আল্লাহর ক্ষমতা বেশী , নাকি ছাগলের ক্ষমতা বেশী ?

কোরানে আল্লাহ বলেছে , সে নিজেই কোরানকে সংরক্ষন করবে। কোরান বলেছে- সুরা হিজর- ১৫:০৯:আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। সুতরাং ধরেই নিতে হবে যে দুনিয়ার আর কেউ কোরানের কোন বানীকে ধ্বংস করতে পারবে না। যদি পারে , বুঝতে হবে , যে কোরানের বানী ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে , সে আল্লাহর চাইতে বেশী শক্তিশালী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে , সামান্য ছাগলে কোরানের বানী ধ্বংস করে ফেলেছে। তাহলে সামান্য ছাগল কি আল্লাহর চাইতে বেশী শক্তিশালী ? বিষয়টা খোলাসা করা যাক।

হাদিসে আছে ——-

সহিহ মুসলিম :: বই ১৭ :: হাদিস ৪১৯৪
আবু তাহির ও হারমালা ইবন ইয়াহইয়াহ (র)……আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ, উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সা) এর মিম্বারের উপর বসাঅবস্থায় বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (সা) কে সত্য ধর্ম সহকারে প্রেরণ করেছেন এবং তার উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন । আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে ব্যাক্তিচারের জন্য পাথর নিক্ষেপের আয়াত রয়েছে । তা আমরা পাঠ করেছি, কারণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি । সূতরাং রাসুলুল্লাহ (সা) ব্যাক্তিচারের জন্য রজম করার হুকুম বয়ায়ন করেছেন । তাঁর পরবর্তী সময়ে আমরাও (ব্যভিচারের জন্য) রজমের হুকুম বাস্তবায়িত করেছি । আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ একথা হয়তো বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে (ব্যভিচারের শাস্তি) রজমের নির্দেশ পাচ্ছিনা । তখন আল্লাহ কর্তুক নাযিলকৃত এই ফরয কাজটি পরিত্যাগ করে তারা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে । নিশ্চই আল্লাহর কিতাবে বিবাহিত নর-নারীর ব্যাক্তিচারের শাস্তি (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা,)-এর হুকুম সাব্যস্ত । যখন সাক্ষ্য দারা তা প্রমাণিত হয়, কিংবা গর্ভবতী হয়, অথবা সে নিজে স্বীকার করে ।

ইসলামের দ্বিতীয় ও সবচাইতে প্রভাবশালী খলিফা ও সাহাবি ওমর বলছে , ব্যাভিচারের শাস্তি স্বরূপ পাথর ছুড়ে হত্যা বিষয়ক আয়াত নাজিল হয়েছিল যাকে বলে রজমের আয়াত। ওমর এটাও স্বীকার করছে যে , সেই আয়াত সে তার আমলকার কোরানের মধ্যে দেখতে পাচ্ছে না। তাহলে সেই রজমের আয়াত কোথায় ?

মুহাম্মদ নিজেই উক্ত রজমের বিধান অনুযায়ী বহু ব্যভিচারীকে পাথর ছুড়ে হত্যা করেছেন , যেমন —-

সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৩ :: হাদিস -৪১৩
ইব্রাহীম ইব্ন মুনযির (র.)……….আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) এর কাছে (খায়বারের) ইয়াহুদীরা তাদের এক পুরুষ ও এক স্ত্রীলোককে হাযির করল, যারা যিনা করেছিল । তখন তিনি তাদের উভয়কে (রজম করার) নির্দেশ দেন । মসজিদের পাশে জানাযার স্থানের কাছে তাদের দু’ জনকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হলো ।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৮২ :: হাদিস- ৮০৫
মুহাম্মদ ইব্ন মুকাতিল (র) … জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা)এর কাছে এল। এসে বলল, সে যিনা করেছে এবং নিজের বিরুদ্ধে চার বার সাক্ষ্য প্রদান করল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন, তাকে পাথর ছুড়ে হত্যা(রজম) করা হলো। আর সে বিবাহিত ছিল।

ব্যাভিচারের শাস্তির নিদর্শন পাথর ছুড়ে হত্যার এ ধরনের অন্তত: দুই ডজন সহিহ হাদিস বুখারি , মুসলিম , আবু দাউদ ইত্যাদিতে বর্তমান। সুতরাং এটা নিশ্চিত যে , রজম সম্পর্কিত আয়াত মুহাম্মদ নাজিল করেছিলেন। আর সেই বিধান অনুযায়ী তিনি ব্যাভিচারীদেরকে সাজা দিতেন। এছাড়া দেখা যাচ্ছে , দুধ পান করে পর্দা প্রথা শিথিল করা সম্পর্কিত আয়াতও মুহাম্মদ নাজিল করেছিলেন —-

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস- ৩৪২১
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া (র)……আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, কুরআনে এই আয়াতটি নাযিল হলঃ “দশবার দুধপানে হরমত সাবিত হয় ।” তারপর তা রহিত হয়ে যায়ঃ -পাচবার দুধপান এর দ্বারা । তারপর রাসুলুল্লাহ (সা) ইন্তিকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হতো ।”

আর এই দুধ পান করার মাধ্যমে কিছু নারীর পর্দা প্রথা শিথিল করা হয়েছে , এ সম্পর্কিত হাদিস —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪২৪
আমরুন নাকিদ ও ইবন আবু উমর (র)…… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, সুহায়লের কন্যা সাহলা নবী (সা) -এর নিকট হাযির হায় বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা)! আমার সাথে সালিমের দেখা সাক্ষাৎ করার কারণে আমি আবু হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির আলামত দেখতে পাচ্ছি অথচ সালিম হল তার হালীফ (পোষ্য পূত্র) । নবী (সা) বললেনঃ তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও । তিনি বললেন, আমি কেমন করে তাকে দুধপান করাব, অথচ সে একজন বয়স্ক পূরুষ । এতে রাসুলুল্লাহ (সা) মুচকি হাসি দিলেন এবং বললেন, আমি জানি যে, সে একজন বয়স্ক পুরুষ । আমর (রাবী) তাঁর হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন, সালিম বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন । আর ইবন আবু উমরের বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হেসে দিলেন ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪২৫
ইসহাক ইবন ইবরাহীম হানযালী ও মুহাম্মাদ ইবন আবু উমর (র)……আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে,আবু হুযায়ফার দাস সালিম (র) আবু হুযায়ফা ও তাঁর পরিবারের সাথে একই ঘরে বসবাস করত । একদা সুহায়লের কন্যা (হুযায়ফার ন্ত্রী) রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট নিকট এসে বলল, সালিম বয়স্ক পুরুষের স্তরে পৌছে গেছে, সে বুঝে লোকে যা বুঝতে পারে অথচ সে আমাদের নিকট প্রবেশ করে থাকে । আমি ধারণা করি এই কারণে আবু হুযায়ফার মনে অভিযোগের ভাব সৃষ্টি হয়েছে । নবী (সা) তাকে বললেন, তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তুমি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে এবং আবু হুযায়ফার মনের অভিযোগ দুরীভূত হবে । তারপর তিনি তার (আবু হুযায়ফার) নিকট ফিরে এসে বললেন, আমি তাকে (সালিমকে) দুধপান করিয়েছি । তাতে আবু হুযায়ফার মনের অসন্তোষ দুর হয়ে যায় ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪০৫
কুতায়বা ইবন সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবন রুমহ (র)……আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বর্ণনা করেন যে, আফলাহ নামক তাঁর দুধচাচা তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অনুমতি চাইলেন । তিনি তাঁকে নিষেধ করে দেন । তারপর তিনি এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা)-কে অবহিত করলেন । তিনি তাঁকে বললেন, তুমি তার থেকে পর্দা করবে না । কেননা দুধ পানের সস্পর্ক দ্বারা ঐসব লোক হারাম হয়ে যায় যারা রক্ত সম্পর্ক দ্বারা হারাম হয় ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪০৯
হাদ্দাব ইবন খালিদ (র)……ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) -এর সঙ্গে হামযার কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হল । তিনি বললেন, সে আমার জন্য হালাল নয় । কেননা সে আমার রাযাঈ ভাইয়ের কন্যা । আর দুধপান দ্বারা ঐ সব লোক হারাম হয়ে যায় যারা রক্ত সম্পর্কের দ্বারা হারাম হয় ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪১৫
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আমরুন নাকিদ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম (র)……উম্মুল ফাযল (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, এক বেদুইন নবী (সা) -এর কাছে এল । সে বলল, ইয়া নবী (সা) আল্লাহ! আমার এক স্ত্রী ছিল । তার উপর আর একটি বিবাহ করলাম । এমতাবস্হায় প্রথমা স্ত্রী বলছে যে, সে আমার নবাগতা স্ত্রীকে এক চুমুক বা দু-চুমুক দুধ পান করিয়েছে । নবী (সা) বললেন, এক চুমুক বা দু-চুমুক হারাম করে না । আমর (র) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন হারিস ইবন নাওফলের বর্ণনায় অনুরুপ আছে ।

এই দুধ পান সম্পর্কিত হাদিস আছে অন্তত: পঞ্চাশটি। আর বলা বাহুল্য, মুহাম্মদ যে, তার নাজিল করা আয়াতের বিধান মোতাবেক এটা করতেন , সেটাও নিশ্চিত। কিন্তু বর্তমান কোরানে সেই দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নেই।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , যদিও আল্লাহ বাগাড়ম্বর করে বলেছে যে সে নিজেই কোরানকে সংরক্ষন করবে , কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সেই কাজে আল্লাহ চুড়ান্তভাবেই ব্যর্থ। অথচ যুক্তি অনুসারে , আল্লাহ কোন কাজে ব্যর্থ হতে পারে না। সুতরাং শুধুমাত্র এই ঘটনাই প্রমান করে যে , কোরান আসলেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে নি। অন্য কথায় কোরানের আল্লাহ আর সর্ব শক্তিমান ঈশ্বর এক ব্যাক্তিত্ব না। কিন্তু সে যাই হোক , আসলে উক্ত আয়াত কোথায় গেল ? কে-ই বা তাদেরকে ধ্বংস করল ? সেটাও কিন্তু আছে হাদিসে —

সুনানু ইবনে মাজাহ্ :: হাদিস ১৯৪৪ (নিকাহ বা বিবাহ অধ্যায়)
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকেরও দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় (লিখিত) আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ ﷺ ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে। হাসান, তা’লীক ইবনু মাজাহ।(মাজাহ ১৯৪৪ সহীহুল বুখারী ১৪৫২, নাসায়ী ৩৩০৭, ২০৬২, মুয়াত্তা মালেক ১২৯৩, দারেমী ২২৫৩)

সুতরাং এতক্ষনে আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হলো। একটা সামান্য ছাগলে সেই আয়াতগুলো খেয়ে ধ্বংস করে ফেলেছে। এখন পাঠকবৃন্দ, দয়া করে বলুন তো ——— কার ক্ষমতা বেশী ? আল্লাহর , নাকি ছাগলের ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “আল্লাহর ক্ষমতা বেশী , নাকি ছাগলের ক্ষমতা বেশী ?

  1. *****
    *****
    আল্লাহ্ এবং ছাগলের চেয়েও যে Md Jamsed Hossain-এর ক্ষমতা বেশি, তা’ স্বীকার ক’রে নিতে আমাদের কোনো কার্পণ্য নেই। তবে, আমরা গাধারা প’ড়ে প’ড়ে বুঝেছিলাম, কোরান কোনো কাগজের কেতার নয় যে, ছিড়ে ফেলা যাবে কিম্বা কোনো বলদ বা ছাগলে সেটাকে খেয়ে ফেলতে পারে। >>>>Ref. from QurAan >>>>
    সূরা আনআম # ৬/ ০৭ : যদি তোমার কাছে কাগজে লিখা গ্রন্থও পাঠাতাম, আর তারা যদি হাত দিয়ে তা’ স্পর্শ করত, তবু অবিশ্বাসীরা বলত, ‘এ স্পষ্ট যাদু ছাড়া তো আর কিছুই নয়।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 2