ধর্ষণের জন্য দায়ী কী পোষাক নাকি মানসিকতা ??

ধর্ষণ শব্দটির সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত | বিশেষ করে বাংলাদেশে তো ইদানিং সময়ে অসময়ে অনেক ধর্ষণের ঘটনা উঠে আসে | পার্শবর্তী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও দিন দিন ধর্ষণের হার বেড়েই চলেছে | বাংলাদেশে ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ধর্ষণের সংখ্যা নিম্নে দেয়া হলো |

  • # ২০১০ সাল-৪১১ জন
  • # ২০১১ সাল-৬০৩ জন
  • # ২০১২ সাল-৮৩৬ জন
  • # ২০১৩ সাল-৭১৯ জন
  • # ২০১৪ সাল-৭৭৯ জন

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির দেয়া ধর্ষণের পরিসংখ্যান )

২০১৫ এবং ২০১৬ অর্থাৎ চলতি বছরে এসে এর সংখ্যা কতটা বেড়েছে তা এখন আর কারও অজানা নয় | আর ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত যে ধর্ষণের সংখ্যা জানলাম , তা শুধুমাত্র পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা এবং প্রকাশ পাওয়া ধর্ষণের খবর গুলি | আমি মনে করি বাস্তবে এর সংখ্যা আরও অনেক বেশী | কারণ অনেক অল্প সংখ্যক ভুক্তভোগী ধর্ষণের কথা প্রকাশ করে | বেশীরভাগ মানুষই মান সম্মানের কথা ভেবে ধর্ষণের খবর প্রকাশ করতে চায় না | এছাড়া দাম্পত্য ধর্ষণের খবর তো বাংলাদেশে কখনই উঠে আসে না | যদি এ সব প্রকাশ করা হতো তাহলে হয়তো দেখা যেতো মুহুর্তেই পরিসংখ্যানের হিসাব কয়েকগুণ বেড়ে গেছে |

যাহোক ধর্ষণের কারণ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই দায়ী করে নারীর পোষাককে | অবশ্য ধর্মান্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে এর থেকে বেশী কী বা আশা করা যায় | বাংলাদেশে ধর্মান্ধতা এতটাই প্রকট যে ধর্ষণ আসলে কী সেটা না জেনেই মানুষ শুধুমাত্র ইসলাম কতৃক দেয়া পর্দার নির্দেশ অমান্য করার দায়ে ধর্ষণের দোষ চাপায় সেই ধর্ষিতা অসহায় নারীর উপরই | কিন্তু আমার জ্ঞান ও বিবেক বরাবরই বলে ধর্ষণের জন্য মানসিকতা দায়ী , পোষাক নয় | চলুন , ধর্ষণ কী এবং এর জন্য আসলে দায়ী কী আজ এ ব্যাপারে কিছু আলোচনা করা যাক |

?itok=40x0Gl-T” width=”400″ />

প্রথমত আমাদের যেটা জানতে হবে তা হলো ধর্ষণ কী বা কাকে বলে | বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূত্রানুসারে ধর্ষণের সংগা-
“ধর্ষণ একপ্রকার যৌন অত্যাচার | সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা অনুমতি ব্যতিরেকে যৌনাঙ্গের মিলন ঘটিয়ে বা না ঘটিয়ে যৌন সংগমে লিপ্ত হওয়াকে ধর্ষণ বলা হয় |”

এই সংগা থেকে দুটি বিষয় লক্ষ্য করুন |

* ধর্ষণের সংগায় উল্লেখ করা হয়েছে “সঙ্গী বা সঙ্গিনী” অর্থাৎ শুধুমাত্র নারী নয় বরং নারী কতৃক পুরুষ এমনকি সমলিঙ্গের মানুষের মাঝেও ধর্ষণ হয় | বহির্বিশ্বে নারী কতৃক পুরুষ ধর্ষণের ঘটনা অহরহই ঘটে | শুধু বহির্বিশ্বে নয় , ইদানিং বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও নারী কতৃক পুরুষ ধর্ষণের খবর উঠে আসে | এখন কথা হচ্ছে নারী কতৃক পুরুষ যখন ধর্ষণ হয় , তখন ধর্মান্ধগণ কাকে দোষ দিবেন ? পুরুষের পোষাককে নাকি ঐ নারীর মানসিকতাকে ? নাকি এখন বলবেন ঐ পুরুষ নিশ্চই মিনি স্কার্ট পড়ে ঘুরে বেড়াতো তাই ধর্ষণ হয়েছে | যদি পোষাকই ধর্ষণের জন্য দায়ী হয়ে থাকে , তবে নিশ্চই ধর্ষণ এড়াতে পুরুষকেও বোরখা পড়ে বাইরে বের হতে হবে !!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯% ধর্ষণের ঘটনা ঘটে পুরুষ কতৃক পুরুষ ধর্ষণের | একজন পুরুষ আর একজন পুরুষকে ধর্ষণ করে কী কারণে ? পোষাকের শালীনতার অভাবে নাকি নোংরা মানসিকতার বদৌলতে !
নিঃসন্দেহে নোংরা মানসিকতার জন্যই |

* সংগায় উল্লেখ করা হয়েছে “ইচ্ছার বিরুদ্ধে , অনুমতি ব্যতিরকে” যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার কথা | এখন একটু গভীরে ভাবুন , অনুমতি বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনতা কী শুধু রাস্তাঘাটে বখাটের দ্বারাই ঘটে নাকি ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনতা আপনার আমার ঘরেও ঘটে ? আর একটু ডিটেলসে বলি | বাংলাদেশে এ্যারেন্জ ম্যারিজের ব্যবস্থাটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে | এটি এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে বাবা মায়ের চাপে পড়ে বহু নারী নিজের প্রেমিককে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলি মাটি করে দিয়ে আরেকজনের সাথে সংসার পাততে বাধ্য হয় | কিংবা অনেক সময় যথেষ্ট সুযোগের অভাবে বিয়ের আগে হবু স্বামীর সাথে তেমন একটা ভালবাসাপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে ওঠে না | তো স্বভাবতই সেই নারী নতুন একজনের সাথে সম্পর্কের শুরুতেই যৌনকর্মে লিপ্ত হতে চায় না | কিন্তু বিয়ে নামক নারীকে নিজ ইচ্ছেমতো ভোগ করার লাইসেন্সের সুবাদে একদল ভোগী পুরুষ প্রথম রাতেই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে একরকম জোর করেই যৌনকর্মে লিপ্ত হয় | আর ভোগী লাইসেন্সের কারণে নারী এর প্রতিবাদও করতে পারে না |
এবার শুনুন , আপনি কী জানেন এটাও এক প্রকার ধর্ষণ যার নাম “দাম্পত্য ধর্ষণ” !!
এর জন্যও কী পোষাক দায়ী ? বাসর রাতে কী স্ত্রী মিনি স্কার্ট পড়ে বসেছিলো বলে ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে নাকী স্বামীর ভোগী মানসিকতার কারণে | তবে কী ধর্ষণ এড়াতে বাসর রাতে নারীর বোরখা পড়ে থাকা উচিত ছিলো !!

এছাড়া সময়ে অসময়ে বহু নারী নিজ আবাসেই এভাবে ইচ্ছের বিরুদ্ধে নিজের স্বামী কর্তৃক ধর্ষিত হয় , যার খবর আমাদের পর্যন্ত কখনই পৌছায় না | লিখাটি লিখতে লিখতে মনে পড়লো একজন মহিলার ঘটনা যা না বললেই নয় | তার সাথে আমার যখন পরিচয় হয় , তখনো আমার দাম্পত্য ধর্ষণের অস্তিত্ব নিয়ে কোন জ্ঞান ছিল না | কিন্তু সে বেচারি দাম্পত্য ধর্ষণের বাস্তব শিকার ছিলেন | তার কাছ থেকে জানতে পারি এ্যারেন্জ ম্যারিজের বদৌলতে কলেজ জীবনে তার বিয়ে হয়ে যায় তার থেকে বয়সে বেশ বড় একজন পুরুষের সাথে | বিয়ের আগে কাছে থেকে সেই পুরুষকে জানার সুযোগ না হওয়া সত্বেও বিয়ের প্রথম রাত থেকেই সে বর্বরতার শীকার হতে থাকে | আরও জানতে পারি তার স্বামীর জন্য সে অনেকটাই যৌনকর্মীর মতো | এবং সবথেকে অবাক করা বিষয় ইতিমধ্যে তিন সন্তানের জননী হওয়া সত্বেও সময়ে অসময়ে ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার সাথে এমন বর্বরতা এখনো চলে |
এখনো কী বলবেন ধর্ষণের জন্য মানসিকতা নয় , দায়ী নারীর পোষাক ?

পোষাক নাকি মানসিকতা দায়ী , তার বিচার করতে হলে আরেকটি বিষয় না বললেই নয় | আচ্ছা বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা অনেক সময়ই উঠে আসে | শুধু বাংলাদেশেই নয় , আরও বহু দেশে শিশু ধর্ষণ নিত্যদিনের ঘটনা | কিন্তু শিশু ধর্ষণ হয় কেন ? শিশুরা মিনি স্কার্ট পড়ে থাকে বলে ? শিশু বাচ্চাদের দেখেও কী মনের মধ্যে কামনার সৃষ্টি হয় ? তাহলে কী জন্মের পর থেকেই শিশু বাচ্চাদের পা পর্যন্ত আলখেল্লা পড়িয়ে রাখতে হবে ? নাকি নিজের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে ?

৭১ এর যুদ্ধে পাকিস্তানিরা এবং জামায়েত ইসলামী রাজাকাররা যে হাজারো মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে , এ সব কী পোশাকের কারণে ? ৭১ এ কী তারা মিনি স্কার্ট পরে ঘুরে বেড়াতো ? নাকি নিজেদের ভোগী মানসিকতার খোরাক মিটাতো জানোয়ারগুলো ধর্ষণ করতো ?

পোষাকই যদি ধর্ষণের মূল কারণ হবে , তাহলে আরব দেশগুলোতে কেন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যেখানে সবাই বোরখা পড়ে ? খারাপ মানসিকতা সৃষ্টির জন্য আপনি নারীর অর্ধনগ্ন পোশাককে দায়ী করছেন ? তাহলে ইন্টারনেটে রেকর্ডতুল্য পর্ণ সিনেমা কেন আরব দেশগুলো থেকে আসে ? যেখানে আশেপাশে সবাই বোরখা পড়ে চলে , সেখানে কামনা কী করে সৃষ্টি হয় যে পর্ণসাইটে আরব দেশগুলোর রেকর্ডতুল্য ক্লিক পড়ে !!
ভূলে যাবেন না নির্বাচিত সেরা পূর্ণ তারকা বোরখা ও হেজাফধারী মিয়া খলিফার সৃষ্টিও কিন্তু ঐ আরব দেশ থেকেই |

কিছুদিন আগে তনু নামক এক হেজাফধারী বোরখা পরিহিতাকে যখন ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো , তখনো বাংলাদেশের ধর্মান্ধ জামাতীরা অপপ্রচার চালিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলো যে তনুর ধর্ষণের জন্য তনুর পোশাকই দায়ী | কিন্তু তনুর ছবিগুলো তখন সাক্ষী হয়ে দাড়িয়েছিল | কতটা নিলজ্জ মানসিকতা হলে একটি মৃত মেয়ের উপর মিথ্যে দোষ চাপানো যায় ভাবতে পারেন ? এমন নিচ মানসিকতার বলেই তো ধর্ষণ সম্ভব , পোশাকের কী দোষ !

শুনুন , ধর্মান্ধ হয়ে আপনি যতই বলুন পোষাক দায়ী ধর্ষণের জন্য , কিন্তু বাস্তব হলো মানসিকতা | বোরখা হলো নিজের অসংগতিকে বস্তাবন্দি করার পোশাক | বাংলাদেশে পতিতারাও বোরখা পড়ে | তারা নিশ্চই ধর্ষণ এড়াতে নয় , বরং বোরখার আড়ালে ভণ্ডামির সুবিধার জন্য বোরখা পড়ে | এ পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের অধিকার আছে তার নিজের ইচ্ছেমত নিজেকে সাজানোর | আপনি নিশ্চই আপনার নোংরা মানসিকতাকে বদ্ধ রাখতে আরেক জনের অধিকার কেড়ে নিতে পারেন না |

একটা কথা মনে রাখবেন , আপনি আপনার নোংরা মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটাতে পারলে সমগ্র নারী জাতিকে বস্তাবন্দি করলেও ধর্ষণ বন্ধ হবে না …

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “ধর্ষণের জন্য দায়ী কী পোষাক নাকি মানসিকতা ??

  1. dear blogger . what u r
    dear blogger . what u r trying to say is not true. do u know why most of our boys and girls choose arrange marraige . just get benefit from it. they do love just get time pass .and when a man married a women why they marry each other ? to doing sexual intercourse. but many women try to say no mood to sex .if u r not interest to sex so why u marry . sex is natural desire of human being .maybe man wants to do more sex than women .but having no problen everyone should do sex daily if they can .do u know what is our problem? we live in hoax so that u write a propagaganda about sex matter.

  2. অামাদের পরম শ্রদ্বেয় শিক্ষক
    অামাদের পরম শ্রদ্বেয় শিক্ষক পরিমল স্যরকেও রক্ষা করতে হবে, ছাত্রী ধর্ষনের মত সামান্য একটা অপরাধে তাকে জেল দেওয়া কি ঠিক হয়েছে ? শত হলেও তিনি শিক্ষক !!! তাকে অসম্মান করা চলবে না। ধর্ষনে শাস্তিদেয়া ধর্মান্ধদের কাজ !!!

    1. পরিমলের পক্ষে অনলাইনে কথা
      পরিমলের পক্ষে অনলাইনে কথা বলেছে এমন কোন কুলাঙ্গার চোখে পড়েনি। কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়বহন করে এমন ধর্ষকের পক্ষে আপনার মত অন্ধ ধার্মিকদের সংখ্যা অগণিত।

  3. মহাপবিত্র মাদ্রাসার ভিতরে সাত
    মহাপবিত্র মাদ্রাসার ভিতরে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণকারী সাচ্চা মমিন আব্দুল আজিজ হুজুরের কথা কেউ বইলেন না কিন্তু। খবর লিঙ্ক

  4. লেখক, ১০০ জুতার বারি উপহার
    লেখক, ১০০ জুতার বারি উপহার দিলাম। খানকির পোলা। ইসলাম নিয়া কথা বলস সালা কুত্তার বাচ্চা। তোর বউরে আমি বাঁশ দিয়া চুদুম হালার পুত। যদি মানসিকতার জন্যই সব হয় তাহলে নেংটা হয়ে ঘুরতে বলিস তোর বউরে, কারণ তো বুঝতেই পারছস কেন বলছি।

    1. বুঝুন না বুঝুন লিখাটা পড়ার
      বুঝুন না বুঝুন লিখাটা পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ | আচ্ছা আমি তো না হয় ইসলামিক আদর্শের মানুষ নই , কিন্তু আপনি ইসলামের পক্ষে থেকে আমার স্ত্রী নিয়ে এমন মন্তব্য করছেন কীভাবে ? আপনাকে নিশ্চই ইসলাম এই শিক্ষা দিয়েছে ! আর যদি ইসলাম আরেক জনের স্ত্রী নিয়ে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলে , দেন ইউ আর নট এ গুড মুসলিম | আগে নিজের পথ ঠিক করুন , ইসলাম সম্পর্কে জানুন , তারপর পক্ষে বিপক্ষে কথা বলতে আসবেন | আপনাদের মতো ধর্মান্ধরাই ইসলামকে আরও বেশী নোংরা করছে |

      আর একটা কথা যদিও এখনো বিয়ে করি নি , তবু এটুকু বলতে পারি যে আপনারা আপনাদের নোংরা মানসিকতা বদলাতে সক্ষম হলে আমার হবু স্ত্রী নিশ্চিতে উলঙ্গ না হোক অন্তত নিজ স্বাধীনতা ও ইচ্ছানুযায়ী পোষাক পড়তে পারবে | ভালো থাকবেন 🙂

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =