বিফল আস্ফালন..

উপাদান ভেদে কম বেশি প্রতিটি ককটেল বানাতে খরচ হয় ১৫টাকা। প্রতিটি জেলায় মিছিল-পিকেটিংয়ে ব্যবহৃত নূন্যতম ৫০০টি ককটেলের মূল্য- ৭,৫০০টাকা। সেই হিসেবে একদিনের হরতালে ৬৪ জেলায় প্রয়োজন- ৪,৮০,০০০টাকার ককটেল। মাঠাম আর তার বেগানা ভাই বেরাদরদের ডাকা প্রতিটি একদিনের হরতালে ব্যবহার্য জিনিসপাতি যেমন- গজারীর লাঠি, ইট-পাটকেল-খোয়া, ককটেল, ব্যানার-ফেস্টুন, পিকেটার ভাড়া, পেট্রোল বোমা, কর্মীদের চা-বিড়ির অনুদান……ইত্যাদি সব মিলে কয়েক কোটি টাকা !!!

আপনার ছানা-পোনাদের তৈরী ককটেলের দামটাই ধরলাম শুধু। হরতালে জীবন নেয়ার কাজে একদিনে ব্যবহৃত ককটেলের দামে ৮০০ সিলিন্ডার জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন কেনা যায়। আপনার প্রতিটি Fuckইস্থানী শিফন শাড়ির দামের দিকে নাই বা গেলাম।

শুনলাম সাভারে গিয়ে মুখ দেখিয়ে এসেছেন। কিন্তু স্থানীয় যুবদল/স্বেচ্ছাসেবক দল/শ্রমিকদল নামের যে আরো ডালপালা আছে আপনার, তাদের প্রতি কোন নির্দেশনা দিয়ে এসেছেন কি? উদ্ধার তৎপরতায় হাত লাগানোর জন্য, রক্তদান, ওষুধ কেনা ইত্যাদি কোন কাজেই কি তাদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন? যাদের নিয়ে ব্যবসা থুক্কু রাজনীতি করেন, তাদের জন্য আপনার ককটেলের ফান্ড থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার জন্য একটা পয়সাও খরচ করেছেন? ড্যাবের ডাক্তারদের এখন রাজনৈতিক ইস্যু চোদাতে নিষেধ করে আর্ত মানবতার সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছেন কি?

বহুদিন ধরেই রাজনীতি-ব্যবসা করছেন, কখনো একা থাকলে নিজের বিবেক জেগে উঠেনা আপনার? মনে পড়ে, নিজে বেঘর হয়ে সাংবাদিকদের সামনে পাষাণ-গলানো কান্নায় আপনি কেঁদেছেন, আপনার শোকে আপনার নেতাকর্মীরা রাজপথে বিলাপ করে বেড়িয়েছেন। আজ যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের জন্য আপনার চোখের কোন কি একটুও ছলছল করেনা? তাদের জন্য আপনার ভেতরে রাজনৈকি স্বার্থ হাসিলের চিন্তা ছাড়া অন্য কিছুই কি আসেনা?

চাচা মিয়া হোমো এরশাদ, আপনার লাখ লাখ হেফাজতি চুতিয়া ভাই বেরাদরদের চেঁচিয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হবার আগেই তাদের পা ধোয়ার পানি-হাগা মুতার পানি সবই বন্দোবস্ত করেছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আপনার লোকজন দিয়ে পানি ঢেলেছেন তাদের পশ্চাদ্দেশে। কৌশলগত কারনে নিজে না গিয়ে চিনি চোরা জাফরকে পাঠিয়েছেন হুজুরদের তাবেদারী করতে। মনে পড়ে? আজ আপনার সেই পানি শুকিয়ে গেছে? অল্প কয়েক হাজার আটকে পড়া মানুষের জন্য আপনি কয়েক বোতল পানির ব্যবস্থাও করতে অপারগ? আপনার এবং আপনাদের এই রাজনৈতিক মতাদর্শের কপালে ঝাঁটা।

হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় ফুলে ফেঁপে ঢোল জামাতীদের আস্তাবল। আজ তাদের সেই ইবনে সোনার ২৫% ছাড়ের ব্যবসা ছেড়ে মানবতার দোরগোড়ায় এসে দাঁড়াতে তো দেখলাম না। মিনারেল ওয়াটার থেকে শুরু করে মুড়ি চানাচুর, সুঁই-সুতা থেকে শুরু করে ফার্মাসিটিক্যালস ব্যবসা কি নেই তাদের !!! কই, কোন চুতমারানিরে তো দেখলাম না নিজ প্রতিষ্ঠানের একটা প্রোডাক্ট নিয়ে এগিয়ে আসতে?

সব খাঙ্কির পুতরে বলি- দিন শেষ হয়ে এলো বলে। অপেক্ষায় থাক। সেদিন খুব বেশি দেরী নেই, যেদিন নিজে ভুক্তভোগী হবি। ভয় পাস না, সাধারণ মানুষ অতটা নির্দয় হয়নি এখনো। তোদেরকেও টেনে হিঁচড়ে উদ্ধার করবে তারা। সেদিন পর্যন্ত যদি বাঁচি, নিশ্চিত বলতে পারি টাকার অভাবে পানি কিনে তোদেরকে খাওয়াতে না পারলেও তোদের মুখে মুতে আসব, যদি তাতে তোদের আয়ু কয়েক মিনিট বৃদ্ধি পায় আর কি…..

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “বিফল আস্ফালন..

  1. বেশী দেরী নাই। জনরোষে সবগুলা
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    বেশী দেরী নাই। জনরোষে সবগুলা পিষে ছাতু হবে। সহ্যের একটা লিমিট আছে।

  2. সেই মহেন্দ্র ক্ষণের অপেক্ষায়
    সেই মহেন্দ্র ক্ষণের অপেক্ষায় আছি ! আশা করছি অল্প দিনেই তার নাগাল পেয়ে যাবো…অনেক ধন্যবাদ পোস্ট লেখককে…

  3. আরে উনার ককটেল এর কথা কি
    আরে উনার ককটেল এর কথা কি বলেন? গোলাপি ম্যাডাম এর গোলাপি একটা শাড়ি বিক্রি করলেই তো উদ্ধারকাজের পুরা খরচ উঠে যাওয়ার কথা।

    1. সহমত। মাঠামের শাড়ি নিলামে
      সহমত। মাঠামের শাড়ি নিলামে তোলা হোক… উত্তম প্রস্তাব…
      :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

34 − 33 =