“শক্তিশালী বিরোধীদল এবং বাংলাদেশ”

১৬ই ডিসেম্বর,১৯৭১। জন্ম হলো একটি স্বাধীন বাংলাদেশের। যুদ্ধ পরবর্তী অভাব দারিদ্রতা আর অসুখ বিসুখ কাটিয়ে উঠতেই হিমসিম খাচ্ছে স্বাধীন দেশের জনগণ। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি সকল খাতকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে তখন। এমন সময় মহামারী রকমের মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো দলীয়করণ। রাজনৈতিক দলীয়করণ। শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র সম্ভব না। তাই গঠিত হলো বিরোধীদল। কিন্তু কি ভাবে গঠিত হলো শক্তিশালী বিরোধীদল? আদৌ কি শক্তিশালী বিরোধীদল গঠিত হয়েছে এই স্বাধীন বাংলাদেশে? ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানী, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট, অশিক্ষিত জনগণকে পুঁজি করে তাদের কানে প্রতিহিংসার বিষ ঢেলে দেয়া কি শক্তিশালী বিরোধীদলের কাজ? এই যদি না হয়। তাহলে আমরা কি দেখছি এর ব্যতিক্রম?

স্বাধীনতা পরবর্তি প্রজন্ম কি দেখছে? কি শিখছে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে? ধর্মকে পুঁজি করে যখন রাজনৈতিক দল গঠন হয়, এবং তার হর্তা কর্তা হয় সেই ৭১ এর বিভীষিকাময় রক্তাক্ত বাংলার বিরধীতাকারী পিশাচ গুলো। তখন কি আদৌ শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গঠন হয়েছে বলে আমরা মনে করতে পারি? না কি আমাদের ভাবা উচিৎ ওটা ছিলো ত্রাসের শক্তিতে গড়া শক্তিশালী রাজনৈতিক দল? বিষয়টা ভেবে দেখার সময় অনেক আগেই হয়েছে। কিন্তু কেউ ভাবেনি। ভাবাবার প্রয়োজন পড়েনি। বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ দুবেলা দুমুঠো খাবারেই সন্তুষ্ট ছিলো। রাজনীতি শুধু রাজার নীতি হিসেবেই পড়ে রইলো তাদের ভাতের থালার ওপিঠে। ক্রমেই ত্রস আর প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হতে লাগলো, ধর্মীয়, গোত্রীয়, শহর আর নির্দিষ্ট দল ভিত্তিতে ছড়িয়েছে এই ত্রাসের রাজনীতি। এর মাঝে বাংলাদেশ মুখে মুখে উঠে এসেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে। জাতীর জনক খুন হলো, এক সফল রাষ্ট নায়ক নির্মম ভাবে খুন হলো। খুনের বিচার হলো, বিচার হচ্ছে। কিন্তু কজন জানে এর পেছনের ঘটনা? স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্ম দোষারোপ করে আসছে দুদলের দুজনকে। এর পরের প্রজন্ম শিখছে তাদের কাছ থেকে। যারা প্রকাশ করছে আসল ঘটনা তার পাগল সাব্যস্ত হচ্ছে। যারা এই নষ্ট দলীয়করণ এর বিরধীতা করছে তারা হচ্ছে দেশদ্রোহী। ধর্মীয় দলীয়কণের বিরধীরা হচ্ছে নাস্তি সাব্যস্ত। ফতোয়া দিয়ে মানুষ খুন করা হয়ে যাচ্ছে আজ দলের নৈতিক কাজ। দলীয় প্রতিহিসার স্বীকার হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। শিক্ষিত বেকার হর হর করে বেড়ে যাচ্ছে। ঘৃণিত হচ্ছে তৃতীয় লিঙ্গ। স্বাধীন ভালোবাসার অধিকার। বাক স্বাধীনতা আজ যেন শুধু দলীয়করণ এর অপেক্ষায়। যে বা যারা যে পক্ষের হয়ে বাক যুদ্ধ করবে তারা যেন সেই পক্ষের আদুরে পোষা মিনি হয়ে থাকবে। আশার কথা হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে পরিবর্তনের দিকে এগুচ্ছি। যদিও এই পথ বড্ডো কন্টক। যতদিনে আমরা দরিদ্রের ভাতের থালার ওপাসে থাকা দলীয়করণের কালো থাবাকে এপাসে না আনতে পারবো। ততদিনে এই কালো দলীয়করণ থেকেই যাবে। আর ধর্মকে পুঁজি করে ৭১ এর ঘাতক দালালরা মেহনতী মানুষের রক্ত চুষেই যাবে। দেশ হবে দুটি, তিনটি কিংবা এরও বেশী দলে বিভক্ত। হানাহানী লেগেই থাকবে। মেধাবীরা প্রান ভয়ে পালিয়ে বেড়াবে অন্য অন্য দেশে।

এখনি সময় পরিবর্তনের। রুখে দাঁড়াতে হবে দলীয়করণের বিরুদ্ধে। সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে মানুষে মানুষে। প্রতিহিংসা নয়। দেশ ও জনগনণের স্বার্থে কাজ করতে হবে প্রত্যেককে। এই “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদের” আমার আপনার সবার। এটা কোন নির্দিষ্ট সুবিধাবাদী দলের নয়।
আসুন একে অপরের হাতে হাত রেখে সাম্য প্রতিষ্ঠা করি। দেশটা নিজের হাতে গড়ি।

মনে প্রাণে ধারন করি রবীন্দ্রনাথের লেখা গানের লাইন, যা আমাদের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত….

” আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 1 =