মুসলমানরা কেন এত দুর্নীতি পরায়ন হয় ?

মুসলমানরা যে কি পরিমান দুর্নীতিপরায়ন, তা কিন্তু বোঝা যায়, সারা পৃথিবীতে দুর্নীতিপরায়ন দেশগুলোর দিকে তাকালে। সবচাইতে দুর্নীতিপরায়ন দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে , তাদের অধিকাংশই মুসলিম প্রধান দেশ। যেমন – সুদান , সোমালিয়া, আফগানিস্তান , ইরাক , তুর্কমেনিস্তান, লিবিয়া , ইয়েমেন , বাংলাদেশ, পাকিস্তান ইত্যাদি। একই সাথে সবচাইতে কম দুর্নীতি হয় – ডেনমার্ক, নরওয়ে ,সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড ইত্যাদি যেখানকার অধিকাংশ মানুষই নাস্তিক বা উদার। এর কারন কি ?

কারন অনুসন্ধান করতে গেলেই দেখা যায়, এখানে ধর্মের একটা বিরাট ভূমিকা আছে। কোরান বলছে-

সুরা আল ইমরান- ৩: ৫৪: এবং কাফেরেরা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী
সূত্র:(http://www.quraanshareef.org/index.php?arabic=&sid=3&ano=200&st=0)

কিন্তু এই অনুবাদ ভৃুল। কেন ভুল সেটার কারন একটু পরেই জানা যাবে। উক্ত আয়াতের আরবী হলো –

: ومكروا ومكر الله والله خير الماكرين

Wamakaroo wamakara Allahu waAllahu khayru almakireena

দেখা যাচ্ছে , এখানে একটা আরবি ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত হয়েছে- সেটা হলো Makar, এই Makar শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো – প্রতারনা করা , এর কাফিরদের ক্ষেত্রে সেই অর্থই অনুবাদে ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে কৌশল হিসাবে অনুবাদ করা হয়েছে। যা উদ্দেশ্য প্রনোদিত। কারন আল্লাহর ক্ষেত্রেও যদি প্রতারনা করা অর্থ করা হয়, তাহলে আল্লাহ হয়ে যাবে সব চাইতে বড় প্রতারক , আর তাহলে মুমিনদের ইমান নস্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্ত কোরানের অর্থ তো কেউ বিকৃত করতে পারে না , তাই প্রকৃত সুরা ইমরান -৩: ৫৪ আয়াতের প্রকৃত অর্থ হবে নিম্নরূপ:

সুরা ইমরান- ৩: ৫৪:এবং কাফেরেরা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও চক্রান্ত করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী

তাহলে বিষয়টা কি দাড়াল ? বিষয়টা দাড়াল এই যে , আল্লাহই হলো সবচাইতে বড় প্রতারক। সেই আল্লাহ মুহাম্মদকে সর্বপ্রকার প্রতারনা শিখাচ্ছে। মুহাম্মদের উম্মতরা আবার তার কাছ থেকে উত্তম প্রতারনা শিক্ষা নিচ্ছে। তার অর্থ হলো- যে মুসলমান সবচাইতে বেশী প্রতারনা করতে পারবে , সেই হলো সবচাইতে বড় মুমিন। চুরি করা বা দুর্নীতি করা এই প্রতারনার একটা উপাদান। ঠিক সেই কারনেই , মুমিনেরা পেশাদার দুর্নীতিবাজ , তারা রক্তে অস্তি মজ্জায় দুর্নীতিবাজ। তারা এতটাই দুর্নীতিবাজ যে খোদ রমজান মাসে দেখা যায় আমাদের দেশেই এইসব মুমিনেরা সরকারী দপ্তরে দেদারসে দুর্নীতি করছে , তাও রোজ রেখে। তারা অধিকাংশই দুর্নীতির টাকায় গরু ছাগল কিনে কোরবানী দেয়। আর তাতে তারা কোনই অসুবিধা বোধ করে না। আর কেন যে অসুবিধা বোধ করে না , সেটা দেখা যাবে নিচের হাদিসে —

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৯ :: অধ্যায় ৯৩ :: হাদিস ৫৭৯:
মুহাম্মদ ইব্ন বাশ্শার (র) ….. আবূ যর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (সা) বলেছেনঃ আমার কাছে জিব্রাঈল (আ) এসে এ সুসংবাদ দিল যে, আল্লাহর সাথে শরীক না করে যদি কেউ মারা যায়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, চুরি ও যিনা করলেও কি? নবী (সা) বললেনঃ চুরি ও যিনা করলেও।

তার মানে কোন মুমিন যদি চুরি ও জিনা করে তাহলেও সে বেহেস্তে যাবে যদি তার ইমান থাকে। সুতরাং এই যখন অবস্থা , তখন চুরি বা দুর্নীতি করতে সমস্যা কোথায়? চুরি ডাকাতি দুর্নীতি সব রকম আকাম কুকাম করে গেলাম আবার নামাজও পড়লাম, রোজাও রাখলাম, কোরবানী দিলাম তারপর হজ্জও করলাম, তাহলেই তো হলো । তাহলে বেহেস্ত আর ঠেকায় কে? ইসলাম অনুসরন করাই হয় তো বেহেস্তে যাওয়ার জন্যে, চুরি ডাকাতি দুর্নীতি করেও যদি সেই বেহেস্তে যাওয়া যায়, তাহলে দুর্নীতি করবে না কেন ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মুসলমানরা কেন এত দুর্নীতি পরায়ন হয় ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 41 = 47