আল্লাহর কোন আকার আছে ?

মুমিনরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে , আল্লাহর কোন আকার নাই। আল্লাহ নাকি নিরাকার। কিন্তু ঘটনা কি ঠিক ? এ বিষয়ে কোরান হাদিস কি বলে ? এই কারনে হিন্দুরা যে তাদের ঈশ্বরের প্রতিমা গড়ে বা খৃষ্টানরা তাদের যীশুর প্রতিমা গড়ে ,মুমিনেরা তাচ্ছিল্যের সাথে তাকে বলে মূর্তিপূজা। আর ইসলামের আল্লাহ হলো আকারহীন। যাইহোক , কোরান হাদিস থেকে এবার প্রকৃত সত্য জানা যাক।

কোরান বলছে —
সূরা আস শুরা – ৪২: ১১: তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।

কোন কিছুই তার অনুরূপ নয়–এটাকেই ইসলামী পন্ডিতরা বলে থাকে , তার নাকি কোন আকার নেই , আল্লাহ নিরাকার। কিন্তু আসলে এই আয়াতও প্রমান করে না যে আল্লাহর আকার নেই। কারন বক্তব্য পরিস্কার না। আর একটা আয়াত দেখা যাক —-

সুরা ত্বোয়াহা- ২০: ১০-১১: তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌছে পথের সন্ধান পাব। অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা,

তার মানে দেখা যাচ্ছে , আল্লাহর কোন না কোন বস্তুগত আকার আছে , আর সেটা আগুন জ্বাতীয় কিছু। যদিও এই আয়াতেও পরিস্কার না যে আসলেই আল্লাহর আকার কি রকম। তবে তার একটা মুখমন্ডল আছে , সেটা বলা আছে কোরানে —

সুরা আল কাসাস-২৮: ৮৮: আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহর মুখমন্ডল ব্যতীত সবকিছু ধবংস হবে। বিধান তাঁরই এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

Sahih International: And do not invoke with Allah another deity. There is no deity except Him. Everything will be destroyed except His Face. His is the judgement, and to Him you will be returned.

Muhsin Khan: And invoke not any other ilah (god) along with Allah, La ilaha illa Huwa (none has the right to be worshipped but He). Everything will perish save His Face. His is the Decision, and to Him you (all) shall be returned.

Yusuf Ali:: And call not, besides Allah, on another god. There is no god but He. Everything (that exists) will perish except His own Face. To Him belongs the Command, and to Him will ye (all) be brought back.

আল্লার আকার ও মুখমন্ডল সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য আছে হাদিসে যেমন –

সহিহ মুসলিম :: বই ৩২ :: হাদিস ৬৩২৫:
নাসর ইবন আলী আল যাহযামী (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আর ইবন হাতিম বর্ণিত হাদীসেও নবী (সা) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন তার ভাইকে প্রহার করে সে যেন তার চেহারা বাঁচিয়ে রাখে । কেননা, আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ) -কে তার নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন ।

Muslim :: Book 32 :: Hadith 6325:
This hadith has been transmitted on the authority of Abu Huraira and in the hadith transmitted on the authority of Ibn Hatim Allah’s Apostle (may peace be upon him) is reported to have said:

When any one of you fights with his brother, he should avoid his face for Allah created Adam in His own image.

ভাইকে প্রহারের সময় তার চেহারা বাঁচিয়ে রাখতে বলছে।একই সাথে বলছে ,আল্লাহ তার নিজ আকৃতিতে আদম সৃষ্টি করেছে। তার মানে জানা গেল আল্লাহর আকার আর মানুষের আকার হুবহু এক। তার মুখমন্ডলও মানুষের মত। কিন্তু এ থেকে আল্লাহর প্রকৃত আকার আয়তন জানা যাচ্ছে না।

আর একটা হাদিস দেখা যাক ———-

সহিহ মুসলিম :: বই ৪০ :: হাদিস ৬৮০৯:
মুহাম্মদ ইলূন রাফিঁ (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) কতিপয় হাদীস বর্ণনা করেছেন । এর মধ্যে একটি হল এ ই যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ)-কে তার নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন । তার দৈর্ঘ্য হল ষাট হাত । সৃষ্টির পর তিনি তাকে বললেন, যাও, এ সমস্তদেরকে সালাম কর । তারা হচ্ছে ফিরিশতাদের উপবিষ্ট একটি দল । সালামের জবাবে তারা কি বলে তা খুব মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর । কেননা তোমার এবং তোমার আওলাদের অতিবাদন এই । বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি গেলেন ও বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম” । উত্তরে তারা বললেন, আসসালামু আলাইকা ওয়ারাহমাতুল্লাহ- । তাঁরা ওয়া রামাতূল্লাহ বাড়িয়ে বলেছেন । এরপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে সে আদম (আঃ)-এর আকৃতিতে যাবে । তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত । নবী (সা) বলেনঃ এরপর হতে মানব দেহের পরিমাণ দিন দিন কমতে থাকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ।

Muslim :: Book 40 :: Hadith 6809:
Abu Huraira reported Allah’s Messenger (may peace be upon him) as saying:

Allah, the Exalted and Glorious, created Adam in His own image with His length of sixty cubits, and as He created him He told him to greet that group, and that was a party of angels sitting there, and listen to the response that they give him, for it would form his greeting and that of his offspring. He then went away and said: Peace be upon you! They (the angels) said: May there be peace upon you and the Mercy of Allah, and they made an addition of” Mercy of Allah”. So he who would get into Paradise would get in the form of Adarn, his length being sixty cubits, then the people who followed him continued to diminish in size up to this day.

এখন পরিস্কার ভাবে জানা গেল যে আল্লাহর উচ্চতা ষাট হাত বা ৯০ ফুট, কেননা আল্লাহরই নিজ আকৃতিতে আদমকে তৈরী করা হয়েছিল আর আদমের উচ্চতা যদি ৯০ ফুট হয়, তাহলে আল্লাহর উচ্চতাও ৯০ ফুটই হবে। এরকম আরও হাদিস আছে।

আল্লাহর যে পাঁচ আঙ্গুল বিশিষ্ট হাত আছে , পা-ও আছে , সেটাও আছে হাদিসে ,যেমন –

সহিহ মুসলিম :: বই ৩৯ :: হাদিস ৬৬৯৯
আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইউনূস (র)…… আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, একদা এক ইয়াহুদী আলিম নবী (সা)-এর নিকট এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! অথবা (বললো) হে আবুল কাসেম কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আকাশকে এক আঙ্গুলে, যমীনকে এক আঙ্গূলে, পর্বত ও বৃক্ষরাজি এক আঙ্গুলে; পানি ও মাটি এক আঙ্গুলে এবং সমস্ত সৃষ্টিকে এক আঙ্গূলে তুলে ধরবেন । তারপর এগুলো দুলিয়ে বলবেন, আমিই বাদশাহ, আমিই অধিপতি ।” পাদরীর কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা) বিনয়ের সাথে তার সত্যায়ন স্বরুপ হাসলেন । এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ “তারা আল্লাহর যথোচ্চিত সম্মাল করেনি । কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তার হাতের মুষ্টিতে এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে তার ডান হাতের আয়ত্ত্বে । পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাকে শরীক করে- তিনি তার ঊধের্ব ।”

Bukhari :: Volume 8 :: Chapter 78 :: Hadith 654:
Narrated Anas bin Malik: The Prophet (sallallahu ‘alaihi wa sallam) said, “The Hell Fire will keep on saying: ‘Are there anymore (people to come)?’ Till the Lord of Power and Honor will put His Foot over it and then it will say, ‘Qat! Qat! (sufficient! sufficient!) by Your Power and Honor. And its various sides will come close to each other (i.e., it will contract). ”

আল্লাহর আকার আছে বলেই তার বসার জন্যে সিংহাসনও লাগে। সেই জন্যেই তো আল্লাহ তার আরশ বা সিংহাসনে সর্বদা বসে থাকে। কোরান বলেছে —

সুরা আল হাদিদ -৫৭: ০৪: তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।

একবার জাকির নায়েক ব্যখ্যা করেছিল , এই আসন বা আরশ নাকি ক্ষমতার প্রতীক , বাস্তব সিংহাসন না। কিন্তু এতক্ষন আমরা জানলাম , আল্লাহর আকার আছে , সেটা হলো ৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের এক মানুষ সদৃশ দেহ, তার মুখমন্ডলও মানুষের মত, তার হাতও আছে। সুতরাং এইরকম দেহধারী আল্লাহর বসার জন্যে বাস্তব সিংহাসন থাকতেই হবে। না হলে সারাক্ষন সে কি দাড়িয়ে থাকবে ? আর তাই কোরানে কথিত আরশ বা সিংহাসন একটা বাস্তব সিংহাসনই। যদিও সেটা আবার তার ক্ষমতারও প্রতীক। রাজার সিংহাসন একই সাথে একটা বাস্তব সিংহাসন ও ক্ষমতার প্রতীক বুঝায়। তবে , আল্লাহর সিংহাসন যে আসলেই একটা বাস্তব সিংহাসন , সেটাও আছে কোরানে —

সুরা হুদ – ১১: ০৭: তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে,——-

শুধুই মাত্র ক্ষমতার সিংহাসন বুঝালে সেটাকে পানির উপর থাকার কথা বলত না। পানির ওপর থাকার অর্থ হচ্ছে সেটা একটা বাস্তব সিংহাসন যার ওপর বসে আল্লাহ সব কিছু সৃষ্টি করেছে। এমনকি সেই সিংহাসন কেঁপেও উঠেছিল , যেমন হাদিসে আছে –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৮ :: হাদিস ১৪৭:
মুহাম্মদ ইব্ন মুসান্না (র) …….. জাবির (রা) বলেন, আমি নবী করীম (সা)-কে বলতে শুনেছি সা’দ ইব্ন মু’আয (রা)-এর মৃত্যুতে আল্লাহ্ ত’আলার আরশ কেঁপে উঠে ছিল।

বাস্তব সিংহাসন না থাকলে কি আর সেটা কাঁপকাঁপি করে ?

সুতরাং কোরান ও হাদিস ঘেটে যা জানা গেল , তা হলো আল্লাহ দেখতে মানুষের মত , তার উচ্চতা ৯০ ফুট, তার মানুষের মতই হাত ও পা আছে। তার বসার জন্যে আছে বিশাল সিংহাসন। এর পরেও যদি কোন মুমিন বলে যে আল্লাহর কোন আকার নেই , তাহলে তার ওপর আল্লাহর লানত পড়ুক , গজব পড়ুক তার মাথার ওপর। বলুন, সুবহান আল্লাহ !

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “আল্লাহর কোন আকার আছে ?

  1. আচ্ছা সত্যি করে বলেন তো আপনি
    আচ্ছা সত্যি করে বলেন তো আপনি ডেইলী কত করে পান? রিটায়ার্ডের পর থেকে শুধু ভাড়ার টাকায় চলছি। ঘরে বসে কিছু বাড়তি কামাই করার ইচ্ছা।

    পেগিডা বা লেফটিস্টদের সাথে যোগাযোগ করলে ওরা কি আমাকে নিবে?

  2. তবে তার একটা মুখমন্ডল আছে ,

    তবে তার একটা মুখমন্ডল আছে , সেটা বলা আছে কোরানে — সুরা আল কাসাস-২৮: ৮৮: আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আল্লাহর মুখমন্ডল ব্যতীত সবকিছু ধবংস হবে। বিধান তাঁরই এবং তোমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

    এভাবেই নাস্তিক শয়তানরা কোরানের অায়াত বিকৃত করে। নিচে প্রকৃত অর্থ সহ অায়াতটি লক্ষ্য করুন, তারপর বুঝতে পারবেন কিভাবে ওরা অাল্লাহ পাকের মুখমন্ডল অাবিষ্কার করল নাউজুবিল্লাহ ! ছি: ছি:

    1. ইমানদার হতে গেলে , সুবিধাবাদী
      ইমানদার হতে গেলে , সুবিধাবাদী হতেই হবে। সেটা যারা কোরান অনুবাদ করে তারাও সেটা ভাল বোঝে। আর তাই ইমানদারদের মনে যাতে কোনই সন্দেহ না জাগে , সেভাবেই সুবিধামত কোরান অনুবাদ করতে হবে। যাইহোক , বিখ্যাত অনুবাদকের অনুবাদ নিচে দেয়া হলো :

      সূরা আল কাসাস- ২৮: ৮৮

      Sahih International: And do not invoke with Allah another deity. There is no deity except Him. Everything will be destroyed except His Face. His is the judgement, and to Him you will be returned.

      Muhsin Khan: And invoke not any other ilah (god) along with Allah, La ilaha illa Huwa (none has the right to be worshipped but He). Everything will perish save His Face. His is the Decision, and to Him you (all) shall be returned.

      Pickthall: And cry not unto any other god along with Allah. There is no Allah save Him. Everything will perish save His countenance. His is the command, and unto Him ye will be brought back.

      Yusuf Ali: And call not, besides Allah, on another god. There is no god but He. Everything (that exists) will perish except His own Face. To Him belongs the Command, and to Him will ye (all) be brought back.

      Shakir: And call not with Allah any other god; there is no god but He, every thing is perishable but He; His is the judgment, and to Him you shall be brought back.

      Dr. Ghali: And do not invoke another god with Allah; there is no god except He. All things perish, except His Face. To Him belongs the Judgment, and to Him you will be returned.

      সূত্র : http://legacy.quran.com/28

  3. আল্লাহর কোন আকার নাই, তবে
    আল্লাহর কোন আকার নাই, তবে প্রকার আছে। অনেক প্রকারের আল্লাহ ইসলামে বিরাজমান। যেমন: আইএস’র জন্য একপ্রকার আল্লাহ, তেমনি সৌদি, মডারেট ধার্মিক, বোকো হারাম, আল কায়েদা, সুবিধাবাদি ধার্মিক, পীরালী ধার্মিকদের জন্য আলাদা আলাদা আল্লাহর অস্তিত্ব আমরা দেখতে পাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =