প্রেমপত্র-৬৫

নেফারতিতি,
আমি বিশ্বাস করি রিমঝিম বর্ষায় আমার দেয়া কদম একদিন ঠিকই থাকবে তোমার খোঁপায়,কত সাধনায় শেখা ঐ খোঁপা,শুধু আমার দেওয়া ফুল পরবে বলে,তোমার ঠান্ডা লাগবে বলে আমার দেওয়া ছাতা তোমার মাথায়,তোমার হাতে শক্ত করে ধরা আমার হাত,তোমার পাশে বৃষ্টি ভেজা আমি,.খালি পায়ে হেটে চলা শহরের এ পিচঢালা পথে;তোমার আমার ব্যস্ত জীবনটাকে একটু ভিজিয়ে নিতে। চাঁদনী রাত আমাকে ভিষন টানে, আমার তো চাদের আলো চাই তাইতো গান শুনতে শুনতে তোমার কোলে মাথা রেখে,তোমারই লাগানো বেলি ফুলের গন্ধে ঘুমিয়ে যাব আমি,আমার মাথাই হাত বুলিয়ে দেবে তুমি,একটু চাঁদের আলো এসে পড়বে তোমার মুখে সে আলোয় প্রাণ ভরে দেখব তোমায়,আমি চিন্তায় পরে যাব চাঁদ কোনটা?তোমার চোখের একফোটা জল তোমার মুখে গড়িয়ে পড়বে এ জল সমার্পনের জল।যেদিন থেকে তুমি নিজেকে চিনেছ,সেদিন থেকে চারপাশের নানা চাহুনী থেকে নিজেকে শামুকের মত লুকিয়ে রেখেছ নিজেকে।আমিও ফিরিয়ে দিয়েছি পৃথিবীকে,ফিরিয়ে দিয়েছি কত আহবান কত আনন্দ কত বসন্ত,শুধু তুমি আসবে বলে,এক সাথে হাসব বলে।কত বর্ষায় শিউলী ভাসিয়েছ আমার তরে,কত সন্ধ্যয় প্রদীপ জ্বেলে ,ফুলে ফুলে ঘর সাজিয়ে,নিজেকে তোমার প্রিয় শাড়ীতে সাজিয়েছ,তোমার সিংহাসন ধুয়ে মুছে সাজিয়েছ আমি আসব বলে।আমিও কতদিন তোমাকে উড়ো চিঠি পাঠিয়েছি,তোমার সাড়া না পেয়ে অভিমানের জলে নৌকা ভাসিয়েছি,ভেবেছি তুমি হয়তো চিঠি পাওনি অথবা ব্যস্ত,কিন্তু তুমি আসবে,কাজ ফুরালেই তুমি ছুটে আসবে একটু সস্তি পেতে,তোমার আশায় তোমার পথ চেয়ে কতকাল কেটে গেছে।আজ আমারই স্বপ্নে একা একান্তই আমার তুমি এলে আমার এই অজান্তে, অবাক হয়ে গেলাম,কখন এসে হৃদয় জুড়ে বসে আছ,বুঝতেই পারিনি কিন্তু সবচেয়ে বেশি অবাক হলাম যখন আবিষ্কার করলাম তুমি স্বপ্নে এসে চলে যাওয়ার পরে আমা্র রোমান্টিক স্বপ্ন গুলো ফিকে হয়ে যায়,তুমিহীনতায় আজ শ্রাবণ জলে ভিজতে ইচ্ছা করে না,এ চোখ নদী হবে বলে,চাঁদের আলো অসহ্য লাগে ,তোমায় ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে ভয় হয়,যদি ফিরিয়ে দাও বলে,তোমাতে সমার্পনেও ভয়,আমার মাঝে যে আর কিচ্ছু বাকি থাকেনা। এত কিছু বলি তবু তুমি নিশ্চুপ,কথা শুণেও শুন না,বুঝেও বুঝনা।এই তুমি আমার দৃষ্টি সীমার বাহিরে দুরে আমাকে ছাড়া আমার চলেই না, চাতকের মত ছটফট করি তোমার প্রতি এ ঘোর লাগা ভালবাসা যাতে আমি সন্ন্যসী হয়ে গেলাম,তুমি শুধু একবার বুঝে নাও এ ঘোর লাগা ভালবাসা।
ভালবাসা একটা শক্তি শুধু বলিনা তোমায় ভালবাসি সকল ঝড়ে বুকে তোমায় বুকে আঁকড়ে রাখার শক্তি সাধনা আমার আছে,তোমার প্রতি ভালবাসা সময়ের সাথে সাথে বাড়ে বৈ কখনও কমবেনা।প্রতিনিয়তই ভালবাসা নতুন হয়ে দেখা দেবে,.জোড়ার-ভাটার মত উঠা-নামা করবে না। তাই তোমার কাছ থেকে হ্রদয়ের টান পেতে যদি আমাকে মৃত্যুবরন করতে হয় আমি তাতেও রাজি আছি।ভালবাসা লুকানোর জিনিস না,লুকানোও যায় ও না,আর আমি তা পারিও না। তোমার তরে আমার এ শুদ্ধ ভালবাসা জেনে নিও এ আমার কামনা নয়,তবু তোমার নিশ্চুপতায় ভীষণ কষ্ট,এ কষ্ট আমাকে কুড়ে কূড়ে খায়।আমার মাঝে লুকিয়ে থাকা তোমার অস্তিত্ব টুকুকে নীল কষ্টে বিষাক্ত করে দেয়।তুমি এতটুকু জেনে নিও মেয়ে বিশ্বাস কর, সত্যি করে বলছি আমি তোমায় ভালোবাসি।রাস্তার ধারে ঐ অন্ন-বস্ত্রহীন ভিক্ষারিটি জানে আমি তোমায় ভালোবাসি ।রাজপ্রাসাদের সু-উচ্চ অট্টালিকার আয়েশি লোকটি জানে আমি তোমায় ভালোবাসি,সদ্য প্রসবিত শিশুটি জানে আমি তোমায় ভালোবাসি। টিএসসির ঐ ফুল আলা ছেলেটা জানে আমি তোমায় ভালবাসি।
মৃত্যুপ্রায় বুড়োটি জানে আমি তোমায় ভালোবাসি। সৌর জগতের প্রতিটি নক্ষত্র জানে সারা বিশ্ববাসি জানে আমি তোমায় ভালোবাসি।
তুমি,শুধু তুমিই বুঝতে চাও না যে আমি তোমায় ভালোবাসি শুধু তোমায় ভালোবাসি।রাজপথে সাংসদে,মৃত্যু উপত্যকায়,অরন্যে ও কাল রাত্রিতে আমি চিৎকার করে তোমায় বলে দি শুধু তোমায় ভালবাসি।
আমি পরের জন্মে আশা রাখি না বা তোমায় পাওয়ার জন্য আরেকটা জন্ম লাগবে এ কথায় ও আমার অরুচী আছে তবু জেনে রেখ,
পরের জন্ম বলে যদি কিছু থাকে সে জন্মেও কাউকে মনে করে আমার চোখে যেই অশ্রু জমবে বুকটা হু হু করে উঠবে সেগুলো থাকবে তোমার জন্য….
শুধু তোমার জন্যই..
ইতি
এ্যাগনোসিস

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =