স্ত্রীকে প্রহার করার মধ্যেই আছে নারীকে বিপুল সম্মান প্রদর্শন- কিন্তু কাফিররা বলে ভিন্ন কথা

তথাকথিত ইসলামী পন্ডিতরা দাবী করে , ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা নারীকে দিয়েছে বিপুল সম্মান। তারা একটা হাদিস বের করে তাদের দাবীর পক্ষে প্রমান দেখায় , সেটা হলো – মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেস্ত। তো সেই মা একজন স্ত্রীও , আর তার স্বামী তাকে কিভাবে সম্মান দেখাবে , সেটা বলা আছে কোরানে হাদিসে। এবার সেটা দেখা যাক—-

সুরা নিসা – ৪: পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।

অর্থাৎ স্ত্রী যদি কোন কারনে স্বামীর কথা না শোনে , তাহলে বিভিন্ন স্টেজের পর , স্বামী তার স্ত্রীকে মারধর করতে পারবে। এখানে বলা হয় নি , আস্তে বা জোরে মারধর করতে পারবে। তার মানে আস্তেও মারতে পারে , আবার জোরেও মারতে পারবে। স্বামী যে স্ত্রীকে পিটাতে পারবে , কেন সেটা পারবে , সেটা বুঝতে গেলে জানতে হবে , ইসলাম নারীকে আসলে কি হিসাবে বিবেচনা করে , সেটা জানা যাবে নিচের আয়াতে —

সুরা বাকারা- ২: ২৮২: ————— দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।——————

তার মানে নারীরা আসলে পূর্নাঙ্গ মানুষ না, তারা অর্ধমানব তথা পশুর মত কিছু। আর সেটাও দেখা যাবে , হাদিসে —-

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৪ :: হাদিস ১০৩২
আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, সে যেন হাওদার খুটির ন্যায় একটি কাঠি তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। সে যদি তার সামনে হাওদার পিছনের খুটির ন্যায় একটি কাঠি দাঁড় করিয়ে না দেয়- এমতাবস্থায় তার সামনে দিয়ে গাধা, স্ত্রীলোক এবং কালো কুকুর যাতায়াত করলে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে। (আবদুল্লাহ ইবনে সামিত (রা) বলেন): আমি বললাম, হে আবু যার (রা)! কালো কুকুরের কি অপরাধ, অথচ লাল ও হলুদ বর্ণের কুকুরও তো রয়েছে। তিনি বলেলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি আমাকে যে প্রশ্ন করেছ, আমিও রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুরূপ প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছেন : কালো কুকুর হল একটি শয়তান।

স্ত্রী লোক হলো আসলে গাধা বা কালো কুত্তার মত। এখন গাধা যদি বেয়াড়া আচরন করে , তাকে পিটান যায়। তার চাইতে বড় কথা হলো স্ত্রী লোক হলো কাল কুত্তা বা শয়তান। শয়তানকে তো সবসময়ই পিটানো যায় , এমন কি কারন ছাড়াও। হজ্জের সময় লাখ লাখ মুসল্লি কোন কারন ছাড়াই শয়তানকে পাথর ছুড়ে মারে। এখন স্ত্রীলোক যদি শয়তান হয়, তাহলে তাকেও পিটান তো বটেই , তাকে পাথর ছুড়ে মেরে ফেললেও কোন ক্ষতি নেই।

যে স্ত্রীলোক আসলে শয়তানের মত , তার পায়ের নীচে কিভাবে তার সন্তানের বেহেস্ত থাকে , সেটা এখন আর বোধগম্য হলো না , কারন শয়তানের পায়ের নীচে আর যাইহোক , বেহেস্ত থাকার কথা নয় , তবে কোরানের আল্লাহ যদি আসলে শয়তান হয়ে থাকে , তাহলে বিষয়টার একটা যাথার্থতা থাকতে পারে।

যাহোক, নারীদেরকে মারধর করার মধ্যেই ইসলাম আসলে তাদেরকে বিপুল সম্মানে সম্মানিত করেছে। আর সে কারনেই সম্প্রতি সহিহ ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানের ইসলামি কাউন্সিলের সভাপতি রায় দিয়েছে- নারীকে হালকা ভাবে পিটানো যেতে পারে। সেটা দেখা যাবে নিচের খবরে —

https://www.washingtonpost.com/news/worldviews/wp/2016/05/26/pakistani-husbands-can-lightly-beat-their-wives-islamic-council-says/

খবরে বলা হয়েছে :

The head of a powerful Islamic council is refusing to back down from a proposal that make it legal for husbands to “lightly beat” their wives in Pakistan, despite ridicule and revulsion including calls that maybe the clerics should stand for their own gentle smack down.

তবে কি না , তারা একটু পিছলামি করেছে। তারা বলেছে Lightly, কোরানে কিন্তু এই হালকাভাবে কথাটা বলে নি।

সুতরাং নারীকে মারধর করার মধ্যেই আছে নারীদের প্রতি বিপুল সম্মান। কিন্তু কাফির নাস্তিকরা সেটা না বুঝে তারা ফালতু প্রচার করে , নারীকে নাকি ইসলাম কোনই সম্মান দেয় নি। লানত পড়ুক সেই সব ইসলাম বিদ্বেষী কাফির নাস্তিকদের। বলুন , সুবহান আল্লাহ !

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “স্ত্রীকে প্রহার করার মধ্যেই আছে নারীকে বিপুল সম্মান প্রদর্শন- কিন্তু কাফিররা বলে ভিন্ন কথা

  1. কালো কুকুর,গাধা,আর মেয়ে
    কালো কুকুর,গাধা,আর মেয়ে মানুষ। তিনটা ভিন্ন জিনিস। কালো কুকুরকে শয়তান বলা হইছে।মেয়ে মানুষ কে কোথায় শয়তান বলা হইছে। এটা আপনার কল্পনা প্রসূত চিন্তা বৈ আর কিছুনা ।
    কুরআনে পিটাতে বলা হয়েছে। যার যেমন দরকার তাকে তেমনই দেয়া হবে।আপনি কিভাবে সিঊর হলেন জোড়ছে পিটাতেই বলা হয়েছে।
    এভাবে বিব্রান্তি ছড়িয়ে কি জার্মানির ভিসা পাওয়া যাবে।

    1. সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ ::
      সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩২৪০:

      আমর ইবন আলী (র)……জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসুলুল্লাহ (সা) এক মহিলাকে দেখলেন ও সাথে সাথে উত্তেজিত হয়ে গেলেন । তখন তিনি তার স্ত্রী যায়নাব (রাঃ)-এর নিকট আসলেন । তিনি তখন তার একটি চাড়মা পাকা করায় ব্যস্ত ছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা) তার সাথে যৌনকাজ করে ঠান্ডা হলেন। তারপর বের হয়ে সাহাবীদের নিকট এসে তিনি বললেনঃ স্ত্রীলোক সামনে আসে শয়তানের বেশে এবং ফিরে যায় শয়তানের বেশে । অতএব তোমাদের কেউ কোন স্ত্রীলোক দেখতে পেলে সে যেন তার স্ত্রীর নিকট আসে । কারণ তা তার মনের ভেতর যা রয়েছে তা দূর করে দেয় ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 73 = 81