অসাম্প্রদায়িক সাম্যের কবি

মুসলিম জাগরণের অগ্রদুত কবি গোলাম মোস্তফা তার ‘নিয়ন্ত্রিত’ কবিতায় লিখেছেন,

ওগো ‘বিদ্রোহী’ বীর!
সংযত কর, সংহত কর উন্নত তব শির
তুই যদি ভাই বলিস চেচিয়ে – উন্নত মম শির,
আমি বিদ্রোহী বীর,
সে যে শুধুই প্রলাপ, শুধুই খেয়ায়, নাই নাই
তার কোন গুণ,
শুনি স্তম্ভিত হবে ‘নমরুদ’ আর ‘ফেরাউন’!

এতটুকু পড়েই বুঝতে পারার কথা কবি গোলাম মোস্তফা বিদ্রোহী বীর বলে কাকে ব্যাঙ্গ করেছেন। তিনি কবি নজরুল, যার সমসাময়িকরা তার বিদ্রোহী কন্ঠস্বর চেপে ধরতে চেয়েছেন। সজনীকান্ত, যোগানন্দ, অশোক চট্টোপাধ্যায়রা তাদের কবিতায় ব্যাঙ্গ করতেন নজরুলকে। অবশ্য একটা সময় এই নজরুল মধ্যবয়সেই তার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন, এর কিছুদিন পর মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। ফলে বেশিদিন লেখালেখি করা হয়নি জীবদ্দশায় আর। কিন্তু তার সৃষ্টি কে তো মুছে ফেলা যায়নি। বৃটিশ তোষণ করা তখনকার অনেক কবি-লেখকই এখন ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে, কিন্তু নজরুল? অমলিন!

এই কবি নজরুলের স্ত্রী প্রমীলা দেবী ছিলেন হিন্দু। তার চার ছেলের নাম ছিলো হিন্দু-মুসলিমের সংমিশ্রণ। কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ।

বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা আর তখনকার মৌলভীদের সাম্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংস্কারমনা কন্ঠস্বর ছিলো নজরুল। ইসলামী গজলের পাশাপাশি শ্যামাসংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতিও রচনা করেন।

আজকাল অনেক ইসলামিস্ট দাবি করা ব্যাক্তি নজরুল বন্দনায় মাততে দেখে হাসি পায়। কবি নজরুল এ যুগের কবি হলে নিশ্চিত কোপ খেতে হতো আনসারুল্লাহ্-র মতো জঙ্গীগোষ্ঠীর হাতে। ভাগ্যিস তখন ব্লগ-ইন্টারনেট ছিলো না!

একটা মজার তথ্য দেই, কবি নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটা কলম-দোয়াত দিয়ে লিখেননি। লিখেছিলেন পেন্সিল দিয়ে, কারণ বার বার দোয়াতে কালি ভরতে গেলে কবিতার খেই হারিয়ে ফেলবেন!

শুভ জন্মদিন সাম্যের কবি!

গাহি সাম্যের গান,
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাহি
নহে কিছু মহীয়াণ!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “অসাম্প্রদায়িক সাম্যের কবি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 + = 72