প্রেমপত্র-৭০

পাগলী,
বুঝলে তোমার এই পাগল কখনোই তোমার সাথে রাগ অভিমান করবে না, তবু তুমি ইচ্ছে করে আমায় এত কষ্ট দাও।না থাকলে বুঝবে হে এত পাগল র কেও হবেনা।তুমি নিশ্চুপ থাকো হাজারও রক্ত ঝড়ে তারপরেও এই পাগলের পাগলামীর কোন শেষ থাকবে না।থাকবে অনন্ত অপেক্ষা।
আমি চিনতা করি বুঝলে এমন টা ভাবনা হয়, একদিন তুমি আমার বাড়ি ফেরার প্রতীক্ষায় থাকবে,আমার পায়ের শব্দ শুনে আগেই গেইট খুলে আমার হাতে রাখা ব্যাগগুলো নিজের হাতে নিয়ে রাখবে,তখন আপনি আমার সারাদিন তোমাকে না দেখার কষ্ট কমিয়ে দিবে তোমার মনের অজান্তেই।আমি যখন কাজ সেরে বাড়ি ফিরব,ঠিক তখন আমার ক্লান্তিকে তোমার ভালোবাসার স্পর্শে মুছে দিবে।অফিস শেষে আমি যখন রুমে এসে বসব,তুমি রুমের ফ্যানটা ছেড়ে দিবে বা হাতপাখার বাতাস করবে।আমার আসার পূর্বেই সরবত বানিয়ে রাখবে, আসলে খেতে দিবে।তারপর আমি যখন ফ্রেস হয়ে আসবে,আমাকে তোয়ালে/গামছা এগিয়ে দিবে।তারপর কখনও যদি তুমি রাগ অভিমান কর আমার উপর,তোমাকে পেছন থেকে এমন শক্ত করে জড়িয়ে ধরব যে স্পর্শে সেসব রাগ জল হয়ে যাবে মূহূর্তেই।
বুঝলে পাগলী এক টুকরো আকাশ কিনবো তোমার নামে!বড় সাইনবোর্ডে লেখা রবে “এখানে পাখিদের ওড়া নিষেধ,ওড়বে না কোন প্রজাপতি কিংবা কিশোরের লাগামহীন ঘুড়ি”এরোপ্লেন নামক দানবও যাতে চাকা না মাড়ায় এ আকাশেমেঘ থাকবে না, গর্জন থাকবে না, কেবল নীল রঙটা থাকুক।
সূর্য্যটিকে বানিয়ে দেব তোমার আকাশ গোলাম,কখনও যদি ইচ্ছে হয় তীব্র শীতে দুজন মিলে একটু করে রোদ খাবো।পোষ্য সূর্য্য একটুখানি রোদ দিয়ে আবার মিলিয়ে যাবে।
ভীষন খরায় ইচ্ছে হল,মেঘবিহীন বৃষ্টি নামাবো যৌথ আলিঙ্গনে !আকাশের এক কোনে ঝুলিয়ে দিবো আঁটসাঁট চাঁদ,তোমার আলোয় চাঁদ জ্বলবে, আমি চাঁদে বসে তোমায় নিয়ে কবিতা লিখবো।এক টুকরো আকাশ কিনবো তোমার নামে!আকাশের গায়ে পাইক পেয়াদা তারা থাকবে মিটিমিটি
মাঝরাত্তিতে ঘুম ভাঙ্গলে সূর্য্যকে আদেশ দিব।”সকাল হয়ে যা, আলো ভাঙ্গা আলিঙ্গন দে”তারপর দুজন মিলে লিলুয়া বাতাস ধরে হেঁটে যাবো
কখনও বা রোদদুপুরে সূর্য্যটাকে কান ধরে রাত নামাবো।জোছনা কম দেয়ার অপরাধে চাঁদকে বহিস্কার করে তোমায় সেঁটে দেব আকাশে।তারপর আমি পৃথিবীর সকল নিয়ম ভেঙ্গে তোমার চারপাশে ঘুরবো ঘুরবো।আকাশে পাখি নেই বলে তুমি আফসোস করবে ভীষণ ।তখন আমি বলব “চল দুজন মিলে ওড়াওড়ি করি”
আমার খুব ইচছে,একদিন আমাদের ছোট একটা বাসা হবে।আহামরি কিছু না থাকলেও তিন রুমের ছোট একটা বাসা।এক রুমে তুমি- আমি,এক রুমে বাবা-মা,আরেকরুমে তোমার বাবা-মা।আমাদের বিয়ের পর তোমার সাথে উনাদেরও আমি নিয়ে আসবো।ধরে নিতে পারো এটা যৌতুক হিসেবে আমাকে তুমি দিচ্ছ।চল,স্বপ্নের শুরুটুকু এইভাবেই করি।
আচ্ছা এত কিছু পাগলামীর বিনিময়ে”তুমি কি আমার বাবুর আম্মু হবা?”
ইতি
পাগলীর বদ্ধপাগল

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “প্রেমপত্র-৭০

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

25 − = 17