সেনাবাহিনী’র বাণিজ্য, বাণিজ্যর সেনাবাহিনী, পর্ব-৩

শুধু কি রাজনিতীিব্যবসায়ীরাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র দোসর? যুগে যুগে ক্ষমতার পালাবদলের সর্বময় মধুপান করে গিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০০৭ সালে ক্ষমতায় আসা কেয়ারটেকার যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র একটি পুতুল সরকার ছিলো সে তো পুরোনই। বিবিসি’র একটা নিউজ ছিলো অনেকটা এরকম- An analysis of events like the infamous ‘minus two formula’, efforts to launch political parties and the arrest of political leaders on various corruption charges, suggested that the army Chief’s speech was, in fact,a blueprint for the future activities of the caretaker administration. Commenting on the civil-military relations during the caretaker government, in practice, it was Gen. Moeen
who was calling the shots and Dr Fakhruddin was simply following the General’s lead . No wonder the General categorically declared that he
had no intention of becoming the President . Why bother, many
wondered, when without sitting on the chair of power he enjoyed all
the power.
ব্যাপারটা অনেকটা হিটলারের মতোই। হিটলার তার কোন কূকর্মের দলিল তৈরি করতেন না।মঈন উ আহমেদরাও করেন নি। তবে একটা কাজ করে গেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র স্বার্থে, তা হলো সেনাপ্রধান অাগে ছিলেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল, কেয়ারটেকার সরকার সেই পদ’কে বানালো চার তারকা বা ফুল স্টার জেনারেল। সে সময় অনেক সেনাকর্মকর্তার পাইকারীহারে পদোন্নতিও হয়। তবে সে সময় কোর্পোরেট বিশেষ করে দেশি কর্পোরেটদের সাথে সেনাবাহিনী’র দহরম-মহরম বাগতে থাকে। এত আখেরে লাভ হয় সেনাবাহিনী’র বাণিজ্য স্বার্থের।বহু সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা নিয়োগ পান বেসামরিক পদে। ২০০৮-০৯ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট দাড়ায় ৬৪,০৮০ বিলিয়নে।যা কিনা অাগের বছরের চাইতে ১০০০ কোটি টাকা বেশি।
কেয়ারটেকার সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র শৃংঙ্খলায় মুগ্ধ হয়ে তাদেরকে বেশ কিছু সরকারী প্রতিষ্ঠান উপঢৌকন দেয় এবং দেবার সুপারিশ করে। ২০০৮ সালের জুলাই মাসে শিল্প মন্ত্রণালয় নর্থ-বেঙ্গল পেপার মিল আর্মি’র হাতে তুলে দেবার পরার্মশ দেয়। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় ছিলো সেনাবাহিনীর মতো দূর্নিতীপরায়নদের হাতে দূর্নিতী দমন কমিশনের দায়িত্ব দেয়া।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র মূল ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ন্ত্রিত হয় সেনা কল্যান সংস্থা বা Sena
Kalyan Sangstha (SKS) এর মাধ্যমে। এর মূল বাণিজ্য হলো হসপিটালিটি, আবাসন,আমদানী-রপ্তানী,ব্যাংকিং,বেকারী ইত্যাদি।কিন্তু সেনা কল্যান সংস্থা’র বাইরেও সেনাবহিনী’র সরাসরি ব্যবসা হচ্ছে বেসামরিক সংস্থা যেমন বন্দর,শিপইয়র্ড,রাস্তা নির্মান,সেতুর তদারকী ইত্যাদি। যে সেনাকল্যান সংস্থা ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করে ২৫ মিলিয়ন টাকা নিয়ে তার ১৯৯৬ সালের হিসাব অনুযায়ী সম্পদের পরিমান হলো ৯৮৭ মিলিয়ন টাকা। মজার বিষয় হচ্ছে এর নিয়ন্ত্রন কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে আর প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন প্রধানমন্ত্রী।তবে আটজনের একটি বোর্ডের হাতে এর সর্বময় ক্ষমতা ন্যাস্ত এরা হলেন – the Chief of Army Staff, or his nominee (not below the rank of
Major General) is the Chairman. The Adjutant General of the BA is the
Vice Chairman and other members include a nominee of the Chief of
Naval Staff not below the rank of Commodore, a nominee of the Chief
of Air Staff not below the rank of Air Commodore, the Director of the
Bangladesh Armed Services Board and a nominee of the Defence
Secretary not below the rank of Joint Secretary. The Managing
Director of SKS acts as the Member Secretary. The day-to-day
management of SKS is carried out by the management committee,
comprising the Vice Chairman (Adjutant General of BA), Managing
Director, Deputy Managing Director and six directors (administration,
finance, marketing, production, procurement, welfare).
তবে এখানে বেশ কিছু মজার ব্যাপার লক্ষ্যনীয়, তা হলো সেনা কল্যান সংস্থা’র বাণিজ্য প্রাইভেট সেক্টর কেন্দ্রিক বলা হলেও তার নিয়ন্ত্রনকারী’রা সরকারের লোক, সোজাসুজি সরকারী কর্মচারী। বেসামরিক বা সিভিল প্রশাসনের কেউ এমন ব্যবসা করতে পারেন বলে আমার জানা নাই।UN mission ও সেনা কল্যান সংস্থা’র জন্য বিনিয়োগ এর একটা উতস। তবে সরকার প্রতিবছর সেনা কল্যান সংস্থা’তে ৩০মিলিয়ন টাকার মতো একটা থোক বরাদ্দ দেয়।
১৯৯৫ সালের হিসাবমতে সেনা কল্যান সংস্থা’র টার্নওভার ছিলো প্রায় ২হাজার কোটি টাকা।এই আয়ের উতস ছিলো ১৫টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং ২টি কমার্শিয়াল সোর্স. পাঁচটি বিক্রয় আউটলেট এবং ১৫টি রিয়েল এস্টেট।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধীনে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানটি হলো ‘ট্রাষ্ট ব্যাংক লি.’৷ বর্তমানে সারাদেশে এদের অন্ততপক্ষে ১০০টি শাখা রয়েছে৷ প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতোই কাজ করে৷ ২০০৮সালে এই ব্যায়কের বার্ষিক আয় ছিলো ১,১৭২.৪২ মিলিয়ন টাকা। এছাড়া ঢাকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পাঁচতারা হোটেল র‌্যাডিসন-ও সেনাবাহিনীর মালিকানায়৷ রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামেও রয়েছে তাদের আরেকটি পাঁচতারা হেটেল র‌্যাডিসন ব্লু৷২০০৬-০৭ সালে ঢাকা রেডিসনের আয় ছিলো প্রায় ৯.৫২ মিলিয়ন ইউ.এস ডলার।
‘সেনা কল্যাণ সংস্থা’ বা এসকেএস-এর অধীনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে:
‘মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরী’,
‘ডায়মন্ড ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ’,
‘ফৌজি ফ্লাওয়ার মিলস’,
অন্যদিকে ‘আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট’ বা এডাব্লিউটি-র প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
‘ট্রাষ্ট ব্যাংক লি’.,
‘ব়্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেল’,
‘আর্মি শপিং কমপ্লেক্স’,
‘সেনা প্যাকেজিং লিমিটেড’,
‘সেনা হোটেল ডেভলেপমেন্ট লিমিটেড’,
‘ট্রাষ্ট ফিলিং এন্ড সিএনজি ষ্টেশন’,
‘সেনা ফিলিং ষ্টেশন – চট্টগ্রাম’,
‘ভাটিয়ারী গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব’,
‘কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব’,
‘সাভার গলফ ক্লাব’,
‘ওয়াটার গার্ডেন হোটেল লিমিটেড চট্টগ্রাম’,
‘ট্রাষ্ট অডিটোরিয়াম এবং ক্যাপ্টেনস ওর্য়াল্ড’,
‘আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট বাস সার্ভিস’ আর ‘ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস’
এছাড়া রয়েছে ‘আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’ ও ‘আর্মি ইন্সটিউট অব বিজনেস এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন’৷ এর সঙ্গে সেনাবাহিনী সরাসরি নির্মাণ কাজেও যুক্ত৷ যেমন ঢাকার ‘হাতির ঝিল’ প্রকল্পটি সেনাবাহিনীই বাস্তবায়ন করে৷ এমনকি রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান ‘মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি’ এখন পরিচালনা করে সেনাবাহিনী-ই৷
‘চিটাগাং ফ্লাওয়ার মিলস’,
‘সেনা কল্যাণ ইলেক্ট্রিক ইন্ডাষ্ট্রিজ’,
‘এনসেল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’,
‘স্যাভয় আইসক্রিম’,
‘চকোলেট এন্ড ক্যান্ডি ফ্যাক্টরী’,
‘ইস্টার্ন হোসিয়ারী মিলস’,
‘এস কে ফেব্রিক্স’,
‘স্যাভয় ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী’,
‘সেনা গার্মেন্টস’,
‘ফ্যাক্টো ইয়ামাগেন ইলেক্ট্রনিক্স’,
‘সৈনিক ল্যাম্পস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার’,
‘আমিন মহিউদ্দিন ফাউন্ডেশন’,
‘এস কে এস কমার্শিয়াল স্পেস’,
‘সেনা কল্যাণ কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স’,
‘অনন্যা শপিং কমপ্লেক্স’,
‘সেনা ট্রাভেল লিমিটেড’,
‘এস কে এস ট্রেডিং হাউস’,
‘এস কে এস ভবন খুলনা’,
‘নিউ হোটেল টাইগার গার্ডেন’,
‘রিয়েল এস্টেট ডিভিশন চট্টগ্রাম’
‘এস কে টেক্সটাইল’৷
ব্যবসায়িক ধরন অনুযায়ী খাতগুলো হচ্ছে:
Industrial units
· Mongla Cement Factory, Mongla, Bagerhat.
· Fauji Flour Mills, Chittagong.
· Diamond Food Industries, Chittagong.
· Chittagong Flour Mills, Chittagong.
· SK Electric Industries, Chittagong.
· Enesel Textile Mills, Chittagong.
· Savoy Ice-Cream Factory, Tejgaon, Dhaka
Eastern Hosiery Mills, Tongi, Gazipur.
· SK Fabrics, Tongi, Gazipur.
Commercial Units
· Sena Filling Station, Chittagong
· Sainik Lamps Distribution Centre, Dhaka
Subsidiaries
· Bayazid Industries
· Savoy Bread and Confectionery
· SKS AC, IT & Communication Ind
· SK Textiles
· SKS Trading House
· Sainik Lamps Distribution Centre
· Apang Food Industries
Real estate
· Sena Kalyan Bhaban, Dhaka
· Amin Mohiuddin Foundation, Dhaka
· Mohakhali Land & Building, Dhaka
· Mohakhali Plot No. 7, Dhaka
· Shyampur Ghat, Dhaka
· Premises of Weather Proof Packing Materials Industries, Dhaka
· SKS Commercial Complex, Tongi, Gazipur
· Premises of Nazir Industries, Tongi, Gazipur
· Enesel Mansion, Chittagong
· Premises of Tyresoles (BD) Ltd. Chittagong
· Mehdibagh Rest House, Chittagong
Steel House, Chittagong
· Commercial Plot at Agrabad C/A, Chittagong
· Premises of J J Rehbach (BD) Ltd., Chittagong
· Kalurghat Plot, 8P Heavy I/A, Chittagong
· Sena Kalyan Bhaban, Khulna
· Shiromoni Industrial Plot, Khulna
চলবে..

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 3 =