উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ

এ কয়েকদিন ধরে মনে হয় টপ নিউজ I am GPA-5!
অনেকেই এই বিষয়ে কথা বলছেন। SSC তে গোল্ডেন আমিও পেয়েছিলাম। আমার বেশ কয়েকজন বন্ধুও GPA-5.00 পেয়েছিল। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বইটা ভালোভাবে পড়েছিল। গ্রাম থেকে যারা A+ পায়, সচরাচর তারা ভালো ছাত্ৰই হয়। কিন্তু কয়েকজন আছে যাদের অবস্থা খুবই খারাপ। এর পেছনে শিক্ষকদের দায় বেশি। আমার স্কুলেই তো পুরোটা ইংরেজি বই পড়াতো না। মাত্ৰ কয়েকটা প্যাসেজ আর কয়েকটা Vocabulary! ব্যস, এগুলোই সবসময় ঘুরে ফিরে আসত। আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে ম্যাথ বেছে বেছে করাতো- গোটা কয়েক অঙ্কেই বই শেষ। থিওরি পর্যন্ত পড়ায় না। যে বেশি অঙ্ক পারে বলে দাবি করে সেও প্ৰ্যাকটিস করতে করতে মুখস্থের মতো বানিয়ে ফেলেছে গণিত বিষয়টাকে। নিজে নিজে একটা প্যারাগ্ৰাফ লিখতে পারে না- চেষ্টাও করে না। স্যার যেন খুশি হন মুখস্থ করলে। তখনই আমার মনে হয় জহরলাল স্যারের কথা- গরু রচনা মুখস্থ করতে করতে আমরাই গরু হয়ে গেছি। আমার কলেজে এসে প্রথম দেখেছি ইংরেজি বই পুরোটা পড়াতে। ম্যাথ আমি আগেও থিওরি পড়তাম এখানে(NDC তে) এসে একদম মনের মত শিক্ষক পেয়েছি।
কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ কলেজের অবস্থাই খারাপ। কিন্তু রেজাল্ট অসাধারণ! বাংলাদেশের একটা টপ কলেজে আমার এক বন্ধু পড়ছে। তার ভাষ্য মতে তাদের কলেজে কখনোই Main বই পড়ায় নি। শুধু বোর্ড কোয়েশ্চন! হাতে গোনা কয়েকটি কলেজেই শুধু শিক্ষাব্যবস্থা ভালো। যাহোক, এই অবস্থার জন্য দায়ী কারা? আমি বলব বোর্ড দায়ী। এমন প্রশ্ন করা উচিত যাতে সঠিক মেধার যাচাই হয়। বার বার একই প্রশ্ন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করা যাবে না। আর সৃজনশীল পদ্ধতিটা প্রকৃত অর্থে সৃজনশীল হতে পারে নি। তাছাড়া অনেক শিক্ষকই সৃজনশীলতা পছন্দ করেন না। একটু ঘুরিয়ে লিখলেই কেটে দেয়। ক্লাস ওয়ান থেকেই মুখস্থ করানো শুরু হয়; আর তা উঁচু ক্লাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। শিক্ষানীতির আমূল পরিবর্তন দরকার। শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা সম্মান বাড়ানো দরকার। রাজনীতি যেন শিক্ষা অঙ্গনে না ঢুকে। তাহলেই আমরা মেধাবী শিক্ষকদের পাবো। সঙ্গে পাবো একটা উন্নত দেশ। অন্যথায় একদিন এই I am GPA-5.00রাই শিক্ষকতা(!) করবে আর বাংলাদেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে মহাসড়কে উঠবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 85 = 92