কারা সহিহ মুসলমান ? মুমিনেরা কি দয়া করে উত্তর দিবেন ?

কোথাও মুমিনেরা যদি ইসলামের নামে কোন সন্ত্রাসী আক্রমন করে বা আত্মঘাতী হামলা চালায় তাহলে প্রায়ই এক শ্রেনীর কথিত মডারেট মুসলমানেরা তারস্বরে প্রচার করে , আক্রমনকারীরা সহিহ মুসলমান নহে বা তাদের কাজের সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম কাউকে হত্যা করতে বলে না। আবার অনেকে অবশ্য তাবলিগ জামাতে যোগ দিয়ে মসজিদে মসজিদে ঘুরে ঘুরে ইসলাম প্রচার করে , তারা কোন খুন খারাবিতে নাই। প্রশ্ন হলো – কারা সহিহ মুসলমান? যারা ইসলামের নামে সন্ত্রাস করে , তারা নাকি , তাবলিগিরা ?

কোরানের কয়েকটা আয়াত আছে যা শান্তির কথা প্রচার করে যেমন –

সুরা কাফিরুন- ১০৯: ০৬: তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে।
সুরা বাকারা – ২: ২৫৬: দ্বীন নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি নেই।

আহা কত সুন্দর শান্তির বানী ! ইসলামের বানী যদি এরকমই হয় ,তাহলে ইসলামের মত শান্তির ধর্ম দুনিয়াতে দ্বিতীয়টা নেই। তাবলিগিরা এই ইসলামই প্রচার করে থাকে।সাধারন মুসলমানরাও প্রায় সবাই এই শান্তির ইসলামে বিশ্বাস করে। যদি ইসলামের মূল বানী এটাই হয়, তাহলে আবার ইসলামের নামে খুনখারাবি , হত্যা, সন্ত্রাস কেন ? কোরান যদি আর একটু বেশী পড়া যায় তাহলে নিচের বানীগুলো দেখা যাচ্ছে-

সুরা তাওবা – ৯: ০৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

ওরে বাবা , এই আয়াতে তো দেখি মার মার কাট কাট অবস্থা। মুশরিকদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে , সেখানেই হত্যা করতে বলছে। এখানে তো শান্তির কোন লেশ মাত্র নেই। আর একটা আয়াত –

সুরা তাওবা – ৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

হায় হায়, এ কি ! যারা ইহুদি ও খৃষ্টান তাদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে , শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহন না করার কারনে। তাহলে ? এখানে শান্তির কথা কোথায় ? এতো দেখি যুদ্ধ , হত্যা এইসব, তাহলে ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, তার কি হলো ? এই আয়াতের আবার ব্যখ্যা দিয়ে গেছে স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই , যেমন —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

অর্থাৎ উক্ত ৯: ৫ ও ৯: ২৯ আয়াতের ব্যখ্যা করতে গিয়ে মুহাম্মদ নিজেই বলেছেন – যতক্ষন পর্যন্ত অমুসলিমরা ইসলাম কবুল না করবে , ততক্ষন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জারি থাকবে। এইসব আয়াত বা হাদিসে কোথাও বলে নি যে , অমুসলিমরা আক্রমন করলে তাহলেই তাদেরকে আক্রমন করে যুদ্ধ করতে হবে , আর তাদেরকে হত্যা করতে হবে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে , বাংলাদেশে যে প্রায় দুই কোটির মত হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি আছে , তাদেরকে বাংলাদেশের মুসলমানরা এখনও আক্রমন করে হত্যা যে করে নি ,সেটা আসলে মুসলমানদের শান্তির ইসলাম না ,আসলে অধিকাংশ মুসলমান জানেই না , যে তাদেরকে কোরান ও মুহাম্মদ নিজেই আগ বাড়িয়ে আক্রমন করতে বলে গেছে যদি না তারা ইসলাম কবুল করে। যদি জানত , তাহলে এতদিন বাংলাদেশে কোন অমুসলিম থাকার কথা না।

অমুসলিমদেরকে কিভাবে আক্রমন করে ভীত করে তুলতে হবে , সেটাও আছে কোরানে –

সুরা আল ইমরান – ৩: ১৫১: খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।

কিভাবে সেই ভীতির সঞ্চার করতে হবে , সেটাও সুন্দরভাবে কোরান বলেছে—-

সুরা আনফাল- ৮: ১২: আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

এবার বোঝা গেল , কেন কিছু খাটি ইমানদার মুসলমানরা তাদের কাছে কাফির হিসেবে চিহ্নিত লোকদেরকে চাপাতি দিয়ে হত্যা করছে। কেন তারা ধড় থেকে মুন্ডু কেটে হত্যা করছে।

কিন্তু সে যাই হোক , এখন মুমিনদের কাছে আমার প্রশ্ন , কোরান একবার বলছে , যার যার ধর্ম তার তার কাছে কিন্তু এরপরেই আবার বলছে – অমুসলিমদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ চলবে , তাদেরকে ঘাড় থেকে ধড় আলাদা করে তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করতে হবে , এমতাবস্থায়, কারা আসলে খাটি সহিহ মুমিন ? যারা শান্তির বানী প্রচার করে , তারা ? নাকি যারা কাফিরদের ঘাড় থেকে ধড় আলাদা করে দিচ্ছে ,তারা ?

একই সাথে , আমরা একজন মুমিনকে দেখে কি করে বুঝব যে সে শান্তির ইসলামের বানী হৃদয়ে বহন করছে, নাকি কোমরে চাপাতি নিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় আছে কাফিরের ঘাড় থেকে ধড় আলাদা করে দেয়ার উদ্দেশ্যে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “কারা সহিহ মুসলমান ? মুমিনেরা কি দয়া করে উত্তর দিবেন ?

  1. আসলে ইসলামের মূল বাণী হল
    আসলে ইসলামের মূল বাণী হল শান্তির। কিন্তু যেহেতু আরবের প্যাগানরা মুহাম্মদকে নবী হিসেবে মানতে চাইছিল না, তাকে মক্কা থেকে বিতাড়িত করেছিল আর হত্যা করতে চাইছিল,সেই সাথে তারা কাবা ঘরও দখল করে রাখতে চাইছিল, তাই মুহাম্মদকে যুদ্ধের পথ বেছে নিতে হয়।

    আর যুদ্ধের সময় যুদ্ধের বাণী আর শান্তির সময় শান্তির বাণী – এটাই তো স্বাভাবিক।

    1. প্যাগানরা কিভাবে মুহাম্মদকে
      প্যাগানরা কিভাবে মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মানবে ? প্যাগানদের ধর্ম তো আব্রাহামিক ধর্ম ছিল না। তারা তো নবীর ধারাবাহিকতা সম্পর্কে কিছু জানত না , জানলেও সেটা মানত না। সুতরাং তাদের তো মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মানার কথাই না। ইহুদি ও খৃষ্টানদের জন্যে সেটা বিবেচ্য বিষয় ছিল তাই না ? সেই খৃষ্টান ও ইহুদিরাও মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মানে নি। কারন তাদের কিতাবে ভবিষ্যতের নবীর যে বিবরন , বৈশিষ্ট্য তার সাথে মুহাম্মদের কোন মিল ছিল না। বিশেষ করে তৌরাতে লেখা ছিল নবী আসবে ইসরাইলি বংশ থেকে , মুহাম্মদ মোটেই ইসরাইলি বংশের কেউ ছিল না।

      ধরুন ,কোন হিন্দু/খৃষ্টান/ইহুদি যদি এখন কোন মসজিদের ভিতর ঢুকে তার হিন্দু/খৃষ্টান/ইহুদি ধর্ম প্রচার করে, মুসলমানরা সেটা মেনে নেবে ? নেবে না। মক্কাবাসীদের একটা ধর্ম ছিল, সেই ধর্ম পালনের জন্যে তাদের একটা মন্দির ছিল সেটা কাবা । এখন হঠাৎ করে মুহাম্মদ সেই কাবা ঘরে ঢুকে কুরাইশদের ধর্মকে অপমান করছিল, সেটা কুরাইশরা মানবে কেন , বিশেষ করে মুহাম্মদ যখন আব্রাহামিক ধর্মের ধারায় নিজেকে নবী দাবী করছিল ? এইসব নবুয়তি তো কুরাইশদের ধর্মের সাথে মেলে না।

      আর কুরাইশরা কিন্তু মুহাম্মদকে কখনই হত্যা করতে চা্য় নি , করার চেষ্টাও করে নি। এই যে হত্যা প্রচেষ্টার কথা প্রচার , এটা সঠিক না। যদি কুরাইশরা মুহাম্মদকে হত্যা করতেই চাইত , তাহলে মুহাম্মদ ১২ বছর ধরে মক্কায় তার ইসলাম প্রচার করতে পারতেন না। বরং মুহাম্মদ নিজেই মদিনাবাসী কিছু গোত্রপতি , ও সেখানে হিজরত করা মুসলমানদের সাহায্যে মক্কা আক্রমনের ষড়যন্ত্র করছিলেন। সেই খবর মক্কায় প্রচার হয়ে গেলে , তখনই কুরাইশরা মুহাম্মদের ওপর খেপে যায়। এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরন আছে , ইবনে ইসহাকের সিরাতে।

      এখন আপনি আগ বাড়িয়ে ঝামেলা পাকাবেন , তারপর যাদের সাথে ঝামেলা পাকাবেন তারা যদি কোন পদক্ষেপ নেয়, তখন সব দোষ তাদের হয়ে যাবে , এটা তো পায় পাড়া দিয়ে ঝামেলা পাকাবেন , আর তখন সব দোষ হয়ে যাবে অন্যের ?

      1. সেই খৃষ্টান ও ইহুদিরাও

        সেই খৃষ্টান ও ইহুদিরাও মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মানে নি। কারন তাদের কিতাবে ভবিষ্যতের নবীর যে বিবরন , বৈশিষ্ট্য তার সাথে মুহাম্মদের কোন মিল ছিল না

        আমি যতটুকু যানি মুহাম্মদ নিজেকে নবী দাবী করলে অনেক ইহুদী আর খৃষ্টান পন্ডিতই মুহাম্মদকে নবী হিসেবে স্বিকৃতী দেয়। তাছাড়া মুহাম্মদকে যারা নবী হিসেবে মেনে নেয়, তাদের বেশীর ভাগই প্যাগান-খৃষ্টান আর ইহূদী ছিল। মুহাম্মদ মদীনায় যাবার আগে থেকেই মদীনায় মুহাম্মদকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে মদীনার প্যাগান-ইহূদীরা তাকে স্বাগত জানায়।

        সমস্যা বেদেছে কেউ কেউ নবী হিসেবে মেনেছে আবার কেউ কেউ মানে নি। কিন্তু তাই মুহাম্মদের উপর জোর জবর দস্তি করা ঠিক হয় নি। আবু সুফিয়ান মক্কায় মুহাম্মদকে প্রটেক্ট না করলে মুহাম্মদকে অনেক আগেই অক্কা পেতে হত।

  2. মুসমানদের মধ্যে মারামারি
    মুসমানদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি করে শেষ পর্যন্ত যে বেঁচে থাকবে তিনিই সহিহ মুসলমান।

  3. প্রথমদিকে ইসলামের বাণীগুলো
    প্রথমদিকে ইসলামের বাণীগুলো শান্তিরই ছিলো। পরে, মদিনায় আধিপত্য বিস্তারের পর শুরু হলো যুদ্ধ জিহাদ কতল… তরবারি ব্যবহার না করলে, আমার মনে হয় না, ইসলাম কখনো এতো দূর পৌঁছতে পারতো।

  4. যে কেউ অাল্লাহ এবং রাসুলের
    যে কেউ অাল্লাহ এবং রাসুলের বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করবে তাকে হত্য করা ইসলামে বৈধ, তার তওবা গ্রহনযোগ্য হবে না যদি না ধরাপরার অাগেই সে তওবা করে। এর জন্য কোন ইসলামি রাষ্টের প্রয়যন নেই যে কোন মুসলিম এই দন্ড প্রয়োগ করতে পারবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

96 − 87 =