অপেক্ষা

সন্ধ্যে আমার আকাশ জুড়ে। দুই একটা তারা দ্যাখা যাচ্ছে। মিটিমিটি জ্বলছে। জোনাকিপোকার খুব শখ ছিলো আমার! বলেছিলাম,বাসর রাতে আমায় জোনাকি দিও এক বয়াম। তারপর ইচ্ছে ছিলো সব জোনাকি ঘরেই ছেড়ে দেবো। ওরা ঘর আলো করে উড়বে। আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকবো! আর তুমি! তুমি তাকিয়ে থাকবে আমার দিকে! পরে দুজনে জানালা খুলে বেড়িয়ে যেতে দেবো জোনাকিদের।
আমার এই সখ টা পূরণ হয়েছে। অন্য ভাবে! আমার ঘরে এখন ও জোনাক জ্বলে.. তবে…
আ্যাই তোমার মনে আছে? আমার ভার্সিটির দিন গুলোর কথা? আমি ক্যামন ভার্সিটির ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চন্দ্রিমায় গিয়ে বসে থাকতাম তোমার সাথে! দিয়াবাড়ী.. সন্ধ্যের ফার্মগেট.. তুমি ভুলে গ্যাছো তাইনা! তোমার কিচ্ছু মনে থাকেনা! যাও কথাই বলবোনা!
তুমি একবার বর্ষার দুপুরে কাকভেজা হয়ে আমার জন্যে ১৫ টা কদম এনেছিলে, মনে আছে? এতো বকেছিলাম তোমায়! বকছিলাম আর কাঁদছিলাম। খুশিতে। তোমার এক্টুতেই কত্ত ঠান্ডা লেগে যেতো! আর আশ্চর্যের ব্যাপার সেদিন বৃষ্টিতে ভিজে তুমি একবার হাঁচিও দাওনি। কি অদ্ভুদ! তুমি আমার গালে দুহাত দিয়ে ধরে বলেছিলে এটা ভালোবাসায় ভেজা বৃষ্টি। তাই অসুখ হবেনা। তোমার ভেজা শার্টে মাথা গুঁজেছিলাম। সেদিন প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলাম জানো? ইশ্বরের কাছে বলেছিলাম আমি আমার জীবনের সব কটা বর্ষা এই মানুষটার বুকে মাথা গুঁজে কাটাতে চাই! দেখেছো?? আমিই বেশি ভালোবাসি..
তোমার এখন ও ঠান্ডা লাগে??
তুমি ঝাল খেতে পারতেনা। ফুচকাতেও। আমার দেখাদেখি একবার বেশি ঝাল চেয়ে নিয়েছিলে। পরে কতক্ষণ হা করে ছিলে তুমি! চোখ লাল হয়ে গেছিলো। আমার এতো মায়া লাগছিলো! তোমার অমন অবস্থা দেখে আমিও কেঁদে-টেঁদে অস্থির হয়ে গেছিলাম।
তুমি ঝাল খেতে পারো এখন?? নাকি যার সাথে আছো, সে-ও তোমার মতোই। ঝাল খায়না?
একটা অবাক করা ব্যাপার ছিলো আমাদের মধ্যে। আমাদের কিছুই মিলতো না। তোমার মিষ্টি পছন্দ হলে আমার পছন্দ হতো ঝাল! তাহলে আমাদের প্রেমটা হলো কিভাবে!
এখন যে আছে, সে নিশ্চই পার্ফেক্ট? এইযে আজ ২৪ -মে।। আজকেই হ্যা আজকেই সে দিন টা ছিলো। ভয়ানক, তাইনা?…
তুমি আমায় বললে একটু ওয়েট করতে। আমি তখন শপিং মল এ। তুমি ফোন হাতে নিয়ে একজনের সাথে দেখা করতে গেলে। আমি ঘুরছিলাম ভেতরে একা একা। হঠাৎ সবার চিৎকার। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি চলছিলো।
…কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারদিকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করলো। সবাই ছুটছে। আমিও ছুটছি। আগুনের তাপ লাগছেনা গায়ে। খালি মনে হচ্ছে আমি না বেরুতে পারলে তোমাকে দেখবো কিভাবে! তুমি তো আমায় না দেখে পাগল হয়ে যাবে! তুমি তো আমায় খুঁজতেই থাকবে।…
মানুষের ধাক্কায় হাতের পার্স টাও পড়ে যায়। ফোন টা বের করতে পারিনা। আমি তখন সাত তলায়। বেরুনোর পথ একটাই। সিঁড়ি। আমি সিঁড়ির দিকে দৌড়ালাম। হঠাৎ একজন পেছন থেকে পায়ে ধাক্কা দিলো। আমি পড়ে গিয়েছিলাম। অনেক ব্যাথাও পেয়েছি। তারপর গড়িয়ে নিচে পড়লাম। তারপর. তারপর আর কিছু মনে নেই। …
হঠাৎ চোখ খুলে দেখলাম আমায় তুমি কোলে করে দৌড়াচ্ছ আর বলছো তোমার কিছু হবেনা। চোখ খুলে রাখো আমি আছি তো। আমি চোখ খুলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম বিশ্বাস করো! জোর করে একবার খুললাম। দেখলাম তোমার ঘামে ভেজা মুখ। এক হাত দিয়ে তোমায় গালটা ছুঁয়ে দিলাম।…
আমার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করছিলো জানো? খুব বেশি। আর পারিনিহ। চোখ বুজে তোমার বুকে মুখ গুঁজে শেষবার নিশ্বাস টা সেখানেই ছেড়েছিলাম।
… আর আজ।
আকাশে মেঘ নেই আজ। বৃষ্টি হবেনা। তুমি এলেই বৃষ্টি হবে.. তুমি কবে আসবে??

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “অপেক্ষা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 + = 28