কোরান হাদিসের মধ্যে বিজ্ঞান ? -পর্ব-৩(ডিম্বাকৃতির পৃথিবী)

কোরানের মধ্যে ইতোপূর্বে মহাবিশ্ব সম্পর্কিত বিজ্ঞানের আলোচনা হয়েছে গত দুইটা পর্বে। এবারে ভুগোল বিজ্ঞান নিয়ে কিছু আলোচনা হবে। বিষয়- পৃথিবীর আকার। প্রথমেই জানা দরকার , কোরান কিন্তু কখনই পৃথিবীকে আসলে পৃথিবী বলে উচ্চারন করে নি , করেছে জমিন বা ভূমি হিসাবে। পৃথিবী ও জমিন/ভূমি নিশ্চিতভাবেই এক জিনিস না। জমিন হলো পৃথিবীর একটা ছোট অংশমাত্র, আর কোরান সেই জমিনকেই সম্পূর্ন পৃথিবী হিসাবে বর্ননা করেছে। এবার দেখা যাক , সেই জমিন তথা পৃথিবীর আকার কেমন , কি বলে কোরান এ বিষয়ে—

সুরা হিজর – ১৫: ১৯: আমি ভু-পৃষ্ঠকে বিছানার মত বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।

সুরা তোয়াহা- ২০: ৫৩: তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে বিছানাস্বরূপ করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।

সুরা – যুখরূপ-৪৩:১০: যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।

সুরা কাফ- ৫০: ৭: আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালার ভার স্থাপন করেছি এবং তাতে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উদগত করেছি।

সুরা – আযযারিয়াত- ৫১: ৪৮: আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।

সুরা নুহ-৭১: ১৯: আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে ভূমিকে করেছেন বিছানা।

সুরা আন নাবা- ৭৮: ৬: আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , কোরান আসলে সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর কোন বর্ননা দিচ্ছে না , বরং বর্ননা দিচ্ছে পৃথিবীর একটা ছোট অংশ ভূমিখন্ড বা জমির একটা বিরাট খন্ডের। সেটা বর্ননা করতে গিয়েই বার বার বলছে , ভূমি বা জমি হচ্ছে বিছানার মত সমতল। বলাবাহুল্য, কোরান পাঠ না করেও যে কোন মূর্খ ও বোকা লোককেও যদি প্রশ্ন করা হয়, আচ্ছা বল তো – ভূমি দেখতে কেমন ? বা ভূমির আকার কেমন ? সে কোনরকম চিন্তা ছাড়াই উত্তর দেবে – ভূমি তো দেখতে সমতল বা বিরাট একটা বিছানার মত। কোরান আসলে সেই বর্ননাই দিচ্ছে মাত্র। অর্থাৎ কোরান আসলে পৃথিবীর একটা ছোট খন্ডের বর্ননা দিচ্ছে মাত্র আর সেটা সেই বর্ননাই , যা আসলে মানুষ সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই যখন তাদের কিছুটা জ্ঞান হয়েছে তখন থেকেই জানত। কোরান এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রমী ধর্মী কোন বক্তব্যই দেয় নি।

ঘটনা এ পর্যন্ত হলে ভাল হতো , কিন্তু কিছু ইসলামী বিজ্ঞানী কোরানের মধ্যে পৃথিবীর আকার যে উট পাখির ডিমের মত ( যদিও পৃথিবীর আকৃতি উট পাখির ডিমের মত না , বরং সেটা আপেল বা কমলার মত) সেটা খুজে পেয়েছে , আর তাতেই সমস্যাটা জটিল আকার ধারন করেছে। তারা যে আয়াত থেকে এই পৃথিবী উট পাখির ডিম তত্ত্ব আবিস্কার করেছে সেটা হলো ———–

সুরা আন নাযিয়াত- ৭৯: ৩০: পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।

রাশাদ খলিফা এই আয়াতের অনুবাদ করেছেন এভাবে —

নাযিয়াত- ৭৯: ৩০: পৃথিবীকে এর পরে ডিম্বাকৃতির করেছেন।

এই অনুবাদকেই পরে দুই একজন তাদের অনুদিত কোরানে ঢুকিয়েছেন। যাই হোক তার আগে দুনিয়ার সকল বিখ্যাত ইসলামী পন্ডিত কিভাবে এই ৭৯: ৩০ আয়াত অনুবাদ করেছেন , সেটা দেখা যাক—-

Muhammad Asad : And after that, the earth: wide has He spread its expanse,

M. M. Pickthall :And after that He spread the earth,

Shakir :And the earth, He expanded it after that.

Yusuf Ali (Saudi Rev. 1985) :And the earth, moreover, hath He extended (to a wide expanse);

Yusuf Ali (Orig. 1938) And the earth, moreover, hath He extended (to a wide expanse);

Dr. Laleh Bakhtiar : And, after that, He spread out the earth.

Wahiduddin Khan and the earth which He spread out,

T.B.Irving and the earth has He spread out besides,

Safi Kaskas After that He spread out the earth.

[Al-Muntakhab] and the earth did He prepare for life at a later date.*

[The Monotheist Group] (2011 Edition) And the land after that He spread out.

Abdel Haleem and the earth, too, He spread out,

Abdul Majid Daryabadi And the earth!- thereafter He stretched it out.

Ahmed Ali And afterwards spread out the earth.

Aisha Bewley After that He smoothed out the earth

Ali Ünal And after that He has spread out the earth in the egg-shape (for habitability).

Ali Quli Qara’i and after that He spread out the earth,

Hamid S. Aziz And after that He expanded (spread) the earth.

Muhammad Mahmoud Ghali And the earth, after that He flattened it (for life).

Muhammad Sarwar After this, He spread out the earth,

Muhammad Taqi Usmani a nd, after that, He spread out the earth.

Shabbir Ahmed And after that He made the earth shoot out from the Cosmic Nebula and made it spread out egg-shaped. (‘Dahaha’ entails all the meanings rendered (21:30), (41:11)).

Syed Vickar Ahamed And more, He has extended the earth (far and wide also in the shape of an egg):

Umm Muhammad (Sahih International) And after that He spread the earth.

Farook Malik After that He spread out the earth,

Dr. Munir Munshey And after that, He spread out the earth.

Dr. Mohammad Tahir-ul-Qadri And He is the One Who, later, (after the creation of the planet sun) separated (from it) the earth, flung it with centrifugal force (and spread its expanse to make it inhabitable).

Dr. Kamal Omar And the earth, after this stage, He gave it an oval form.

Talal A. Itani (new translation) And the earth after that He spread.

Bilal Muhammad (2013 Edition) And the earth, moreover, has He extended.

Maududi and thereafter spread out the earth,

Ali Bakhtiari Nejad And after that He expanded the earth.

[The Monotheist Group] (2013 Edition) And the land after that He spread out.

Mohammad Shafi And the earth thereafter � He spread it out.

সূত্র: http://www.islamawakened.com/quran/79/30/default.htm

বিখ্যাত সব ইসলামী পন্ডিত যাদের অনেকেরই মাতৃভাষাই ছিল আরবি তারা কেউ কিন্তু উক্ত আয়াতে ডিম খুজে পায় নি। ডিম খুজে পেয়েছে মাত্র একজন , যার অনুবাদ নিচে আবার দেয়া হলো –

Ali Ünal And after that He has spread out the earth in the egg-shape (for habitability).

এই Ali Ünal কে? এই ব্যাক্তি একজন তুরস্কের অধিবাসী, জন্ম- ১৯৫৫। তিনি হঠাৎ করে কোরানে ডিম খুজে পেলেন ? আসলে না। তার আগে যে ব্যাক্তি ডিম খুজে পেয়েছে তিনি হলেন রাশাদ খলিফা, আর তার অনুবাদ নিচে—

[79:30] He made the earth egg-shaped.*

কে এই রাশাদ খলিফা ? সেটা দেখা যাক নিচে-

Rashad Khalifa (Arabic: رشاد خليفة‎‎; November 19, 1935–January 31, 1990) was an Egyptian-American biochemist, closely associated with the United Submitters International. He was assassinated on January 31, 1990.

Khalifa said that he was a messenger of God and that the archangel Gabriel “most assertively” told him that chapter 36, verse 3, of the Quran, “specifically” referred to him.[4][5] His followers refer to him as God’s Messenger of the Covenant.[6] He promoted a strict monotheism and was a prominent Quranist, rejecting the hadith and sunnah as fabrications attributed to Muhammad by later scholars.

He wrote that the Quran contains a mathematical structure based on the number 19 and made the controversial claim that the last two verses of chapter nine in the Quran were not canonical, telling his followers to reject them.[7] His two-fold reasoning was that the verses, in addition to disrupting an otherwise flawless nineteen-based pattern, were sacrilegious inasmuch as they appeared to endorse worship of Mohammed. Starting in 1968, Khalifa used computers to analyze the frequency of letters and words in the Quran. In 1974, he claimed that he had discovered a mathematical code in the text of the Qur’an involving the number 19. The details of this analysis are available in his book, Quran, the Final Testament.[8]

সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Rashad_Khalifa

অর্থাৎ এই রাশাদ খলিফার জন্ম – ১৯৩৫ আর ১৯৯০ সালে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় , কেন হত্যা করা হয় ? সেটার কারন উপরে বলা আছে , তিনি নিজেকে নবী দাবী করেছিলেন। অর্থাৎ বিংশ শতকের নবী। এর পর কি আর মুমিনেরা তাকে বাঁচিয়ে রাখে ? আমেরিকায় যেখানে তিনি থাকতেন , মুমিনরা তার বাড়ীর দরজাতেই তাকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে হত্যা করে। এই সেই বিংশ শতকের দাবীকারী নবির কোরান অনুবাদেই এই ডিমের খোজ পাওয়া গেছে।

মজার ব্যপার হলো মুমিনেরা এই রাশাদ খলিফার নবুয়ত্বকে মেনে নিতে পারে নি , কিন্তু তার বিকৃত কোরানের অনুবাদ ঠিকই মেনে নিয়েছে। কারন সেটাই তাদের দরকার। কিন্তু তাতে সমস্যা হলো -তাতে সারা দুনিয়ার বিখ্যাত সব ইসলামী পন্ডিতদের অনুবাদ ভুল হয়ে যায় , আর কথিত নবীর অনুবাদ সঠিক।যদি দুনিয়ায় একমাত্র রাশাদ খলিফাই কোরানকে সঠিক বুঝতে পারে , আর সেটাই মুমিনেরা স্বীকার ও গ্রহন করে ,তাহলে তাকে নবী হিসাবে মানা হবে না কেন ? আর দুনিয়ার অন্য সকল ইসলামী পন্ডিতদের অনুদিত কোরানকে বাতিল বলে গন্য করে , সেসব বাজার থেকে বহিস্কার করার জন্যে জিহাদ ঘোষনা করা হবে না কেন ?

এছাড়াও আর একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় কোরানে যে সব আয়াতে জমিন শব্দটি আছে , যেমন আগের আয়াতগুলোতে , সর্বদাই সেটার জন্যে আরবী-” Arda” এই শব্দটা ব্যবহৃত হয়েছে। এই ৭৯: ৩০ আয়াতেও কিন্তু এই একই শব্দ Arda ব্যবহৃত হয়েছে। প্রকৃতিগত ভাবে সকল আয়াতই একই রকম অর্থ প্রকাশ করছে আর প্রকাশ করছে , আল্লাহ কিভাবে এই Arda বা জমিকে বিছানার মত বিস্তৃত করেছে।শুধুমাত্র ৭৯: ৩০ আয়াতে এসে এর অর্থ “পৃথিবী” হয়ে যায় কেমনে ? জমিন আর পৃথিবী তো এক জিনিস না। ইংরেজীতে Earth অর্থ- পৃথিবী বা জমিন দুইটাই। এখন সকল অনুবাদে যদি জমিন হিসাবে অর্থ করা হয়, তাহলে কিন্তু তাদের অনুবাদ ঠিকই আছে , কিন্তু হঠাৎ করে রাশাদ খলিফা এই জমিনকে ডিমের আকৃতি বানিয়ে গোলটা বাধিয়েছে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , কোরানের মধ্যে জমিনের প্রকৃতি বুঝাতে যা বলেছে তাতে কোন ভুল নেই , জমিন যে বিস্তৃত একটা বিছানার মত সেটা সবাই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে জানেও , সেটা জানার জন্যে কোরান পড়ার কোন দরকার নেই , মুহাম্মদ সাদা চোখেও দেখতেন জমিন বিছানার মত বিস্তৃত, তাই দেখা যাচ্ছে মুহাম্মদ সাদা চোখে জমিনকে যেমন দেখতেন সেটাই বর্ননা করেছেন কোরানে। বরং তার ও কোরানের জানার সাথে দেখা যাচ্ছে প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকদের জানার তফাৎ ছিল , তারা বরং বিশ্বাস করত , পৃথিবী গোলাকার যেমন –

Greek philosophy

According to Diogenes Laertius, “Pythagoras was the first Greek who called the Earth round; though Theophrastus attributes this to Parmenides, and Zeno to Hesiod.”

Pythagoras

Early Greek philosophers alluded to a spherical Earth, though with some ambiguity.[14] Pythagoras (6th century BC) was among those said to have originated the idea, but this may reflect the ancient Greek practice of ascribing every discovery to one or another of their ancient wise men.[10] Some idea of the sphericity of the Earth seems to have been known to both Parmenides and Empedocles in the 5th century BC,[15] and although the idea cannot reliably be ascribed to Pythagoras,[16] it may, nevertheless have been formulated in the Pythagorean school in the 5th century BC[10][15] although some disagree.[17] After the 5th century BC, no Greek writer of repute thought the world was anything but round.[14]

Plato

Plato (427–347 BC) travelled to southern Italy to study Pythagorean mathematics. When he returned to Athens and established his school, Plato also taught his students that Earth was a sphere though he offered no justifications. “My conviction is that the Earth is a round body in the centre of the heavens, and therefore has no need of air or of any similar force to be a support”.[18] If man could soar high above the clouds, Earth would resemble “one of those balls which have leather coverings in twelve pieces, and is decked with various colours, of which the colours used by painters on Earth are in a manner samples.”[19] In Timaeus, his one work that was available throughout the Middle Ages in Latin, we read that the Creator “made the world in the form of a globe, round as from a lathe, having its extremes in every direction equidistant from the centre, the most perfect and the most like itself of all figures”,[20] though the word “world” here refers to the heavens.

https://en.wikipedia.org/wiki/Spherical_Earth

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , গোলাকার পৃথিবীর ধারনা নতুন কিছু না প্রাচীনকালেই দার্শনিক চিন্তাবিদরা সেটা ধারনা করতেন, বরং মধ্যযুগেই এই ধারনা প্রতিষ্ঠিত হয় যে পৃথিবী হলো সমতল আকৃতির একটা বিশাল ভূখন্ড। আর সেই ধারনাটাই কোরানের মধ্যে সুন্দরভাবে বর্ননা করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় কেউ যদি কোরানের মধ্যে ডিম্বাকৃতির পৃথিবী খুজে পায়, বুঝতে হবে , সে কোরানকে বিকৃত করছে , আর কোরান বিকৃতির শাস্তি কি হবে ?

কোরান হাদিসের মধ্যে বিজ্ঞান ? -পর্ব-২

কোরান হাদিসের মধ্যে বিজ্ঞান ? -পর্ব-১

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 76 = 80