জামায়াত-বিএনপির জঙ্গি কানেকশনের তথ্য-প্রমাণ

?resize=684%2C385″ width=”400″ />

পাকিস্তানের দেশপ্রেমিক দল জামায়াত-এ-ইসলামী বাংলাদেশ, এদের রক্ষাকর্তা আরেক পাকিস্তানপন্থী দল বিএনপি এবং একই জোটের উগ্রপন্থী দল ইসলামী ঐক্যজোটের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সাথে জঙ্গি তথা সশস্ত্র জিহাদিদের সুসম্পর্ক অনেক পুরনো। তারা একে অপরের পরিপূরক।

এটা প্রমাণিত, বাগাড়ম্বর নয়। আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদের মতো আজাইরা বক্তব্য নয়; এই পোস্টে আপনি পাবেন সব অজানা কিন্তু সত্য তথ্য। তবে এসব প্রকাশ করে খুব একটা লাভ হবে না। কারণ সরকার এখনো জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ততার জন্য অভিযুক্ত বেশিরভাগ নেতাদের আইনের আওতায় আনেনি।
যাক, আমার কাজ তথ্য প্রকাশ করা; আমি তাই করছি।

৩০শে এপ্রিল ১৯৯২: খালেদা জিয়ার প্রথম আমলে জঙ্গি দল হুজি (হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী) পুলিশী পাহারায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে এবং প্রকাশ্যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করে।

১৯৯৮: জামায়াত থেকে পরে হুজিতে যোগ দেয়া শায়খ আব্দুর রহমান জেএমবি প্রতিষ্ঠা করে।

২১শে ডিসেম্বর ২০০৫: যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাসের কর্মকর্তা জুডিথ চামাসের সাথে দেখা করে বলে তার দলের সাথে নিষিদ্ধ জেএমবি’র কোন যোগসূত্র নেই। উইকিলিকসের সূত্রে জানা যায়, কামারুজ্জামান বলে, “জামায়াতের কোন বর্তমান সদস্য জেএমবি’র সাথে জড়িত নয়। কিছু সাবেক জামায়াত নেতা জেএমবিতে যোগ দিয়ে থাকতে পারে, তবে তারা কখনো জামায়াতে ফিরে আসবেনা।”

২০০৫: আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তখনকার মূখ্যসচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর বলে যে, বাংলা ভাইয়ের সহযোগী মাহতাব খামারুকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করলেও তারেক রহমানের ফোন পেয়ে তাকে ছেড়ে দিতে হয়। তারেক তার অপকর্মের সাথী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর অনুরোধে ফোনটি করেছিল।

১৪ই ডিসেম্বর ২০০৫: কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর মতে বিএনপিতে কমপক্ষে ৫০ জন সংসদ সদস্য আছে যারা জোটের মধ্যে জামায়াতকে দেখতে চায় না।

২০০৫: যুক্তরাজ্যের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদ্রাসায় জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটের নিয়ন্ত্রণাধীন মাদ্রাসায় আল-কায়েদার আদর্শ-পন্থী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

২৪শে জানুয়ারি, ২০০৬: আরেক জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা (যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) আমেরিকার কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে বলে, “কিছু জেএমবি নেতা আগে জামায়াতের সাথে যুক্ত ছিল, বিশেষ করে আমাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে।”

আগস্ট ২০০৬: আমেরিকার দক্ষিণ-এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সেলিগ হ্যারিসনের মতে, চার-দলীয় জোট সরকারে জামায়াত থাকার কারণে দেশে তালেবান ও আল-কায়েদাপন্থীরা কোন বাধা ছাড়াই কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, এবং এরা মাদ্রাসা থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীতে অনুপ্রবেশ করছে।

৩১শে জানুয়ারি ২০০৭: আমেরিকার দক্ষিণ-এশিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া বিশেষজ্ঞ ব্রুস ভনের মতে জামায়াতের সাথে জেএমবি নেতা বাংলা ভাইয়ের যোগাযোগ ছিল। তাছাড়া জামায়াত মায়ানমারের জঙ্গি দল রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে নানাভাবে সহযোগিতা করে। আরেক নিষিদ্ধ জঙ্গি দল হুজি’র সাথে আল-কায়েদা ও মুফতি আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোটের যোগাযোগ আছে।

২৬শে জুলাই, ২০০৭: রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় জেএমবির খুন ও নির্যাতনের ঘটনায় সরাসরি সহযোগিতা ও অর্থায়নের অভিযোগে ৩১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় বিএনপির মন্ত্রী আমিনুল ইসলাম, রাজশাহী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিস মোহাম্মদসহ আরো ২২ জনকে।

২০০৮: ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীনের আমলে ইসলামী ঐক্যজোটের সহায়তায় হুজিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেবার জন্য কাজ করে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই।

১৩ই জুলাই ২০১০: নিজামী, সাঈদী ও মুজাহিদকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি হেফাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় জেএমবির বর্তমান প্রধান সাইদুর রহমানের সামনে। সেখানে সাইদুর (আগে হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর ছিল) বলে যে, শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের মৃত্যুর পর জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তাকে জেএমবির প্রধানের দায়িত্ব নিতে বলা হয়। সাঈদী সম্পর্কে সে বলে যে তার উস্কানিতেই অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের উপর হামলা করে জেএমবির জঙ্গিরা। সাইদুর আরো বলে যে, মুজাহিদ এক সময় তাকে বলেছিল যে, একাত্তরের ডিসেম্বরে সকল বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে পারলে এদেশে কেউ কোনদিন জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেতো না।

# বলা হয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করা হয় তারেক রহমান, বাবর, হারিস চৌধুরী ও আব্দুস সালাম পিন্টুর পরিকল্পনায়। অপারেশন সম্পন্ন করে হুজির নেতা-কর্মীরা।

# ২০১২ সাল থেকে শিবিরের কেন্দ্রীয় থেকে শুরু করে তৃনমূলের নেতারা ছোট ছোট জঙ্গি দল গঠন করেছে যাদের মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও শহীদ হামজা ব্রিগেড অন্যতম। জামায়াতের বি-টিম হেফাজতে ইসলামের নাস্তিক-বিরোধী প্রচারণাকে কাজে লাগিয়ে তারা এসব ছোট ছোট জঙ্গি দলের সদস্য বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে জেএমবি ও হুজি ছাড়াও শিবির নেতারা নিষিদ্ধ জঙ্গি দল হিজবুত তাহরীরের সাথে সরাসরি কাজ করছে। এদের সবার একটাই উদ্দেশ্য: বাংলাদেশে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করা।

#১৩ই জুলাই ২০১০: ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র দুইজন মন্ত্রী-এমপির সাথে জঙ্গিদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা হলো শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু (এরশাদের জাতীয় পার্টি) এবং আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য এনামুল হক (রাজশাহী)।

(প্রথম প্রকাশ Norrfika.se মতামত পাতায়)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 3 =