বাংলাদেশি নিপিরিত হিন্দুদের নির্মম বাস্তবতা

বাংলাদেশের অতিত ঘাঠলেই পাওয়া যায় গনহত্যা,নিপিরন,শোষন,দমনের ইতিহাস।সুদুর পাকিস্তান আমল থেকেই বাঙ্গালি নিপিরিত,এই নিপিরিতিদের মধ্যে একাংশ নিজেদের লিঙ্গের অগ্রভাগ দেখিয়ে মুক্তি পেলেও যারা মুক্তি পায়নি তাদের নাম বাঙ্গালি হিন্দু।স্বাধীনতাত্বর ইংরেজ শাসনের পতনের পর গঠিত হয় দুটি দেশ গনতান্ত্রিক ভারত এবং ধর্মভিত্তিক পাকিস্থান,মুলত ভারতের উত্তরাংশের এবং পুর্বাংশের মুসলিম সংখ্যাগরিস্ট অঞ্চল গুলি নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্থান।দুই পাকিস্থানের মুসলিমরা যতটা না ভারত বিদ্ধেষি ছিলো তার অধিক তারা ছিলো হিন্দু বিদ্ধেষি,অবশ্য এই কথা বলাই বাহুল্য মুসলিমদের তীব্র হিন্দু বিদ্ধেষের পরিনামেই একটি অখন্ড ঐক্যবদ্ধ দেশ বিভাজিত হতে বাধ্য হয়।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ঘাটলেও পাওয়া যায়,যুদ্ধে অংশ গ্রহনকরি মুসলিমদের বড় অংশের কাছেই জাতীয় স্বার্থের থেকে ধর্মীয় স্বার্থই বেশি গুরুত্বপুর্ন ছিলো। জিন্না,ইকবাল দের ব্যাক্তিগত মতবাদ ও মুসলিম লীগের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করলেই তা বোঝা যায়,ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমরা সর্বস্থরে সম্পৃক্ত হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি এবং তুরস্কের পরাজয়ের পর ইংরেজদের দ্বারা তুরস্কের খলিফাকে পদচ্যুত করার পর।এরপর বহু সংগ্রাম,বিদ্রোহ এবং অবশেসে আসে কাঙ্খিত স্বাধীনতা,কিন্তু এই স্বাধীনতা আসে খন্ডাকারে।একদিকে নব্য বিভাজিত দুই দেশের মানুষ স্বাধীনতার আনন্দ উল্লাশে মাতলেও একদল মানুষ পালন করছিলো ভাগাভাগির দুঃখ।

এটাকে পুর্ব পশ্চিম উভয় পাকিস্থানি সংখ্যালঘু হিন্দুদের ভাগ্যবিরম্বনাই বলা চলে যে,স্বাধীনতার পর ভারতের সিংহাসনে বসা কথিত সেকুলার শাসকরা নিজেদের দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে এবং নবগঠিত পাকিস্থানকে নানাদিক থেকে সাহায্য দিতে বদ্ধপরিকর থাকলেও তারা মুলত এড়িয়ে গেছিলো পাকিস্থানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের ব্যাক্তি স্বার্থ।যেহেতু মুসলিমরা প্রথম থেকেই হিন্দু বিদ্ধেষি মনভাবাপন্ন ছিলো তাই তারা দেশ ভাগের পরই শুরু করে ব্যাপক হারে হিন্দু নির্যাতন,এবং সেই সাথে দুই পাকিস্থানেই শুরু হয় হিন্দুদের সংস্কৃতি বিলুপ্তিকরন তাদের উপাসনালয়,ব্যাবসা প্রতিস্টান ধংষ প্রকল্প,ফলে ব্যাপক হারে পুর্ব এবং পশ্চিম দুই পাকিস্থান থেকেই হিন্দুদের পলায়ন শুরু হয়।নিচের পরিসংখ্যানটি দেখুন
পাকিস্থান(পশ্চিম)
১৯৪৭ সালে সারা পাকিস্থানে ১৮% করাচিতে(৫২%)
১৯৭১সালে সারা পাকিস্থানে ৭% করাচিতে(২৩%)
পাকিস্থান বিভক্ত হওয়ার পর
২০০১ সালে সারা পাকিস্থানে ১.২% করাচিতে(২%)
(এখানে বলে রাখা উচিত পাকিস্থান গত ১৫ বছর ধরে জনসংখ্যা পরিমাপ করেনি ফলে হিন্দুদের সঠিক পরিমান নির্নয় করা কঠিন,প্রকৃত পরিসংখ্যান এর থেকেও কম হতে পারে।)
পাকিস্থান(পুর্ব)
১৯৪৭ সালে-৩১%
১৯৬১ সালে-১৯%
১৯৭১ সালে-১৬%
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর
২০১০ সালে-৮.৫%

দেশভাগের পর কয়েক বছর পাকিস্থানের রাস্ট্র পরিচালন ব্যাবস্থা,অপেক্ষাকৃত সুস্টু ভাবে পরিচালিন হলেও শীগ্রই একক ভাবে পাকিস্থানের ক্ষমতা নিয়ে শুরু হয় পাকিস্থানের দুই অংশের নিবাসিদের মধ্যে সংঘ্যাত।পুর্ব পাকিস্থানের বাঙ্গালি মুসলিমরা নিজেদের মনেপ্রানে পাকিস্থানি ভাবলেও পশ্চিম পাকিস্থানিদের বড় অংশই তাদের পাকিস্থানিতো দুরে থাক মুসলিমই ভাবতো না,কারন ধর্মের নিরিখে পাকিস্থান গঠিত হলেও দুই অংশের পাকিস্থানিদের মধ্যে জাতিগত এবং সংস্কৃতিগত ভাবাবেগ রিতি রেওয়াজে ছিলো আকাশ পাতাল তফাত,এটা বলাই বাহুল্য পশ্চিম পাকিস্থানিদের কাছে বাঙ্গালি সংস্কৃত মাত্রই ছিল হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি।ফলে স্বভাব সিদ্ধ ভাবেই পশ্চিম পাকিস্থানিরা একে একে পুর্ব পাকিস্তানিদের সাংস্কৃতিক ভাবাবেগে আঘাত হানা থেকে শুরু করে তা নির্মুলিকরন অভিযান শুরু করে,সৌভাগ্যবশত পুর্ব পাকিস্থানি বাঙ্গালিদের বৃহত্তর অংশই তা মেনে নেয়নি যার ফলে শুরু হয় বিদ্রোহ প্রথমে ভাষা আন্দোলন তারপর ছয় দফার আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ,প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলার হিন্দু মুসলিম কাঁধে কাঁধ গলায় গলা মিলিয়ে এগিয়ে এসেছিল এবং ছিনিয়ে এনেছিলো বিজয়।এখানে উল্লেখ্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন বাংলা তথা পৃথিবীর বুকে বিরল এক গনহত্যা সংগঠিত হয় যাতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় সংখ্যালঘু হিন্দুরা,নয় মাসের যুদ্ধে আনুমানিক ১৫+ লক্ষ হিন্দু হত্যা করা হয় এবং ধর্ষনের স্বিকার হয় ১+ লক্ষ হিন্দু নারি এছারাও যবর দখল হয় কয়েক লক্ষ কোটি টাকার হিন্দু সম্পত্তি।

কিন্তু এই বিজয় যে আদতে হিন্দুদের ছিলনা,তা বুঝতে বেশি সময়ও লাগেনি তাদের,সত্রুসম্পত্তি নাম দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালিন যেই সব হিন্দু সম্পত্তি পাকিস্থানি শাসক এবং তাদের দোসররা যবর দখল করে হিন্দুদের বিতারিত করেছিল,বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তা হয়ে যায় অর্পিত সম্পত্তি এবং সেই সব সম্পত্তির মালিকানা সত্ত নিয়ে নেয় ততকালিন বাংলাদেশের শাসকবৃন্দ।মুক্তিযুদ্ধ!যার ভিত্তিই ছিলো মুলত একটি অসাম্প্রদায়িক,গনতান্ত্রিক দেশ গঠন,স্বাধীনতার পর তা শ্রেফ পাকিস্থানিদের মুসলিমদের সরিয়ে বাঙ্গালি মুসলিমদের রাজত্ব কায়েমে পরিনত হয়।বাঙ্গালি মুসলিমরা বিশ্বাস ঘাতকের ন্যায় স্বাধীনতার পর একে একে বাংলাদেশের সব ক্ষমতাই দখল করে নেয়,এবং তা করে অতি সুকৌশলে ও তাদের মেকি ধর্মনিরুপেক্ষতার অন্তরালে থেকে।ফলে স্বাধীনতা আসলেও আক্ষরিক অর্থে তা ছিলো একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য।উপরে উল্লেখিত পরিসংখ্যানে লক্ষ করলে দেখা যায় পাকিস্থান আমলে এই পুর্ব পাকিস্থান থেকে যত হিন্দু ভারত পলায়ন করেছে তার অধীক করেছে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর।অর্থাৎ পাকিস্থান আমলে হিন্দুরা এদেশে নিজেদের যতটা নিরপদ মনে করত যারা ভয়ঙ্কর গনহত্যার স্বিকার হয়েও এদেশ ছেরে যায়নি তারাই স্বাধীনতার পর এদেশ ছেরে ভারত পলায়ন করতে বাধ্য হয়।

সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিশ্ব ব্যাপি সমিক্ষা করা কিছু সংস্থার মতে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০০০০+ হিন্দু ভারত পলায়ন করে,যা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ পুরোপুরি হিন্দু শুন্য হয়ে যাবে।প্রতি বছর বাংলাদেশে ৬০০টির ও বেশি হিন্দু বিরোধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটে,প্রতি বছর ৫০+ হিন্দু নারি অপহরন ও জোর করে ধর্মান্তরকরনের স্বীকার হয়।পরিসংখ্যানটা প্রকৃত বাস্তবতা থেকে বহুগুন ছোটো তা আমরা জানি আর এটাও কারও অজানা নয় যে প্রকৃত বাস্তবতা কতটা বয়াবহ।কিন্তু দুঃখের বিষয় এই নিপিরিত শোষিত সম্প্রদায়টির পাশে থাকার মানুষের বড় অভাব।কথিত বিপ্লবীরা ফিলিস্তিন,মায়ানমার আর কাশ্মির নিয়া উদ্ভিগ্ন থাকলেও তাদের মানবতা এতটুকুও এই হিন্দুদের জন্য জাগ্রত হয় না।না আছে কোনো নিউজ মিডিয়া।বাংলাদেশি হিন্দুরা আজ ভুগছে তীব্র অস্তিত্ব সঙ্কটে কারন ভারত এদের নিজেদের অংশ মানতে নারাজ আবার বাংলাদেশও এদের কাছে বসবাসের অযোগ্য।তাই আজ এই সম্প্রদায়টি চরম দুরবস্তার মধ্যে দিয়ে দিন নিপাত করতে বাধ্য হচ্ছে যা ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশে জন্য লজ্জাজনক বলে আমি মনে করি।সেই সাথেই তাদের আচরন ন্যাক্কারজনকও বটে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বাংলাদেশি নিপিরিত হিন্দুদের নির্মম বাস্তবতা

  1. হিন্দুদের মত নিমকহারাম
    হিন্দুদের মত নিমকহারাম নিকৃষ্ট জাতি এই পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই,ইংরেজদের পা চেটে হিন্দু জমিদাররা এদেশের মানুষের উপর যে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে তার কারনেই এদেশের গরিব অসহায় মানুষগুলি ইসলামের শান্তির পতাকাতলে অাশ্রয় নিয়েছে। হিন্দু পুরুহিতদের অশ্লীল কার্যকলাপ এদেশের মানুষ ঘৃনাভরে প্রত্ব্যাক্ষান করেছে। পৃথিবীতে এমন অশ্লীল বিকল ধর্ম খুজে পাওয়া দুরহ ব্যপার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 58 = 68