যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ?- দ্বিতীয় পর্ব

ঈশ্বর কেন ঈশ্বরের পূত্র হিসাবে দুনিয়াতে আসতে গেল ? এখানেই মুসলমানরা বিষয়টা আর বুঝতে পারে না। কারন কোরানই তাদের বলেছে ঈশ্বরের কোন পুত্র থাকতে পারে না। কোরান বলেছে , আল্লাহর কি স্ত্রী আছে যে তার কোন পূত্র থাকবে। কি তাজ্জব কান্ড ! আল্লাহ চাইলেই যে কোন কিছু হতে পারে , শুধু বলতে হবে ‘হও’ আর তাহলেই হয়ে যাবে। সুতরাং সেই আল্লাহর কোন স্ত্রী থাকতে হবে যদি তার একটা পুত্রের দরকার পড়ে যার মাধ্যমে দুনিয়ার মানুষের মুক্তি লাভ হয় ? কিন্তু বস্তুত: এই পূত্র তো ঈশ্বর স্বয়ংই। দুনিয়াতে যখন সে আসছে তখনই তার পরিচয় ঈশ্বরের পূত্র যীশু। কিন্তু যীশু কিভাবে দুনিয়ার মানুষকে উদ্ধার করছেন? সেটাই বলা হয়েছে এই নিবন্ধে।

মানুষ যীশু বা ঈশ্বরের পূত্র রূপে দুনিয়াতে আসার একটা গুরুত্বপূর্ন কারন বিদ্যমান। আসলে যীশু রূপে পৃথিবীতে আগমন করে আবার ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে দেহত্যাগ করার মধ্যে এক বিরাট মাহাত্ম নিহিত আছে। মুসলমানদের অনেকেই সেটা জানে না । তারা কিছুমাত্র না জেনেই প্রশ্ন করে – যীশু যদি ঈশ্বরের পূত্র বা স্বয়ং ঈশ্বর হয়, তাকে আবার ক্রুশে বিধে হত্যা করা হলো কিভাবে ?

ঈশ্বর আদম ও হাওয়াকে সৃষ্টি করে ইডেন উদ্যানে রেখেছিল। তাদেরকে বলা হয়েছিল জ্ঞানবৃক্ষ থেকে কোন ফল না খেতে। কিন্তু তারা সেই গাছের ফল খেয়ে ঈশ্বরের কাছে পাপ করেছিল। সেটা ছিল আদিপাপ। সেই পাপের ফলে তারা ইডেন উদ্যান থেকে বহিস্কৃত হয়েছিল। আদম ও হাওয়ার দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল। হাবিল পশু পালন করত আর কাবিল চাষাবাদ করত। হাবিল একটা পশুকে ঈশ্বরের উদ্যেশ্যে নিবেদন করল , আর কাবিল তার উৎপাদিত কিছু ফসল নিবেদন করল। ঈশ্বর হাবিলের পশু উৎসর্গ গ্রহন করল , কিন্তু কাবিলের ফসল গ্রহন করল না। এর অর্থ হলো – আদম হাওয়ার আদিপাপ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যম ছিল পশু উৎসর্গ বা পশুর রক্তপাত। এটাই হলো ইসলামী বিধি অনুযায়ী কোরবানী।

এভাবে বংশ পরম্পরায় আদম সন্তানেরা নিজেদের আদি পাপ থেকে মুক্তি পেতে পশু উৎসর্গ বা কোরবানী দিয়ে আসত। যীশুর আগ পর্যন্ত এই পশু কোরবানী ছিল সেই আদি পাপ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করার একমাত্র উপায়। কারন যীশুর আগ পর্যন্ত মানুষ নৈতিকতা বা বিধি বিধানে এতটা উন্নত হয় নি যে তারা পশু কোরবানী ছাড়া নিজেদের আদি পাপ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করতে পারত। কিন্তু আদি পাপ থেকে মুক্ত হওয়াটা জরুরী ছিল কেন?

আদম হাওয়াকে দুনিয়ায় পাঠানোর পরে ঈশ্বর ক্রমান্বয়ে একের পর এক নবী পাঠিয়েছে , মানুষকে শিক্ষা দিতে ,সৎ ও অসৎ বিষয়ে শিক্ষা দিতে যাতে তারা সৎ পথ অবলম্বন করে মৃত্যুর পর শেষ বিচার দিনে আবার ঈশ্বরের রাজ্যে ফিরে যেতে পারে। কিন্তু মানুষ যত ভাল কাজই করুক না কেন , তারা প্রত্যেকেই জন্ম নিত আদিপাপ নিয়ে যেটা আদম ও হাওয়া করেছিল। তাই যত ভাল কাজই করুক না কেন , তাদের পক্ষে সেই আদিপাপ থেকে মুক্ত না হয়ে পরকালে মুক্তি লাভ সম্ভব ছিল না। সেই আদি পাপ থেকে মুক্তির পথই ছিল পশু উৎসর্গ বা কোরবানী। কিন্তু মানব সভ্যতার অগ্রগতির প্রেক্ষিতে সেই পশু কোরবানী একটা নির্মম ও নৃসংশ প্রথা হিসাবে প্রতীয়মান হয়। ঈশ্বর নিজেই সেই নিষ্ঠুর প্রথাকে রদ করতে চায়। কিন্তু তাহলে কিভাবে অত:পর গোটা মানব জাতিকে আদি পাপ থেকে মুক্ত করা যাবে ?

গোটা মানবজাতিকে তাদের আদিপাপ থেকে মুক্ত করার জন্যেই স্বয়ং ঈশ্বর মানব রূপ ধারন করে ঈশ্বরের পূত্র বা যীশু রূপে দুনিয়াতে আগমন করে। ঈশ্বর তার সৃষ্ট মানব সন্তানদেরকে শর্তহীনভাবেই সীমাহীন ভালবাসে। তার সেই সীমাহীন ভালবাসার কারনেই ঈশ্বর মানবজাতিকে তাদের আদিপাপ থেকে মুক্তি দিতেই যীশু হিসাবে দুনিয়াতে আগমন করে নিজেকেই ক্রুশে বিদ্ধ করে জীবন দিয়ে উৎসর্গ করতে চায়। ক্রুশে নিজের জীবন বিসর্জনই দিয়েই ঈশ্বর দুনিয়ার সকল মানুষকে আদিপাপ থেকে মুক্তি দেয়। আবার মৃত্যু তিনদিন পরে যীশু পুনরায় জীবিত হয়ে প্রমান করেন যে তিনিই জীবন ও মৃত্যুর মালিক।

যীশুর এই ক্রুশে মৃত্যুর পর, অত:পর যারাই যীশুকে তাদের ত্রাতা হিসাবে গ্রহন করবে , তারা তাদের আদিপাপ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। আদিপাপ থেকে মুক্তির অর্থ এটা না যে , তারা নিজেরা যেসব অপকর্ম বা পাপ কাজ করবে সেসবের কোন বিচার হবে না। আদিপাপের সাথে তাদের নিজেদের কৃত পাপকাজের কোনই সম্পর্ক নেই। নিজেদের কৃত পাপের শাস্তি তারা শেষ বিচারে পাবে। কিছু মুসলমান যীশুর এই ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে আত্মত্যাগের মাহাত্ম না বুঝেই প্রশ্ন করে , যীশুকে ত্রাতা হিসাবে গ্রহন করলে কি সব পাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায় ?

সুতরাং যীশু যে ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন , এটা ছিল গোটা মানবজাতির জন্যেই আদি পাপ থেকে মুক্তির পথ। যীশু যখন ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে মারা যান , তখন ঈশ্বরের অন্য যে স্বরূপ ঈশ্বর পিতা ও পবিত্র আত্মা তারা কিন্তু স্ব স্ব অস্তিত্ব নিয়েই বিদ্যমান ছিল অর্থাৎ যীশু যখন তার মানব শরীরকে ক্রুশে বিদ্ধ করছিলেন , তখন যীশু আবার তার অন্য স্বরূপ ঈশ্বর পিতা বা পবিত্র আত্মার রূপে বিদ্যমান ছিলেন। তাই যীশুর ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে দেহ ত্যাগ করার অর্থ ঈশ্বর মারা যাওয়া নয়। কিন্তু কিছু মুসলমানেরা যীশুর ক্রুশে বিদ্ধ হওয়ার মাহাত্ম না জেনেই , প্রশ্ন করে – যীশু যদি স্বয়ং ঈশ্বর হন , তাহলে ঈশ্বর কিভাবে ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে মারা যায় ?

সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা হলো, যীশু যে ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে মারা যান , সেটা ঘটে সম্পূর্ন বিনা অপরাধে। যীশু যখন যেরুজালেমে তার বানী প্রচার করছিলেন , তখন ইহুদিরা তাকে ধর্ম দ্রোহী হিসাবে চিহ্নিত করে , আর অভিযোগ করে যে যীশু নিজেকে ঈশ্বর হিসাবে দাবী করছেন। তারা তাই তাকে ধরে বিচার করার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু যেরুজালেম তখন রোম সাম্রাজ্যের অধীন ছিল। তাই ইহুদিরা নিজেরা কাউকে বিচার করতে পারত না। তারা তাকে ধরে নিয়ে যেরুজালেমের শাসক পিলেতের কাছে নিয়ে যায়। পরের ঘটনা গসপেল থেকেই দেখা যাক —

যোহন – ১৮:
৩৮ পীলাত তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সত্য কি?’ এই কথা জিজ্ঞেস করে তিনি পুনরায় ইহুদীদের কাছে গেলেন, আর তাদের বললেন, ‘আমি তো এই লোকটির মধ্যে কোন দোষ দেখতে পাচ্ছি না?’
৩৯ কিন্তু তোমাদের এমন এক রীতি আছে, সেই অনুসারে নিস্তারপর্বের সময়ে একজন বন্দীকে মুক্তি দিয়ে থাকি। বেশ তোমাদের কি ইচ্ছা, আমি তোমাদের জন্য ‘ইহুদীদের রাজাকে’ ছেড়ে দেব?’
৪০ তারা আবার চিত্‌কার করে বলল, ‘একে নয়! বারাব্বাকে!’ এই বারাব্বা ছিল একজন বিদ্রোহী।

অর্থাৎ দুনিয়ার কেউ যীশুকে বিচার করে অপরাধী সাব্যাস্ত করতে পারে না , কিভাবে পারবে। দুনিয়ার কোন মানুষ কি ঈশ্বরকে অপরাধী সাব্যাস্ত করতে পারে ? তাই ইহুদিরা অত:পর নিজেরাই নিয়ে গিয়ে যীশুকে ক্রুশে বিদ্ধ করে সম্পূর্ন বিনা অপরাধে। সেটাই ছিল ঈশ্বরের ইচ্ছা। কারন তিনি নিজেকে ক্রুশে মানবরূপে বিসর্জন দেবেন , সেটা তারই নিজের ইচ্ছা। এই যে বিনা অপরাধে যীশুকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয়, সেটা আসলে ঈশ্বরের নিজস্ব পরিকল্পনা। এভাবেই সে জগতের মানুষকে তাদের আদিপাপ থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছিল।

যীশুর ক্রুশে বিদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়েই পশু উৎসর্গ দ্বারা আদিপাপ থেকে মুক্তির বিধান বাতিল হয়ে যায়। অত:পর ঈশ্বরের নামে আর পশু উৎসর্গ বা কোরবানী চলবে না। খৃষ্টানরা সেই কারনেটই পশু কোরবানী করে না। আর এটাই ছিল সভ্যতার অগ্রগতির ধাপ। পশু হত্যা করার মত নৃসংশতার মধ্য দিয়ে তো ঈশ্বরের আরধনা করা উচিত না।

খৃষ্টান ধর্মের মূল শক্তি এই যীশুর ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে প্রান দেওয়ার ঘটনা। মানুষ উপলব্ধি করতে পারে , ঈশ্বর তাদেরকে কতটা ভালবাসে যে তাদের জন্যে স্বয়ং ঈশ্বর মানব রূপে দুনিয়াতে এসে নিজেই ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে তাদেরকে উদ্ধার করতে এসেছে। খৃষ্টান ধর্মের মূল অনুপ্রেরনা তাই এই যীশুর ক্রুশে বিদ্ধ হওয়া। অত:পর মানুষ যতই এই ঘটনার মাহাত্ম উপলব্ধি করতে থাকে , ততই খৃষ্টান ধর্ম গ্রহন করতে থাকে। এভাবেই গোটা দুনিয়ায় খৃষ্টান ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে।

অথচ ইসলাম বলছে, ভিন্ন কথা। কোরানের ভাষ্য , যীশুকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয় নি। কোরান বলছে—

সুরা নিসা- ৪: ১৫৭: আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি।

তার মানে যীশু ক্রুশে বিদ্ধ হন নি। বরং তাকে আল্লাহ সরাসরি জীবন্ত অবস্থায় নিজের কাছে নিয়ে গেছে। এর অর্থ দি দাড়াল ? আল্লাহ যীশুকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছিল মানুষের হেদাযেত করার জন্যে। কিন্তু অবশেষে আল্লাহ দুনিয়ার সবাইকে ধোকা দিল। কিভাবে ? যীশুকে যখন ক্রুশ বিদ্ধ করা হচ্ছিল তখন আশে পাশে বহু মানুষ ছিল, তারা সবাই দেখল যীশুকে ক্রুশ বিদ্ধ করা হয়েছে , তলে তলে যে আল্লাহ তাকে তুলে নিয়ে গেছে , সেটা তো কেউ তারা দেখেনি। পরবর্তীতে এই ক্রুশ বিদ্ধ হওয়ার ঘটনাই ছিল খৃষ্টান ধর্মের মূল অনুপ্রেরনা যীশুর বানী প্রচারের , তার মানে দেখা যাচ্ছে , যে ঘটনার ওপর খৃষ্টান ধর্ম দাড়িয়ে আছে , খোদ আল্লাহ সেটাকেই একটা প্রতারনা বলে আখ্যায়িত করছে , আর তার অর্থ , মুহাম্মদ আসার আগ পর্যন্ত বিগত ৬০০ বছর ধরে মানব জাতি একটা প্রতারনার ফাঁদে পড়ে বিভ্রান্ত হয়েছিল আর তারা বিপথে চলেছিল। দুনিয়ার মানুষকে দীর্ঘ ৬০০ বছর ধরেই আল্লাহ এভাবে প্রতারনা করেছে। কারন মুহাম্মদ এসেই না প্রথম দুনিয়াবাসীকে জানান দিল যে যীশু আসলে ক্রুশ বিদ্ধ হন নি। তার আগে তো কেউ সেটা জানত না। সোজা কথায় , আল্লাহ যীশুকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে গোটা মানবজাতিকে ৬০০ বছর ধরে বিপথে চালিত করেছে।

আল্লা যদি প্রকৃতই ঈশ্বর হয়ে থাকে , সে কিভাবে গোটা মানবজাতিকে ৬০০ বছর ধরে বিপথে চালিত করতে পারে ?


যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ? -প্রথম পর্ব

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ?- দ্বিতীয় পর্ব

  1. মুহাম্মদ নামের ভণ্ডের আগুনে
    মুহাম্মদ নামের ভণ্ডের আগুনে আমরা অতীষ্ঠ! আরেকজন আসছে যিশু নামের আরেক ভণ্ডের পতাকা উড়াইতে। জগতের সকল ভণ্ড ও তথাকথিত বার্তাবাহকের উদ্দেশ্য ও চরিত্র এক ও অভিন্ন!

    1. কমন বক্তব্য দিলেন মনে হয়।
      কমন বক্তব্য দিলেন মনে হয়। আপনি গসপেল থেকে দেখাতে পারবেন যে যীশু কোন হিংসাত্মক বানী প্রচার করেছিল ? গসপেল কাকে বলে জানেন ?

      1. ভণ্ডামী আর হিংসা শব্দগুলো
        ভণ্ডামী আর হিংসা শব্দগুলো সমার্থক হলো কবে থেকে? গসপেল বুঝে মানব সমাজের কোন কাজে লাগবে?

        1. দুনিয়াতে আজকে যে মানবাধিকার ,
          দুনিয়াতে আজকে যে মানবাধিকার , সুশাসন ইত্যাদি নিয়ে এত কথা হয়, পশ্চিমা দেশগুলোতে যে মানবাধিকারকে এত মর্যাদা দেয়া হয়েছে ,এর উৎস কি , সেটা কি আপনার জানা আছে ? যীশুর শিক্ষাই হলো পশ্চিমাদের সকল মানবাধিকার ও সুশাসনের উৎস।

          1. যিশুর শিক্ষা থেকে সুশাসন আর
            যিশুর শিক্ষা থেকে সুশাসন আর মানবাধিকার আনতে পশ্চিমাদের দুই হাজার বছর লাগলো?! এর আগেও তো পশ্চিম এ ইউরোপ এ, যিশুর শিক্ষা ছিলো। তখন গসপেল থেকে, সুসমাচার থেকে সুশাসন আবিষ্কার করা যায় নাই? এখনো তো পোপ সাহেব বইলাই যাইতেছেন, সমকামিতা খারাপ, গর্ভপাত ঠিক না। তখনো তো সুসমাচারের শিক্ষায় শিক্ষিত লোকজন ব্রুনো পুড়াইছে। সেইন্ট সিরিল যিশুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়া হাইপেশিয়া রে মারছে। ইত্যাদি ইত্যাদি, এই লিস্ট অনেক বড়।

            সাম্প্রতিক মানবাধিকার, ধর্মহীনতার ফল। সব কিছুরে পশ্চিমের ঠিকার জিম্মায় ছাইড়েন না। প্রমান এক বিষয়, বিশ্বাস আরেকটা। সুসমাচারের শিক্ষা আগে নিজে ঠিক মতো নেন, দেখবেন মানবাধিকার বাহির হইতাছে না।

          2. তাই নাকি ? বাইবেলের দশ আজ্ঞা
            তাই নাকি ? বাইবেলের দশ আজ্ঞা কোনদিন পড়েছেন ?
            আজকের দুনিয়ায় যত মানবাধিকার বা বিধি বিধান চালু সভ্য সমাজে , তার ভিত্তি হলো এই দশ আজ্ঞা।

          3. যীশুর শিক্ষায় ইউরোপের শাসকগণ
            যীশুর শিক্ষায় ইউরোপের শাসকগণ শিক্ষিত হয়ে এই কিছুদিন আগেও মানুষকে কচুকাটা করেছিল, রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল। তখন যীশুর শান্তির বানী কোন বাইবেলে লুকায়িত ছিল? ইউরোপীয়ানরা আজ এত মানবিক হয়েছে ইতিহাসে তাদের পুর্বসূরীদের নির্মমতার বাস্তবতা থেকে। সেই নির্মমতাগুলো ঘটানো হয়েছিল যীশুর শান্তির বানী বাইবেল অনুসারে।

  2. জনাব, আপনি প্রথমেই প্রশ্ন
    জনাব, আপনি প্রথমেই প্রশ্ন করতেছেন, এইটা পড়া আছে কিনা, অইটা পড়া আছে কিনা? আপনার কি ধারনা, বাইবেল এক কপিই আছে পৃথিবীতে, অইটা আপনার কাছে! আর কারো কাছে বাইবেল নাই, আর কেউ বাইবেল পড়ে নাই।

  3. অাদিপাপ কার কাছে করেছিল
    অাদিপাপ কার কাছে করেছিল?ঈশ্বরের কাছে, তাহলে সেই পাপ ক্ষমা করতে ঈশ্বরের ইচ্ছাইতো যথেষ্ট এতকিছু করতে হবে কেন?

    1. হ্যা , ঈশ্বরের সেই ইচ্ছা
      হ্যা , ঈশ্বরের সেই ইচ্ছা হয়েছিল বলেই নিজেই আবার ঈশ্বরের পূত্র রূপে ,বিনা অপরাধে ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে রক্তপাত করে মানবজাতিকে তাদের আদি পাপ থেকে মুক্ত করেছেন।

      শুধু ইচ্চা করলেই হতো , কিন্তু তাতে মানুষ বুঝত না , ঈশ্বর তাদেরকে কতটা ভালবাসে। সেই ভালবাসা প্রদর্শন করতেই মানব রূপে তার দুনিয়াতে আসা, তাদের জন্যে ক্রুশে বিদ্ধ হওয়া ও রক্তপাত করা। এটাই খৃষ্টান ধর্মের মূল অনুপ্রেরনা , এটা দেখেই মানুষ দলে দলে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহন করেছে। আর শুধু যদি কিতাবে বলে দিত যে তার ইচ্চা হয়েছে তাই আদি পাপ মাপ করে করে দিয়েছে , মানুষ সেটা হেসেই উড়িয়ে দিত। যেমন আমরা অনেকেই বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন ঘটনা হেসে উড়িয়ে দেই।

      1. এসব কথার মধ্যে কোন যুক্তি নেই
        এসব কথার মধ্যে কোন যুক্তি নেই,ঈশ্বরের হুকুম অমান্য করাটাইতো পাপ তাই না? তাহলে এখন যারা ঈশ্বরের হুকুম অমান্য করছে মদ খাচ্ছে ভেবিচার করছে ভ্রন হত্যা করছে সেই খ্রীষ্টানদের কি হবে? অার একজনের পাপের ভার ঈশ্বর অন্য অার একজনকে কেন দিবে? অার ঈশ্বরের যদি এত দয়া হয় তাহলে তিনি মানবজাতি কে কেন পৃথিবীতে ফেলেরেখেছেন? স্বর্গে নিয়ে যাচ্ছেন না কেন? অার ঈশ্বর যদি যীসু হন তাহলে অন্য নবী মুসা,ইব্রাহীম,লুত,নুহ….তারা কি ছিলেন কেন এসেছিলেন?

        1. টিপিক্যাল মুসলিমের মত কথা
          টিপিক্যাল মুসলিমের মত কথা বলতেই হবে। না হলে হবে না। কতভাবে বুঝান হলো যে আদি পাপের সাথে বর্তমানে মানুষ যে পাপ করে তার কোনই সম্পর্ক নেই কিন্তু কিছুমাত্র না বুঝে , অথবা বুঝেও না বোঝার ভান করে , উটকো প্রশ্ন করতেই হবে। না হলে খাটি মুসলমান হওয়া যাবে না।

          1. পাপের অাবার রকমফের কি পাপ
            পাপের অাবার রকমফের কি পাপ মানে অন্যায় ইশ্বরের কথা অমান্য করা সেটা যেখানেই হোক,এসব উদ্ভট কথা বলে সধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে এই দুনিয়াতে ফায়দা হতে পারে কিন্তু অাখেরাতে কঠিন শাস্তি পেতে হবে

          2. পাপের রকমফের নাই ? হা হা হা ,
            পাপের রকমফের নাই ? হা হা হা , স্বয়ং ঈশ্বরের নির্দেশ অমান্য করা এক ধরনের পাপ , আর কোন মানুষের সাথে প্রতারনা করা বা কাউকে হত্যা করা বা কারও সম্পদ আত্মস্যাৎ করা এগুলো ভিন্ন ধরনের পাপ।

            যত নামাজ রোজাই করুন না কেন , কোরান ও হাদিসে কোথায় বলা আছে যে আপনি এসব করে সেই আদিপাপ থেকে মুক্ত হবেন ? এমন কি আপনার নবী মুহাম্মদ নিজেও জানেন না যে তিনি বেহেস্তে যেতে পারবেন কি না। কোরান ও হাদিসেই এসব আছে। তো আপনাদের নবীর যেখানে এই অবস্থা , সেখানে আপনারা নামাজ রোজা করে বেহেস্তে চলে যাবেন , এর গ্যারান্টি কোথায় ? মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন ?

  4. উনার আগমন হইল কোত্থেকে?
    উনার আগমন হইল কোত্থেকে? কোথাকার কোন ছাগল কার জন্য নিজের জীবন নাকি করাবানি দিয়ে দিয়েছিল সেগুলো এখানে এসে প্রচার করে। আরে বলদ, এ সমাজের জন্য আক্ষরিক অর্থেই জীবন কোরবান করে দিয়েছি, মরতে চলেছি। চাপাতির নিচে আছে কল্লা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

58 − = 52