কোরান-হাদিসের মধ্যে বিজ্ঞান ? পর্ব-১(বিগ ব্যাং তত্ত্ব)

সাম্প্রতিক কালে কোরান হাদিসের মধ্যে বিজ্ঞান আবিস্কারের মাত্রা বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। দুনিয়ার তাবৎ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও তত্ত্বের খোজ পাওয়া যাচ্ছে কোরান হাদিসে। যা মুমিনদের ইমানদন্ড শক্তিশালী করার একটা মস্ত হাতিয়ার। দুনিয়াতে মুসলিম দেশগুলোতে বিজ্ঞানীর তেমন জন্ম হয় না , তার একটাই কারন , সবাই জানে ও বিশ্বাস করে দুনিয়ার সব বিজ্ঞান আছে কোরান হাদিসে , তাই নতুন করে সেসব আবিস্কার করার তো কোন মানেই হয় না। যাইহোক , এবার আসল বিষয়ে আসা যাক।

জাকির নায়েক প্রমুখ ইসলামী বিজ্ঞানীরা কোরানের নিচের আয়াতের মধ্যে বিগ ব্যাং তত্ত্ব খুজে পেয়েছে।

সুরা আম্বিয়া – ২১: ৩০: কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে , মহাবিশ্ব যখন সৃষ্টি হয় ঠিক তখনই আকাশ মন্ডলির সাথে সাথে পৃথিবীও সৃষ্টি হয়, আর এটাও দেখা যাচ্ছে , আসলে আকাশ মন্ডলি ও পৃথিবী আগে থেকেই বিরাজমান ছিল ও তারা এক সাথে আটকে ছিল, আল্লাহ শুধুমাত্র তাদেরকে পৃথক করে দিয়েছে। আর এটাই হলো বিগ ব্যাং- কোরানিক বিজ্ঞানীদের মতে।

অথচ বিগ ব্যাং বলছে , আগে কিছুই ছিল না , শুন্য থেকে সব কিছুর সৃস্টি। সৃষ্টির শুরুটাকেই বিগ ব্যাং বলে।

কিন্তু কোরান বলছে , আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী আসলে একসাথে আগেই বিরাজমান ছিল, আর তারা একটার সাথে আর একটা শক্তভাবে আটকে ছিল , আল্লাহ দয়া করে শুধুমাত্র তাদেরকে পৃথক করে দিয়েছে আর ঘটনাটা যে আসলেই তাই, সেটা কিন্তু দেখা যাচ্ছে নিচের আয়াতে —

সুরা হুদ – ১১: ০৭: তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে,———

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে , আল্লাহ কর্তৃক কথিত বিগ ব্যাঙ এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগেই আল্লাহ পানির ওপর তার আরশে বসে ছিল। আমরা জানি বিগ ব্যাং-এর আগে কোন বস্তুর অস্তিত্বই ছিল না আর তারও বহু শত কোটি বছর পরেই আসলে পানির উৎপত্তি, কিন্তু আল্লাহ পানির ওপর বসেই তার বিগ ব্যাঙ ঘটিয়েছিল , কোরানের মতে।

তারপরেও সমস্যা আছে। বিজ্ঞানীর বলেন প্রায় ১৩৫০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং এর ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক কালে শুধুই মৌলিক কনিকা ও সেই সাথে আদিম ও প্রাথমিক মৌলিক পদার্থ হাইড্রোজেন গঠিত হয়। এরা অত:পর পুঞ্জিভূত হয়ে নক্ষত্র, গ্যালাক্সীতে পরিনত হয়। তখনও কোন গ্রহ তৈরির মত বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের সৃষ্টি হয় নি। এক পর্যায়ে নক্ষত্রের মৃত্যু ঘটে , তারা বহু বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের সৃষ্টি করে , আর হাইড্রোজেনের সাথে সেই বিভিন্ন মৌলিক পদার্থ পুঞ্জিভুত হয়ে পরবর্তী প্রজন্মের নক্ষত্র তৈরী হয়, সেই সাথে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থ পুঞ্জিভুত হয়ে, নক্ষত্রের চারপাশে সৃষ্টি হয় গ্রহ।

আমাদের সূর্য হয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের নক্ষত্র। সূর্য সৃষ্টি হয়েছে আজ থেকে মাত্র ৪৫০ কোটি বছর আগে আর সেই সাথে সৃষ্টি হয় পৃথিবী অর্থাৎ পৃথিবীর বয়সও প্রায় ৪৫০ কোটি বছর। তার মানে যখন কথিত বিগ ব্যাং ঘটে তখন পৃথিবী তো দুরের কথা , সূর্যেরই কোন অস্তিত্ব ছিল না। বিগ ব্যাং সৃষ্টিরও প্রায় ৯০০ কোটি বছর পর আমাদের পৃথিবীর সৃষ্টি।

কিন্তু কোরানিক বিজ্ঞানীরা বলছে – কোরান মতে সেই ১৩৫০ কোটি বছর আগেই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল।

আর ইহাই হইল কোরানিক বিজ্ঞান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “কোরান-হাদিসের মধ্যে বিজ্ঞান ? পর্ব-১(বিগ ব্যাং তত্ত্ব)

  1. সুরা আম্বিয়া – ২১: ৩০:
    সুরা আম্বিয়া – ২১: ৩০: কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী একত্রে মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

    Pickthall
    Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were of one piece, then We parted them, and we made every living thing of water? Will they not then believe?

    Yusuf Ali
    Do not the Unbelievers see that the heavens and the earth were joined together (as one unit of creation), before we clove them asunder? We made from water every living thing. Will they not then believe?

    আপনি উপরে যে আয়াত দিয়েছেন এখানে বিগ ব্যাং এর কথা বলা হয় নি।যদিও অনেকে এই আয়াত দিয়ে বিগ ব্যাং এর কথা প্রচার করে। এখানে পৃথিবীর আদি অবস্থার কথা বলা হয়েছে। পৃথিবী উত্তপ্ত অবস্থায় ছিল। এর বায়ুমন্ডলের উপাদান গুল মিশ্রিত অবস্থায় ছিল। পরে উত্তপ্ত পৃথিবী শীতল হতে শুরু করলে বায়ুমন্ডলের উপাদান গুলো পৃথক হতে শুরু করে।এ কথাটিই পবিত্র কোরান কত সুন্দর ভাবে বলেছে। এর ঠিক পরের আয়াতেই পৃথিবীর পানির কথা বলা হয়েছে যে সমস্ত জীবন্ত বস্তুর মূল উপাদান হচ্ছে পানি। কোরানের এই আয়াতটি সত্যিই বিশ্বয়কর।

    1. যদিও অনেকে এই আয়াত দিয়ে বিগ

      যদিও অনেকে এই আয়াত দিয়ে বিগ ব্যাং এর কথা প্রচার করে।

      কিন্তু আপনি কি বলেন ? আপনার বক্তব্য তো দেখি ভিন্ন। জাকির নায়েক সহ তাবৎ বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী পন্ডিতরা সবাই এই আয়াতে বিগ ব্যাং খুজে পায় , আর আপনি পাইলেন স্মল ব্যাঙ? তার মানে আপনি জাকির নায়েকের চাইতে বেশী ইসলাম জানেন।

      পৃথিবী উত্তপ্ত অবস্থায় ছিল। এর বায়ুমন্ডলের উপাদান গুল মিশ্রিত অবস্থায় ছিল। পরে উত্তপ্ত পৃথিবী শীতল হতে শুরু করলে বায়ুমন্ডলের উপাদান গুলো পৃথক হতে শুরু করে।এ কথাটিই পবিত্র কোরান কত সুন্দর ভাবে বলেছে। –

      এটা আপনার নিজের কথা। কোরানের আয়াতে এর ইংগিতও নেই। আর পৃথিবী সাতটা , আকাশ সাতটা , সেটা জানেন? এই আয়াতে যা বলা হয়েছে তা হলো সাতটা পৃথিবী ও সাতটা আকাশ একসাথে জুড়ে ছিল, আল্লাহ দয়া করে তাদেরকে পৃথক করে দিয়েছে মাত্র। উদাহরন- ৭+৭= ১৪ টা বইকে টেবিলের ওপর একটার পর একটা রাখুন। তারপর সেই বইগুলোকে ৭ জন মানুষে ২টা করে বই ধরে ধারাবাহিকভাবে উপরে তুলে ধরে রাখুন। তাহলে যে চিত্রটা দাড়াবে , সেটাই বলা হয়েছে এই আয়াতে। এখানে কম্পিউটার থেকে ছবি ডাউনলোড করা যায় না বলে ছবি দেখাতে পারলাম না।

      আপনার বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে বুঝতে হবে , মহাবিশ্ব সৃষ্টির সাথে সাথেই পৃথিবীও সৃষ্টি হয়েছে। এর ব্যখ্যা দেয়া আছে নিবন্ধে , আপনি তো তার ধারে বাড়েও গেলেন না।

      এই আয়াত প্রাচীন কালে মানুষের বিশ্বজগত সম্পর্কে যে ধারনা ছিল হুবহু সেটাই তূলে ধরা হয়েছে মাত্র, বিস্ময়ের কিছু নাই। যারা অন্ধ বধির ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তাদের কাছেই এই আয়াত বিস্ময়কর।

    2. যদিও অনেকে এই আয়াত দিয়ে বিগ

      যদিও অনেকে এই আয়াত দিয়ে বিগ ব্যাং এর কথা প্রচার করে।

      কিন্তু আপনি কি বলেন ? আপনার বক্তব্য তো দেখি ভিন্ন। জাকির নায়েক সহ তাবৎ বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী পন্ডিতরা সবাই এই আয়াতে বিগ ব্যাং খুজে পায় , আর আপনি পাইলেন স্মল ব্যাঙ? তার মানে আপনি জাকির নায়েকের চাইতে বেশী ইসলাম জানেন।

      পৃথিবী উত্তপ্ত অবস্থায় ছিল। এর বায়ুমন্ডলের উপাদান গুল মিশ্রিত অবস্থায় ছিল। পরে উত্তপ্ত পৃথিবী শীতল হতে শুরু করলে বায়ুমন্ডলের উপাদান গুলো পৃথক হতে শুরু করে।এ কথাটিই পবিত্র কোরান কত সুন্দর ভাবে বলেছে। –

      এটা আপনার নিজের কথা। কোরানের আয়াতে এর ইংগিতও নেই। আর পৃথিবী সাতটা , আকাশ সাতটা , সেটা জানেন? এই আয়াতে যা বলা হয়েছে তা হলো সাতটা পৃথিবী ও সাতটা আকাশ একসাথে জুড়ে ছিল, আল্লাহ দয়া করে তাদেরকে পৃথক করে দিয়েছে মাত্র। উদাহরন- ৭+৭= ১৪ টা বইকে টেবিলের ওপর একটার পর একটা রাখুন। তারপর সেই বইগুলোকে ৭ জন মানুষে ২টা করে বই ধরে ধারাবাহিকভাবে উপরে তুলে ধরে রাখুন। তাহলে যে চিত্রটা দাড়াবে , সেটাই বলা হয়েছে এই আয়াতে। এখানে কম্পিউটার থেকে ছবি ডাউনলোড করা যায় না বলে ছবি দেখাতে পারলাম না।

      আপনার বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে বুঝতে হবে , মহাবিশ্ব সৃষ্টির সাথে সাথেই পৃথিবীও সৃষ্টি হয়েছে। এর ব্যখ্যা দেয়া আছে নিবন্ধে , আপনি তো তার ধারে বাড়েও গেলেন না।

      এই আয়াত প্রাচীন কালে মানুষের বিশ্বজগত সম্পর্কে যে ধারনা ছিল হুবহু সেটাই তূলে ধরা হয়েছে মাত্র, বিস্ময়ের কিছু নাই। যারা অন্ধ বধির ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তাদের কাছেই এই আয়াত বিস্ময়কর।

  2. বিগ ব্যাং থিওরীরতে মূলত
    বিগ ব্যাং থিওরীরতে মূলত সম্প্রসারনশীল মহাবিশ্বের কথা বলা হয়েছে। যেটি কোরানের ৫১ঃ৪৭ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে– লিংক

    Sahih International
    And the heaven We constructed with strength, and indeed, We are [its] expander.

    Yusuf Ali
    With power and skill did We construct the Firmament: for it is We Who create the vastness of pace.

    Dr. Ghali
    And the heaven (is also a sign). We have built it with (Our) Hands (i.e., Capability) and surely We are indeed extending (it) wide.

    1. ঐ যে ১৪ টা বই , একটার ওপর
      ঐ যে ১৪ টা বই , একটার ওপর একটা যে তুলে ধরে একটু প্রসারিত করলেন যার ফলে সাতটা পৃথিবী ও সাতটা আকাশ পৃথক হয়ে গেল , সেই কথাই বলেছে এই আয়াত ৫১:৪৭। এখানে বিগ ব্যাং খুজে মাথা নষ্ট করা উচিত না।

  3. আচ্ছা, বিগ ব্যাঙ এর
    আচ্ছা, বিগ ব্যাঙ (কত বড় ব্যাঙ সঠিক হিসাব নেই) এর তত্বানুযায়ী মহাবিশ্ব তথা পৃথিবী প্রসারিত হচ্ছে (বড় নয় *biggrin* )। আবার তথ্যপ্রযুক্তিবিদেরা বলছে পৃথিবী দিনে দিনে ছোট হচ্ছে (সংকুচিত নয় *scratch_one-s_head* )। তাহলে এখান থেকে কোনটাকে সঠিক বলে মেনে নিব? দুইটাই তো বিজ্ঞানই বলছে।

Sayed Tonmoy শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 3