প্রমাণ করে যে, তিনি নাস্তিক বা সৃষ্টি কর্তায় অবিশ্বাসী নন। তিনি রসুল-নবী মানেন।

আরবের ইহুদীরা মুসা (আঃ) কে শ্রেষ্ঠ নবী মানতেন আর তারপর কোরআনের আয়াত দ্বারা মুসলমান সম্প্রদায়কে নবী ও রসুলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতা নির্ধারণ করাকে নিষেধ করেছেন। নবীদের মান সমান। তাহলে গাফফার চৌধুরী আর কি ভুল বলেছেন?

পরিশেষে, আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে প্রখ্যাত কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীর বক্তব্যের লিঙ্কটি দেওয়া হল। পুরো বক্তব্যটি মনযোগ দিয়ে শুনুন, বুঝুন। আশা করি, তার সম্পর্কে আপনাদের ভুল ধারনা আর থাকবে না। তার বক্তব্যের ওয়েব লিঙ্কটি হল- https://www.youtube.com/watch?v=Eul64fCPnSA

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আল্লাহ্‌র ৯৯ নামের স্বরূপ উন্মোচন

  1. ভাল লিখেছেন। মুসলমানদের
    ভাল লিখেছেন। মুসলমানদের বাস্তবতার সম্মুখীন হওয়া উচিত। সেগুলো মেনে নেয়ার মানসিকতা তাদের থাকা উচিত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

50 − = 46