এ কেমন নারীবাদ?

একজন নারীবাদী মেয়ে। আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে এ বছরের শুরুতে এড হয়েছিলো। নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি নাস্তিক যদিও আর দশজনের মত লেখালেখি করে না (আমি দেখি নাই আরকি)। এরকম একজন মেয়েকে স্বাভাবিক ভাবেই দারুন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মনে হবে।
.
যাইহোক, গত ফেব্রুআরিতে মেয়েটা আমাকে প্রপোজ করেছিলো। আমি তাকে খুব ভালো করে চিনতাম ও না, টুকটাক কথা হয়েছে কখনো কখনো। ভদ্রভাবে তাকে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে কিছু প্রশ্ন করতেই হয়েছিলো। সেখান থেকেই প্রথম তার ব্যাপারে কিছু জানলাম আর ভয়ংকর কিছু আবিষ্কার করলাম।
.
সে আমার উপরে মারাত্মক ভাবে ক্রাশ খেয়েছে যদিও তার বয়ফ্রেন্ড আছে একটা। সেই বয়ফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক ইদানীং ভালো না (২ মাসের জন্য দার্জিলিং গেছে এ নিয়ে)। তাই সে এখন আরেকটা সম্পর্কে জরাতে চায়। :3 একটু আগ্রহী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম যে সে ফিরে এলে কি হবে? তখন বল্লো, ফিরলে ম্যানেজ করা যাবে নে ; আর সে তো কিছু জানছেও না।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে এরকম একাধিক সম্পর্ক করাটাকে তার নারী স্বাধীনতার অংশ ভাবে। একটা ছেলে যদি ৫ টা সম্পর্ক করতে পারে তো একটা মেয়েও পারে। এটা বলে সে আবার আমাকেও উৎসাহিত করতে চায়। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার যে গার্লফ্রেন্ড আছে তা সে জানে কিনা!! সে সেটাও জানে আর এটাকে তার সমস্যা মনে হয় নি। ব্লোক মারার আগে একবার তাকে নারীবাদের মানেটা বুঝাতে চাইছিলাম কিন্তু পরে আর সেই চেষ্টা করি নি। এদের ও ভন্ডামি করতে পীরের দরকার হয় আর তারা সেই নারীবাদী পীরের অন্ধভক্ত হয়েই থাকে। তাই জঙ্গিদেরকে বুঝানো আর এদেরকে বুঝানো সমান কঠিন কাজ। আমার এই প্যারা টেনে নেয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিলো না।
.
আপনারা জানেন এরকম তথাকথিত নারীবাদীদের পরিমান নেহায়েত কম না। নারীবাদ ব্যাপারটা বেগম রোকেয়ার লেখা পড়লে বুঝা যায়। এই মেয়েগুলো সেগুলো পড়েছে কিনা জানি না কিন্তু কিছুই তার ধারন করেনি নিশ্চিত। কারন এসব মেয়ে নারীবাদী ট্যাগটা লাগায় ই তাদের হাজারটা নোংরামিকে জায়েজ করতে।” একটা ছেলে এই করছে তাই আমার ও করতে পারি” এই যুক্তি দেখিয়ে নিজের মত নোংরামি করার ছাড়পত্র পেয়ে গেছে। একটা ছেলে যখন রাস্তায় মূত্রত্যাগ করে সেটাও তাদের অনুসরণ করতে হবে। অথচ কোনো ভালো ছেলেই রাস্তায় মূত্রত্যাগ করে না। তারা শুধু একটা নষ্ট ছেলেকেই অনুসরণ করতে চায়। যেই ছেলেটার একাধিক গার্লফ্রেন্ড থাকে সে কি আদৌ ভালো ছেলে? তাকে ফলো কেনো করতে হবে!! কারন ওখানেই, নারী স্বাধীনতা শব্দটাই এখানে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
.
এখন যদি কেউ নারীবাদী শব্দটাকে গালি হিসেবে ব্যবহার করে তো তাকে সরাসরি দোষ দেয়া যাবে না। কারন নারীবাদ ব্যাপারটা তথাকথিত নারীবাদীরাই বুঝে না। অন্যরা বুঝে উলটে ফেলবে আশা করা যায় না আর তাদের কাছে হয়ত এসব নারীবাদী ট্যাগ লাগানো নারীদের দেখে দেখে “নারীবাদ” শব্দটাকেই নোংরা মনে হবে।
.
যেটা খারাপ সেটা সবার জন্যেই খারাপ হবে। একটা মেয়েকে দেখে হ্যাবলার মত তাকিয়ে থাকা যদি লুলামি হয়তো একটা ছেলেকে দেখে হ্যাবলার মত তাকিয়ে থাকাও লুলামিই। রাস্তায় মূত্রত্যাগ যেই করুক সবার ই শাস্তি হওয়া উচিত।
নারী স্বাধীনতা মানে সিগারেট, মদ, উচ্ছৃঙ্খলতা, লুলামি, একাধিক সম্পর্কে জরানো বা অনৈতিক কিছু করার স্বাধীনতা না। পুরুষেরা যেরকম “আমি পুরুষ মানুষ” কথাটাকে সামনে রেখে হাজার রকমের বেহায়াপনা করার টিকেট পেয়ে যাচ্ছে এখন দেখা যাচ্ছে মেয়েদের মাঝেও কিছু “নারী স্বাধীনতা ” কে সামনে রেখে বেহায়াপনায় নেমে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎকালে হয়ত একপাশে উচ্ছৃঙ্খল নারী অন্যপাশে বস্তাবন্দী নারী ছাড়া কাউকে দেখতে পাবো না। যখন নারীরাই নারীবাদকে সকাল বিকাল ধর্ষণ করবে তখন সুবিধাভোগী পুরুষরাতো আরো মাথায় চরে বসবে। একেকজনের তখন ৪/৫ টা করে নারীবাদী গার্লফ্রেন্ড থাকবে :3 অন্যদিকে মোল্লারাও এসব উচ্ছৃঙ্খলতার দোহাই দিয়ে অন্য মেয়েদের বস্তাবন্দী করে রাখবে। নারীরা শুধু এক কূপ থেকে উঠে অন্য কূপে গিয়ে পরছে।
.
অথচ নারী স্বাধীনতার কথা হওয়া উচিত ছিলো অন্যরকম।
রান্নাঘরে জীবন না পার করে পুরুষের সাথে উপার্জনের প্রতিযোগীতায় নামা। ধর্মকে ব্যবহার করে নারীদের ক্রমাগত নিষ্পেষিত হওয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। রাজনীতি করা, সমাজে নিজেদের প্রভাব বাড়ানো, সকল অনৈতিক বিষয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কিংবা সকল বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার যোগ্যতা অর্জন করা। এটাই তো নারী স্বাধীনতা, নারীবাদ। একটা ছেলের রাত ৯টায় কাজ থাকলে একটা মেয়ের ও থাকতে পারে। প্রথার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে হবে নিজের মুক্তির স্বার্থে, স্বাধীনতার স্বার্থে। আর স্বাধীনতা মানেই উচ্ছৃঙলতা না, অনৈতিক কাজ করার অনুমোদন পাওয়া না। সমাজটা পুরুষতান্ত্রিক বলেই আলাদা করে নারীবাদের দরকার আছে। তাই পুরুষরা পৃথিবীর ৯৮ শতাংশ সম্পদের মালিক, এখানে নারীদের জায়গা করতে হবে। পুরুষরা পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ ধর্ষণ করে সেখানে জায়গা করতে গেলে আপনাকে ধর্ষকের সমান ঘৃণাই পেতে হবে। যেটা অনৈতিক সেটা সবার জন্যই বর্জনীয় হওয়া উচিত নয় কি?
.
( সেই মেয়েটা পরে আমার ফ্রেন্ডলিস্টের আরেকটা ছেলের সাথে প্রেম করেছে কিছুদিন। এখন কি অবস্থা জানি না, দুটোরেই ব্লোক মারছি। কোনো একটা অদ্ভুত কারনে আমার মনে হয় এরকম মানুষেরাই প্রগতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 6