যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ?- তৃতীয় পর্ব

মুসলমানরা একটা প্রশ্ন করে প্রায়ই- যীশু কি কখনও দাবী করেছেন যে তিনি ঈশ্বর ও তাকে আরাধনা করতে হবে ? এর সোজা উত্তর হলো- হ্যা দাবী করেছেন , কিন্তু যেহেতু মুসলিমরা কখনই গসপেল পড়ে না , তারা বরং মোল্লাদের কথা বিশ্বাস করে , তাই তারা এই দাবীর বিষয়টা জানে না। তিনি বেশ কয়বারই নিজেকে ঈশ্বর দাবী করেছেন , আর ঠিক সেই কারনেই কিন্তু ইহুদিরা ধর্মদ্রোহীতার অপরাধে তাকে রোমান শাসক পিলাতের কাছে নিয়ে যায় , তারা মৃত্যুদন্ড দাবী করে , কারন ইহুদি ধর্ম অনুযায়ী ধর্মদ্রোহিতার একমাত্র শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড। সেটা বিস্তারিতভাবে দেখা যাক–

গসপেলের যোহন থেকে

যোহন- অধ্যায়- ৮:
৫৬ তোমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহাম আমার আগমনের দিন দেখতে পাবেন বলে খুশী হয়েছিলেন। তিনি সেই দিন দেখে খুশী হয়েছিলেন।’
৫৭ তখন ইহুদীরা তাঁকে বলল, ‘তোমার বয়স এখনও পঞ্চাশ বছর হয়নি আর তুমি বলছ য়ে তুমি অব্রাহামকে দেখেছ!’
৫৮ যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি। অব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি।’
৫৯ তখন তারা তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারবার জন্য পাথর তুলে নিল; কিন্তু যীশু নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন ও মন্দির চত্বর ছেড়ে চলে গেলেন।

ইংরেজীতে-

John- Chapter-8:
56 Your father Abraham rejoiced that he would see my day. He saw it and was glad.”
57 So the Jews said to him, “You are not yet fifty years old, and have you seen Abraham?”
58 Jesus said to them, “Truly, truly, I say to you, before Abraham was, I AM.”

যীশু ইহুদিদেরকে বললেন – ইব্রাহিমের সাথে তার কথাবার্তা হয়েছিল, তাতে ইব্রাহীম খুশী হয়েছিল। যীশুর প্রায় ২৩০০ বছর আগে ইব্রাহীম দুনিয়াতে আগমন করে। সেই কারনে ইহুদিরা তাকে জিজ্ঞেস করে – তোমার বয়স এখনও পঞ্চাশ বছর হয় নি , তুমি কি করে ইব্রাহীমের সাথে কথা বললে? তার উত্তরেই যীশু বললেন- ইব্রাহীমের আগ থেকেই — আমি আছি বা I AM।

ইব্রাহীমের জন্মের আগ থেকেই যীশু কিভাবে থাকতে পারেন ? ইহুদিরা যীশুর এই কথা শুনে বুঝতে পারে যীশু নিজেকে ঈশ্বর দাবী করছেন , যা তাদের কাছে ধর্মদ্রোহিতার সামিল , তাই তারা যীশুকে পাথর মারতে যায়। এই যে আমি আছি বললেন যীশু , এটাই বাইবেলীয় ঈশ্বরের প্রকৃত নাম। ইংরেজী বাইবেল থেকে সেটা দেখা যাক ———-

Exodus 3:13-15, “Then Moses said to God, ‘Behold, I am going to the sons of Israel, and I shall say to them, “The God of your fathers has sent me to you.” Now they may say to me, ‘What is His name?’ What shall I say to them?” 14 And God said to Moses, “I AM WHO I AM”[HWH]; and He said, “Thus you shall say to the sons of Israel, ‘I AM[AHWH] has sent me to you.’ God, furthermore, said to Moses, “Thus you shall say to the sons of Israel, ‘The Lord [YHWH], the God of your fathers, the God of Abraham, the God of Isaac, and the God of Jacob, has sent me to you.’ This is My name forever, and this is My memorial-name to all generations.”

যাত্রাপুস্তক- অধ্যায়- ৩:
১৩ তখন মোশি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলল, ‘কিন্তু আমি যদি গিয়ে ইস্রায়েলীয়দের বলি য়ে, “তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন,’ তখন তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তার নাম কি?’ তখন আমি তাদের কি বলব?”
১৪ তখন ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “তাদের বলো, ‘আমি আমিই।’ যখনই তুমি ইস্রায়েলীয়দের কাছে যাবে তখনই তাদের বলবে, ‘আমিই’ আমাকে পাঠিয়েছেন।”
১৫ ঈশ্বর মোশিকে আরও বললেন, “তুমি অবশ্যই তাদের একথা বলবে: ‘য়িহোবা হলেন তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্হাকের ঈশ্বর এবং যাকোবের ঈশ্বর। আমার নাম সর্বদা হবে য়িহোবা। এই নামেই আমাকে লোকে বংশ পরম্পরায চিনবে।’ লোকদের বলো, ‘য়িহোবা তোমাকে পাঠিয়েছেন!”‘

এখানে ঈশ্বর বলছেন তার নাম হলো – I AM– যা হিব্রু ভাষায় – YAHWEH, or YEHWAH, or YAHWAH, or YEHWEH, etc. ইহুদিরা যখন যীশুকে জিজ্ঞেস করল কিভাবে সে ইব্রাহীমের আগ থেকেই আছে , তখন যীশু ঠিক সেই উত্তরটাই দিল যে তিনি আসলে কে বললেন – আমি আছি বা I AM । বা YAHWEH, or YEHWAH, or YAHWAH, or YEHWEH, etc.

আবার দেখা যাক নিচের বানী

যোহন- অধ্যায় -১০:
৩০ আমি ও পিতা, আমরা এক।’
৩১ ইহুদীরা তাঁকে মারবার জন্য আবার পাথর তুলল।
৩২ যীশু তাদের বললেন, ‘পিতার শক্তিতে আমি অনেক ভাল কাজ করেছি, তার মধ্যে কোন্ কাজটার জন্য তোমরা পাথর মারতে চাইছ?’
৩৩ ইহুদীরা এর উত্তরে তাঁকে বলল, ‘তুমি য়ে সব ভাল কাজ করেছ, তার জন্য আমরা তোমায় পাথর মারতে চাইছি না। কিন্তু আমরা তোমাকে পাথর মারতে চাইছি এই জন্য য়ে, তুমি ঈশ্বর নিন্দা করেছ। তুমি একজন মানুষ, অথচ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করছ।’

যীশু বলছেন , আমি ও আমার পিতা এক। এর অর্থ কি ? এর অর্থ হলো —– যীশু= ঈশ্বর(পিতা)।
ঠিক সেই কারনেই আবার ইহুদিরা যীশুকে পাথর মারতে গেল আর তার কারন হিসাবেই তারা বলছে ——-তুমি একজন মানুষ, অথচ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করছ।

অর্থাৎ যীশু ও তার পিতা বা ঈশ্বর এক , একথা বলে যীশু বুঝিয়েছেন যীশুই ঈশ্বর আর সেটা ইহুদিরা বুঝতে পেরেই তারা সোজা বলছে যীশু নিজেকে ঈশ্বর হিসাবে দাবী করছে বলেই তাকে তারা পাথর মারছে।

এই সব পরিস্কার বক্তব্য থেকে কি এখনও কি কোন মুসলমান প্রশ্ন করবে যে বাইবেলের কোথায় যীশু নিজেকে ঈশ্বর দাবী করেছে ? তাহলে একটা প্রশ্ন চলে আসে – এ কেমন ঈশ্বর যে নাকি ইহুদিদের পাথরের আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে লুকিয়ে পড়ে ?

এর অর্থ বুঝতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে ঈশ্বর কেন যীশু রূপে দুনিয়াতে আসলেন। তিনি এসেছিলেন কারন তিনি তার সন্তানতূল্য মানব সন্তানকে অপরিসীম ভালবাসেন ,কিন্তু সেই মানবজাতি আদি পাপ বয়ে বেড়াচ্ছে যা তাদের ঈশ্বরের রাজ্যে যাওয়ার জন্যে এক বড় বাধা। যীশু মানবজাতিকে সেই আদিপাপ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যে এসেছিলেন মাত্র। তিনি দুনিয়ার মানুষকে শাসন বা বিচার করতে আসেন নি। তিনি বিচার করতে চাইলে সাথে সাথেই যারা তাকে অবিশ্বাস করেছে বা তাকে অমান্য করেছে , তাদেরকে হত্যা করে ফেলতেন। কিন্তু সেই কাজ করার জন্যে তিনি আসেন নি। যারা তাকে বিশ্বাস করবে না , তাদের বিচার হবে শেষ বিচার দিনে আর তখন তিনি নিজেই তাদেরকে বিচার করবেন। যেহেতু তিনি কারও বিচার করতে আসেন নি , তাই অহরহ নিজেকে ঈশ্বর বলে পরিচয় দেন নি। শুধুমাত্র যখন দরকার পড়েছে , তখনই সেটা করেছেন। আর বাকী সময়টা নিজেকে মানব পুত্র , ঈশ্বরের পূত্র ইত্যাদি বলে পরিচয় দিয়ে কাজ সেরেছেন। তিনি সরাসরি বার বার নিজেকে ঈশ্বর বলে পরিচয় দিলে মানুষ তাকে বিশ্বাস করত না, তার ফলে তাকে সাথে সাথে বিচার করতে হতো। এই বিচার এড়ানোর জন্যেই তিনি বার বার বলেছেন পিতা ঈশ্বর তাকে পাঠিয়েছে। তো পিতা ঈশ্বরের সাথে তো যীশুর কোনই তফাৎ নেই। সুতরাং তিনি যখন বলেন পিতা ঈশ্বর তাকে পাঠিয়েছেন তখনও তিনি সঠিক কথাই বলেছেন।

এছাড়া যীশু এমন সব কাজ করেছেন যা করার এক্তিয়ার শুধুই ঈশ্বরের ।যেমন মৃতকে জীবন দান করা , মাটির তৈরী পাখিকে জীবন দান করা , মৃত থেকে পুনরুত্থান , এসব ক্ষমতা একমাত্র ঈশ্বরের , ঈশ্বর এসব ক্ষমতা কোন নবীকে কখনই দেয় নি। যীশু অবলীলায় সেইসব কাজ করে গেছেন , তারও শত শত নয়, হাজার হাজার মানুষের সামনে। গসপেলে তার সব জীবন্ত বিবরন আছে। এছাড়া তিনি বলেছেন –

যোহন, অধ্যায় – ১৪:
৬ যীশু তাঁকে বললেন, ‘আমিই পথ, আমিই সত্য ও জীবন। পিতার কাছে যাবার আমিই একমাত্র পথ।
৭ তোমরা যদি সত্যি আমাকে জেনেছ, তবে পিতাকেও জানতে পেরেছ। আর এখন থেকে তোমরা তাঁকে জেনেছ ও তাঁকে দেখেছ।’

কোন নবী কখনই বলতে পারে না – এইসব কথা। নবী কখনই সত্য ও জীবন হতে পারে না , একমাত্র পথ হতে পারে না। এই ক্ষমতা একমাত্র ঈশ্বরের। আবারও বলছেন – যীশুকে যে জেনেছে , সে পিতা বা ঈশ্বরকেও জেনেছে অর্থাৎ যীশু নিজেই যদি ঈশ্বর না হয়, সেটা কিভাবে সম্ভব ?

যীশু আরও বলেছেন —-

যোহন , অধ্যায় -১৪:
৯ যীশু তাঁকে বললেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছি; আর ফিলিপ, তোমরা এখনও আমায় চিনলে না? য়ে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে। তোমরা কি করে বলছ, ‘পিতাকে আমাদের দেখান?
১০ তুমি কি বিশ্বাস কর না য়ে আমি পিতার মধ্যে আছি আর পিতাও আমার মধ্যে আছেন? আমি তোমাদের য়ে সকল কথা বলি তা নিজের থেকে বলি না। আমার মধ্যে যিনি আছেন সেই পিতা তাঁর নিজের কাজ করেন।
১১ যখন আমি বলি য়ে আমি পিতার মধ্যে আছি আর পিতাও আমার মধ্যে আছেন, তখন আমাকে বিশ্বাস কর। যদি তা না কর, তবে আমার দ্বারা কৃত সব অলৌকিক কাজের কারণেই বিশ্বাস কর।

যীশু বলছেন – যে আমাকে দেখেছে , সে আমার পিতাকে দেখেছে —— যীশু নিজেই যদি স্বয়ং ঈশ্বর না হন , সেটা কিভাবে সম্ভব ? পিতার মধ্যে পুত্র আছে আর পুত্রের মধ্যে পিতা আছে – এর অর্থ কি ? এর অর্থ কি এটাই নয় যে পিতা ও পূত্র আসলেই এক , তাদের মধ্যে কোনই তফাৎ নেই? এটা কি যীশুর নিজেকে ঈশ্বর হিসাবে দাবী করা নয় ?

আমাদের মুসলমান ভাই বোনেরা কখনই গসপেল পড়ে না, তাই তারা জানে না তাতে কি লেখা।এটা তাদের দোষও না , কারন তারা যে পড়ে না , সেটা তারা পড়ে না শুধুই মোল্লাদের অপপ্রচারনার কারনে। কিন্তু কেউ যদি অপপ্রচারনায় কান না দিয়ে গসপেল পড়েন , তাহলে তার কাছে সত্য উদ্ভাসিত হবেই।

যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ?- দ্বিতীয় পর্ব

যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ? -প্রথম পর্ব

বাংলা বাইবেল: http://www.ebanglalibrary.com/banglabible/

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “যীশু কিভাবে একই সাথে স্বয়ং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পূত্র ?- তৃতীয় পর্ব

    1. যার যেমন ইচ্ছা খুশি বিশ্বাস
      যার যেমন ইচ্ছা খুশি বিশ্বাস করতে পারে , তাতে আমাদের কিছুই যায় আসে না। তবে কি না যীশু খুবই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন ,বহু রেকর্ড বিদ্যমান , সেটা জানতে চলে যান এখানে —

      https://en.wikipedia.org/wiki/Historicity_of_Jesus

  1. আচ্ছা আমার প্রশ্ন হল আমি
    আচ্ছা আমার প্রশ্ন হল আমি ঈশ্বর এই কথাটি এতটা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার কি আছে? সোজা সাপটা বললেই হয়, আমি ইশ্বর , তোমারা আমারই উপাসনা কর। আবার আপনাদের ঈশ্বরকে ইহুদিরা শূলে চড়িয়ে হত্যাও করেছে। অদ্ভুত ব্যাপার০স্যাপার!
    পিতা-পুত্র । আপনাদের আল্লাহ কি বিয়ে করেছিল?

    1. আপনাদের মুসলমানদের সমস্যা
      আপনাদের মুসলমানদের সমস্যা কিন্তু একটাই , আর সেটা হলো বিন্দুমাত্র জানার চেষ্টা না করা। নিবন্ধে আপনার প্রশ্নের সুন্দরভাবে উত্তর দেয়া আছে , একটু পড়লেই সেটা পেয়ে যেতেন , যেমন —

      এর অর্থ বুঝতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে ঈশ্বর কেন যীশু রূপে দুনিয়াতে আসলেন। তিনি এসেছিলেন কারন তিনি তার সন্তানতূল্য মানব সন্তানকে অপরিসীম ভালবাসেন ,কিন্তু সেই মানবজাতি আদি পাপ বয়ে বেড়াচ্ছে যা তাদের ঈশ্বরের রাজ্যে যাওয়ার জন্যে এক বড় বাধা। যীশু মানবজাতিকে সেই আদিপাপ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যে এসেছিলেন মাত্র। তিনি দুনিয়ার মানুষকে শাসন বা বিচার করতে আসেন নি। তিনি বিচার করতে চাইলে সাথে সাথেই যারা তাকে অবিশ্বাস করেছে বা তাকে অমান্য করেছে , তাদেরকে হত্যা করে ফেলতেন। কিন্তু সেই কাজ করার জন্যে তিনি আসেন নি। যারা তাকে বিশ্বাস করবে না , তাদের বিচার হবে শেষ বিচার দিনে আর তখন তিনি নিজেই তাদেরকে বিচার করবেন। যেহেতু তিনি কারও বিচার করতে আসেন নি , তাই অহরহ নিজেকে ঈশ্বর বলে পরিচয় দেন নি। শুধুমাত্র যখন দরকার পড়েছে , তখনই সেটা করেছেন। আর বাকী সময়টা নিজেকে মানব পুত্র , ঈশ্বরের পূত্র ইত্যাদি বলে পরিচয় দিয়ে কাজ সেরেছেন। তিনি সরাসরি বার বার নিজেকে ঈশ্বর বলে পরিচয় দিলে মানুষ তাকে বিশ্বাস করত না, তার ফলে তাকে সাথে সাথে বিচার করতে হতো। এই বিচার এড়ানোর জন্যেই তিনি বার বার বলেছেন পিতা ঈশ্বর তাকে পাঠিয়েছে। তো পিতা ঈশ্বরের সাথে তো যীশুর কোনই তফাৎ নেই। সুতরাং তিনি যখন বলেন পিতা ঈশ্বর তাকে পাঠিয়েছেন তখনও তিনি সঠিক কথাই বলেছেন। –

      তিনি কেন শুলে চড়েছেন সেটারও উত্তর দেয়া আছে দ্বিতীয় পর্বে -https://istishon.blog/?q=node/21134#sthash.DtvM7NmX.GtXDM6ha.dpbs

      তারপরেও বলছি , আদম হাওয়া জ্ঞানবৃক্ষের ফল খেয়ে ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করে যার ফলে তাদেরকে ইডেন উদ্যান থেকে বহিস্কৃত হতে হয়। ঈশ্বরের আদেশ না মানাটা ছিল একটা পাপ , দুনিয়ার মানুষ প্রত্যেকেই উত্তরাধিকার সুত্রে এই আদিপাপ নিয়ে জন্মায়। যীশুর আগ পর্যন্ত পশুবলির মাধ্যমে সেই পাপ মোচনের একটা বিধান ছিল, ঈশ্বর স্বয়ং নিজে যীশু রূপে পৃথিবীতে এসে শুলে চলে নিজের দেহের রক্তপাত করে , গোটা মানবজাতিকে সেই আদিপাপ থেকে মুক্তি দিয়েছে। অত:পর পশুবলি দিয়ে ঈশ্বরকে খুশি করার বা আদি পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার আর কোন দরকার নেই। মানবজাতি ঈশ্বরের কাছে সন্তানতূল্য, তাই ঈশ্বর তাদেরকে সীমাহীন ভালবাসে , সেই ভালবাসার নিদর্শনস্বরূপ সে মানুষকে আদিপাপ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যেই দুনিয়াতে যীশু রূপে আগমন করে , শুলে চড়ে বিনা অপরাধে , নিজের রক্তপাত করে । বর্তমানে আমরা যারা জন্মগ্রহন করছি , আমরা আদিপাপ মুক্ত অবস্থায় জন্মগ্রহন করছি। আর তাই পশু কোরবানির মত নিষ্ঠুর প্রথা খৃষ্টানরা পালন করে না। ঈশ্বর চায় না , আমরা নিষ্ঠুর প্রথা পালনের মাধ্যমে তার আরাধনা করি। আর এটাই সভ্যতার মূল ভিত্তি।

      1. তিনি সরাসরি বার বার নিজেকে

        তিনি সরাসরি বার বার নিজেকে ঈশ্বর বলে পরিচয় দিলে মানুষ তাকে বিশ্বাস করত না, তার ফলে তাকে সাথে সাথে বিচার করতে হতো।

        বাহঃ বেশ মজাত। ঈশ্বর স্বয়ং নিজেকে ঈশ্বর দাবী করলেও মানুষ সেই ঈশ্বরকে চাক্ষুশ দেখেও ঈশ্বর হিসেবে মানবে না এই ভয় পেয়েছিলেন আপনার যিশূ। এটা কি আপনার ঈশ্বরের মারাত্নক সীমাদ্ধতা নয়? আপনি কি বলেন?

        1. তার মানে বোঝা গেল আপনি আমার
          তার মানে বোঝা গেল আপনি আমার নিবন্ধ একেবারেই না পড়ে খামোখা তর্ক করছেন টিপিক্যাল মুসলমানের মত। গসপেলে যীশু অবশ্যই সরাসরি নিজেকে ঈশ্বর হিসাবে দাবি করেছেন। সেটা কিন্তু নিবন্ধে খুবই পরিস্কারভাবে দেখান হয়েছে যথাযথ উদ্ধৃতিসহ। আমি বলেছি , অহরহ তিনি নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করেন নি , কেন করেন নি তার কারনও বলেছি। একজন মানুষ যদি সাধারন মানুষের মাঝে দাবী করে – আমি ঈশ্বর – কয়জন মানুষ তাকে বিশ্বাস করত ? আর যদি তা বিশ্বাস না করত , তাহলে ঈশ্বর হিসাবে যীশুর কি করা উচিত ছিল ? নিশ্চিতভাবেই অবিশ্বাসীদেরকে শাস্তি দেয়া , তাই না ? কিন্তু তিনি তো কাউকে বিচার করে শাস্তি দিতে আসেন নি। সেই কারনেই বার বার নিজেকে ঈশ্বর দাবী করেন নি।

          আপনারা তো দাবী করেন , ইসলাম হলো আব্রাহামিক ধর্ম , তাই না ? আপনি কি জানেন আব্রাহামিক ধর্মের ঈশ্বরের নাম কি ?

          মুহাম্মদ তো ১৩ বছর ধরে মক্কায় নিজেকে নবী দাবী করেছিলেন , কয়জন তাকে বিশ্বাস করেছিল ? কেন তাকে তেমনভাবে নবী হিসাবে বিশ্বাস করে নি ? জানা আছে ?

    1. আপনার দেয়া এসব লিংক আমি
      আপনার দেয়া এসব লিংক আমি দেখিনি , কিভাবে সেটা জানলেন ?

      এই নারীই খালি না , কয়জন খৃষ্টান তাদের বাইবেল ভালমত পড়ে ? সে তো মনে হয় না কখনও বাইবেল খুলে পড়েছে আর যদি পড়েও থাকে , তাহলে তার অর্থ বুঝেছে। বাইবেলে বেশ কয়বারই যীশু নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করেছে , সেই কারনে এমন কি ইহুদিরা তাকে বলেছে –

      যোহন অধ্যায় – ১০:
      ৩৩ ইহুদীরা এর উত্তরে তাঁকে বলল, ‘তুমি য়ে সব ভাল কাজ করেছ, তার জন্য আমরা তোমায় পাথর মারতে চাইছি না। কিন্তু আমরা তোমাকে পাথর মারতে চাইছি এই জন্য য়ে, তুমি ঈশ্বর নিন্দা করেছ। তুমি একজন মানুষ, অথচ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করছ।’ –

      ঠিক এই কারনেই তারা যীশুকে ধরে নিয়ে রোমান শাসক পিলাতের কাছে নিয়ে গেছে বিচারের জন্যে। এত সরাসরি বক্তব্য থাকার পরেও আপনারা যদি একই প্রশ্ন অর্থহীন ভাবে করে যেতে থাকেন , তাহলে আপনাদের এই গোয়ার্তুমির জন্যে খুবই করুনা হয়।

      জাকির নায়েক জানে ৯৯% খৃষ্টান তো বটেই মুসলমানরাই তাদের কিতাব পড়ে না। এই দুর্বলতার বিষয়টা জানে বলেই সে মানুষকে বোকা বানাতে পারে। আপনার কি ধারনা , এই নিবন্ধে যেভাবে যীশু নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করেছে , সেটা জাকির নায়েক খন্ডন করতে পারবে ?

      প্রতিষ্ঠিত কোন খৃষ্টান পন্ডিতের সাথে জাকির নায়েকের কোন বিতর্ক ( সমানে সমান) দেখাতে পারবেন ? একটাও নাই। কেন জানেন? তাহলে জাকির নায়েকের কারিশমা ধরা খেয়ে যাবে।

  2. যতগুল ধর্ম আছে তার মধ্যে
    যতগুল ধর্ম আছে তার মধ্যে খৃষ্ট ধর্ম মানাটাই সুবিধা জনক। এই ধর্মের ঈশ্বরের পুত্র মানুষের নতুন পুরাতন পাপ বহু আগেই ক্ষমা করেছে। বাবা আদমের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছে নিজে শূলিতে চড়ে। তার মানে পরকীয়া; জুয়া-জচ্চরির সব পাপ ক্ষমা পাওয়া নিশ্চিত। এর চাইতে মজার ধর্ম আর কি হতে পারে?

    1. খুব পরিস্কার করে বক্তব্য
      খুব পরিস্কার করে বক্তব্য দেয়ার পরেও গোয়ার্তুমি করতে হবে। তা না হলে মুসলমান হওয়া যাবে না।

      যীশু নিজেকে ক্রুশে বিদ্ধ করে রক্ত ঝরিয়েছেন ,মানুষের আদিপাপ ক্ষমা করার জন্যে। সেই আদি পাপটা কি সেটা নিবন্ধে বার বার পরিস্কার করে বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও মুসলমানদের একটাই গো – আমি বুঝব না , আমাকে বুঝাবে কেমন করে ?

      যীশু ক্রুশে জীবন দান করে , মানুষকে আদম হাওয়া কর্তৃক কৃত সেই আদি পাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তাও শর্ত একটাই , সেই মানুষের আদিপাপ মোচন হবে যে নাকি যীশুকে ত্রাতা হিসাবে গ্রহন করবে। কিন্তু আপনারা যারা মুসলমান , আর যীশুকে একজন নবি হিসাবে গন্য করে তাকে অপমান করেন , ধর্মদ্রোহের কাজ করেন , তাদের আদিপাপ মোচন হবে না আর তাই আপনাদের ঈশ্বরের রাজ্যে যাওয়ার কোনই সুযোগ নেই। সেই কারনেই আপনাদের নবী মুহাম্মদ কোরানে বলেছেন-

      সুরা আহকাফ- ৪৬: ৯: বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

      তার মানে আপনাদের নবী মুহাম্মদ যে নিজেই বেহেস্তে যেতে পারবেন তার কোনই গ্যারান্টি নেই। কারন তিনি নিজেই জানতেন , তিনি সেই আদি পাপ থেকে মুক্ত নন , কারন তিনি যীশুকে নিজের ত্রাতা হিসাবে গ্রহন করেন নি।সুতরাং বুঝতেই পারছেন , সেই মুহাম্মদের উম্মত হিসাবে ঈশ্বরের রাজ্যে যাওয়ার কোনই সুযোগ আপনাদের নেই কারন আপনারা কেউ যীশুকে ত্রাতা হিসাবে মানেন না , আর তাই আপনারা আদি পাপ থেকে মুক্ত নন।

      আদিপাপের সাথে প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন যে পাপ করে তার কোন সম্পর্ক নেই।, সেটা থেকে যীশু আমাদের মুক্তি দেন নি। এইসব পাপের বিচার হবে , শেষ বিচার দিনে। আমরা যত ভাল কাজই করতাম না কেন , তাতে সেই আদি পাপ মোচন হতো না। যীশুকে ত্রাতা হিসাবে মান্য করলেই সেই আদিপাপ থেকে মুক্তি সম্ভব , অন্যথায় দোজখ বাস অবশ্যম্ভাবি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 2 =