সুশীল আমি! তার দগ্ধ লাশ দেখেও দেখি নি – কারণ সে ভিন্ন মতের

?oh=9755a1e6ed4950729ef5b9a41239d41c&oe=57C52A2E” width=”400″ />

নোয়াখালীতে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা নিজ বাড়িতে একটি মসজিদ তুলছিলেন। কোর’আনে আল্লাহ টাকার বিনিময়ে ধর্মীয় কাজ করা হারাম করেছেন, তাই আমরা নিজেদের আমল রক্ষার জন্য পেশাদার ইমামদের পেছনে সালাত কায়েম করি না। আমাদের এ বিষয়টিতে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণির স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ফতোয়া দেয় যে, আমরা নাকি খ্রিষ্টান হয়ে গেছি, আমরা নাকি গির্জা নির্মাণ করছি।
.
এসব ফতোয়া দিয়ে তারা ধর্মবিশ্বাসী মানুষের ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে পৈশাচিক উন্মাদনা ও রক্তপিপাসা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মাদ্রাসার ছাত্র ও ইসলামি রাজনৈতিক দলের কর্মীদেরকে বোঝানো হয় যে আমাদেরকে হত্যা করতে পারলে তারা জান্নাতে যাবে, আর যদি এতে তাদের প্রাণ যায় তারা শহীদ হবে।
.
এই ফতোয়া শুনে তারা এতটাই উন্মাদ হয়ে পড়ে যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে নিজেদের শার্ট খুলে দিয়ে চিৎকার করে বলে, আমাকে গুলি করো, আমি শহীদ হওয়ার জন্য এসেছি। তারা পুলিশসহ হাজার হাজার মানুষের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের দু’জন কর্মীর হাত পায়ের রগ কেটে জবাই করে চোখ উপড়ে ফেলে, তারপর তাদের শরীরে পেট্রোল ঢেকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
.
এমন ভয়াবহ ঘটনা আমাদের দেশে অতীতে ঘটেছে কিনা সন্দেহ। অথচ এ ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে এবং সচেতন মহলে যে প্রতিবাদের ঝড় ও আলোড়ন সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক ছিল সেটা দেখা যায় নি। অনেক সাধারণ বিষয় নিয়েও পত্রিকার পাতায়, টকশোতে বিশাল প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, কিন্তু নোয়াখালীর এই নৃশংস ঘটনাটি যেন সবাই সচেতনভাবে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। এর অজুহাত হিসাবে অনেকে বলতে চেয়েছেন যে এটা ধর্মীয় মতপার্থক্যের ফল, শিয়া সুন্নী দাঙ্গার মতোই একটি ফেরকাগত দাঙ্গা।
.
কিন্তু এটা ব্যাখ্যাটি সত্য নয়। কারণ সহিংসতাটি ঘটাতে মতবাদগত পার্থক্যকে সামনে আনা হয় নি। বরং তারা প্রচার করেছে যে, খ্রিষ্টানরা একটি মসজিদ ভেঙ্গে গির্জা বানাচ্ছে। যেহেতু সুস্পষ্ট ও সরল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হেযবুত তওহীদকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করার কোনো সামর্থ্য তাদের নেই, তাই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তারা আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালিয়েছে। তারা সন্ত্রাসীদেরকে সামনে দিয়ে নিজেরা পেছনে থেকে উস্কানি দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞটি ঘটিয়েছে।
.
তারা যদি এটা বলত যে হেযবুত তওহীদ ধর্মের বিনিময় নেওয়াকে হারাম মনে করে, এসো তাদের মসজিদ ভেঙ্গে ফেলি, তাহলে তাদের আহ্বানে কেউ মসজিদ ভাঙতে আসতো না। তাই তারা মসজিদের মাইকে আহ্বান করেছে যে, গির্জা ভাঙ্গো, খ্রিষ্টান মারো। তাদের ডাকে যারা এসেছে তারা মনে করেছে যে, তারা সত্যি সত্যিই গির্জা ভেঙ্গেছে এবং খ্রিষ্টান হত্যা করেছে।
.
সুতরাং ঘটনাটি কোন দিকে মোড় নিল সেটা সচেতন মহল অবশ্যই বিচার করবেন। এখানে মূলত মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে কথিত আলেমরা সাম্প্রদায়িক ঘৃণাকে ব্যবহার করেছে।
.
তাদের এই কাজের দ্বারা এটা প্রতীয়মান হয় যে, তারা আসলে অন্য ধর্মের উপাসনালয় ও অনুসারীদেরকে হত্যা করতে উৎসাহী, একে তারা জায়েজ বানিয়ে নিয়েছে এবং অন্যদেরকে এ কাজে প্ররোচিত করছে। তাদের এই চিন্তাধারাই পরিণতিতে আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় অমুসলিমদেরকে হত্যা করার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
.
৫ জুন নাটোরে তারা একজন খ্রিষ্টানকে হত্যা করেছে, কিছুদিন আগে দুইজন বিদেশী নাগরিক ও একজন ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টানকে হত্যা করেছে। তার আগে খ্রিষ্টান পুরোহিতকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সনাতনধর্মীদেরকে মালাউন বলে তাদের সব দখল ও হত্যা করাকে সওয়াবের কাজ বলে প্রচার করছে এবং বহু পুরোহিতকে হত্যা করেছে। বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত্যা করা হয়েছে, ভিন্ন মতাবলম্বী শিয়াদের দুজনকে হত্যা করেছে।
.
অর্থাৎ তারা ভিন্নমতের, ভিন্ন ধর্মের সকলকেই হত্যার যোগ্য বলে বিশ্বাস করে। এটা গোটা জাতির জন্য বিরাট অশনি সংকেত। এটাই জঙ্গিবাদ। এখনও যদি সকলে ঐক্যবদ্ধ না হয়, তাহলে এই ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ সকলকেই গ্রাস করে ছাড়বে। তার একটি প্রমাণ, ৫ জুন একই দিনে একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে কুপিয়ে গুলিকে হত্যা করা হয়েছে।
.
নোয়াখালীর এই ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে ফেরকাগত দাঙ্গা বলে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। এই ঘটনায় ধর্মান্ধ উগ্রতার যে বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে তা সরকারসহ সকল শান্তিকামী মানুষকে একটি বড় বার্তা দিয়ে যায়। কী সেই বার্তা সেটা ভাবতে হবে এক্ষুণি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “সুশীল আমি! তার দগ্ধ লাশ দেখেও দেখি নি – কারণ সে ভিন্ন মতের

  1. এটা ধর্মের কারণেই হচ্ছে।
    এটা ধর্মের কারণেই হচ্ছে।
    দুঃখজনক হলেও সত্য, একজন নাস্তিককে যখন হত্যা করা হয়, তখন এই দল্গুলো চুপ থাকে।
    নিজ লুঙ্গিতে টান পড়লেই, তবে, সবাই লাফায়

    1. ‘সব দলগুলো’র খোপে হেযবুত
      ‘সব দলগুলো’র খোপে হেযবুত তওহীদকে ফেলবেন না। হেযবুত তওহীদ সকল প্রকার ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। নাস্তিক হোক, ইসলামবিদ্বেষী হোক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান হোক, সরকার হোক, বিরোধী দলের লোক হোক, অপরাধ করলে তার শাস্তি কর্তৃপক্ষ দিবে, ধর্মের হুজুগ তুলে চাপাতি হাতে নেয়ার যে সংস্কৃতি চালু হয়ে গেছে সেটা ইসলামে নেই। এর বিরুদ্ধেই আদর্শিক লড়াই চালাবার খেসারত হিসেবে আমাদেরকে জীবন দিতে হচ্ছে।

      হেযবুত তওহীদ ইসলামী দল হবার পরও কেন ইসলামের ধ্বজাধারীরাই হেযবুত তওহীদের প্রথম সারির বিরোধী, সেই প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করুন গিয়ে। এই প্রশ্নের ‍উত্তর বের করতে পারলে বুঝবেন হেযবুত তওহীদ নিজের লুঙ্গি সামলাতে ব্যস্ত নয়, ধর্মের লেবাস পরে যারা ধর্মের গায়েই কাদা মাখাচ্ছে হেযবুত তওহীদ তাদের লুঙ্গিতে টান দিয়েছে।

    2. জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে হেযবুত
      জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদ কতখানি সোচ্চার তা বুঝতে এই বইটি পড়ুন। পড়ার পর নিজেই বিচার করবেন এ দেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের মত এমন শক্ত আদর্শিক লড়াই অন্য কেউ করেছে কিনা কখনও।
      বইয়ের লিংক- ধর্মব্যবসায়ী ও পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রের যোগফল জঙ্গিবাদ; উত্তরণের একমাত্র পথ

  2. ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ। কী
    ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ। কী ঘটেছিল নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে? জানতে সংক্ষিপ্ত ডকুমেন্টরিটি দেখুন- ধর্মের নামে পৈশাচিক বর্বরতা

    1. সাম্প্রতিক সময়ে নাস্তিক
      সাম্প্রতিক সময়ে নাস্তিক হত্যার নামে ব্লগার ও লেখকদের হত্যার বিষয়ে আপনাদের কোন ধরনের একিভিটি কি ছিল? তাহলে কিভাবে আশা করেন ধর্মীয় ভিন্নমত বিশ্বাসী আপনাদের পক্ষে কেউ কথা বলবে?

      ব্যক্তিগতভাবে আমি আমি যে কোন হত্যাকান্ডের বিপক্ষে। আপনাদের কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করার পক্ষে কোনভাবেই আমার অবস্থান নাই। কিন্তু হত্যাকারীরাতো আপনারদের নবীর উম্মত।

      আপনারাও যে একই গাছের ভিন্ন ডালের পাতা নয়, তার স্বপক্ষে কি কোন এক্টিভিটি দেখাতে পেরেছেন?

      1. এরা আমার নবীর উম্মত নয়। নবীজী
        এরা আমার নবীর উম্মত নয়। নবীজী কখনও গুজব সৃষ্টি করেন নি এবং তাঁর হাতে গড়া উম্মতে মোহাম্মদী জাতিও কোনোদিন গুজবে কান দেয় নি। তিনি ইসলামকে যুক্তির ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

        আল্লাহর রসুল ও তাঁর আসহাবরা যুদ্ধ করেছেন, শত্রুসেনাদেরকে বিধ্বস্ত করেছেন এবং শত্রুর হাতে নিজেরাও প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু তারা ফেতনা সৃষ্টি করেন নি, ভুল-ভাল কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করেন নি। শ্রেণিশত্রু খতমের জন্য মিথ্যা ফতোয়ার আশ্রয় নেন নি। সুতরাং এই ধর্মজীবী ফেতনাবাজরা আর যাই হোক আমার নবীর উম্মত নয়। ওরা ইবলিশের উম্মত।

        নাস্তিক-ব্লগার হত্যার ব্যাপারে আমাদের অ্যাক্টিভিটি বলতে যদি মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ইত্যাদি বুঝিয়ে থাকেন তাহলে বলব আমাদের অ্যাক্টিভিটি নাই। কারণ, ওগুলো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, যাতে অংশ নেয়া আমাদের আন্দোলনের নীতিবিরোধী। আমাদের দুইজন সদস্যকে হত্যা করার পরও আমরা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি নি। আর যদি আদর্শিক লড়াইয়ের প্রশ্নে আসেন তাহলে জেনে রাখবেন নাস্তিক হত্যার বিরুদ্ধে সবচাইতে কার্যকরী লড়াই চালাচ্ছে হেযবুত তওহীদ। নাস্তিক-মুরতাদ হত্যা করার বিধান ইসলামে নেই এটা আমরা যৌক্তিকভাবে কোর’আন-হাদীস ও ইতিহাসের আলোকে তুলে ধরেছি। আমাদের পত্রিকায় এ বিষয়ে অনেক আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যন্ত হাজার হাজার সেমিনার, আলোচনা সভা, গোলটেবিল বৈঠক, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মানুষকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছি। এটা করতে গিয়ে আমাদেরকেও ‘নাস্তিক’ অপবাদ পেতে হয়েছে অনেকবার।

        আমরাও যে একইগাছের ভিন্নডালের পাতা নই তা বোঝার জন্য এটুকুই যথেষ্ট মনে করি যে, এ দেশে হেযবুত তওহীদই একমাত্র ইসলামী সংগঠন যাকে এ দেশের ইসলামের ঠিকাদার জামাত-হেফাজত-চরমোনাইরা প্রধান শত্রু বলে মনে করে। এছাড়া হেযবুত তওহীদই একমাত্র ইসলামী সংগঠন যাদের কর্মীদেরকে দুইবেলা চাপাতির ভয় দেখায় জঙ্গি সংগঠনগুলো। জঙ্গিরা জামাতকে মনে করে মুরতাদ, কিন্তু কোনোদিন জামাতের কোনো নেতা-কর্মীকে হত্যার হুমকি দেয় নি। সেখানে হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে অহরহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে কেন? কারণ, তাদের ইসলাম আর আমাদের ইসলাম এক নয়। এক তো নয়ই, উপরন্তু তারা সবাই বোঝে যে, আমরা ইসলামের যে প্রকৃত রূপরেখা তুলে ধরেছি তা যদি গণমানুষের কাছে পৌছে যায় তবে ওদের ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি ও ধর্মবাণিজ্যের দফারফা হয়ে যাবে।

        হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুযযামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী ‘এ ইসলাম ইসলামই নয়’ নামক বই লিখে গত শতাব্দীতেই আপনার প্রশ্নের ‍স্পষ্ট উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

42 + = 43