প্রেমপত্র-৬৭

সুচরিতাসু,

খুব বেশি কিছু নয় স্বপ্নের মত ছোট্ট একটি ফ্ল্যাট।এবং তা থাকবে কানায় কানায় ভালবাসায় পরিপূর্ন।সেখানে কোন মানুষ থাকবে না থাকবে মায়াবতী আর মেঘবালকের লাল নীল সংসার।রুম গুলো হবে হালকা নীল যেন স্বপ্নের আঁকাশ।
দরজায় থাকবে সোনালি ছোয়া যেন স্বর্গের পাথে গমনের সূচনা।তুমি বুঝলে সারাদিন হাসিমুখে অনর্গল বকবক করবে আর আমি চুপ করে শুনব কারন আমি খুব ভাল স্রোতা। রুমটি থাকে অনেক ঝুনঝুনি যা টুংটং করে বাজবে হাওয়ায়।পর্দা হবে হালকা গোলাপী,তুমি কিন্তু পায়েল পড়বে বলে দিচ্ছি, তোমার পায়েলের শব্দে খুন হবো প্রতিদিন।

কখনও তুমি কপট অভিমান করলে তোমার সামনে এসে দাঁড়াবো এবং কোন কথা না বলে শক্ত করে জড়িয়ে বলব ভালবাসিতো এই সময় তুমি আমার ভালবাসা বুঝতে পেরে লাজুক ভাবে মাথা নিচু করে রইলে তো কোন কথাই নাই।আর যদি তা না করে কিছু খাঁমচি গুতা বকা দাও ও আমি পরম উপাদেও খাদ্য মনে করে খেয়ে নিব।
এভাবে সময় কেটে যাবে. দিন… মাস…বছর সময় এভাবেই কেটে যাবে বছরের পর বছর। ক্লান্ত হয়ে যাব দুজন ভাবাসতে বাসতে কিন্তু ভালবাসায় কখনই ক্লান্তি আসবে না। ভালবাসার ছাপ থাকবে বরান্দায় ভালবাসার ছাপ থাকবে ঘুলঘুলিতে ভালবাসার ছাপ থাকবে ছাঁদে।আমার পাগলামীতে প্রতিদিন ঘোলা হবে তোমার চোখ। অভ্যাসবশত প্রতিদিন সকালে রোদ পড়ে তোমার মুখে যে চিক চিক করে তা দেখার জন্যে আমার খুব ভোরে উঠতে হবে উফফ কি কষ্ট তবে চিন্তা করোনা ও আমি ঠিকই ম্যানেজ করে নিব আমার যে তোমাকে দেখতেই হবে।আমি ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে বসে পর্দা সরিয়ে রোদ আসার অপেক্ষা করব। বিছানার তুমি ঐ পাগলীটাকে আমি আমার সমস্ত মনযোগ দিয়ে দেখব যেন অপ্সরী ভুল করে পৃথিবীতে চলে এসেছে।
তুমি কিন্তু সকালে ফ্রেস হয়ে অবশ্যই একটু চোখে কাজল দিবে। জানতো আমি তোমার চোখের কাঁজলের মাঝে কতবার হারাই।আমি কিন্তু তোমাকে একটু জড়িয়ে না ধরে অফিসে যাব না বলে দিচ্ছি।বিকেলে বেড়বো তোমায় নিয়ে রিক্সা ভ্রমন।একটা সেল্ফি হতে পারে মায়াবতী উইথ ডাকাত হাহাহা।ডাকাতই তো চুরি করার টাইম নাই আমি তোমাকে ডাকাতি করতে চাই।তারপর ফুসকা চটপটি হতে পারে বা পিজ্জা যেটা তুমি চাওএকসাথে আরো কিছু এমন কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি যেন তোমার পাশে থেকে আমি স্বর্গে পৌছে যাব।

তার পর আসবে রাত।তুমি আমি কফি হাতে বারান্দায়।অথবা নিজের রুমে হালকা বাজবে রবীন্দ্র সঙ্গীত অথবা অঞ্জন দত্ত বা বব ডিলন বা জন ডেনভার।আমি প্রতিদিন তোমার অসুখে ভুগব। নিজের প্রেম দিয়ে আমি তোমায় সংক্রামিত করব প্রতিদিন। আমি কিন্তু প্রতিদিন তোমায় একেক নামে ডাকব এখন যেমন ডাকি।

কিছু বিষয় আমি নিজে থেকেই আবিষ্কার করেছি এবং তা হলো

১) তুমিহীনতায় আমি প্রচন্ড অক্সিজেনের অভাবে ভোগা মাছের মত খাবি খাই।
২) তুমি হীনতায় আমার ভিটামিনের অভাব বোধ হয়।
৩) যখনই তোমায় দেখি বিশেষ করে শাড়ি পড়া দেখি ঠিক ততবার আমি স্বর্গে যাই ইহকাল ত্যাগ করি,আমি হারাই তোমার মাঝে মন চায় শাড়ি ড়া এই তোমাকে শতবছর চোখের সামনে বসিয়ে রাখি।

বুঝলে পরী মাঝে মাঝে মনচায় তোমায় নিয়ে এখান থেকে পালিয়ে যেতে। অনেক অনেক দূরে।এই যেমন সুন্দর বন অথবা বান্দরবনের পাহাড়ে। কারন তোমার সাথে কথা বললেই/তোমার চেহারা দেখলেই আর গভীর চোখের চাহুনীতে ডুব দিলেই আত্মা বিদ্রোহ করে উঠে চৎকার করে বলে তুমি আমি ছাড়া আর কারো নও কোনদিনও না কখনও না।মন থেকে প্রচন্ড আকর্ষন আসে তোমার প্রতি। আসবেই বা না কেন,যা কিছু তুমি যাকিছু সত্য যা কিছু পবিত্র এটা বলতে আমি তোমাকেই বুঝি।

তাই আমি সিদ্ধান্ত নি। এই পাগলীটাকে কোনদিনও ছেড়ে যাব না।মরে গেলেও না। তুমি থাকলেও না না থাকলেও না তুমি ভালবাসলেও তোমায় ছেড়ে যাব না না বাসলেও যাব না।কারন ভালবাসা বলতে আমি তোমাকেই বুঝি।

অতঃপর মাঝরাতে কখনও আমি ঘুম ভেঙ্গে গেলে তোমাকে দেখব সকাল বেলায় তোমাকে কাজের ফাঁকে আমি তোমাকেই দেখব এমন কি স্বপ্নেও তোমাকেই।
প্রথমে স্বাভাবিক সুরে বলব ভালবাসি। কখনও আদুরে গলায়,কখনও কর্কস গলায় বলব কখনও বিনয়ের সুরে বলব ভালবাসি তোমাকেই।
অতঃপর তোমার সব পাগলামীর সাথে পাগল হবো কখনও বা এমনিতেই।কখনও বা চিৎকার করে বলব কখনও বা ফিসফিস করে বলব ভালবাসি তোমায় এক নিমেষেই।

কখনও বা কাজের ফাঁকে তোমায় দেখে নিব কখনও বা কাজের বাহানায়।কখনও বা ভুল করে দেখে নিব কখনও বা বাহানাতেই।বিভিন্ন টা কারন থাকতে পারে তবে দিন শেষে উদ্দেশ্য যে তুমি হবে।তা আমি বলতে পারি সবার আগেই।
মাঝে মঝে ব্যাথা করে এই হৃদয়ে তুমি না হলে যে আমার চলবেই না তুমি যে মিশে আছ আমার ডাল আলু ভাতেই।তবে একটা কথা কি জানো তোমাকে ভাবাসি বলে আমার গর্বই হয়।আর কার কাছে পারতাম আমি মন খুলে কথা বলতে আর কেইবা সহ্য করত।তুমি বলেই তো করো,তোমার কাছে যে আমার সাত খুন মাফ।

কিন্তু আবার খারাপও লাগে ,প্রচন্ড খারাপ।তুমিহীনতায় একা থাকার খারাপ।পুড়ে মরে যাবার খারাপ।বারান্দায় দাড়িয়ে মন আজ তুমিহীনতায় একলা থাকার ভয়ে কাদঁছে মাঝরাতে একা একাই কাঁদছে।

শুধু এতটুকু বলি,প্রচন্ড তুমিহীনতায় আমি দুমড়ে মুচড়ে গেছি তুমি কি একটু ঠিক করে দিবে?

ইতি
তোমার পথিক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 85 = 90