জোনাকিরা অন্ধ হয়ে গেছে

বাড়ি থেকে গ্রামের মূল বাজারে যাওয়ার দুটি পথ। একটা বিলের রাস্তা, শুকনো মৌসুমে বিলের মাঝখান দিয়ে কোনাকুনি হেঁটে গেলেই বিলের ওপারে মিঞা বাড়ির পাশের কবরস্থান, ইটের রাস্তা দিয়ে একটু হেঁটে গেলেই বাজার। আর অন্যটা হলো রশীদ খালের পাশের রাস্তা। পায়রা নদীর একটা শাখা এঁকেবেঁকে এসে কার্ত্তিকপাশা গ্রামের প্রায় পাশ দিয়ে চলে গেছে। কালক্রমে কীভাবে যেন সেটারই নাম হয়ে গেছে রশীদ খাল।
এখন বর্ষা মৌসুম। বিলের রাস্তা দিয়ে বাজারে যাওয়ার কথা কেউ ভাবতেই পারে না। সুতরাং, অনেক দুর্গম পথ হলেও বশির ফকির খালের পাশ দিয়ে হাঁটু কাদা ভেঙে ভেঙে কোনমতে এগোচ্ছে। এই পথ তার কাছে অচেনা কিছু নয়। বহুবার সে এই পথ দিয়ে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে, বিপদে আপদে গ্রামের বাজার, তারপরে আরও পথ পাড়ি দিয়ে গঞ্জের হাটে পর্যন্ত চলে গেছে। মাঝরাতে কোন আলো ছাড়াই বহুবার সে একা একা বাড়ি ফিরে এসেছে।
তবে, এবারের তাড়াটা তার কাছে অন্যরকম। ছয় বছরের ছেলেটা যেন গলা জড়িয়ে বশিরের গায়ে লেপ্টে আছে। বশিরের মনে হলো, যদি ইউসুফের নৌকাটা এখন পাওয়া যেত, তরতর করে হাটে চলে যেতে পারতো। সেখানে নিজাম ডাক্তারের কাছে সুবিধা না হলে, টমটম বা ভ্যানে করে ইউনিয়ন পরিষদের পাশের পাকা রাস্তা দিয়ে আজই শহরে গিয়ে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারতো। তবে শুধু ইউসুফ কেন, গ্রামের আগের মাঝিরা কেউ এখন আর রশীদ খালে নৌকা চালায় না। খাল অনেকটা সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। বর্ষায় মোটামুটি ভরে উঠলেও, জলজ গাছপালা, মোটা আগাছা মিলে খালটাকে প্রায় দুর্গম করে ফেলেছ। বছর তিনেক আগে ইউসুফ তার সাধের নৌকাটা বিক্রি করে দিয়ে এখন বাজারে চায়ের দোকান দিয়েছে। বশিরের তবু মনে হলো, ইউসুফ যদি নৌকা নিয়ে এই মুহূর্তে ঘাটে বসে দেখত, সে তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বেশ সংকটাপন্ন, নিশ্চয়ই সমস্ত শক্তি দিয়ে ইউসুফ বৈঠা বেয়ে তিরের বেগে এগিয়ে যেত।
একই সাথে বশিরের মনে হলো, এই যে এঁকেবেঁকে যাওয়া পিচ্ছিল, কর্দমাক্ত রাস্তা, এই মুহূর্তে রাস্তাটা তাকে বাড়তি কিছু সুবিধা চাইলেও দিতে পারছে না। রাস্তাটা যেন বুঝতে পারছে এখন শুকনো খটখটে থাকলে বশিরের পক্ষে সেটা খুব সুবিধের হতো। অথচ, প্রকৃতির নিয়ম উপেক্ষা করে ভরা বর্ষায় সে তার শরীরকে শুকনো রাখতে পারছে না।
ঝিরঝিরে বৃষ্টির মাঝখানেই আকাশের বুক চিরে আরেকবার বিদ্যুৎ চমকাল। বশীর একই সাথে ভয় এবং শঙ্কা নিয়ে সামনে পথের দিকে তাকালো। অন্ধকারের বুক চিরে প্রায় ফুরিয়ে যাওয়া তিন ব্যাটারির টর্চ লাইট যে সামান্য আলো তৈরি করছে তাতে পথের দুর্গমতাই কেবল আরেকটু প্রকট হয়ে উঠছে।
ছেলেটার জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। বিকেল থেকে শুধু আবোলতাবোল বকছিল বাড়িতে বসে। এখন সেটাও নেই। মুখে রা করছে না। পুরো শরীর যেন তিরতির করে কাঁপছে। তারপরও সেই প্রায় অচেতন অবস্থায়ও কীভাবে সে বশীরের গলাটাকে এত শক্ত করে জড়িয়ে আছে কে জানে!
*
সে বছর নাকি বহু লোক না খেতে পেয়ে মারা গেছে। অনেক মানুষ কচু সিদ্ধ করেও খেয়েছে। বহই ফল পানিতে সিদ্ধ করে লবণ মিশিয়ে খেয়ে পার করে দিয়েছে দিনের পর দিন। এর মধ্যেই ওলাওঠা এসে গেল কার্ত্তিকপাশা গ্রামে। আশেপাশের আরও ছয় সাত গ্রাম কলেরায় উজার হতে লাগলো। মানুষের লাশ এখানে ওখানে পড়ে থাকতো। অনাহারে এমনিতেই হাড় জিরজিরে, তার উপর কলেরার প্রকোপে মৃত্যুর কারণে মরা মানুষের লাশগুলোর অবস্থা হয়ে উঠেছিল খুবই ভয়াবহ। শেয়াল কুকুরে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেত লাশ। অভুক্ত মানুষের শরীরে মাংসের ছিঁটেফোটারও দেখা না পেয়ে পরক্ষণেই বেরিয়ে পরত অন্য লাশের খোঁজে।
সেই মানুষ বশিরের পরদাদা হয়। যেদিন ফকিরের বেশে সে কার্ত্তিকপাশা গ্রামে আসল, চারদিকে একটা হইচই পড়ে গেল। সবাই একে অন্যকে বলতে লাগলো, হুনছেন মেয়া , পশ্চিমে আরও পাঁচ গ্রামের ওপার দিয়া বদরপুর দরবার শরীফ দিয়া আজিজ ফহির চইল্যা আইছে রে।
এইবার ওলাওঠার আর কি বল আছে একটা দেহরেও অকেজো কইরা দ্যায়?
আরে মেয়া, আজিজ ফহিরের পালা জিনই খালি আছে খালি এক কুড়ি। কয়বরের পাশ দিয়া ফহিরসাব হাইট্যা গ্যালে মুরদার অবস্থা সবই দ্যাখতে পান।
এই রকম বহু কথাই প্রচলিত ছিল দরবার শরীফের আজিজ ফকিরের নামে। সে আরও তিন চার সাল আগের কথা। শর্ষিনার বড় পীরসাহেবের সাথে দেখা করে আজিজ ফকির তিন চারটা নৌকার বহর করে যাচ্ছিলেন মৌকরন গ্রামের দিকে। সাথে ভক্ত, মুরিদ আর দরবারের লোকজনও ছিল। সামনের বড় ছইঅলা নৌকা থেকে হঠাৎ করেই তিনি বলে উঠলেন, মোতালেব মাঝি, নৌকা থামাও। মুরদার কান্দন হুনতে পাই। সাথে সাথে মোতালেব মাঝির নির্দেশে সব কয়টা নৌকা থেমে গেল। নৌকা ঘাট দিলে আজিজ ফকির সবাইকে বললেন, ঐ যে জঙ্গলের পাশে চলটা উঠা মসজিদ দ্যাখা যায়, তার পাশে কবরস্থান আছে, ঠিক?
সবাই বলল, কথা সত্য। কবরস্থান আছে একটা।
ফকির বললেন, একটা কবরে তুমুল আযাব চলতেছে। মাস কয়েকের মইধ্যে কাউরে শোয়ানো হইছে ভাঙ্গা কবরের মইধ্যে?
উপস্থিত লোকজনের ভেতর থেকে হাশেমুদ্দি নামের কেউ বলে উঠলো, হ হ। ফকির সাব। গোর দেওয়া হইছে মাস দেড়েক আগে একজনকে।
‘ তুমি চিনো তারে। ‘
‘আমার বোনাই হয়। ‘
‘আপন বোনাই তোমার? ‘
‘ না। লতায় পাতায় আত্নীয়। তয় তারে গোর দেওনের সময় আছিলাম। ‘
‘ভাঙ্গা কবরে শোয়াইছ তারে? ‘
হশেমুদ্দি মনে করতে পারছিল না ঠিক। জঙ্গলের মতো জায়গা। বহু আগে থেকেই লাশ কবর দেওয়া হয় ওখানে। প্রায়ই দেখা যায় ঝোপঝাড়ের মতো হয়ে উঁচুনিচু খানাখন্দে ভরে গেছে গোটা জায়গা। লাশের জন্য নতুন করে কবর খুঁড়লেও সন্দেহ থাকে যে, এই স্থানে আগেও কাউকে কবর দেওয়া হয়েছে কিনা।
‘কি মেয়া, কতা কও না দেহি। ‘
‘মনে নাই ফকিরসাব। তয় ভাঙ্গা কবরই হইবো। আপনে যহন দ্যাখতেছেন, গায়েবি আওয়াজ পাইছেন, তহন অবশ্যই তারে নতুন কবরে গোর দেওয়া হয় নাই। ‘
আজিজ ফকির জোর গলায় বললেন, কঠিন আযাব চলতেছে কবরে। মুরদার চিক্কইরে আসমান জমিন কাঁইপা যাইতেছে। তয় মানুষ ছাড়া হেই আওয়াজ পশুপাখি, গাছপালা সবাই হুনতে পায়। আমার জিনেরা হুনতেছে। খবর আইছে আমার ধারে।
সেই খবর আশেপাশে ছড়িয়ে পড়তে দেরি হলো না। যাকে কবর দেওয়া হয়েছিল, তার বাড়িতেও পোঁছে গিয়েছিল নিমিষেই। সাথে সাথে মসজিদের ইমাম ডেকে মিলাদ পড়ানো হলো, তওবা ইস্তিগফার করানো হলো যারা কবর দিতে গিয়েছিল, তাদের সবাইকে। সোয়া লক্ষ তসবি পড়া হলো। তারপর আজিজ ফকির সবাইকে আশ্বস্ত করলেন যে, কবরের আযাব উঠে গেছে। আর ভয়ডর কিছু নেই।

সেই কিংবদন্তির আজিজ ফকির সেই বার কার্ত্তিকপাশা গ্রামে এলে মানুষজন যেন তার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল।
‘বাঁচান ফকিরসাব আমাগো বাঁচান ‘
‘আল্লায় পাঠাইছে আপনারে। এহন আর চিন্তা নাই। ‘
‘আগে আইলেন না ক্যান? ক্যাবল সাতে পড়ছিল পোলাডা। টিকল না। হের মায়ে হারাদিন খালি আবোলতাবোল কয় আর পোলাডার কতা কইয়া কফাল চাপড়ায়। ‘

আজিজ ফকির সবাইকে আশ্বস্ত করলেন যে, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। গায়েবি খবর আগেই পেয়ে গেছেন। তবে, জিনগুলোর সাথে শলাপরামর্শ করে ব্যবস্থা ঠিক করতে দেরি হয়ে গেল। আর তাছাড়া বহু মানুষের কাছেই তার ডাক পড়ে। সব সময় চাইলেও সব জায়গায় যেতে পারেন না। কলেরা তো আরও কতো গ্রামেই লাগছে। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কার্ত্তিকপাশা গ্রামে আগে আসবেন। কারণ, এই গ্রামের মানুষেরা পরহেজগার। দরবার শরীফের জমি নিয়ে একবার মামলা মোকদ্দমা হলে, মিঞা বাড়ির লোকজনেরাই টাকাপয়সা দিয়ে একটা হেস্তনেস্ত করে দেয়। মিঞারা কয়েক পুরুষ ধরেই পীর ফকির ভক্ত।

সেইবার আরও দিন পনেরো পর মানুষদের মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকলো। আজিজ ফকির সবাইকে বলে বোঝালেন, আল্লার পথ দিয়া সইরা দাঁড়াইলে এই রকম আরও ঘোর বিপদ লাগবো। সব জিনদের ব্যবহার করে চাইলে তিনি এক দিনেই ওলাওঠা তাড়াতে পারতেন। তবে, সব জিনেরা যদি একটা কাজের পেছনেই লেগে থাকে, তাহলে অন্য বিপদ আসতে কতক্ষণ? তাকে তো সবদিক বুঝেশুনেই চলতে হয়।
গ্রামের সবাই বলতে লাগলো, এবার ফকিরসাব না এলে পুরো গ্রামই গোরস্থান হয়ে যেত। যে মানুষ কোন স্বার্থ ছাড়াই মানুষের উপকার করে বেড়ান, তাকে তো সচরাচর পাওয়া যায় না। এরপর একদিন, মিঞা বাড়ি, সিকদার বাড়ি আর তালুকদার বাড়ির কয়েকজন এসে ফকিরকে বললো, তাদের গ্রামেই যেন অনুগ্রহ করে তিনি থেকে যান।
ফকির বললেন, আমার কি জমি জিরাত আছে কিছু? বাড়িঘরের ঠিক নাই, আবার থাকার কথা?
তখন সবাই মিলে লেখাপড়া করে মল্লিক বাড়ির পাশের ধানী জমি সংলগ্ন ছোট্ট ভিটাখানিকে ফকিরের নামে লিখে দিল। এভাবেই গোড়াপত্তন হয়েছিল ফকির বাড়ির।
এখন বশিরের জীর্ণ খড়ের ঘর দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সেই আমলেই আজিজ ফকিরের টিনের ঘরে আশেপাশের গ্রাম থেকে চলে আসত আরও ফকির। বিশাল উঠোন, বাগান আর পুকুর মিলে সেটার আয়তন ছিল দরবার শরীফের চেয়েও বেশি। গত তিন পুরুষ ধরে, ফকিররা খুইয়েছে বলতে গেলে সবই। বিক্রি করার বাকি আছে কেবল ঘরটিই।
*
‘বাজান, কি হইছে? কথা কও না ক্যান? কষ্ট হইতেছে বেশি? আর দেরি নাই। ডাক্তারসাবের কাছে নিয়া যামু, সাদা বড়ি গিললা খাইলেই দেখবা সব অসুখ গায়েব। তারপর মায়ের ধারে দৌড় দিয়া আইয়া পড়বা। ‘
বৃষ্টির তোড় আর বাতাস মিলে কেমন একটা ভৌতিক আবহ তৈরি হয়েছে পুরো পথ জুড়ে। বশির ছেলেকে অভয় দিতে দিতে একটু করে এগোচ্ছে। পথ মনে হচ্ছে আর ফুরাবে না। কাদায় প্রায় হাঁটু অবধি ডুবে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে একটা বড়োসড়ো বজ্রপাত হলো কোথাও। দূরে হলেও তীব্র কানফাটা শব্দে টেকা দায়। আচমকা বশিরের মনে হলো, বিপরীত দিক থেকে বুড়োমত এক বৃদ্ধ হেঁটে আসছে। সে বিস্মিত হয়ে দেখলো, বুড়ো মানুষটার গা থেকে যেন ঠিকরে বেরোচ্ছে আলো, আর বৃষ্টি যেন তাকে ছুঁতেই পারছে না।
কাছে আসলে বশির দেখলো, সাদা দাড়ি, প্রায় পা অবধি এক জোব্বা পরা, পিঠে ঝুলির মতো কি যেন, সব মিলিয়ে ফকিরের বেশে কে যেন উঠে এসেছে মাটি ফুঁড়ে।
‘ক ক কে আপনে? ‘ বশির কাঁপা কন্ঠে কোনমতে উচ্চারণ করল।
‘আজিজ ফকিরের নাম হুনছ কোন সময়? নাকি নিজের গুষ্টিসুদ্ধা ভুইল্যা গ্যাছ? ‘
‘মানে আপনে, আপনে তাইলে …’
‘হয়, আমিই আজিজ। গোপন বিদ্যাবুদ্ধি, কৌশল যা রাইখা গেছিলাম, সব তো দেখতেছি গায়েব কইরা দিছ। ‘
বশির নিশ্চুপ।
আজিজ ফকির আবার বললেন, ‘কোলে কেডা? ‘
‘জ্বি। আমার পোলা। ‘
‘কই লইয়া যাও এত রাইতে? ‘
‘ঘোর অসুখ করছে। পোলায় আমার নাই কইতে গেলে। যাই ডাক্তারের ধারে। কিছু যদি করোন যায়। ‘
‘ এইডা তো লজ্জার কথা বশির। ফকির বংশের লোকেরা পুরা আট দশ গ্রামের লোকদের অসুখ থিকা বাঁচায়া রাখে, তাগো ডরে আসমানী বালা, জমিনী বালা কিছুই ধারেকাছে আসে না। আর তুমি তোমার পোলারে ঠিক করতে পারো না। ‘
বশির আবারো নিশ্চুপ।
‘কি মেয়া। কও, এইডা লজ্জার কথা না? ‘
‘ জ্বি। ঘোরতর লজ্জার কথা। এখন আপনে একটু ফুঁ দিয়া দ্যান। আপনের এক ফুঁ -তেই পোলাডা চউখ খুইল্যা তাকাইবো। ‘
‘ধুর মিয়া। তুমি নিজেও তো ফকির। তুমি ফুঁ দাও। অবশ্যই কাম হইবো। খাস দিলে কিছু চাইলে তা সম্ভব হইবোই। আমরা চাই নাই আগে? ‘
বশিরের মনে কিছুটা সাহস আসলো। মানুষ এখনো তাদের বাড়িকে ফকিরবাড়ি বলে জানে। সবাই এখন তাকে বশির ফকির বলেই ডাকে। বশির বললো, ‘তাইলে আমিই ফুঁ দিই ফকিরসাব। ‘
‘হ। দাও। ‘
বশির তার ছেলেকে আরও কাছে টেনে ধরলো। মাথার কাছে মুখ নিয়ে জোরে জোরে ফুঁ দিতে লাগলো।
বশিরের সময়জ্ঞান লোপ পেল। ঠিক কতক্ষণ ছিল ওখানে সে জানে না। হঠাৎ শুনতে পেল ফজরের আজান হচ্ছে মসজিদে। আর ছেলে কোথায়? পাশে তাকাতেই দেখল তিন চারহাত দূরে পড়ে আছে। আচ্ছা, ছেলেটা তো ওর কোলেই ছিল। ছেলেকে ফুঁ দিয়ে দিল। তারপরে কি হয়েছিল? তারা কি আরও কিছুদূর এগোতে পেরেছিল? নাকি আগের জায়গাতেই আছে এখনও? বশির কিছুই ঠাহর করতে পারলো না।
*
ছেলেকে বুকে জড়িয়ে বশির ফিরতি পথ ধরলো। একেবারে বাড়ি যাবে, তার আগে থামবে না। ছেলেটা যে তারপর থেকে আর চোখই খোলে নি।আচ্ছা, কোন নড়াচড়াও তো করছে না। কাঠের বড়োসড়ো পুতুল যেন।
সাবধানে কবর দিতে হবে ছেলেকে। কোনভাবেই ভাঙ্গা কবরে ঢোকানো যাবে না ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “জোনাকিরা অন্ধ হয়ে গেছে

  1. বাহ, সুন্দর !
    বাহ, সুন্দর !

    আমার লেখা পড়ার ও ফেসবুকে আমার “বন্ধু” হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
    https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

43 − 38 =