প্রজন্ম, প্লীজ নো দ্যা হিস্টোরি। প্লীজ.

“It is not uncommon in history when a battle has been lost because troops were over indulgent in loot and rape.”
পাকিস্তানি সৈন্য কর্তৃক ধর্ষণ আর লুটের মাত্রা এমনভাবে ছাড়িয়েছিলো যে নিয়াজী কমান্ডারদের কাছে গোপন চিঠিতে উপরের কথাগুলো লিখতে বাধ্য হয়েছিল।
নিয়াজী যদিও বাঙালীদের প্রচন্ডভাবে দমাতে চেয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ বাদে সৈন্যদের মাঝে ধর্ষণ প্রবণতা এত বেড়ে গিয়েছিলো যে পশ্চিম পাকিস্তানের দুইতিনটি মহিলাও ধর্ষণের স্বীকার হইছিলো।
এই নিয়াজীই বাঙালীদের দমনের জন্য গোপন চিঠিতে বলেছিলো, “There must be more killing, more mopping up and more witch hunting.”
এখানে উইচ বা ডাইনী বলতে অবশ্যই বাঙালী মেয়েদেরকে বুঝিয়েছিল।
ধর্ষণ করতে করতে পাকিরা এতোটা নির্বোধ হয়ে যায় যে, ঢাকা থেকে পাকিস্তান ফেরার সময় এয়ারপোর্টে জেনারেল টিক্কা খানকে যখন ধর্ষণ আর হত্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তখন সে উত্তর দেয়, “ধর্ষণের সংখ্যাটা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। মাত্র তিন হাজার ধর্ষণ হয়েছে, মাত্র তিনহাজার।”
তারা চেয়েছিলো বাঙালী জাতিকে একটা ভিন্ন জাতিতে রূপান্তরিত করতে। কেউ নিশ্চয় তার পিতার সাথে যুদ্ধ করবে না। তাই তারা চেয়েছিলো এদেশের মেয়েদের গর্ভে পাকিস্তানের বীজ বুনে দিতে।
ধর্ষণের সময় কোন বাচবিচার ছিল না। আট বছরের উপরে বয়স হলেই সে ধর্ষণের উপযোগী ছিল।
সুসান ব্রাউনমিলার বলেছেন, “Rape in Bangladesh had hardly been restricted to beauty….girls of eight and grandmothers of seventy-five had been sexually assaulted.”
পাকিদের ক্যাম্পগুলো হয়ে উঠেছিলো প্রদর্শন কেন্দ্র। মেয়েদেরকে লাইনে দাড় করানো হত। এরপরে বেছে নিতো সৈন্যরা। জিভ চাটতে চাটতে ঝাপিয়ে পড়তো তাদের উপর।
কমবয়সী বালিকাদের উপর নির্যাতনটা একটু বেশিই হতো। ধারালো দাতে কামড়ে তুলে আনা হত মাংস। কোন কোন বালিকা হয়ে যেত অর্ধমৃত। তখন দুইজন পাকি দুই পা দুইদিকে ধরে সেই মেয়েকে ফেড়ে ফেলতো!!!
কোন কোন মহিলা দিনে আটবারের বেশিও ধর্ষণের স্বীকার হতো। ধর্ষণের ফলে কেউ হয়ে যেত গর্ভবতী। কিন্তু তারপরেও চলতো নির্যাতন। নির্যাতনের ফলে অনেকে জন্ম দিতো মৃত সন্তান।
এভাবে প্রায় চারলক্ষের বেশি মহিলা শিকার হয়েছে পাকি কর্তৃক ইসলামের বীজ বোনার আন্দোলনের। কিন্তু অনেকে স্বীকার করে নি সামাজিক ভয়ে। ৭১ এর পরে অনেক বীরাঙ্গনা হয়েছে একঘরে। কেউবা পরিবার থেকে ত্যাজ্য!!!
প্রজন্মের আজ মুনতাসীর মামুনদের বই পড়ার সময় থাকে না। তারা পরদেশী ডোমদের সাক্ষাৎকার পড়ে না। তারা বিভোর থাকে পাকিলনের চিন্তায়।
প্রজন্মের আপুরা, আপনারা যখন পাকিলনের পেইজে গিয়ে লাইক বাটনে চাপ দাও তখন ঐ বীরাঙ্গনারা আবার একবার ধর্ষণের স্বীকার হয়।
যারা আমাদের আটবছরের মেয়েকেও রেহায় দেয় নি তাদের পোশাক দেখলে আমাদের এজন্য জ্বলে।
হে আপুরা,
বীরাঙ্গনাদের আসনে নিজেকে বসিয়ে দেখেন, লনের স্বপ্নে অর্গাজম হবে না মায়ের আহাজারিতে অজ্ঞান হয়ে যাবেন।
হাসি লাগে যখন দেখি বীরাঙ্গনার বিবস্ত্রের ছবি দিলে নুড্যিটির জন্য রিপোর্ট আসে।
প্রজন্ম, এনাফ ইজ এনাফ। এবার ঐ পাকি লন নামক বালটাকে ছিড়ে ফেল।৭১এ শত কষ্টেও যে ইজ্জত রক্ষা করতে চাইতো মায়েরা, তাদের মেয়ে হয়ে আপনারা কিভাবে ওদের বস্ত্র পরে নতুন করে ধর্ষণ হন???
প্রজন্ম, প্লীজ নো দ্যা হিস্টোরি। প্লীজ….
[তথ্যকৃতজ্ঞা: বীরাঙ্গনা:১৯৭১, মুনতাসীর মামুন]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

29 − 20 =