৫০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

হিমসাগর, আম্রপলি, ল্যাংড়া। বিখ্যাত সব আমের জাত। আর বাংলাদেশের এসব আম এখন যাচ্ছে ইউরোপের বাজারে। দ্বিতীয় বছরের মতো এবারও সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এক মেট্রিকটনের হিমসাগর আমের একটি চালান পৌঁছেছে ইতালিতে। এ বছর ইউরোপের বাজারে ‘সাতক্ষীরা ব্রান্ড’ আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫শ’ মেট্রিকটন। এর ফলে আম উৎপাদনকারীদের জন্য একটি বিশাল বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিদেশে রফতানিযোগ্য আম সংগ্রহে কিভাবে নিরাপদ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে চাষীদের। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আমের উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেটজাতকরণ সবই হচ্ছে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে। আর এই কাজগুলো করছেন মাঠ পর্যায়ের আম চাষীরা। নিরাপদ আম সংগ্রহে চাষীদের কাছে নির্দিষ্ট তাপে আমের পচনরোধে হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, হ্যান্ডগ্লোবসসহ নানা সরঞ্জামও তুলে দেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে উৎপাদিত আম গত বছর প্রথম রফতানি করা হয় ইউরোপের বাজারগুলোতে। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে ২৩ মেট্রিক টন আম রফতানি করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো কলারোয়া উপজেলার হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্র্রপালি আম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। এজন্য উপজেলার ৮০টি বাগান মালিকের সঙ্গে নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী মৌসুমের শুরুতেই বাগান পরিচর্যার কাজ শুরু হয়েছিল। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে আম উৎপাদনের পর ১৭ মে প্রথমবারের মতো ২ টন হিমসাগর আম ইতালি রফতানি করা হয়। সাতক্ষীরা জেলায় তিন হাজার নয় শ’ দশ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি করা হবে। অচিরেই সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের ‘ম্যাংগো ক্যাপিটাল’ হয়ে উঠবে এবং দেশের অর্থনীতিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

62 − = 54