আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য, দরকার সচেতনতা।

‘ভিডিও প্রকাশ করে আত্মহত্যা করল মডেল সাবিরা” এই নিউজটি এখন টাইমলাইনে সয়লাব। ৯ মিনিটের ভিডিও বার্তাটি সারাংশ করলে দাঁড়ায়- একটি ছেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও ছিল। কিন্তু যখন বিয়ের প্রসঙ্গ আসল তখন ছেলের পরিবার আপত্তি জানায়। হয়ত পরিবারের না সূচক শব্দ শুনেই সাবিরার প্রেমিক সম্পর্ক আর আগাতে দিতে চায় নাই। এই হল কারন।

ছেলের কি দোষ আর মেয়ের কি দোষ এই প্রসঙ্গে না যাওয়াই ভাল। তবে এখানে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত আত্মহত্যা বিষয়টিকে। সেচ্ছায় নিজেই নিজের জীবনহনন করলে সেটা হয় আত্মহত্যা। বাংলাদেশে আত্মহত্যার পরিমান আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আত্মহত্যায় এগিয়ে আছে নারীরা। ‘রিস্ক ফেক্টরস অব সুইসাইড প্যারা রুরাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণায় দেখা যায়, মোট আত্মহত্যার সঙ্খ্যার মধ্যে
পুরুষ ৩৯%
আর নারী ৬১% ।

আত্মহত্যার অনেক কারনের মধ্যে প্রেম বিরহ একটি প্রধান কারন। কিছু হলেই ভেঙ্গে পরা, হতাশ হয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখা আমাদের সমাজে অহরহ চিত্র। একটু সচেতন হলেই কিন্তু আত্মহত্যা এড়ানো সম্ভব এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য একটি সমস্যা।
মডেল সাবিরা যে কারনে আত্মহত্যা করেছে তা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব ছিল। সে এই ডিপ্রেশন থেকে বের হয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারত কিংবা এই সমস্যা সমাধানের বিকল্প কোন পথ খুঁজতে পারত। কিন্তু তার সদিচ্ছার অভাব তাকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিল। যার ভুক্তভুগী তার পরিবারবর্গ, বন্ধু স্বজন এবং কাজের ক্ষেত্র।

কিছুদিন আগে একটা কেইস স্টাডি পড়েছিলাম, সেখানে ২০ বছরের একটি মেয়ে মোট সাতবার আত্মহত্যার চেষ্ঠা করে। প্রতিবারই কোন না কোন কারনে তার চেষ্ঠা অসফল হয়েছে এবং প্রতিবারই সে মারাত্মক জখমের শিকার হয়েছে। তার এই নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিবার কারন হল প্রেমে অসফল। দুই বছরের সম্পর্ক ছিল একটি ছেলের সাথে। কিন্তু হঠাৎ ওই ছেলে আরেকটি মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। তখন থেকে মেয়েটিকে বিষন্নতা আর হতাশায় আকড়ে ধরে, মেয়েটি কাউকে আর বিশ্বাস করতে পারছিল। জীবন তার কাছে হয়ে পরেছিল অর্থহীন। পরিবার মোটামুটি অবস্থাসম্পন্ন ছিল বিধায় তাকে নিয়ে বেশ কয়েকবার দেশ ও বিদেশের সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পৃথিবীর কোন সৌন্দর্যই তাকে আর মোহিত করতে পারে নি।
অবশেষে তার বাবা তাকে জোরপূর্বক একটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দিলেন। বছর দুই পর সে স্বাভাবিক জীবনে আসতে পেরেছে। পড়াশোনাও শেষ করেছে বেশ ভালভাবে।

অবশেষে সে বুঝতে পেরেছে জীবন কখনো একটি মাত্র কারনের জন্য হতে পারে না। জীবন অনেকগুলো উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরী। এখন সে দিব্যি আছে। সম্ভবত সে এখন কোন সরকারী ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা হিসাবে চাকরি করছে।

এতকথা বলছি কারন দিন দিন অল্প বয়স্ক ছেলে মেয়েদের আত্মহত্যার প্রবনতা বেড়েই চলছে। হতাশায় ভুগবে, ছেলে হলে গাঁজা খাবে, মদ খাবে, নেশার সাগরে ডুবসাতার দিবে অথচ পাশের কোন বন্ধুকে কিংবা পরিবার কাউকে একটিবারের জন্যও বলবে না আমি এই অবস্থা থেকে উত্তরণ চাই, আমাকে প্লিজ একটু সাজেশন দাও। কোন খারাপ জিনিস থেকে পরিত্রান পেতে আমাদের বড্ড অনীহা। হাত বাড়ালেই এখন চিকিৎসক পাওয়া যায় তবুও গিয়ে একটিবারের জন্যও বলবে না এই আমার অবস্থা, আমার এখন কি করা উচিত? মানসিক ডাক্তার, মাদকদ্রব্য নিরসন কেন্দ্র আমাদের কাছে এখনো নিষিদ্ধ কোন কিছু। ধর্মীয় অনুশাষন এই অবস্থা থেকে পরিত্রান করতে পারে। কিন্তু আমরা কারো কথা শুনবো না, মানবো না ঠিক যেন আমরা নিজেরাই নিজের রাজ্যের শাহেনশা।

আত্মহত্যা শুধু নিজের পরিবার না বরং সমাজের ক্ষতি করে। সমাজ বা দেশ একজন মেধাবী নাগরিক হারায় এই কারনে যা পুরন করা সম্ভব না। আমাদের সবার উচিত , কোন বন্ধু, ভাই-বোন, সন্তান, হতাশায় ভুগলে তাকে বলুন তার সমস্যা শেয়ার করতে। একদম উন্মুক্তও আলোচনায় বসুন, তার সমস্যার সমাধান করুন সবাই মিলে। আত্মহত্যা একটি সমস্যা কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য। এখনই সচেতন হন নইলে দেখবেন আপনার কাছের কোন মানুষ কোন ঠুনকো কারনে আত্মহত্যা করে বসছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 64 = 67