বঙ্গবন্ধুর দাফন, জানাজা ও কবর: কেন তাঁর জানাজায় মাত্র ৩৫ জন উপস্থিত ছিল

বঙ্গবন্ধুর দাফন, জানাজা ও কবর নিয়ে আমাদের মাঝে ছড়িয়ে আছে অনেক বিভ্রান্তি।
তাকে হত্যার পর তাকে কোথায় কবর দেয়া হবে, এ ব্যাপারে অনেকেই চিন্তিত ছিলেন। খন্দকার মোসতাক চেয়েছিলেন, তাকে যেন ঢাকায় কবর দেয়া না হয়।
তিনি বলেছেন এম কে শফিউল্লাহকে,

““রাস্তাঘাটে তো কতো মানুষ মারা যায়, তাদের সবার দিকে দিকে কি আমার খেয়াল রাখতে হবে? গ্রেভ হিম এনি হোয়ার, বাট নট ইন ঢাকা”

। (সুত্রঃ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ/কে এম শফিউল্লাহ/ বঙ্গবন্ধু হত্যার দলিল/ পৃষ্ঠা ১৬৯)
তখন তিনি ও এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার ঠিক করেন যে বঙ্গবন্ধুকে তার বাবা মায়ের পাশে শায়িত করা হবে। আর খালেদ মোশারফকে তিনি ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

আমার এক জ্ঞানী ফ্রেন্ড বলেছিলেন একবার, “আপনি সমাজ/দেশ অথবা পৃথিবী যাই পরিবর্তন করতে চান না কেন, বিয়ের আগেই করে নিন। কারণ বিয়ের পর সমাজ কিংবা রাষ্ট্র তো দূর কি বাত টিভির চ্যালেনও পরিবর্তন করতে পারবেন না!” আমার জানা নেই, আমার সেই ফ্রেন্ড বিবাহিত কিনা বা তার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা; কিন্তু কথাটা আমি বিশ্বাস করেছি। আর বিশ্বাস করে বুঝেছি- বাংলাদেশের পরিবর্তন না হওয়ার কারণ!
তবে একদম যে পরিবর্তন হয়নি তা মোটেই নয়- বাংলাদেশের সেন্ট পার্সেন্ট পুরুষ যে স্ত্রৈণ একথা বিশ্বের সেরা মিথ্যুকও বলতে পারবে না। পরিবর্তন হয়েছে, যেমন- আগে ছাত্র কান ধরে উঠবস করতো, এখন শিক্ষক করে; মাইকে আগে আজান দেয়া হতো, এখন লোক জড়ো করে মানুষ মারা হয়; আগে ব্লগার হত্যা করা হতো, এখন ব্লগারের সাথে সাথে শিক্ষকও হত্যা করা হয়; আগে রাস্তায় বিরাট বিরাট গর্ত ছিল, এখন সেসব আরও বড়- বিরাটতর(!) হয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি সব আমূল পরিবর্তন যা আমাদের দেশ থেকে মানবতাটুকু আর শান্তিটুকুকে অন্তত নির্মূল করেছে। সে করুক, আমি মানবতার বাপ-মা-মাসি-পিসিও নই, শান্তির বয়ফ্রেন্ডও নই। আমার কী?
কিন্তু যে পরিবর্তনটা আমাকে ব্যাথিত করে, ক্রোধে হাত মুষ্টিবদ্ধ করতে বাধ্য করে, সেটা আমাদের অকৃতজ্ঞতা, আমাদের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা। আমি খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যাই- সব। হারিয়ে ফেলি স্মৃতির আর্কাইভ থেকে সহজেই, সবকিছু।
তাই আপনাদের আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা, তাকে কতোটা নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো- সে কথা; তার কবর, জানাজা- দাফনের কথা; তাকে হত্যার কারণ আর হত্যাকারীদের ইচ্ছার কথা, তাদের লক্ষ্য কতোটা সফল হয়েছে- সে কথা।
আর এ নিয়তেই আজ আলোচনা করবো “বঙ্গবন্ধু হত্যার দলিল” থেকে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মেজর রশিদ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ তিনি (মুজিব) সবাইকে দুর্নীতিপরায়ণ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তিনি অমানবিক ও নীতিবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগের জন্য নিজের দলীয় সদস্য এবং অন্য কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি।”
স্বাধীনতা লাভের পর অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো। দুর্নীতি বেড়ে গিয়েছিলো, সুবিচারের অভাব ছিল, সুদ ঘুষ বেড়েছিল- একথা আজ আমরা সবাই জানি। আর এসবের জন্য সবাই দায়ী করেছিল একমাত্র বঙ্গবন্ধুকে। যেন সব দোষ তারই!
এসব কথা যে বঙ্গবন্ধুর কানে যায়নি তা নয়। শামসুজ্জামান খানের সাথে এক আলাপচারিতায়, তিনি, বঙ্গবন্ধু, বলেছিলেন-

তোমরা তো অনেক পড়াশুনা করেছো, অনেক কিছু বোঝো। কিন্তু নিজ দেশের কতগুলি বাস্তব ব্যাপার তোমরা যেন দেখতে পাও না। দেশে এতবড় একটা যুদ্ধ হয়ে গেল। যুদ্ধ মানুসের মূল্যবোধ আমূল বদলে দেয়। মানুষকে বেপরোয়া, লাগামহীন করে। আমাদের দেশেও সেটা হয়েছে। হাইজ্যাক, ডাকাতি বেড়েছে, ‘চাটার দল’ বেড়েছে। এই সব একদিনে দমন করা যাবে না। এটা একটা নতুন পরিস্থিতি। অনেকে অস্ত্র জমা দেয় নাই। ইসলামী দলগুলি আগাগোড়া আমার বিরুদ্ধে গোপন প্রচার করছে, বেনামা পুস্তিকা ছাপছে। জাসদ-এর বিভ্রান্ত অংশ বিপ্লবের নামে কি না করছে? …থানা আক্রমণ করে অস্ত্র লুটে নিচ্ছে। আমার লোকেদের হত্যা করছে। অথচ তিন বছরে আমরা যা করেছি আমাদের মতো বিধ্বস্ত অন্য কোন দেশ তা পারতো না। এজন্য আমাদের প্রশংসা করে না। কী অবস্থা করে রেখে গেছে পাকিস্তানী হানাদাররা? দেশটা ছিল ভাঙাচুরা; একটা শ্মশান যেন। কি আর বলবো, হুজুর(মওলানা ভাসানী) মুরুব্বী মানুষ, তিনি যে সব বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছেন তাকে লুফে নিচ্ছে সাম্প্রদায়িক দল ও ব্যক্তিরা। তারা তাঁকে শিল্ড হিসাবে ব্যবহার করে শয়তানের হাসি হাসছে। এই সব দেখেশুনে মনে হয় তাজউদ্দীনের হাতে ক্ষমতা দিয়ে ভোলা বা মনপুরায় গিয়ে ছোট ঘর বানিয়ে থাকি।” (সুত্রঃ বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ/ শামসুজ্জামান খান/ বঙ্গবন্ধু হত্যার দলিল/ পৃষ্ঠা ১৩০)

আরও বলেন তিনি-

“তোমরা(শামসুজ্জামান খান) তো সেই দিনের ছাওয়াল। এরা বুঝবে না। …বাঙালির, বিশেষ করে কৃষিজীবী মুসলমান বাঙালির হাতে কোন কাঁচা পয়সা থাকতো না। ধান কাটার মরশুমে পেট পুরে গরম ভাত খেতাম। আর পাটের সময় হলে পাট বিক্রি করে কিছু নগদ টাকা জুটত…… এইতো বাঙালি মুসলমানের অর্থনৈতিক অবস্থা। ……… এই অবস্থাটা মনে রেখে ভাবো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের কথা। প্রকৃত অর্থে এই প্রথম বাঙালিরা সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হয়েছে। এবং এই প্রথম বাঙালির হাতে কিছু নগদ পয়সা আসছে। ব্যাপারটা খুব বড়, তাৎপর্যপূর্ণ। এর একটা উত্তেজনা আছে। বাঙালি, বিশেষ করে তরুণেরা এখন বাঁধনহারা। সমাজ পরিবর্তনের প্রবল ও আকস্মিক ধাক্কায় দিশাহারা। কেউ গাড়ি কিনছে, কেউ ফাইভ ফিফটি ফাইভ ফুঁকছে, কেউ ছিনতাই হাইজ্যাকসহ নানা আকাম-কুকাম করছে। অবাধ স্বাধীনতার এই আকস্মিক স্বাদ ও হাতে আসা নগদ অর্থ দিশাহারা করেছে অনেককে।” (সুত্রঃঐ/ পৃষ্ঠা- ১৩১)

কিন্তু তিনি আশা হারাতে নারাজ। তিনি বলেন, “আপনারা সাহায্য করেন, সোনার মানুষ দেন, আমি সোনার বাংলা গড়ে তুলি।”
কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, তিনি সোনার মানুষ পাননি। তিনি পেয়েছিলেন কিছু পা-চাটা চাটুকার, কিছু চতুর, নৃশংস, স্বার্থান্বেষী আমলা। তাই তার স্বপ্ন সত্যি হয়নি আজও। তিনি সোনার বাংলা গড়ার আগেই কেড়ে নেয়া হলো তার অমূল্য জীবন।
অনেকে, এতো কিছু বলার পরও বলবে, তাঁকে মারা ঠিক হয়েছে। বলবে, হত্যা করা হয়েছে একজন স্বৈরাচারী শাসককে; নেতা থেকে শোষক হয়ে যাওয়া একজনকে।
তাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, তাঁকে হত্যার পর হত্যাকারীরা আমাদের কী দিয়েছে? দুই দশকের সামরিক শাসন আমাদের মাথার উপর ছিল না? তারা আমাদের জীবন যাত্রা করতে পেরেছে উন্নত? পেরেছে এনে দিতে শান্তি? বন্ধ করে দিতে পেরেছে দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ?
আপনার উত্তর যদি “হ্যাঁ” হয়, তবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা ঠিক হয়েছে; ঠিক হয়েছে তার পরিবারকে নিঃশেষ করে দেয়ার প্রচেষ্টা। আর যদি হয় “না”- তবে ঘৃণা রাখুন মনে সেই হত্যাকারীদের প্রতি। আর চলুন পরের প্যারায় জানি, কীভাবে তাঁকে, শেখ মুজিবকে দাফন করা হয়েছিলো, কেন এতো কম লোক ছিল তার জানাজায়!

বঙ্গবন্ধুর দাফন নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি আছে। বিশেষ করে, অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লেখাগুলোয়। এক জায়গায় তো লিখেছে তাঁকে নাকি রাতদুপুরে কবর দেয়া হয়েছে!
আসলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভাবে, হয়েছে এমনটা। এমন বিভ্রান্তির ভিতর আমিও ছিলাম কয়েকদিন। পরে, “বঙ্গবন্ধু হত্যার দলিল” হাতে পেয়ে, আলোর একটা স্পষ্ট রেখা খুঁজে পাই।
সেখান থেকে, যতটা পারি, নিজের ভাষায় লিখছি-
বঙ্গবন্ধুর কবর, জানাজা- এসব নিয়ে প্রথম চিন্তা করেন, মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ। তিনি তখন বঙ্গভবনে বন্দী অবস্থায় ছিলেন অনেকটা। তিনি খন্দকার মোসতাককে বঙ্গবন্ধুর দাফন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, সেই বিশ্বাসঘাতক বলেন,

“রাস্তাঘাটে তো কতো মানুষ মারা যায়, তাদের সবার দিকে দিকে কি আমার খেয়াল রাখতে হবে? গ্রেভ হিম এনি হোয়ার, বাট নট ইন ঢাকা”। (সুত্রঃ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ/কে এম শফিউল্লাহ/ ঐ/ পৃষ্ঠা ১৬৯)

তখন তিনি ও এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার ঠিক করেন যে বঙ্গবন্ধুকে তার বাবা মায়ের পাশে শায়িত করা হবে। আর খালেদ মোশারফকে তিনি ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

“বুকে ছিল তার চব্বিশটি গুলি। ডান হাতের তালুতে একটি। বাঁ পায়ের গোড়ার পাশে একটি। দুই রানের মধ্যখানে দুইটি গুলি। গোসলের আগে তার গায়ের গেঞ্জি, পাঞ্জাবী, প্লেকার্ড লুঙ্গি, পাঞ্জাবীর পকেটে রুমাল, তামাকের কৌটা, পাইপ, একটি তোয়াইলা, একটি চাদর, এগুলি পাওয়া যায়। জিনিসগুলি ধুয়ে যত্ন কইরা রাখি। ধুইতে গিয়া খালি গেঞ্জিটা হারাইয়া ফেলি।”
কথাগুলো বলেছেন আব্দুল মান্নান শেখ। বঙ্গবন্ধুর কবর খুঁড়েছিলেন এই ব্যক্তি। গোসলও করিয়েছিলেন তিনি।
১৬ আগস্ট সকাল ন’টার দিকে টুঙ্গিপাড়ার পোস্ট মাস্টারের কাছে বার্তা আসে, “পাঁচ ছয়টি কবর খুঁড়তে হবে, লাশ আসছে ঢাকা থেকে”। পরে জানানো হয় ফোন করে, একটি কবর খোঁড়ার জন্য।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, সপরিবারে, একথা গ্রামবাসী জেনে গিয়েছিলো আগেই, রেডিওর মাধ্যমে। তাই হেলিকাপ্টারে বঙ্গবন্ধুর লাশ দুপুর ২টায় থানার মাঠে আনা হলে, অনেক লোক আসে দেখতে। কিন্তু কাউকেই কাছে ঘেঁষতে দেয়া হয়নি। শুধু ১৫/১৬ জনকে তার কফিন বহন করার জন্য রাখা হয়। কফিনের ভেতরে ছিল বড় বড় কিছু বরফের টুকরা, তাই সেটা হয়েছিলো আক্ষরিক অর্থেই খুব ভারী।
কফিন বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আনা হলে, কফিন খোলা নিয়ে ফ্যাসাদ দেখা দেয়। এমনভাবে কফিনটা লাগানো হয়েছিলো যে সেটা খুলতে মিস্ত্রী পর্যন্ত আনতে হয়েছিলো। এতো ঝামেলায় না গিয়ে সেনারা কফিনসহ কবর দিতে চাইলে, তাড়াতাড়ি মিস্ত্রী ডেকে কফিন খোলা হয়।
এরপরে হালিম মৌলবিকে ডেকে বলা হয়, তাড়াতাড়ি কবর দেয়ার জন্য। কিন্তু তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু একজন মুসলমান, ওনাকে গোসল করাতে হবে, কাফন পরাতে হবে এবং জানাজা পরাতে হবে, আর যদি আপনারা বলেন যে বঙ্গবন্ধু শহীদ হয়েছে তাহলে এসবের দরকার নেই।”
তখন তাদের ২০ মিনিট দেয়া হয় মাত্র- গোসল, কাফন, জানাজা’র জন্য।
শেখ সাহেরা খাতুন রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালের রিলিফের জন্য রাখা শাড়ি দিয়ে কাফন বানানো হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর। আর গোসল করানো হয়েছিলো ৫৭০ কাপড়কাচা সাবান দিয়ে! অনেক লোক জমা হয়েছিলো ততোক্ষণে কিন্তু তাদের কাছে আসতে দেয়া হয়নি। আনুমানিক ৩৫ জন লোক উপস্থিত ছিলেন (তিন সারি) বাংলার এই সর্বশ্রেষ্ঠ নেতার জানাজায়। এ বিষয়ে, রজব আলী, যিনি বঙ্গবন্ধুর শেষ গোসলের জন্য সাবান কিনে এনেছিলেন দোকান থেকে, বলেন- “বঙ্গবন্ধুর যখন দাফন কাফন চলছিল তখন এতে অনেক সাধারণ মানুষ সরিক হতে চাচ্ছিল, কিন্তু আর্মিরা প্রচণ্ড বাঁধা দেয়। তারা ভাবছিল বেশি মানুষ এসে যদি লাশ ছিনিয়ে নেয়! সেদিন মানুষ যেমন আর্মিদের ভয় পাচ্ছিল, আর্মিরাও ভয় পাচ্ছিল সাধারণ মানুষদের, কখন জানি তারা ক্ষেপে ওঠে!”
আর্মিরা যে ভয় পাচ্ছিল সেটা বুঝতে পারা যায়, কর্ণেল কাজী হায়দার আলীর বক্তব্য থেকে। তিনি সেদিন বঙ্গবন্ধুর লাশ টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন-

“হেলিকপ্টারের মধ্যে কারো মুখে কথা নাই, সবাই হয়তো আমার মতোই ভাবছিল, এই কঠিন দায়িত্বে আল্লাহ কেন আমাদের সোপর্দ করলেন? দায়িত্ব পালন করে নিজেরা ফিরতে পারবো কি? দেশের প্রেসিডেন্টের মৃতদেহ তাঁর বাড়িতে যাচ্ছে, লোকেরা কতো কিছু জিজ্ঞাসা করবে, তার জবাব কী দেব? সবাই মনে করবে আমরাই এই অঘটন ঘটিয়েছি, তখন লোকাল এরিয়া থেকে পাল্টা আঘাত আসতে পারে, নিজেরা সামলে ফিরে আসতে পারবো কি?” (সুত্রঃ-বঙ্গবন্ধু হত্যার দলিল/ পৃষ্ঠা- ৮৪)

সেদিন কর্ণেক কাজী হায়দারের সঙ্গে ছিল ১৪ জন সৈনিক। মাত্র ১৪ জন সৈনিক নিয়ে এতো বড় একটা কাজ করা সত্যিই ছিল বিপদজনক। যে কোন কিছুই ঘটতে পারতো। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আক্রমণ ছিল স্বাভাবিক। সেজন্য সেখানে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কাইয়ুম বলেন-

“…টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে একহাজার ফিট মাটির কাছাকাছি নেমে দেখলাম সেখানে আমাদের অপেক্ষায় কোন ফোর্স নেই। এ অবস্থায় আমরা দুই হাজার ফিট উপরে উঠে যাই। সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় আমরা কখনো একহাজার ফিট কখনো দুই হাজার ফিট উপরে হেলিকপ্টার নিয়ে চক্কর খেতে থাকি। কিছুক্ষণ পর আমরা ল্যান্ড করি।” (সুত্রঃ ঐ/ পৃষ্ঠা- ৮৫)

এই ভয়ের কারণেই, সেদিন, বঙ্গবন্ধুর জানাজায় সামিল হতে দেয়া হয়নি, গ্রামবাসীকে।

একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুর পর যে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার কথা ছিল, সেটা বঙ্গবন্ধু পাননি। দাফন শেষ হওয়ার পর আর্মি অফিসারেরা সারিবদ্ধ হয়ে তাকে তিনবার স্যালুট করে চলে যায়।
তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষ সামিল হতে পারেনি, কিন্তু কোটি কোটি মানুষ হয়েছিলো শোকে স্তব্ধ। তারা কাঁদেনি। তারা পাথর হয়ে গিয়েছিলো।
এরপর পুরো দুই দশক তার নাম উচ্চারণ ছিল নিষিদ্ধ। না রেডিও, না টেলিভিশন, না সংবাদপত্র- কোথাও ছিলেন না তিনি। শুনেছি, ১৫ আগস্ট এলে নাকি তখন টিভিতে বলা হতো, খবরের এক কোণে, “আজ মরহুম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকী”! হায়, তিনি কি শুধুই ছিলেন একজন রাষ্ট্রপতি!

আজ, মাঝেমাঝে ভাবি, যতটা ঘৃণা করা উচিৎ সেই হত্যাকারীদের, ততোটা কি আমরা করি? মীরজাফরের মতো তবে কেন বলি না, “শালা তুই একটা খন্দকার মোসতাক”, কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করলে?
এতো দূরের কথা, আমরা ৩০ লাখের খুনে যাদের হাত ভেজা, সেই পাকিস্তানকেও আমরা ঘৃণা করি না।
প্রজন্ম, কিছু ঘৃণা রেখো মনে।
০৫/০৬/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “বঙ্গবন্ধুর দাফন, জানাজা ও কবর: কেন তাঁর জানাজায় মাত্র ৩৫ জন উপস্থিত ছিল

  1. এক শেখ হাসিনা অামাদের যা
    এক শেখ হাসিনা অামাদের যা দেখাইলো তারপর অার কিছু বলার নেই অামাদের দেশের স্বাধীনতা এখন ভারতের হাতে। ভারতের দালালদের কোনদিন ক্ষমা করবে না এদেশের মানুষ

    1. কিসের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে
      কিসের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে ঘি।
      এখানে হাসিনা আর ভারত কোথা থেকে আসল!
      মনে হচ্ছে, পাকিস্তানের উপর আপনার খুব দরদ। দরদ থাকা ভাল। আপনারা তো ভাই ভাই। স্যালুট বস

  2. আপনি হচ্ছেন স্বাধীনতা বিরোধী,
    আপনি হচ্ছেন স্বাধীনতা বিরোধী, পাকি রক্তের ধারা, রাজাকারদের বংশধর। বাংলাদেশ ছেড়ে পাকিস্তানে পলায়ন করুন। বাংলাদেশ রাজাকারদের জন্য না। @ শামিম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 35 = 36