ভালো খুন খারাপ খুন: রাষ্ট্র-মোমিন মোসলমান- সাংবাদিক আর আফলাতুন

১.
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ যখন ইমার্জেন্সি ঘোষনা করেন,তখন এক রিক্সাচালক চাচা তার প্যাসেঞ্জারের কাছে জানতে চাইলেন- মামা কি হইছে দ্যাশে? তো ওনার ভাগিনা উত্তরে কইলেন প্রেসিডেন্ট দ্যাশে ইমার্জেন্সি দিসে..রিক্সাওয়ালা চাচা কইলেন- ওহ হেইডা উনি এত্তদিনে বুজলেন? আমি তো আগেই বুঝছিলাম দ্যাশের ইর্মাজেন্সি অবস্থা।(ঘটনাসূত্র : )
২.
ভারতে রেপের একটা ক্লাসিফিকেশন অাছে। গুড রেপ এবং ব্যাড রেপ।রেপের মতো একটা জঘন্য অপরাধের এরকম ফালতু ক্লাসিফিকেশনও থাকতে পারে!! কিন্ত আছে কিন্তু আমার এটার ডিটেইলস-এ যাবার আগ্রহ নাই। না চাইলেও এরকম একটা ভালো-খারাপ মৃত্যুর প্রকারভেদ আমরা বাংলাদেশে তৈরি করেছি। এখন অামরা খুন হলে জানতে চাই সে ব্লগার ছিলো কিনা,নাস্তিক কিনা, খূন হবার আগে ফেসবুকে সর্বশেষ কি পোস্ট করেছে? ফেসবুকের স্ট্যাটাসের ”তরকারীটা আজ ভীষন বাজে ছিলো” এমন পোস্ট কোনভাবে ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত দিলো কিনা?
আমাদের ধর্ম, খুন হয়ে যাওয়া মানুষের ধর্ম আমাদের শেখাচ্ছে কোন খুনের জন্য কেমন প্রতিক্রিয়া দিতে হবে।আমরা রাজীব-অভিজিত-দীপন-সুনীল গোমেজ-মিতু এসব খুনকে আলাদা করে দেখার চেষ্টা করছি। ভালো খুন, খারাপ খুন হিসাব করছি। ভালো মৃত্যু থেকে খারাপ মৃত্যু’র দূরত্বের একক কি হতে পারে তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি।অথচ এসব মৃত্যু একই কালিতে লেখা ভিন্ন ভিন্ন নাম। যেদিন শামসুর রাহমানের উপর হামলা হলো, যেদিন হুমায়ুন আজাদের শরীর তারই রক্তে জবজবে হয়ে গেলো,যেদিন রাজীব তার বাসার কাছে মরে পরে রইলো সেদিনই সুনীল গোমেজ,মিতুর মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়ে গিয়েছিলো অস্পষ্ট কালিতে।এখন শুধু খুনের অপেক্ষমানদের তালিকা সময়ের তাগিদে একটু একটু করে স্পষ্ট হচ্ছে। বলতে বাঁধা নেই ১১জন ডাকাতের ক্রসফায়ারে মৃত্যু নিশ্চয়ই ভালো মৃত্যু আর আজকের একজন পুলিশ অফিসারের স্ত্রী’র হত্যা নিশ্চয়ই খারাপ মৃত্যু। কিন্তু এই দুই মৃত্যুর মাঝে ফারাকটা আমি বুঝি না।আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি খুনীরা নিজেও খুনীদের হাতে লেগে থাকা রক্ত দেথে আলাদা করতে পারবে না কোনটা কার। অথচ আমরা সবকিছু বিচ্ছিন্ন করে দেখি।
এখন কি হবে? রাষ্ট্র তার পুলিশ বাহিনী’কে কিছু খুনের লাইসেন্স দিয়ে দিবেন।পুলিশ খুন করে যাবে।একের পর এক মৃত্যু পরোয়ানা লেখা হবে। খুনের সত্যতা ছাপা হবে গল্পের অক্ষরে। অথচ রাষ্ট্রের এসব বাহিনী বুঝে না, এই রাষ্ট্রের টিকে থাকতে খুন হওয়া প্রযোজন।খুন করা প্রয়োজন।খুন করে করেই রাষ্ট্র আজকের এই অবস্থায়।রাষ্ট্রের উন্নয়নে আজ রক্তের প্রয়োজন।কতো রক্ত? আর কতো রক্তের প্রয়োজন তা ঠিক করার দায়িত্ব কিন্তু আপনার।
৩.
যার নাই কোন দিক সে হয় সাংবাদিক। এ কথাটা সত্য মনে হয় আজকাল। এসব খুন-খারাবির মাঝে সাংবাদিকদের জ্ঞান দিতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু কেউ কি সাংবাদিকদের বলবেন যে, খুন হয়ে যাওয়া একজন মা’র ৬ বছরের বাচ্চার ছবি ছাপানো আন-ইথিকাল।তার ইন্টারভিউ নেয়া এবং তার রি-অ্যাকশন দিয়ে খবরের শিরোনাম করাটা আন-ইথিকাল।খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সেই বাসায় গিয়ে বাচ্চাগুলোর ছবি নিজের মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করাটা আন-ইথিকাল। সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনি খুন হয়ে যাওয়া ভাবির হাতে কয় গ্লাস জুস খেয়েছিলেন তা জানানোটা কি খুব জরুরী? বাবুল আকতার তার স্ত্রী হারিয়ে কি বলে বিলাপ করছিলেন তা জাতিকে জানিয়ে আপনি কি উদ্ধার করলেন? সাংবাদিকরা আপনারা একটু খ্যামা দেন। এই বাচ্চাগুলোকে মাফ করে দিন। একটু এথিকাল হোন।
৪.
সর্বশেষ আপনারে বলি, হে মমিন মডারেট মোসলমান।আপনি এখনো প্রতিবাদী নন।অাপনার উদাসীনতা প্রমান করে আপনি আর জঙ্গীরা ভাই-ভাই। আপনার ল্যাঞ্জা দেখা যায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ভালো খুন খারাপ খুন: রাষ্ট্র-মোমিন মোসলমান- সাংবাদিক আর আফলাতুন

  1. পুলিশ যখন পাখির মত গুলি করে
    পুলিশ যখন পাখির মত গুলি করে নিরস্র মানুষকে হত্যা করে তখন কোথায় থাকে অাপনাদের মানব ধর্ম। বরাবরের মত এবারো দ্বিগুন শান্তি পাইলাম !! জঙ্গীদের জয় হোক।

    1. হে মমিন মডারেট মোসলমান।আপনি
      হে মমিন মডারেট মোসলমান।আপনি এখনো প্রতিবাদী নন।অাপনার উদাসীনতা প্রমান করে আপনি আর জঙ্গীরা ভাই-ভাই। আপনার ল্যাঞ্জা দেখা যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

63 + = 72