নাস্তিকতার মাপকাঠি

ইদানিং নাস্তিকদের মধ্যে একটা কথা খুব শুনতে পাই,কোনো হিন্দুকে নাস্তিক হতে গেলে গরুর মাংস অথবা কোনো মুসলিমকে নাস্তিক হতে গেলে শুয়োর/কচ্ছপের মাংস খেতে হবে।না হলে অনেক ক্ষেত্রেই তার আদর্শ যা সে প্রচার করে পরিষ্কার ভাষায় সে আসলেই নাস্তিক কিনা!! তা নিয়ে একাংশ সংশয় প্রকাশ করে থাকে।

এই পুরো ধারনাটাই আমার কাছে যেমন ভিত্তিহীন তেমনই হাস্যকর,কারন খাদ্য আর পোষাক একান্তই ব্যাক্তিগত ব্যাপার,অনেকের যা ভালো লাগে অনেকেরই তা ততটা ভালো নাও লাগতে পারে,উদাহরন হিসেবে আমাকেই ধরুন,আমার ইলিশ মাছে এলার্জি,তার মানে কি আমি বাঙ্গালি না!!!! সব থেকে বড় কথা আমি একজন মানুষের পছন্দ অপছন্দের খাদ্য তালিকার সাথে তার তার আদর্শের কোনো সম্পর্কই খুঁজে পাইনা।সুতরাং খাদ্য কখনই একজন মানুষের চিন্তা ভাবনা তার আদর্শের প্রতি আনুগত্য পরিমাপের মাপকাঠি হতে পারেনা।

সেই রকমই আরেকটি ভুল ধারনা আমাদের মধ্যে দানা বেধেছে,তা হল পোষাক।অনেককেই দেখি মুসলিম মহিলাদের বোরখা,হিজাব নিয়ে বিরুপ মন্তব্য অথবা হাসাহাসি করে।
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এদের সাথে একমত নই,কারন আমি মনে করি বোরখা পড়েও একজন মহিলা মডার্ন হতে পারে,আমার মতে আধুনিকতার বাস মানুষের মস্তিক্যে যার প্রতিফলন ঘঠে তার চরিত্রে এবং তার ব্যাবহারে।

আমি পোষাককে পোষাকের দৃস্টিতে দেখতেই সাচ্ছ্যন্দ বোধ করি,আমার কাছে পোষাক শুধুই লজ্জা নিবারনের বস্তু সামগ্রি,তা কখনই একজন মানুষের মতাদর্শের মহানুভবতা এবং তার জ্ঞ্যান পরিমাপের স্কেল হতে পারেনা।

হ্যা আমি বিরোধীতা করব বোরখার হিজাবের,যখন তা কোনো মহিলাকে পড়িধান করতে বাধ্য করা হবে,যখন তার জ্ঞ্যান তার আদর্শকে বোরখার অন্ধকারে ঢেকে ফেলার অপচেস্টা করা হবে।

জানি অনেকেই আমার সাথে একমত না হয়ে বরং আমার আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন,অবশ্যই তুলতে পারেন তা আপনার ব্যাক্তিগর ব্যাপার নিজের চিন্তধারা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “নাস্তিকতার মাপকাঠি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

27 − 22 =