সেনাবাহিনী অফিসারের পাহাড়কে পৈতৃক সম্পত্তি মনে করার কেচ্ছা

১.
পাহাড়ের মালিক কি আপনি ? আমরা সরকারী লোক, আমরা কোথাকার পাহাড় কাটবো না কাটবো, সেটা কাউকে জানিয়ে করবোনা ৷ আপনি জানার কে ?
কথাগুলো বলছিলেন রাঙামাটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এস এম আনিছুর রহমান পিএসসি ৷

রাঙামাটি রেডিও ষ্টেশন এলাকায় পুলিশ বক্স সংলগ্ন বিশাল পাহাড় ভল্ডোজার দিয়ে উজার করে ১৯ ইসিবি’র ২টি ট্রাকসহ ৯টি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিজিবি’র জায়গা ভরাট করার লক্ষে ৷ ট্রাকগুলোতে ঠিকমত লাগানো হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ষ্টিকারও ৷ পরিবেশের ক্ষতি করে পাহাড় কেটে মাটি নেওয়ার অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার পোয়া কালামের কেরানী রাঙামাটি জেলা বিএনপি’র নেতা হাত কাটা আজিম উদ্দিন ভুট্টো দম্ভের সুরে বলেন, আপনি বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডারের কাছে জিজ্ঞেস করেন ৷ ট্রাক সিটি কর্পোরেশনের কিনা জানতে চাইলে সিটি কর্পোরেশনের ষ্টিকার লাগানো ট্রাকের ড্রাইভার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ট্রাক গুলি একটিও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নয় ৷ এগুলো মালিক মগাইছড়ি এলাকার,ভাড়ায় চালিত ট্রাক ৷ আপনি বিজিবি’তে কথা বলেন ৷
জানা গেছে উলেস্নখিত পাহাড়টির মালিক রাঙামাটি পৌর সভার অবসর প্রাপ্ত প্রধান সহকারী অনুরুদ্ধ চাকমা ৷

উল্লেখিত পাহাড় কেটে মাটি নেওয়ার যথাযত কতৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়ে রাঙামাটি বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এস এম আনিছুর রহমান পিএসসি’র মুঠোফোন ০১৭৬৯৬০১২**-তে ফোন করে জানতে চাইলে সেক্টর কমান্ডার সেই পাকিস্থানী আর্মি স্টাইলে ধমক দিয়ে বলেন, পাহাড়ের মালিক কি আপনি ? আমরা সরকারী লোক, আমরা কোথাকার পাহাড় কাটবো না কাটবো, সেটা কাউকে জানিয়ে করবোনা ৷ আপনি জানার কে ? বলেন কেন জানতে চাচ্ছেন ? প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করলে, প্রতিবেদক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পাহাড় কাটা দেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ তাই…তিনি প্রতিবেদকের কথা না শুনে রাগান্বিত সুরে বলেন , এখানকার কোন কিছু করার অনুমোদন আমরা দিই, আমরা কেন অনুমোদন নেবো ? আমরা অনুমোদন দিই, অনুমোদন নিই না, আপনি চুপ করেন, বেশী কথা বলবেন না বলে মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ৷


কর্ণেল এস এম আনিছুর রহমান পিএসসি

রাঙামাটি রেডিও ষ্টেশনের পাহাড় কাটার রাঙামাটি বিজিবি’র অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন বলেন, রেডিও ষ্টেশন এলাকাটি আমার সদর উপজেলাধীন। কিন্তু পাহাড় কাটার ব্যাপারে বিজিবি’র মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে পাহাড় কেটে মাটি নেওয়া আইনগত কোন অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই, প্রচলিত আইনে কেউ পাহাড় কাটার আবেদন করলেও সেটা সাথে সাথে খারিজ হয়ে যাবে ৷ পরিবেশের ক্ষতি সাধন বা পাহাড় কাটার কোন আইনগত সুযোগ নেই ৷
রাঙামাটি বিজিবি’র পাহাড় কাটার বিষয়টি জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সাথে পাহাড় কাটা নিয়ে কেউ কথা বলেন নাই, কোন আবেদন পত্রও জমা নাই।
(নিউজ লিংক)
২.
অনলাইন প্রচার মাধ্যমের কল্যাণে সবাই কমবেশি এখন বান্দরবানের থানচির কথা জানেনে।
গত বেশ কিছুদিন ধরেই এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার চেয়ারম্যান ক্যহ্লা চিং মারমা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন এ বছর সে এলাকায় জুম চাষ সফল না হওয়ায় এই খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
এই এলাকার মানুষের জীবন সম্পূর্ণ জুমচাষের উপর নির্ভরশীল।
উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, জুম চাষ সফল না হওয়ায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
তখন থেকেই সেখানকার মানুষ পাহাড়ি জঙ্গলের আলু খেয়ে তাদের খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছিলেন। কিন্তু এখন সেই পাহাড়ি আলুও নেই।
সে কারণে খাদ্য সংকট তীব্র হয়েছে বলে উল্লেখ করেন থানচি উপজেলার চেয়ারম্যার।

তবে এ পরিস্থিতিকে ‘খাদ্য সংকট’ বলে মনে করছে না জেলা প্রশাসন।
তিনি বলেন , “এটা ঠিক খাদ্য সংকট না। খরাজনিত সমস্যা”।
খাদ্য সংকট না হলে জেলা প্রশাসন কেন চাল বিতরণ করছে?
এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, “ফুড (খাদ্যnp) দিতে হচ্ছে.. কারণ তারা চেয়েছে, আমরা দিচ্ছি। সংকট বলা চলে না আর কি
তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্গম সে এলাকায় সরকারের উদ্যোগে ফলের গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে। যাতে করে সে এলাকার মানুষ সেখান থেকে তাদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারে।(নিউজ লিংক)

৩.
কতিপয় পরিবেশবাদী দাবি করা পাহাড়ে জুম চাষ সম্বন্ধে অজ্ঞদের মতে বলা হয়, জুম চাষ পরিবেশের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। এর প্রভাবে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়বে।যার ফলে তারা সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে জুম চাষের বিরোধিতা করে করছে।জুম চাষে নিরুৎসাহিত করে করছে।
ফলে জুম চাষিরা জুম চাষে অাগ্রহ হারিয়ে অন্য পেশায় ঝুকছে।যদিও পাহাড়ে পেশা পরিবর্তনে ভাগ্য কিংবা অর্থনৈতিক উভয়ই পরিবর্তন হয় না। কারন পাহাড়ের বাজার অর্থনীতির লাগাম সরকারি রেশন খাওয়া সেটেলারের এবং সরকারের হাতে।এই যে হঠাৎ করে পেশা পরিবর্তন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জুম চাষের উপর নির্ভরশীল পরিবার গুলোর উপর।এই প্রভাব বাড়তে বাড়তে এখন দুর্ভিক্ষের অাকার ধারন করেছে।ফলে জুমের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলো ধ্বংস হচ্ছে, পরিবার ধ্বংস হচ্ছে, জুম চাষের উপর নির্ভরশীল জাতিগোষ্ঠীগুলো ধ্বংস হচ্ছে।

যারা পহাড়ের জুম চাষের বিরোধিতা করে তারা হয়তো এটা জানেনা যে জুম চাষে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত নিয়মে জুম চাষ করা হয়।কোন জায়গায় কেউ যদি একবার জুম চাষ করে তাহলে সেই জায়গাটি পরবর্তী চাষের জন্য অনন্ত তিন থেকে পাঁচ বছর অনাবাদী রাখা হয়। ফলে সেই জায়গাটি জুম চাষের সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকে।এই নিয়মটি মেনে সকল জুমিয়া বংশপরম্পরায় জুম চাষ করে অাসছে।

৪.
লেখার শুরুটা যে খবর দিয়ে শুরু করেছিলাম,এরকম খরব সচরাচর পত্রিকায় বা খবরে অাসে না।যদিও এ সমস্ত খবর কিছু সাহসী অানলাইন সংবাদমাধ্যমে দু-একবার অাসে কিন্তু সেগুলোর পাঠক সংখ্যা কম হওয়ায় অধিকাংশ লোকেরই অজানা থাকে।

সরকার যেমন জিহুজুর লোকদের দিয়ে পাহাড়ে জুম চাষের বিরোধিতা করাচ্ছে তেমনি ঠিক একই পাহাড় কাটাচ্ছে তার রেশন খাওয়া লোকদের দিয়ে। ঠিক একইভাবে পাহড় কেটে সাজেক বানানো হচ্ছে, নীলগিরি বানানো হচ্ছে, ক্যাম্প করা হচ্ছে।
যে পাহাড়ে দু-তিন বছর অাগেও জুম চাষ করা হতো সে পাহাড় থেকে জুমিয়াদের পরিকল্পিত উচ্ছেদ করে সেখানে উন্নয়নের নাম দিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছে।পাশাপাশি সেইসব পাহাড়ে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে সরকারী রেশনভোগী সেটেলার কীটগুলোকে।

যখন পাহাড়ে জুমিয়া পাহাড় কাটে তখন পরিবেশের ভারসাম্য ধ্বংস হয়,জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ে যায়। কিন্তু সরকার যদি পাহাড় কাটে তখন এটা হয় উন্নয়ন।সরকার গিলাচ্ছে অামরা গিলচ্ছি। মাঝখানে না খেয়ে মরছে থানচির ঐ পরিবারগুলো। এভাবে সরকার পরিকল্পিতভাবে সুকৌশলে শেষ করে দিচ্ছে পাহাড়ের মানুষগুলোকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সেনাবাহিনী অফিসারের পাহাড়কে পৈতৃক সম্পত্তি মনে করার কেচ্ছা

  1. সেনাবাইনী দেশের মানুষকে মনে
    সেনাবাইনী দেশের মানুষকে মনে ব্লাডি সিভিলিয়ান আর দেশকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি বলেই ভাবে। এই ভাবনা পাকিস্তানীদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 28 = 31