প্রেমপত্র-৬৪

অতন্দ্রিলা,
আমি তোমাকে বুঝাতে চেয়েছি,তুমিহীনতায় একপ্রহর কি বিষন্নতায় কাটে আমার।আমার নিঃশ্বাসে,হৃদয়ের স্পন্দনে শুধুই তোমারই নামটি উচ্চারিত হয় ।কারন তুমি নামক সেই সত্ত্বাটি আমার আত্মার গভীরে মিশে গেছ।প্রতিটি বিশ্বাসে,প্রতিটি নিঃশ্বাসে ,তুমি আছো এ মনে ,তুমি আছো এ হৃদয় জুড়ে ।অথচও তুমি চুপ থাক আর আমি মরে যাই।
বুঝলে আমার তো তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখার অভ্যাস গোড়ে উঠেছেআমি দেখি,কোন ক্লান্তিহীন দুপুরে,ঝা চকচকে বিচ্যুত আলোর মতো করে,কোন এক ষ্টলে যখন চা পান করছিলাম আমি।গরম ধোয়ায় তাজা লিকারের গন্ধে ভরে উঠছিল নাক।তুমি নিশ্চুপভাবে পেছন দিয়ে যাচ্ছিলে
পলকহীন চোখে উদাসভাবে দেখে যাচ্ছিলে ঠিক যেমনটি করে কৃষক তার পাকা ধান বৃষ্টির দেখে দাঁড়িয়ে তার কষ্টের বোনা ধান এর দাম পাবে কিনা এই চিন্তায়।কেন যেন কথা বলতে পারি না আমি শতচেষ্টাতে।আর এই আগুনলাগা দুপুরে তুমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলে,যখন দেখলে পাগলের মতো,আবুঝের মতো,নষ্টর মতো মনে মনে তৈরী করেছি কবিতা যাতে
নিপুন অলংকারের নকশার নোলকের মতো তোমাকে ভালবাসা আমার প্রতিটা কথার বর্ননা।সবটুকু পড়ে তুমি নিশ্চুপভাবে দাঁড়িয়ে ভাবলে
কি নাছোড়বান্দারে বাবা,জাত বেহায়া।কারণ আমিই জানি এসব কথা তুমি ছাড়া কেউ বুঝবে না।লোকে পড়ুক এই প্রেমের সংবিধান যার প্রতিটি বর্ণে, প্রতিটি চরণে লাগুক শুভ রং তোমার গলায় প্যাচানো ওড়নার মতো।
তোমার মন খারাপের ভাষা, আর আমার ভালোবাসা তোমার জন্য হৃদয়ে যা বাসা বেঁধেছে।চিরদিনের মতো বন্দী হয়ে,আজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মতো তোমারই হৃদয়ে কারারুদ্ধ চরম নাছোড়বান্দা হাড়জ্বালানী প্রেমিক হবো।
কারন দৃষ্টির সীমানা জুড়ে মেঘহীন একটি নীল আকাশ ঘুম নেই কতকাল !চোখের কোনে তন্দ্রার কোন অস্তিত্ব নেই !অনুভব করতে পারি শুধু বুকের ভেতর গোপন আন্দোলনে মেতেছে অদৃশ্য কিছু যন্ত্রণা,মেয়ে তুমি কাছে রও,মেয়ে তুমি দূরে যাও,খালি শুনে যাও,তুমি ছাড়া কেও ছিলনা, তুমি ছাড়া কেউ নাই,তুমি ছাড়া কেও আসবেও না,আমি আসতে দিবো না।
হাজারটা সূর্যাস্ত আমি তোমার সাথে দেখতে চাই তোমার হাতে হাত রেখে।তাই ভাবনা করি তোমাকে।আমার রাত নেমে আসুক তোমার হৃদয়ের জমিনে।রাতটা কাটুক তোমার ঘুমঘোর কণ্ঠের নেশায় । ভোরের মিষ্টি হাওয়ায় আমার আলসেমির আড়মোড়া হও । দুপুরের রোদে না হয় আধ ভাঙা ছাতাটাই হলে ,তবুও আমার অস্তিত্বের মিশে থাকে প্রতি বেলা, প্রতিক্ষণ ।আমার চূড়ান্ত ইচ্ছে এটা।
শুধু আবল তাবোল লিখি আজও যেমন-
“তুমি বললে লাগাতার অবরোধ দেব,ককটেল ফাটাবো পুরো চত্ত্বর জুড়ে
জানি মহানায়ক নই তবু নাম বদলে নেব, এত্তগুলা একরোখা হব ।
তোমার হৃদয়ে নিষ্কন্টক জমির দাবীতে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি করব ।
তোমার সব বেদনা গুলোকে জ্বালিয়ে দেব,সেই আগুনে হাত সেঁকব আমরা দুজন,
শুধু বল তোমার ভোঁটার আইডি কার্ডে আমার নাম লিখবে ?”
আচ্ছা বাদ দাও সে পাগলামীর কথা শুধু একটা কথা খুব অধিকার নিয়ে বলছি,আমার একন্ত তোমাকে-
প্লিজ তুমি আলতো করে টেনে নাও বাহুতে।
আমি স্বর্গে যাব বারংবার
ইতি
অমিত

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 59 = 66