আসুন রমজানে আমরা ইসলামী সংযম পালন করি

সংযম বলতে আমরা বুঝি ,নিজেকে নানা রকম লোভ-লালসা-প্রলোভন থেকে সংযত রাখা। তার মধ্যে বেশী খাদ্য-খানা না খাওয়া , ঘুষ না খাওয়া , মিথ্যা কথা না বলা ইত্যাদি পড়ে। তবে কি না ইসলামী সংযম হলো ভিন্ন জিনিস। সেটা হলো যত বেশী লোভ লালসা প্রলোভনে পড়ে উদার চিত্তে বেশী বেশী খাওয়া যাবে , বেশী ঘুষ খাওয়া যাবে এসবই মূলত: ইসলামী সংযম। রমজান মাসে আমরা সবাই সেই ইসলামী সংযমই পালন করি। তাই আসুন, রমজান মাস এসে গেছে , আমরা সবাই সেই ইসলামী সংযমই পালন করি।

প্রতি বছরই একবার করে রমজান মাস আসে আর আমরা সবাই নেকী অর্জন করে বেহেস্তে যাওয়ার দিবাস্বপ্নে একমাস ধরে রোজা রাখি ও রোজার নামে ইসলামী সংযম পালন করি। রমজান মাস হলো সংযমের মাস। সারাদিন খাদ্য খানা না খেয়ে , আমরা নিজেরা সেই সংযম প্রদর্শন করি। তয় কি না আমাদের এই রমজানের ঘটনা ভিন্ন।

রমজান আসার আগেই সকল ধর্মপ্রান ব্যবসায়ীরা যারা নিজেরাও রোজা রাখে , তারা সকল রকম ভোগ্য পন্য মজুত করে তার দাম বাড়াতে থাকে , যাতে সকলের কাছ থেকে বেশী বেশী মুনাফা অর্জন করা যায়, চুড়ান্ত অসংযত কায়দায়। প্রতি বছর রমজানে সকল সাধারন ভোগ্য পন্যের দাম বাড়বেই , এটাই হলো রমজান মাসের সবচাইতে বড় ফজিলত। সকল রকম সরকারী অফিস আদালতে , ধর্মপ্রান কর্মকর্তা/কর্মচারীরা বেশী বেশী ভাল খাবার খাওয়ার জন্যে ও জৌলুসময় ঈদ পালনের জন্যে বেশী বেশী করে ঘুষ খায় চুড়ান্ত অসংযমের সাথে। তাদের ঘুষ খাওয়ার মাত্র আরও বাড়ে এর পরের কোরবানী ঈদের সময় বড় বড় দামী গরু কেনার অর্থ যোগাড়ের উপলক্ষ্যে। সাধারন ধর্মপ্রান মানুষও দিনের বেলায় কিছু না খেয়ে অসংখ্য দামী দামী খাবার দিয়ে ইফতার করে রোজা ভাঙ্গে অসংযমের চুড়ান্ত নিদর্শনের সাথে। ইফতারে কে কত পদ দিয়ে ইফতার করল , সেটার একটা প্রতিযোগীতা চলে যা অংসযমের একটা প্রতিযোগীতা মাত্র। তারপর তো আছে রাতের খাবার , দুনিয়ার সব ভাল ভাল দামী দামী খাবার দিয়ে সেহরী খাওয়া হয়, আর তাতেই বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ে হু হু করে। আর বলা বাহুল্য এই চুড়ান্ত রকম অসংযমই হলো ইসলামী সংযম।

তাই হে মোমিন মুসলমান, তোমরা সবাই দলে দলে ইসলামী সংযম সাধন করো। আমীন !

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আসুন রমজানে আমরা ইসলামী সংযম পালন করি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 2 =