যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ?- প্রথম পর্ব

খৃষ্টানরা যীশুকে একই সাথে ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র হিসাবে বিশ্বাস করে। মুসলমানরা তাকেই শিরক বলে। তারা বিষয়টা বোঝে না , বুঝতে চেষ্টাও করে না। এর কারন তাদের কোরানই তাদেরকে এই বিষয়টা বুঝতে নিষেধ করেছে। যীশুকে যখন খৃষ্টানরা ঈশ্বরের পূত্র বলে তখন মুসলমানরা ভাবে ঈশ্বর মারিয়ামের সাথে যৌন কাজের মাধ্যমে যীশুর জন্ম দিয়েছে। তখন তারা ভুলে যায়, ঈশ্বর যদি তার পূত্র বানায়, তাহলে যৌন ক্রিয়া ছাড়াই সেটা করতে পারে। যদি না পারে তাহলে সে ঈশ্বরই না। মুসলমানদের মাথায় এই বিষয়টাই কোনমতে ঢোকে না।

প্রথমেই আমরা কোরানের নিচের বানীটা দেখি ———

সুরা মারিয়াম- ১৯: ১৬: এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।
সুরা মারিয়াম- ১৯: ১৭: অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।

তার মানে আল্লাহ মারিয়ামের কাছে নিজের আত্মাকে প্রেরন করল, আর সে একটা মানুষের আকার ধারন করল। আল্লাহর নিজের আত্মা বলতে কি বুঝায় ? আল্লাহর তো নিজের একটা আত্মা আছে। আর সেই আত্মাই মারিয়ামের কাছে গিয়ে মানুষ রূপ ধারন করেছিল। এরপর সেই মানব বলছে—

মারিয়াম- ১৯: ১৯: সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব।

অর্থাৎ সেই মানব হলো আল্লাহর কাছ থেকে প্রেরিত একজন বার্তাবাহক যাকে মুসলমানরা জিব্রাইল ফেরেস্তা বলে সাব্যাস্ত করে। তাহলে সমস্যাটা কোথায় ? আল্লাহর নিজেরই আত্মা , যে নাকি স্বয়ং আল্লাহ নিজেই, সে আবার আল্লাহর বার্তাবাহক হয় কিভাবে ? তার চাইতে আশ্চর্য বিষয় হলো , পরবর্তীতে আল্লাহ নিজেই বলছে মারিয়ামের গর্ভে আল্লা নিজেই তার আত্মাকে ফু দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছিল, যেমন –

সুরা আম্বিয়া -২১: ৯১: এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম।

সুরা তাহরিম- ৬৬:১২: আর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমরান-তনয়া মরিয়মের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার আত্মাকে ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বানী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের একজন।

তাহলে কোরান- ১৯: ১৯ আয়াত মোতাবেক মারিয়ামের কাছে যাওয়া সেই আত্মা কিভাবে ফেরেস্তা হবে , কারন ফেরেস্তা তো আল্লাহর আত্মা বা রুহুকে মারিয়ামের গর্ভে ফুকে দিতে পারে না। তার মানে স্বয়ং আল্লাহর নিজের আত্মাকেই মারিয়ামের গর্ভে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে আল্লাহ মারিয়ামকে গর্ভবতী করে।

কোন নারীকে যে গর্ভবতী করবে , নিয়ম অনুযায়ী সেই তো জন্ম নেয়া শিশুর পিতা হবে। সুতরাং মারিয়ামের গর্ভে ঈশ্বর নিজের আত্মাকে ফুকে দিয়ে মারিয়ামকে গর্ভবতী করার পর যে যীশুর জন্ম হলো , পার্থিব বিচারে সেই ঈশ্বরই তো যীশুর পিতা হবে। ঈশ্বরকে যীশুর পিতা হওয়ার জন্যে তো মারিয়ামের সাথে যৌন ক্রিয়ার দরকার নেই। কিভাবে ঈশ্বর মারিয়ামকে গর্ভবতী করেছে , সেটা তো খোদ কোরানে বার বার বলা হয়েছে।

যীশুর পিতা যদি ঈশ্বর হয়, তাহলে সেই যীশুই আবার কিভাবে তার পিতা ঈশ্বর হয় ? বিষয়টা বোঝা অতি সহজ যদি বোঝার চেষ্টা থাকে। যীশুর আত্মা হলো স্বয়ং ঈশ্বরের আত্মাা। তাহলে বাস্তবে যীশু কে হবে ? স্বয়ং ঈশ্বরই হবে। ইসলামে যীশুকে রুহু আল্লাহ ও কালিমাতুল্লাহ বলে। এর অর্থ কি ? রুহু আল্লাহ = আল্লাহর আত্মা, কালিমাতুল্লা= আল্লাহর কালাম বা আল্লাহর কথা। ইসলাম যদি এটাই স্বীকার করে , তাহলে যীশু অবশেষে কি হয়ে পড়ে ? স্বয়ং ঈশ্বর বা আল্লাহই তো হয়ে পড়ে। গসপেলে দেখা যায়, যীশুর কাছে কখনই কোন ফিরিস্তা আসত না , আর তাকে কোন বানী দিত না। অথচ অতীতের সকল নবীর কাছে ফিরিস্তারা এসে বানী দিয়ে য়েত., যদিও কিছু কিছু নবীর সাথে স্বয়ং ঈশ্বর কথা বলত। কেন দিত না ? কারন যীশু যা বলত ,সেটাই তো ঈশ্বরের বানী। অর্থাৎ যীশু নিজেই ঈশ্বরের পূত্র রূপে স্বয়ং ঈশ্বর।

এসব বিষয় বুঝতে হলে ঈশ্বরের স্বরূপ জানতে হবে। ঈশ্বরের পক্ষে সব কিছুই সম্ভব , আর তাই তার পক্ষে সম্ভব একই সাথে মহাবিশ্বের সকল যায়গাতেই অবস্থান করা। ঈশ্বরের পক্ষে সম্ভব , একই সাথে বহু রূপে বিরাজমান থাকা। দুনিয়াতে মানুষের কাছে ঈশ্বর তিন রূপে বিরাজ করে- ঈশ্বর পিতা , পূত্র যীশু আর পবিত্র আত্মা, এই তিন রূপ ঈশ্বরের শ্বাশ্বত রূপও। পিতা , পুত্র আর পবিত্র আত্মার মধ্যে কোনই তফাৎ নেই , তারা সবাই পরস্পর এক , কিন্তু ভিন্ন রূপে।এটাকেই বলে ত্রিত্ববাদ। কিন্তু মুসলমানরা এই ত্রিত্ববাদের গভীরে না গিয়ে , বলে খৃষ্টানরা নাকি তিন ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। কি আজব কান্ড ! ত্রিত্ববাদকে নিচের আকারে লেখা যায়——

অর্থাৎ পিতা = পুত্র = পবিত্র আত্মা।

বিষয়টা এমন – পানি তিন রূপে অবস্থান করতে পারে ,বরফ, তরল পানি ও বাষ্প। এই তিনটার মধ্যে সূক্ষ্মভাবে কোন তফাৎ আছে ? তফাৎ শুধু গুনবাচকে। বরফ কঠিন আকারে নির্দিষ্ট কাজ করে , তরল পানি তরল আকারে নির্দিষ্ট কাজ করে আর বাষ্প গ্যাসীয় আকারে নির্দিষ্ট কাজ করে। কিন্তু বস্তুত: তারা সবাই সবশেষে পানি । বরফ, তরল পানি ও বাষ্পের মধ্যে কোনই তফাৎ নেই , তারা পরস্পর এক।

ঠিক সেরকমভাবেই , ঈশ্বর পিতা রূপে একটা ভূমিকা পালন করে , সেটা হলো মহাবিশ্ব ও তার স্বর্গরাজ্য শাসন ও বিচার, পুত্র যীশুর কাজ হলো সৃষ্টির প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসা প্রদর্শন ও তাদেরকে ক্ষমা করা, আর পবিত্র আত্মার কাজ হলো সারা বিশ্বে সব কিছুর মধ্যেই বিরাজমান থাকা ও বিশেষ করে মানুষদেরকে সুপথে চালনা করতে সাহায্য করা।

চলবে =============================

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ?- প্রথম পর্ব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 3 =